০৫:২১ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটো মিত্র স্পেনের সাথে সমস্ত বাণিজ্য অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিধিমালার অধীনে বাণিজ্য আলোচনা একক ব্লক বা জোট হিসেবে করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও, প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে ট্রাম্প এই পদক্ষেপ নেন।
আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের সময় ইউরোপীয় নেতারা আশা করেছিলেন যে ট্রাম্প সামরিক জোটের মধ্যে ফাটলগুলো মিটাবেন। কিন্তু তিনি স্পেনের সঙ্গে বিতর্কাকেও আবার উস্কে দেন।
আরও পড়ুন: ট্রাম্প-রুবিওর নীরবতা ইসরাইলকে বেপরোয়া করছে: মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন
তিনি বলেন, তার দেশ (যুক্তরাষ্ট্র) গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। এই মন্তব্যের জন্য তিনি আবার ডেনমার্ককেও ক্ষুব্ধ করেন। ডেনমার্ক প্রতিশ্রুতি দেয় যে তারা তাদের ভূখণ্ডের প্রতিটি ইঞ্চি রক্ষা করবে।
ন্যাটোর নতুন প্রতিরক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা-জিডিপির ৫% অর্জনের জন্য স্পেনের অস্বীকৃতির কারণে ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টকে স্পেনের সাথে বাণিজ্য বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হলো। এটি ট্রাম্পের দ্বারা দ্বিতীয়বার এমন নির্দেশ দেওয়া হলেও, গত মার্চে তার প্রথমবারের প্রতিশ্রুতির পরেও দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য স্বাভাবিকভাবেই চলছিল।
ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুত্তেকে ট্রাম্প বলেন, 'স্পেন কোনো কিছুতেই একমত হয় না, আর আপনারও তাদের টেনে নিয়ে চলা উচিত নয়।' রুত্তে (উল্লেখ) পরবর্তীতে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করে বলেন, স্পেন ‘গত বছর তাদের ব্যয় ২%-এ উন্নীত করে একটি বিশাল পদক্ষেপ নিয়েছে,’ যদিও তিনি আরও যোগ করেন যে ‘এখনও কিছু সমস্যা রয়েছে যা আমাদের সমাধান করতে হবে।’
'আমি তাদের সাথে কোনো বাণিজ্য করতে চাই না, ঠিক আছে?' ট্রাম্প বেসেন্টের দিকে ফিরে একথা বলেন। বেসেন্ট উত্তর দেয়, 'জি, স্যার।' ট্রাম্প তখন যোগ করেন, 'এটি অবিলম্বে কার্যকর করুন। ওদের সাথে কথাই বলবেন না। ওরা আশাহীন। ওরা খারাপ লোক...ওরা আমাদের সাথে অনেক টাকা আয় করে, আর আমরা দেখতে যাচ্ছি যেন ওরা অনেক কম আয় করতে পারে।'
আরও পড়ুন: রাজা চার্লস উইন্ডসর ক্যাসেলে মহানবী (সা.)-এর বাণী উদ্ধৃত করলেন
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ, যিনি একটি সংখ্যালঘু বামপন্থী সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তার কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন যে, তারা ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে 'স্বাভাবিক বিষয়' (business as usual) হিসেবে দেখছেন এবং ওয়াশিংটনের সাথে তাদের যে 'চমৎকার' সম্পর্ক রয়েছে তা পরিবর্তন করার কোনো আগ্রহ নেই।
বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্পেনের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে এবং অর্থনৈতিক সম্পর্কগুলো সরকারের চেয়ে বেসরকারি কোম্পানিগুলোর দ্বারাই বেশি গড়ে উঠেছে। এছাড়া কাস্টমস ও ট্রেড ইউনিয়নের অংশ হওয়ার কারণে ইইউ’র একক কোনো সদস্য দেশকে এইভাবে আলাদা করা সম্ভব নয়।
সমাজতান্ত্রিক নেতা সানচেজ ইরান যুদ্ধের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে স্পেনের আকাশসীমা বা তাদের ভূখণ্ডে থাকা ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করতে দিতে অস্বীকার করেন। এর পর থেকেই ট্রাম্প স্পেনের উপর বারবার ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছেন। ওয়াশিংটন ও মাদ্রিদ যৌথভাবে দক্ষিণ স্পেনে নৌ ও বিমান অভিযানের জন্য দুইটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি পরিচালনা করে।
স্পেন বিশ্বের বৃহত্তম জলপাই তেল (অলিভ অয়েল) রপ্তানিকারক দেশ এবং তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ির যন্ত্রাংশ, ইস্পাত ও রাসায়নিক বিক্রি করে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, অন্যান্য ইউরোপীয় অর্থনীতির তুলনায় ট্রাম্পের অর্থনৈতিক শাস্তির হুমকির মুখে স্পেনের ঝুঁকিতে পড়ার সম্ভাবনা বেশ কম।
আরও পড়ুন: কিং ফাহদ বিমানবন্দরে হামলা, নিহত ১, আহত ৮
সূত্র: রয়টার্স।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন