০৭:০০ পি.এম
থ্যালাসেমিয়া এবং জন্মগত বিরল রোগে আক্রান্তদের জন্য দেশব্যাপী একটি ডেটাবেজ (রেজিস্ট্রি) তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে ডা. জুবাইদা রহমানের পক্ষ থেকে।
ডা. জুবাইদা রহমান, যিনি জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট, শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন (আইইবি) মিলনায়তনে বিশ্ব রক্তদাতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘রক্তদাতা সম্মাননা ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন।
তিনি বলেন, “দেশজুড়ে থ্যালাসেমিয়া এবং অন্যান্য জন্মগত ও বিরল রোগে আক্রান্ত মানুষের একটি ডেটাবেজ প্রস্তুত করা প্রয়োজন এবং একটি রেজিস্টার মেইনটেইন করা জরুরি।” থ্যালাসেমিয়া যোদ্ধাদের শতভাগ সুস্থ করতে না পারলেও, তাদের এবং পরিবারের জন্য সান্ত্বনা ও সহমর্মিতার মাধ্যমে আশ্বাসের হাত বাড়াতে হবে।
আরও পড়ুন: ৬৭ পুলিশ পরিদর্শক এসএসপি পদে পদোন্নতি পেলেন
সচেতনতা তৈরির জন্য ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, অন্তঃসত্ত্বাকালীন সময়ে স্ক্রিনিং করলে এটি শনাক্ত করা যায়। যেকোনো বয়সে স্ক্রিনিং টেস্টের মাধ্যমে রোগটির সনাক্তকরণ সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশবাসীকে থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি এবং শনাক্তকরণের প্রক্রিয়া সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে কার্যকরীভাবে চালানো যায়।
তিনি বলেন, “এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের সময় তাদেরকে থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে সম্যক তাৎপর্য এবং তথ্য দেওয়া যেতে পারে, যেমন এর উপসর্গ, চিকিৎসা ও রোগীকে আশ্বস্ত করার পদ্ধতি।”
ডা. জুবাইদা রহমান রোগীদের ক্যাটাগরি অনুযায়ী বিভক্ত করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, শনাক্ত করার পর ধাপে ধাপে থ্যালাসেমিয়া মেজর, থ্যালাসেমিয়া মাইনর এবং থ্যালাসেমিয়া ট্রেইট হিসেবে বিভক্ত করা যায়। চিকিৎসকরা যতদূর সম্ভব সতর্কতা এবং সংবেদনশীলতার সাথে চিকিৎসা প্রদান করলে রোগী এবং তার পরিবার অনেকাংশে চিন্তামুক্ত ও আশ্বস্ত থাকবেন।
স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, “স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের জন্য তাদের এই অসামান্য মানবিক কাজের জন্য অভিনন্দন এবং মোবারকবাদ।” তিনি বিশেষভাবে অভিনন্দন জানান তার কন্যা জাইমা রহমানকে, যিনি একজন স্বেচ্ছায় রক্তদাতা। এ পর্যন্ত তিনি সাতবার স্বেচ্ছায় রক্তদান করেছেন।
আরও পড়ুন: বিশ্বজয়ে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও শিল্প-সংস্কৃতিতে দক্ষ হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এম এ মতিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার। এছাড়া অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন