ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টসে জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ


জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টসে জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ টসে জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই ম্যাচটি হারারেতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ টস জিতে প্রতিপক্ষ দলের বাকি সদস্যদের আগে ব্যাটিংয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন।

বাংলাদেশ তাদের একাদশ সাজাতে তিন পেসারকে নিয়ে পরিকল্পনা করেছে। অভিজ্ঞ মুস্তাফিজুর রহমান এবং তাসকিন আহমেদের সঙ্গে তরুণ পেসার নাহিদ রানাও থাকছেন একাদশে।

স্পিন আক্রমণ হিসেবে বাংলাদেশে রয়েছে লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন এবং অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। প্রয়োজনে মোসাদ্দেক হোসেন পার্ট-টাইম বোলিং করতে পারেন।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বার্থে জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে জোর দিচ্ছেন : হুমায়ুন কবীর

উইকেটকিপিং দায়িত্বের অন্যতম দায়িত্ব পালন করছেন নুরুল হাসান সোহান। লিটন দাসের অনুপস্থিতিতে তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের একাদশের সদস্যরা হলেন: মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, তানজিদ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়, মোসাদ্দেক হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, রিশাদ হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, এবং নাহিদ রানা।

অপরদিকে, জিম্বাবুয়ের একাদশের সদস্যরা হচ্ছেন: রিচার্ড এনগারাভা (অধিনায়ক), ব্রায়ান বেনেট, বেন কারান, ক্রেইগ আরভিন, ব্র্যাড ইভান্স, ইনোসেন্ট কাইয়া, ক্লাইভ মাডান্ডে, ওয়েসলি মাধেভেরে, ব্লেসিং মুজারাবানি, নিউম্যান ন্যামহুরি, এবং সিকান্দার রাজা।

এর আগে, বাংলাদেশ একমাত্র টেস্টে ইনিংস ও ৮৫ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজয়ের পর ওয়ানডে সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়েই মাঠে প্রবেশ করেছে।

আরও পড়ুন: জাপান বাংলাদেশে টেক সিটি গড়তে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিছানায় মিলল হাত-পা ও মুখ বাঁধা মরদেহ, বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার লুট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৪৪ পি.এম


বিছানায় মিলল হাত-পা ও মুখ বাঁধা মরদেহ, বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার লুট

বগুড়ার শিবগঞ্জে দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত হয়েছেন মোহাম্মদ আলী (৭০), যিনি একজন রাইস মিল মালিক। অভিযোগ উঠেছে যে, হত্যাকাণ্ডের পরে দুর্বৃত্তরা তিনটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার লুট করে নিয়ে যায়।

এই ঘটনাটি রবিবার (৫ জুলাই) রাতের সময় ঘটে, যখন উপজেলার ফেনিগ্রাম ফুলতলা এলাকায় মোহাম্মদ আলী ঘুমিয়ে ছিলেন। জানা গেছে, রাতের কোনো এক সময়ে দুর্বৃত্তরা মিলের পেছন দিক দিয়ে প্রবেশ করে, তারপর তার হাত-পা ও মুখ বেঁধে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে। এ সময় তারা মিলে থাকা তিনটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার লুট করে নেয়।

এদিকে, সোমবার (৬ জুলাই) সকালে মোহাম্মদ আলী বাড়ি না ফেরায়, তার পরিবার রাইস মিলে গিয়ে বিছানায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহ দেখে। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হলে, ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

শিবগঞ্জ থানার ওসি শাহীনুজ্জামান জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের গ্রেফতারে পুলিশ মাঠে কাজ করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্শাল আর্টের আড়ালে উগ্রবাদের প্রশিক্ষণ: 'ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম'-এর প্রধান প্রশিক্ষকসহ গ্রেপ্তার ৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক,

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৪৫ পি.এম


মার্শাল আর্টের আড়ালে উগ্রবাদের প্রশিক্ষণ:

 

মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণের আড়ালে দেশের বিভিন্ন এলাকায় তরুণদের উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ করার অভিযোগে ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম (এফসিএস)-এর প্রধান প্রশিক্ষক শাহ আমানত সাবিরসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কোনাপাড়া বালুর মাঠ এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় কথিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলাকালে শাহ আমানত সাবিরকে আটক করা হয়। এ সময় আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন—হোসাইন তানিম, মো. জুনায়েদ, আতাউল্লাহ শাহ, মো. আবিদুর রহমান এবং মো. বায়েজিত।
পুলিশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণের আড়ালে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দেশের বিভিন্ন এলাকার তরুণদের সংগঠিত করার চেষ্টা করছিল। গোয়েন্দা নজরদারিতে বিষয়টি উঠে আসার পর অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কার্যক্রম, যোগাযোগের নেটওয়ার্ক, প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে এই কার্যক্রমের বিস্তার, অর্থায়নের উৎস এবং অন্য কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, এফসিএসের কার্যক্রম কতদিন ধরে পরিচালিত হচ্ছিল, দেশের কোন কোন এলাকায় তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত ছিল এবং কতজন তরুণ এর সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
ডিএমপি জানিয়েছে, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সীমান্ত সুরক্ষায় ডিমলায় বিজিবির নতুন বিওপি উদ্বোধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৪৮ পি.এম


সীমান্ত সুরক্ষায় ডিমলায় বিজিবির নতুন বিওপি উদ্বোধন

সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার, চোরাচালান ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় একটি নতুন বর্ডার আউট পোস্ট (বিওপি) উদ্বোধন করা হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কর্তৃক।

সোমবার (৬ জুলাই) বেলা ১১টায়, পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের তিস্তা নদীর তীরে ৫১ বিজিবির অধীনে নির্মাণ করা নতুন ঝাড়সিংহেশ্বর বিওপির উদ্বোধন করেন উত্তর-পশ্চিম রংপুর রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এস এম নাছের।

উদ্বোধন শেষে তিনি বিওপি প্রাঙ্গণে একটি আমগাছের চারা রোপণ করেন।

অনুষ্ঠানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এস এম নাছের বলেন, কালিগঞ্জ ও থানাহাট বিওপির মধ্যবর্তী সীমান্ত এলাকার দূরত্ব প্রায় ৯ কিলোমিটার। এ সীমান্ত এলাকাটির সুরক্ষা নিশ্চিত করা, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন, চোরাচালান, মানবপাচার ও মাদকের বিস্তার প্রতিরোধ, এবং বিজিবির অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যেই নতুন বিওপি স্থাপন করা হয়েছে। ফলে সীমান্তের নজরদারি আরও জোরদার হবে।

এ সময় বিজিবি রংপুর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল রুবায়েত হাসান, রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজিউর রহমান এবং বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাম্পের চাপে নেতানিয়াহু, দুই মিত্রের দূরত্ব বাড়ছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৫০ পি.এম


ট্রাম্পের চাপে নেতানিয়াহু, দুই মিত্রের দূরত্ব বাড়ছে?

অনেক ইসরায়েলির মনে হচ্ছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্ককে নতুন করে মূল্যায়ন করতে পারেন। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে ওয়াশিংটনের এই জোট দেশটির সামরিক শক্তিকে টিকিয়ে রাখতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে।

এদিকে, বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে কঠিন সময় পার করছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। দুর্নীতির মামলাগুলোর কারণে তিনি আইনি ঝুঁকির সম্মুখীন রয়েছেন। পাশাপাশি আগামী বছরের শেষে সম্ভাব্য সাধারণ নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ টিকিয়ে রাখতে নেতানিয়াহু এখন একটি ঝুঁকিপূর্ণ পথ অনুসরণ করছেন। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌছানোর চেষ্টা করছে, যেখানে লেবাননের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। অন্যদিকে, ২০২৩ সাল থেকে লেবাননে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসা ইসরায়েলের একটি বড় অংশ সেই সংঘাত অব্যাহত রাখার পক্ষে। এই দুই বাস্তবতার মধ্যে আটকে পড়ে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয়েছেন।

২০২৫ সালের জুনে ইরানকে ঘিরে সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে মতপার্থক্যের খবর প্রকাশিত হয়। এক বছর পর তেহরানকে নিয়ে ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণে দুই দেশের মধ্যে সেই দূরত্ব আরও বেড়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে চলমান আলোচনায় তেহরান দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধের দাবি তুলেছে। এই ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য দেখা দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত মাসে ফাঁস হওয়া একটি কথিত ফোনালাপ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়, যার সত্যতা হোয়াইট হাউস অস্বীকার করেনি। ওই কথোপকথনে দেখা যায়, ইরানের সঙ্গে সংঘাত দ্রুত শেষ করতে আগ্রহী ট্রাম্পকে লেবাননে হামলা বন্ধ করতে অস্বীকৃতি জানানোয় নেতানিয়াহুর ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করতে শোনা যায়।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওই কথিত ফোনালাপে ডোনাল্ড ট্রাম্প বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘উন্মাদ’ বলে উল্লেখ করেন এবং অকৃতজ্ঞতার অভিযোগ তোলেন। ট্রাম্প নাকি নেতানিয়াহুকে বলেন, তার হস্তক্ষেপ না থাকলে নেতানিয়াহু ইতোমধ্যে কারাগারে থাকতেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প আরো বলেন, ‘এখন সবাই তোমাকে ঘৃণা করে। এই ঘটনার কারণে সবাই ইসরায়েলকেও ঘৃণা করছে।’

গত সপ্তাহে অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ‘জানেন, আসল কর্তৃত্ব কার হাতে।’ এই মন্তব্যটি দুই নেতার সম্পর্কের টানাপোড়েনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। জুন মাসে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, বর্তমানে ট্রাম্পই বিশ্বের একমাত্র শীর্ষ নেতা, যিনি ইসরায়েলের প্রতি সহানুভূতিশীল অবস্থান বজায় রেখেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য চুক্তির সমালোচনা করা ইসরায়েলি মন্ত্রীদেরও সতর্ক করে বলেন, ‘ইসরায়েলকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্রের বড় অংশই যুক্তরাষ্ট্র তৈরি করেছে এবং এর ব্যয় বহন করেছেন মার্কিন করদাতারা।’

‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ শিবিরেও বাড়ছে ইসরায়েলবিরোধী মনোভাব। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, শুধু সাধারণ মার্কিন জনগণই নয়, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ (এমএজিএ) আন্দোলনের একটি অংশের মধ্যেও ইসরায়েলকে নিয়ে সংশয় ও সমালোচনা বাড়ছে। এমএজিএ শিবিরের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, যেমন ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের সমর্থক মার্জোরি টেইলর গ্রিন, ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের কঠোর সমালোচনা করেছেন।

ডানপন্থী রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যতম সরব সমালোচক সাবেক টেলিভিশন উপস্থাপক টাকার কার্লসন। তিনি জুনের শেষ দিকে মন্তব্য করেন, ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত বুঝতে পেরেছেন যে, ইসরায়েলই তার প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ বা ঝুঁকির উৎস হয়ে উঠতে পারে। নিজের পডকাস্টে টাকার কার্লসন অভিযোগ করেন, ইসরায়েল নানা ধরনের চাপ, প্ররোচনা ও তদবিরের মাধ্যমে ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে রাজি করিয়েছিল। তার দাবি, এই হামলাকে ব্যবহার করে পরে প্রতিবেশী দেশ লেবাননের বিরুদ্ধে আরেকটি যুদ্ধ শুরু করার পরিকল্পনা ছিল।

কার্লসনের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের পেছনে ইসরায়েলের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং এ ধরনের পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রকে আরো গভীর আঞ্চলিক সংকটে জড়িয়ে ফেলতে পারে। ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ-এর সাধারণ এবং জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড্যানিয়েল বাইম্যান মনে করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন একটি অবস্থানে রয়েছেন, যেখানে ইসরায়েল নীতি নিয়ে তার হাতে যথেষ্ট স্বাধীনতা রয়েছে।

আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বায়ম্যান বলেন, ‘ট্রাম্পের যথেষ্ট রাজনৈতিক নমনীয়তা রয়েছে। যদিও রিপাবলিকান পার্টির অনেক সদস্য দৃঢ়ভাবে ইসরায়েলপন্থী, তবুও ট্রাম্পের একটি অত্যন্ত অনুগত সমর্থকগোষ্ঠী রয়েছে এবং তিনি বারবার প্রমাণ করেছেন যে দলের অধিকাংশ সদস্যকে নিজের অবস্থানের পক্ষে আনতে পারেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে তিনি অনেক ডেমোক্র্যাটেরও সমর্থন পেতে পারেন, কারণ দলটির মধ্যে ইসরায়েলের সমালোচনা ক্রমেই বাড়ছে।’ ইসরায়েলের ইতিহাসজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক সহায়তার গুরুত্ব দেশটির খুব কম মানুষই অস্বীকার করেন। ২০১৬ সালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের আওতায় ইসরায়েল ১০ বছরে ৩৮ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পায়, যা যুক্তরাষ্ট্রের অন্য কোনো দেশের সঙ্গে করা সবচেয়ে বড় সামরিক সহায়তা চুক্তিগুলোর একটি।

কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের প্রধান সমর্থক হিসেবে কাজ করেছে। গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়লেও ওয়াশিংটন বিভিন্ন সময়ে দেশটির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। জাতিসংঘে গাজা ইস্যুতে আনা একাধিক প্রস্তাবের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র তার ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করে ইসরায়েলকে সমর্থন দিয়েছে। ইতিমধ্যে, ইসরায়েলের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতাকে বড় ইস্যু হিসেবে তুলে ধরছেন। জুনের মাঝামাঝি সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার ল্যাপিড নেতানিয়াহুর সমালোচনা করে বলেন, তিনি ইসরায়েলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লাপিদ লিখেছিলেন, ‘আমরা যদি দ্রুত এই সরকারকে পরিবর্তন করতে না পারি, তাহলে ইসরায়েলের বৈদেশিক সম্পর্ক ধ্বংস হয়ে যাবে।’

এদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান এবং সম্ভাব্য নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটও নেতানিয়াহুর পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনার কঠোর সমালোচনা করেছেন। আইজেনকটের অভিযোগ, নেতানিয়াহুর ভুল পদক্ষেপের কারণে ডোনাল্ড ট্রাম্প এককভাবে ইরানের সঙ্গে সমঝোতার পথে এগোতে উৎসাহিত হয়েছেন। এর ফলে ইসরায়েল তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আরো দূরে সরে যাচ্ছে।

ইসরায়েলি রাজনৈতিক বিশ্লেষক নিমরোদ ফ্লাশেনবার্গের মতে, বিশ্বে ইসরায়েলের অবস্থান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের জন্য সবকিছু, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, কূটনৈতিক সমর্থনসহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই দেশটি ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরশীল।’

মার্কিন লেখক ও সাবেক কূটনীতিক অ্যারন ডেভিড মিলার বলেন, অতীতেও বিভিন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ইসরায়েলের মতবিরোধ হয়েছে, তবে খুব কম ক্ষেত্রেই তা এত প্রকাশ্যে এসেছে। তার মতে, ‘বর্তমান প্রশাসনের মতো ভাষায় আগে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট বা ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসরায়েল সম্পর্কে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি। এ ছাড়া দুই দেশের নেতাদের ব্যক্তিগত আলোচনার তথ্য ফাঁস হয়ে ইসরায়েলি নেতৃত্বকে বিব্রত করার ঘটনাও বিরল।’

মিলার আরো বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে ইসরায়েলের জনপ্রিয়তা আগের তুলনায় কমেছে এবং সেটা রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় শিবিরেই। তবে তিনি মনে করেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করার কথা ভাবছে, এমন কোনো ইঙ্গিত নেই। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ট্রাম্প যদি ইসরায়েলের ওপর বড় ধরনের চাপ প্রয়োগ করেন, তাহলে সেটি এমন কোনো কূটনৈতিক সাফল্য অর্জনের জন্যই হবে, যা তাকে রাজনৈতিকভাবে লাভবান করবে।’

তিনি বলেন, বর্তমানে লেবানন, গাজা বা ইসরায়েল-সৌদি সম্পর্ক স্বাভাবিককরণের মতো কোনো ইস্যুতেই এমন বড় অগ্রগতির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না, যার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘ সময় ধরে ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%