১০:৪৯ এম
ঝালকাঠিতে ডেঙ্গু ভয়ংকররূপে মাথা চাড়া দিয়েছে। প্রতিদিন রোগীর সংখ্যা হাসপাতালে বাড়ছে। প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ জেলা শহরের ৭টি এলাকায় ডেঙ্গু ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করেছে।
বর্ষা মৌসুমের আগেই ঝালকাঠিতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে দুই শতাধিক ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানাচ্ছে, জুন এবং জুলাই মাসে বর্ষা মৌসুম আসতেই ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যায়। তবে এ বছর আগেভাগেই ডেঙ্গু হামলা চালিয়েছে। সদর হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে বেশিরভাগই শহরের প্রধান ৭টি এলাকার। এ সাতটি স্থানকে ডেঙ্গু ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ৮৪ শতাংশ জমি দান করেও প্রতিষ্ঠাতার স্বীকৃতি মেলেনি, নওয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে তদন্তের দাবি
জানান হয়ে, ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের বাসিন্দারা বলছেন, এখানে সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে যাচ্ছে। পৌরসভার পক্ষ থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং মশক নিধনের জন্য কোনো উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। ফলে এখানে ডেঙ্গুর ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে।
শহরের কাঠপট্টির যুবক মিজান হোসেন বলেন, সড়কের বেশিরভাগ অংশ খানাখন্দে ভরে রয়েছে। ড্রেন এবং নর্দমা পরিষ্কার করা হয় না। ফলে বৃষ্টির সময় সেখানে পানি জমে থাকে। আর এই কারণে আমাদের এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে চলেছে।
শহরের বাঁশপট্টি এলাকার করিম হোসেন জানান, বাঁশপট্টি ও জেলা শহরে সাতটি খাল রয়েছে। সারা বছর এই খালগুলো ময়লা-আবর্জনায় ভর্তি থাকে। পৌরসভার পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে লোক দেখানোর মতো পরিষ্কারের কাজ করা হয়। রাস্তাঘাটেও ময়লা আবর্জনা পড়ে থাকে, যা প্রতিবছর খালসংলগ্ন এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি করে।
শহরের রীডরোড এলাকার বাসিন্দা সুভাষ বিশ্বাস বলেন, মশক নিধনে পৌরসভার কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ঘরে বাইরে মশার দাপটে আমরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি।
আরও পড়ুন: পোলিওমুক্ত বিশ্ব গড়তে প্রতিটি শিশুর টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে: চসিক মেয়র
তবে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর বলেন, ঝালকাঠিতে ডেঙ্গু এখনই চরম শঙ্কাজনক পরিস্থিতিতে পড়েনি। সদর হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চলছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিভাগের এ কর্মকর্তা সাধারণ জনগণকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
সম্প্রতি ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল ও ডেঙ্গু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মোঃ মমিন উদ্দিন। তিনি জানান, শহরের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলিতে মশক নিধন এবং পরিচ্ছন্নতার জন্য পৌরসভাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া ডেঙ্গুর প্রকোপ কমানোর জন্য সবধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ঝালকাঠি পৌরসভায় মোট জনসংখ্যা প্রায় ৭০ হাজার। এর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি মানুষ ডেঙ্গু ঝুঁকিপূর্ণ এই ৭টি এলাকার বাসিন্দা।
আরও পড়ুন: খুলনায় তিন মণ ঘোড়ার মাংসসহ বিক্রেতা আটক, তিন মাসের কারাদণ্ড
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন