ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মুম্বাইয়ে সিজেপির বিক্ষোভের অভিযোগে ৫০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা


মুম্বাইয়ে সিজেপির বিক্ষোভের অভিযোগে ৫০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ভারতের মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে অনুমতি ছাড়া বিক্ষোভ আয়োজনের অভিযোগে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আয়োজকসহ অজ্ঞাত ৪০০ থেকে ৫০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

শনিবার এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল (এএনআই) জানায়, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১৮৯ ও ২২৩ ধারা এবং মহারাষ্ট্র পুলিশ আইনের ৩৭(১)(৩) ও ১৩৫ ধারায় শিবাজি পার্ক থানায় মামলাটি করা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার, নির্বাচন কমিশন এবং বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে শিবাজি পার্কে বিক্ষোভ করেন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও বিভিন্ন নাগরিক সমাজ সংগঠনের কর্মীরা।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা, সরবরাহে সমস্যা ও পরিবহন খরচ বাড়ছে

এদিকে, শিবাজি পার্কের বাসিন্দা ও আইনজীবী সিদ্ধি দেওলেকর অভিযোগ করেন, অনুমতি না দেওয়ার পরও সিজেপির নেতারা বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়ে যান। এ ঘটনায় তিনি শিবাজি পার্ক থানায় সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাস ও দলটির আইনবিষয়ক প্রধান রত্না সিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দেওলেকর বলেন, বোম্বে হাইকোর্টের ২০১৩ সালের ৪ জানুয়ারির রায় এবং পরবর্তী মহারাষ্ট্র সরকারের আদেশে শিবাজি পার্কে জমায়েত ও বিক্ষোভের ওপর যে বিধিনিষেধ রয়েছে, তা অমান্য করে বড়সংখ্যক মানুষ জড়ো করা হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, এটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ নয়; বরং রাজনৈতিক প্রতিবাদের আড়ালে আইনের প্রতি অবজ্ঞা দেখানোর চেষ্টা। তার ভাষ্য, সংবিধান ও আইনের ঊর্ধ্বে কোনো ব্যক্তি, রাজনৈতিক প্রচার বা মতাদর্শ থাকতে পারে না। বিক্ষোভকারীরা হাইকোর্টের নির্দেশনাকেও চ্যালেঞ্জ করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মুম্বাই পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই সিজেপির বিক্ষোভের আয়োজক ও ৪০০-৫০০ অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: চোরাচালানের অভিযোগে দিলীপ আগরওয়ালার ৩ দিনের রিমান্ড চায় সিআইডি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ময়মনসিংহে ৮ মাসে সড়কে ঝরেছে ১১০ প্রাণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৪৬ পি.এম


ময়মনসিংহে ৮ মাসে সড়কে ঝরেছে ১১০ প্রাণ

ময়মনসিংহে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় ১১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া, অন্তত ১১১ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (৩ অক্টোবর) ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে ময়মনসিংহে মোট ১১৪টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

এছাড়া, গত ২ অক্টোবর ময়মনসিংহ শহরতলির আকুয়া গদ্রপা এলাকায় একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের চার জনসহ মোট সাত জন নিহত হন। নিহতদের সকলের বাড়ি জামালপুর জেলায়।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সম্পাদক আলী ইউসুফ মন্তব্য করেন, "এক দুর্ঘটনায় সাতজনের মৃত্যু যে কত বড় কষ্টের সেটা আমরা অনুধাবন করতে পারি।" তিনি বলেন, দুর্ঘটনা কমানোর জন্য চালকদের সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়ে সরকারকে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি, সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

নিরাপদ সড়ক চাই-এর ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল কাদের চৌধুরী মুন্না বলেন, "সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু একটি পরিবারের জন্য অনেক বেদনার।" তিনি উল্লেখ করেন, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে রাজনৈতিক শক্তি ও প্রশাসনকে একযোগে কাজ করতে হবে। নাগরিক সংগঠনগুলোকেও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।

ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ২৩টি দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত হয়েছেন এবং ১৭ জন আহত হয়েছেন। ফেব্রুয়ারিতে ২৭টি দুর্ঘটনায় ২২ জন নিহত হন, আহত ৪৬ জন। মার্চে ১৬টি দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত হয়েছেন। জুলাই মাসে ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে কম চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন দুজন।

উপজেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আট মাসে ভালুকায় সর্বোচ্চ ৩০ জন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮ জন নিহত হয়েছেন ত্রিশালে। এই দুটি উপজেলায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবস্থিত। এ মহাসড়কে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলের কারণে অধিক দুর্ঘটনা ঘটে।

ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের ভাষ্যমতে, সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হচ্ছে, যানবাহনের বেপরোয়া ও অতিরিক্ত গতি, অসতর্কতা, ওভারটেকিং, চালকদের অদক্ষতা, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, সড়কের ত্রুটি এবং ট্রাফিক আইন না মানা। দুর্ঘটনা প্রতিরোধের জন্য পথচারী ও যাত্রীদের নিয়ম মেনে সতর্কতার সঙ্গে রাস্তা পারাপার ও যানবাহনে ভ্রমণ করতে হবে।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে একক কোনো কারণ নেই। বেপরোয়া গতি, অসতর্কতা, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, চালকের অদক্ষতা এবং ট্রাফিক আইন না মানাসহ বিভিন্ন কারণ দায়ী। বিশেষ করে অতিরিক্ত গতি চালকের নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়ার সময় কমিয়ে দেয়। তাই দক্ষ ও প্রশিক্ষিত চালক এবং নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) ময়মনসিংহের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরীফুল আলম বলেন, দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে গতিসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু অনেক চালক সেই নির্দেশনা মানছেন না। সড়ক ভালো হওয়ায় চালকেরা অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালান। ফলে দুর্ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনা কীভাবে কমানো যায়, সে বিষয়ে ভবিষ্যতে আরও কাজ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আসমাউল হুসনা জীম আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারে মনোনীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৪৭ পি.এম


আসমাউল হুসনা জীম আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারে মনোনীত

শিশু অধিকার, ডিজিটাল নিরাপত্তা, নারী ও শিশু সুরক্ষা এবং তরুণদের সামাজিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কাজ করার জন্য বাংলাদেশের তরুণ সংগঠক আসমাউল হুসনা জীম আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার-২০২৬-এর জন্য মনোনীত হয়েছেন। এই মনোনয়নটি বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি সচেতনতামূলক উদ্যোগে যুক্ত থাকার স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জের সরকারি হরগঙ্গা কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এই বছর এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন জীম। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তিনি ছোটবেলা থেকেই যুক্ত। আবৃত্তি, বক্তৃতা, বিতর্ক, অভিনয়, রচনা, কুইজ এবং গল্প বলায় তার আগ্রহ রয়েছে। এসব বিষয়ে তিনি জাতীয় পর্যায়ে ১০ বার পুরস্কার অর্জন করেছেন।

জীমের সাংস্কৃতিক চর্চা থেকেই সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ তৈরি হয়। তিনি দুইবার জাতীয় শিশু পুরস্কার লাভ করেছেন। জাতীয় পর্যায়ের বিতর্ক প্রতিযোগিতায়ও তিনি দুইবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। ২০২১ সালে ই-জিনিয়াস পদক, ২০১৯ সালে মঞ্চকুঁড়ি পদক এবং ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ভলান্টিয়ার এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন।

২০২৬ সালের জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন জীম। আন্তর্জাতিক স্তরে তিনি ইন্টারন্যাশনাল স্টার কিডস অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ও পেয়েছেন।

সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক কাজেও তিনি সক্রিয়। নিরাপদ অ্যালায়েন্সের সদস্য হিসেবে শিশু অধিকার, ডিজিটাল নিরাপত্তা, নারী ও শিশু সুরক্ষা এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।

২০২৫ সাল থেকে স্টেট অব ইয়ুথের বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের চ্যাপ্টার লিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। পাশাপাশি দ্য স্টার্টআপ আইও ফাউন্ডেশনের টিন-এক্স প্রকল্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব লিড হিসেবেও কাজ করছেন।

জীমের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন উদ্যোগের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়ভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে ৩৫ হাজারের বেশি শিশুর কাছে শিশু অধিকার ও ইন্টারনেট নিরাপত্তার বার্তা পৌঁছেছে। নিরাপদ অ্যালায়েন্সের বিভিন্ন ইয়ুথ অ্যাসেম্বলির মাধ্যমে ২০ হাজারের বেশি শিশু-কিশোর সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পেয়েছে। শিশু অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে তার অনলাইন সচেতনতামূলক কার্যক্রম প্রায় ৩৫ লাখ ভিউ পেয়েছে বলেও সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

জীমের মনোনয়নের বিষয়ে নিরাপদ অ্যালায়েন্সের প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক ফাতিন সাদাব লিয়ান মন্তব্য করেন, ‘জীমকে আমরা খুব কাছ থেকে কাজ করতে দেখেছি। অল্প বয়স থেকেই শিশু অধিকার, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং নারী ও শিশু সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের জন্য তার মনোনয়ন আমাদের জন্য আনন্দের। এটি দেশের অন্য তরুণ স্বেচ্ছাসেবীদেরও অনুপ্রাণিত করবে।’

মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে আসমাউল হুসনা জীম বলেন, ‘আমি খুব আনন্দিত ও গর্বিত। আন্তর্জাতিক একটি প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশকে তুলে ধরার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য বড় সম্মানের। এই মনোনয়ন আমার দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের অধিকার ও সুরক্ষায় আমি সব সময় কাজ করে যেতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি শিশু যেন নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে, নিজের অধিকার সম্পর্কে জানতে পারে এবং নির্ভয়ে নিজের কথা বলতে পারে—এটাই আমার লক্ষ্য।’

ইন্টারন্যাশনাল চিলড্রেনস পিস প্রাইজ শিশু অধিকার ও শিশুদের কল্যাণে কাজ করা শিশু-কিশোরদের কাজকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরে। ২০২৬ সালের এই পুরস্কারের জন্য জীমের মনোনয়ন তার শিশু অধিকার, নিরাপত্তা ও সামাজিক সচেতনতামূলক কাজকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার একটি সুযোগ তৈরি করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজার যুদ্ধভিত্তিক তথ্যচিত্র ‘নাজা’ মুক্তির পরই ইতালির বক্স অফিসে শীর্ষে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১০ পি.এম


গাজার যুদ্ধভিত্তিক তথ্যচিত্র ‘নাজা’ মুক্তির পরই ইতালির বক্স অফিসে শীর্ষে

গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত বহুল আলোচিত প্রামাণ্যচিত্র ‘নাজা’ ইতালির সিনেমা হলগুলোতে মুক্তির প্রথম দুই দিনে বক্স অফিসের শীর্ষস্থান দখল করেছে। ইতালীয় বক্স অফিস ট্র্যাকার সিলাইনেটেল-এর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার পর্যন্ত সিনেমাটির টিকিট বিক্রি ১১ লাখ ইউরো (১.২৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) ছাড়িয়ে গেছে।

প্রথম দিনেই সোমবার ছবিটি ৪,৫১,৮৭২ ইউরো আয় করে এবং ৬০,৪৬৭ জন দর্শককে আকৃষ্ট করে বক্স অফিসের ১ নম্বর স্থানে উঠে আসে। ওই দিন পুনরায় মুক্তি পাওয়া ব্লকবাস্টার ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এর আয়কে (১,৭৯ ,৬১২ ইউরো) দ্বিগুণেরও বেশি ব্যবধানে পেছনে ফেলে দেয় এটি।

মঙ্গলবারও সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলচ্চিত্রটি শীর্ষে ছিল। এদিন এটি ৬,২৩,১৬৪ ইউরো আয় করে এবং ৮৩ হাজারের বেশি দর্শক সিনেমাটি উপভোগ করেন। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ছবিটির মোট আয় ১০,৯৬,৮১৬ ইউরো এবং মোট দর্শকসংখ্যা ১,৪৬,৭২০ জনে পৌঁছেছে।

প্রাথমিকভাবে ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দিনের বিশেষ প্রদর্শনী হিসেবে ইতালিজুড়ে ৫১৫টি সিনেমা হলে ‘নাজা’ মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে বেশিরভাগ হলের টিকিট পুরোপুরি বিক্রি হয়ে যায় (হাউসফুল)। দর্শকদের অভূতপূর্ব চাহিদার কারণে নির্ধারিত সময়ের পরও সিনেমাটির প্রদর্শনী অব্যাহত রয়েছে।

অস্কারজয়ী ইসরায়েলি নির্মাতা উভাল আব্রাহাম এবং রেচেল জোর পরিচালিত এই প্রামাণ্যচিত্রে ইসরায়েলি সামরিক ও গোয়েন্দা সদস্যদের প্রত্যক্ষ সাক্ষ্যের ভিত্তিতে গাজায় ফিলিস্তিনি সাধারণ নাগরিকদের হত্যার নির্মম চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

তেল আবিবের বিভিন্ন ভবনের ছাদে তিন বছর ধরে অত্যন্ত গোপনে ধারণ করা এই প্রামাণ্যচিত্রে ২৪ জন ইসরায়েলি সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে ডিজিটালি চেহারা ও কণ্ঠস্বর পরিবর্তন করা হয়েছে।

ছবিতে উপস্থিত ইসরায়েলি সামরিক সদস্যরা বর্ণনা করেছেন যে, কীভাবে সম্ভাব্য সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঝুঁকি জানা সত্ত্বেও লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিতকরণ, ট্র্যাকিং ও বিমান হামলা চালানোর পদ্ধতি ব্যবহার করা হতো। কেউ কেউ জানান, সাধারণ মানুষের আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত আবাসিক এলাকাগুলোতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনা এবং গাজায় ত্রাণ বিতরণের সময় ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলিবর্ষণের মতো মর্মান্তিক ঘটনার তারা প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন।

চলচ্চিত্রটির নাম ‘নাজা’ রাখা হয়েছে, যা ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা 'আমান'-এর ব্যবহৃত একটি সংক্ষিপ্ত রূপ। কোনো বিমান হামলায় কতজন সাধারণ বেসামরিক নাগরিক নিহত হতে পারেন, তা বোঝাতে তারা এই কোড শব্দটি ব্যবহার করত।

সম্প্রতি ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনের পর দর্শকরা টানা ২৫ মিনিট দাঁড়িয়ে সম্মান জানান। পরবর্তীতে চলচ্চিত্রটি ঐতিহাসিক 'স্পেশাল জুরি প্রাইজ' লাভ করে।

তবে এই প্রামাণ্যচিত্রটি ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের চরম ক্ষোভের মুখে পড়েছে। চলচিত্রটি প্রদর্শনের পর চলতি মাসের শুরুর দিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, ইসরায়েলি সৈন্যদের "মানহানি"কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিনি নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এমপি আলতাফ হোসেন চৌধুরীর উদ্যোগে পটুয়াখালী পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১১ পি.এম


এমপি আলতাফ হোসেন চৌধুরীর উদ্যোগে পটুয়াখালী পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তর

পটুয়াখালী পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার উদ্যোগের প্রেক্ষিতে আলতাফ হোসেন চৌধুরী এমপির ডিও লেটারের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।

গত ৯ সেপ্টেম্বর, পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব:) আলতাফ হোসেন চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী বরাবর পটুয়াখালী পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার জন্য একটি অনুরোধপত্র পাঠান।

পত্রে তিনি উল্লেখ করেন যে, পটুয়াখালী জেলা দক্ষিণ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক, বাণিজ্যিক এবং পর্যটন সম্ভাবনাময় জেলা। পদ্মা সেতু চালুর পর রাজধানী ঢাকার সঙ্গে পটুয়াখালীর যোগাযোগ ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি সাধিত হয়েছে।

এছাড়াও, পটুয়াখালী ইপিজেড, পায়রা সমুদ্র বন্দর এবং কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে পটুয়াখালী শহরের গুরুত্ব এবং জনসংখ্যা নগরায়ন ও নাগরিক সেবার চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পটুয়াখালী পৌরসভা দীর্ঘকাল ধরে জেলা সদরের প্রধান নগর প্রশাসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। বর্তমানে নগর সম্প্রসারণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, আবাসন, সড়ক যোগাযোগ, পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যান্য আধুনিক নাগরিক সুবিধার ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিদ্যমান পৌরসভার কাঠামোর মাধ্যমে যথাযথভাবে পূরণ করা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে।

পটুয়াখালীর সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করা হলে পরিকল্পিত নগরায়ন নিশ্চিতকরণ, উন্নত অবকাঠামো নির্মাণ, আধুনিক নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পটুয়াখালী ইপিজেড, পায়রা সমুদ্র বন্দর ও কুয়াকাটা কেন্দ্রীক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরো গতিশীল করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি, দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক নগরকেন্দ্র হিসেবে পটুয়াখালীর সামগ্রিক উন্নয়ন আরও সুসংহত হবে।

তিনি প্রধানমন্ত্রী বরাবর লেখা পত্রে পটুয়াখালী পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সদয় নির্দেশনা প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সদয় বিবেচনা ও অনুমোদন কামনা করেন।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর বরাবর এয়ার ভাইস মার্শাল (অব:) আলতাফ হোসেন চৌধুরীর ঐ আধা সরকারি পত্রের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ মোঃ উজ্জল হোসেন গত ২৯ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব বরাবর একটি চিঠি প্রেরণ করেন। চিঠিতে পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্যের পটুয়াখালী পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর আবেদনের বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক এ বিষয়ে গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রেরণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%