০৬:৩৯ পি.এম
দেশের অর্থনৈতিক সূচকের হিসাব আরো নির্ভুল ও আন্তর্জাতিক মানসম্মত করতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে।
মূল্যস্ফীতি, ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই), মজুরি হার সূচক এবং মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এর হিসাব পদ্ধতিতে বড় ধরনের সংস্কার আনার চেষ্টা করছে সরকার। এর জন্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে দুটি কারিগরি কমিটি গঠন করা হবে। এই পদক্ষেপের পাশাপাশি অতীতে প্রকাশিত অর্থনৈতিক তথ্যও পুনর্মূল্যায়ন করা হবে।
শনিবার (২০ জুন) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) আয়োজিত সিপিআই, মূল্যস্ফীতি, মজুরি হার সূচক ও জিডিপি প্রণয়নবিষয়ক মতবিনিময়সভা শেষে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এই তথ্যগুলো জানান। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণে নির্ভুল পরিসংখ্যান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে বর্তমান হিসাব পদ্ধতি পর্যালোচনা করে আরো আধুনিক, বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য কাঠামো প্রণয়ন করা হবে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
এই প্রক্রিয়ায় গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হবে। প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, অতীতে প্রকাশিত অর্থনৈতিক তথ্যের মধ্যে কোনো অসংগতি বা বিকৃতির সম্ভাবনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। তবে এর উদ্দেশ্য কাউকে দায়ী করা নয়; বরং ভবিষ্যতের জন্য একটি স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান ব্যবস্থা গড়ে তোলা। জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে বাস্তবভিত্তিক তথ্য প্রকাশে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সভায় জানানো হয়, বর্তমানে ৭৪৯টি পণ্য ও সেবার মূল্যতথ্যের ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতির হিসাব করা হয়। শহর ও গ্রামের বিভিন্ন বাজার থেকে তথ্য সংগ্রহ করে একাধিক ধাপে যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশ করা হয়। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আরো উন্নত পদ্ধতি অনুসরণ করে মূল্যস্ফীতি নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে মানুষের প্রকৃত ভোগব্যয়ের চিত্র আরো সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়।
বিবিএস কর্মকর্তারা জানান, গঠিত কারিগরি কমিটি বর্তমানে সিপিআই ও জিডিপি প্রণয়ন পদ্ধতির বিস্তারিত মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের সুপারিশ দেবে। পরে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়া অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও নীতিনির্ধারকেরা পরিসংখ্যান আইন-২০১৩ সংশোধন, নিয়মিত জরিপ পরিচালনা, পরিসংখ্যান খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ ব্যবস্থার সক্ষমতা জোরদারের সুপারিশ করেন। তাদের মতে, এসব সংস্কার বাস্তবায়িত হলে সরকারি অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানের মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে, উন্নয়ন পরিকল্পনা আরো কার্যকর হবে এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার হবে।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন