জাকির হোসেন পাটোয়ারী রাজবাড়ী প্রতিনিধি
০৪:৩৬ পি.এম
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলায় সরকারি খাস জমি এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল, ভুয়া রেকর্ড তৈরি এবং জালিয়াতির মাধ্যমে নিজস্ব আত্মীয়-স্বজনের নামে নামজারি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এক কর্মকর্তা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন এলাকাবাসী। বালিয়াকান্দি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা ও ভীমনগর এলাকার বাসিন্দা মোঃ শফিকুল আলম ওরফে শামীম ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে এ জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বালিয়াকান্দি উপজেলার সদর ইউনিয়নের ভীমনগর মৌজার (জেএল নং-১১৩) আর.এস খতিয়ান ৪১৩ ও ৩৯১/১ এবং এস.এ খতিয়ান ৪৪২ ও ৪২০ ভুক্ত ৩০২, ৩০৪ ও ৩০৩ দাগের মোট ০.৯৯ শতাংশ জমি নিয়ে এ বিশাল জালিয়াতির জাল বোনা হয়েছে। ১৯৪৩ সালে শ্রী গোপী মোহন কুন্ডু ও অমূল্য চরণ কুন্ডু এ জমির কবুলিয়াত গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ১৯৫৬ সালে কিছু অংশ বিক্রি হয়। এরপর ১৯৬৭ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার কর্তৃক এ জমির একটি অংশ .৩৩ শতাংশ মোঃ সাজেদার রহমানকে ১০ বৎসরের জন্য লিজ প্রদান করা হয়। লিজকৃত জমি কীভাবে পরবর্তীতে অন্য এক পক্ষ মোঃ ইসহাক আলী বিশ্বাস ক্রয় করেন, তা নিয়ে আইনি বৈধতার বড় প্রশ্ন উঠেছে।
ভূমি অফিসের যোগসাজশে ভুয়া নামজারি ও সবচেয়ে বড় জালিয়াতির ঘটনাটি ঘটেছে এস.এ রেকর্ডের রেজিস্টার বইতে মোঃ শফিকুল আলম শামীম নিজে একজন সরকারি চাকুরিজীবী হওয়া সত্ত্বেও বালিয়াকান্দি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ভীমনগর মৌজার এস.এ ৪৪২ ও ৪২০ খতিয়ানের মূল রেকর্ড রেজিস্টার (১ ও ২ নং বহি) নিজ হাতে ঘষামাজা ও পরিবর্তন করেন। মূল মালিকদের নাম বাদ দিয়ে সেখানে সাজেদার রহমান ও শ্রীমতি লক্ষ্মীরানী কুন্ডুর নামে ভুয়া নামজারি করেন। এ ভুয়া নামজারির সূত্র ধরে পরবর্তীতে শফিকুল আলম তার পিতা মৃত ইসহাক আলী বিশ্বাসের নামে বি.এস খতিয়ান ১৯০, দাগ ৩১০, ৩১১, ৩১২ এবং জে.এল নং ১০৯ এর .৯৩ শতাংশ সরকারি জমি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে বি.এস রেকর্ড করে নেন।
এলাকাবাসীর দাবী "একজন সরকারি চাকুরিজীবী হয়েও শফিকুল আলম ভূমি অফিসের ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি খাস জমি ও হিন্দুদের সম্পত্তি ভুয়া নামজারি ও জালিয়াতির মাধ্যমে বাবার নামে রেকর্ড করে নিয়েছেন। আমরা এ জালিয়াতি চক্রের শাস্তি এবং সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারের দাবি জানাচ্ছি। তারা প্রশাসনের নিকট সুষ্টু তদন্ত পুর্বক জালিয়াতির সাথে জড়িতদের সনাক্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ শফিকুল আলম শামীমের মুঠোফোনে সোমবার দুপুর দেড় টার দিকে একাধিকবার ফোন দিলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ কারণে তার বক্তব্যে দেওয়া সম্ভব হয়নি।
বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, অভিযোগটি খতিয়ে দেখে সত্যতা পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশে মোটরসাইকেলের নিবন্ধিত সংখ্যা ৪৯ লাখ ৯৭ হাজার ৯০টি বলে জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী এ তথ্যটি প্রদান করেন।
এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। সোমবারের প্রশ্নোত্তর টেবিলে এই তথ্য উপস্থাপিত হয়।
সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী লিখিত প্রশ্নে জানতে চান, বর্তমানে দেশে বৈধ মোটরসাইকেলের সংখ্যা কত এবং অবৈধভাবে চলাচল করা মোটরসাইকেল বৈধ করা হবে কি না?
সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, বিআরটিএ ইনফরমেশন সিস্টেম অনুযায়ী দেশটিতে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা ৪৯ লাখ ৯৭ হাজার ৯০টি।
তিনি আরও জানান, সড়ক, মহাসড়কে অবৈধভাবে চলাচলকারী মোটরসাইকেল বন্ধে নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
এছাড়া বিআরটিএ থেকে নিবন্ধন গ্রহণ করেনি এমন কোনো মোটরসাইকেল মালিক, যদি প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন দাখিল করেন তবে বিআরটিএ সেগুলোকে বৈধতা প্রদান করে রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাগেরহাটের মোংলায় একটি যাত্রীবাহী বাস ও মালবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (১৫ জুন) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার দিগরাজের কবিরাজ বাড়ী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হতাহতদের পরিচয় জানা যায়নি।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা মোংলাগামী যাত্রীবাহী বাস আরমান এন্টারপ্রাইজ (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৯৩৫৭) এর সাথে মোংলা হতে গ্যাসভর্তি করে খুলনাগামী ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট-২২-০৯৫৮) এর মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় বাসের চালকসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে।
খবর পেয়ে স্থানীয়রা এবং মোংলা বন্দর ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তারা আহতদের উদ্ধার করে। আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ি দুটি সরিয়ে নেয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মোংলা ইপিজেড ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ এমরান হোসেন জানিয়েছেন, আহত এক হেলপার ও এক যাত্রীকে রামপালের ঝনঝনিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং আরো কয়েকজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। দুর্ঘটনায় পতিত গাড়ি দুটি হাইওয়ে পুলিশ জব্দ করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের কমিশনিং বা পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলাকালে শনাক্ত হওয়া একটি কারিগরি বিচ্যুতি নিয়ে আতঙ্কিত বা বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছে কেন্দ্রটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান নিউক্লিয়ার পাওয়ার কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল)।
সংস্থাটির মতে, বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার আগে এ ধরনের ক্ষুদ্র ত্রুটি শনাক্ত ও সংশোধন করা কমিশনিং প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক এবং বাধ্যতামূলক অংশ।
সোমবার (১৫ জুন) গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু গণমাধ্যমে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কার্যক্রম শুরুর আগেই গুরুতর কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে, এমন দাবি প্রচারিত হলে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। তবে এসব তথ্যকে বিভ্রান্তিকর ও বাস্তবতাবিবর্জিত বলে উল্লেখ করে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন ড. জাহেদুল হাসান।
এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘নিরাপত্তাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এ বিষয়ে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই। কিছু মহলের প্রচারিত বিকৃত ও বিভ্রান্তিকর তথ্য অযথা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে, যার সঙ্গে প্রকৃত পরিস্থিতির কোনো মিল নেই।’
ড. জাহেদুল হাসান আরও জানান, কেন্দ্রটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার আগে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে একাধিক নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। এসব পরীক্ষায় সামান্য বিচ্যুতি শনাক্ত হওয়া বরং নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতারই প্রমাণ।
সেকেন্ডারি সার্কিটে ৮.১ মেগাপাস্কাল (এমপিএ) চাপে পরিচালিত ‘লিক-টাইটনেস টেস্ট’ একটি বাধ্যতামূলক ও নিয়মিত পরীক্ষা, যা প্রতি বার কেন্দ্র শাটডাউন অবস্থা থেকে অপারেশনাল অবস্থায় যাওয়ার সময় সম্পন্ন করা হয়। পারমাণবিক ও বিদ্যুৎ উৎপাদন শিল্পে এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি প্রচলিত প্রক্রিয়া বলে জানান এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার সময় নির্ধারিত গ্রহণযোগ্যতার মানদণ্ডের তুলনায় একটি কারিগরি বিচ্যুতি শনাক্ত হয়। প্রতিষ্ঠানের কঠোর নিরাপত্তা সংস্কৃতির অংশ হিসেবে ক্ষুদ্রতম বিচ্যুতিকেও গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করা হয় এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তা অনুমোদন দেয়া হয় না।
এই বিচ্যুতি শনাক্ত হওয়াই প্রমাণ করে যে প্রকল্পের নিরাপত্তা ও গুণগতমান নিশ্চিতকরণ ব্যবস্থা যথাযথভাবে কাজ করছে বলে জানান তিনি।
বিষয়টি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও পরমাণু বিজ্ঞানী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জ্বালানি লোডিং বা কমিশনিং পর্যায়ে এ ধরনের ক্ষুদ্র কারিগরি বিষয় শনাক্ত হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কোনো বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকলে প্ল্যান্ট শাটডাউন করতে হয়। বর্তমান পরিস্থিতি সে ধরনের নয় এবং এটিকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনেরও কোনো কারণ নেই।’
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। রূপপুর প্রকল্পকে ৮ মাত্রার ভূমিকম্প ও সুনামির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম করে গড়ে তুলতে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রায় এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, প্রথম প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের ওপর ভিত্তি করে রূপপুরে আরও দুটি নতুন ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে পারমাণবিক বিদ্যুৎ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অন্যান্য অনেক জ্বালানি উৎসের তুলনায় অধিক সাশ্রয়ী হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদন সক্ষমতা দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটে গত ২৮ এপ্রিল জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে কমিশনিং কার্যক্রম চলছে। দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ ও প্রস্তুতিমূলক কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে প্রথম ইউনিট থেকে প্রায় এক হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। একই বছরের জুনে দ্বিতীয় ইউনিটে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হবে এবং সেপ্টেম্বরে দুটি ইউনিট থেকে সম্মিলিতভাবে প্রায় দুই হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ