প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলায় সরকারি খাস জমি এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল, ভুয়া রেকর্ড তৈরি এবং জালিয়াতির মাধ্যমে নিজস্ব আত্মীয়-স্বজনের নামে নামজারি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এক কর্মকর্তা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন এলাকাবাসী। বালিয়াকান্দি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা ও ভীমনগর এলাকার বাসিন্দা মোঃ শফিকুল আলম ওরফে শামীম ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে এ জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বালিয়াকান্দি উপজেলার সদর ইউনিয়নের ভীমনগর মৌজার (জেএল নং-১১৩) আর.এস খতিয়ান ৪১৩ ও ৩৯১/১ এবং এস.এ খতিয়ান ৪৪২ ও ৪২০ ভুক্ত ৩০২, ৩০৪ ও ৩০৩ দাগের মোট ০.৯৯ শতাংশ জমি নিয়ে এ বিশাল জালিয়াতির জাল বোনা হয়েছে। ১৯৪৩ সালে শ্রী গোপী মোহন কুন্ডু ও অমূল্য চরণ কুন্ডু এ জমির কবুলিয়াত গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ১৯৫৬ সালে কিছু অংশ বিক্রি হয়। এরপর ১৯৬৭ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার কর্তৃক এ জমির একটি অংশ .৩৩ শতাংশ মোঃ সাজেদার রহমানকে ১০ বৎসরের জন্য লিজ প্রদান করা হয়। লিজকৃত জমি কীভাবে পরবর্তীতে অন্য এক পক্ষ মোঃ ইসহাক আলী বিশ্বাস ক্রয় করেন, তা নিয়ে আইনি বৈধতার বড় প্রশ্ন উঠেছে।
ভূমি অফিসের যোগসাজশে ভুয়া নামজারি ও সবচেয়ে বড় জালিয়াতির ঘটনাটি ঘটেছে এস.এ রেকর্ডের রেজিস্টার বইতে মোঃ শফিকুল আলম শামীম নিজে একজন সরকারি চাকুরিজীবী হওয়া সত্ত্বেও বালিয়াকান্দি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ভীমনগর মৌজার এস.এ ৪৪২ ও ৪২০ খতিয়ানের মূল রেকর্ড রেজিস্টার (১ ও ২ নং বহি) নিজ হাতে ঘষামাজা ও পরিবর্তন করেন। মূল মালিকদের নাম বাদ দিয়ে সেখানে সাজেদার রহমান ও শ্রীমতি লক্ষ্মীরানী কুন্ডুর নামে ভুয়া নামজারি করেন। এ ভুয়া নামজারির সূত্র ধরে পরবর্তীতে শফিকুল আলম তার পিতা মৃত ইসহাক আলী বিশ্বাসের নামে বি.এস খতিয়ান ১৯০, দাগ ৩১০, ৩১১, ৩১২ এবং জে.এল নং ১০৯ এর .৯৩ শতাংশ সরকারি জমি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে বি.এস রেকর্ড করে নেন।
এলাকাবাসীর দাবী "একজন সরকারি চাকুরিজীবী হয়েও শফিকুল আলম ভূমি অফিসের ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি খাস জমি ও হিন্দুদের সম্পত্তি ভুয়া নামজারি ও জালিয়াতির মাধ্যমে বাবার নামে রেকর্ড করে নিয়েছেন। আমরা এ জালিয়াতি চক্রের শাস্তি এবং সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারের দাবি জানাচ্ছি। তারা প্রশাসনের নিকট সুষ্টু তদন্ত পুর্বক জালিয়াতির সাথে জড়িতদের সনাক্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ শফিকুল আলম শামীমের মুঠোফোনে সোমবার দুপুর দেড় টার দিকে একাধিকবার ফোন দিলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ কারণে তার বক্তব্যে দেওয়া সম্ভব হয়নি।
বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, অভিযোগটি খতিয়ে দেখে সত্যতা পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন