ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মানবপাচার প্রতিরোধে কক্সবাজারে শত কিলোমিটারজুড়ে রোড শো


মানবপাচার প্রতিরোধে কক্সবাজারে শত কিলোমিটারজুড়ে রোড শো

সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মানবপাচার রোধে এবং উপকূলের মানুষকে সচেতন করার উদ্দেশ্যে কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হলো শত কিলোমিটার দীর্ঘ রোড শো। ‘সমুদ্রপথে বিদেশ না’ এই স্লোগানে পরিচালিত রোড শোটি বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক আয়োজন করেছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল ১০টায় উখিয়া থেকে শুরু হয় মানব পাচার বিরোধী এই রোড শো। এতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা, তরুণ ও যুবক, জেলে ও কৃষক, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা সবাই অংশগ্রহণ করেন।

দুপুরের দিকে রোড শোটি টেকনাফ পৌঁছায়। এরপর বিকেলে সেখানে থেকে মেরিন ড্রাইভ হয়ে রাত ৮টায় কক্সবাজার সৈকতের কলাতলীতে ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রোড শোটি সমাপ্ত হয়।

আরও পড়ুন: নওগাঁয়ে ঘরে মাটির নিচে ২৪৫ কেজির কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ উদ্ধার, আটক ১

অস্ট্রেলিয়া সরকারের সহায়তায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের উদ্যোগে ‘ম্যাস ক্যাম্পেইন টু কমব্যাট হিউম্যান ট্রাফিকিং অ্যান্ড পিপল স্মাগলিং’ নামের একটি প্রচারের অংশ হিসেবে এই রোড শো আয়োজন করা হয়েছিল। তার আগেও তিন দিন ধরে গাজীপুর, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে অনুরূপ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছিল।

রোড শোর অংশ হিসেবে উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন পয়েন্টে একাধিক পথসভা অনুষ্ঠিত হয় যেখানে মানব পাচার বিষয়ক কুইজ এবং প্রশ্নমালা রাখা হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও চলে।

দালালদের প্রতারণা থেকে সাবধান হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান কার্যালয়ের ম্যানেজার আতিকুর রহমান নাহিদ বলেন, আশ্রয়শিবিরের রোহিঙ্গারা বিভিন্ন প্রলোভনে পাচারের শিকার হচ্ছেন। তিনি বিদেশে যাওয়ার জন্য সঠিক তথ্য জেনে সরকারি অনুমোদিত প্রক্রিয়ায় যাওয়ার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রোড শোর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ, সম্ভাব্য অভিবাসী, তরুণ সমাজ এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে নিরাপদ অভিবাসনের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার মূল লক্ষ্য ছিল।

আরও পড়ুন: দিনাজপুর বোর্ডের ১ কোটি ২৬ লাখ টাকার দুর্নীতির তদন্তের নির্দেশ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জার্মানি-ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাকে হারানোর মানসিকতা তৈরি করতে চান বাংলাদেশের কোচ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৩৯ পি.এম


জার্মানি-ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাকে হারানোর মানসিকতা তৈরি করতে চান বাংলাদেশের কোচ

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের কোচ টমাস ডুলি। ছবি: মীর ফরিদ

নভেম্বরে ঢাকায় বসতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। টুর্নামেন্টটি নিয়ে বাংলাদেশ দলের কোচ টমাস ডুলি বেশ আত্মবিশ্বাসী ও উচ্ছ্বসিত।

আজ শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে সাফের লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করেন। সেখানে কোচ ডুলি সাফ জেতার তীব্র আকাক্সক্ষা এবং দলের প্রস্তুতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। ২৩ বছর পর সাফ শিরোপা ঘরে তোলার এই অভিযানে, ডুলি তার পরিকল্পনা এবং দলের মানসিকতার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে দুটি বিশ্বকাপ খেলা ডুলি, খেলা ছাড়ার পর দীর্ঘ চার বছর যুক্তরাষ্ট্র দলের সহকারী কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া তিনি ফিলিপাইন, গায়ানার মতো দলেরও কোচিং করেছেন।

ডুলির বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে নিজেকে তিনি বিজয়ী মানসিকতায় গড়ে তুলেছেন। কোচ হিসেবে সেই ইতিবাচক মানসিকতাকেই বাংলাদেশ দলের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। ডুলি বলেন, “প্রতিপক্ষ যেই হোক, জয়ই আমার একমাত্র চাওয়া। আমরা যদি জার্মানি, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা বা অন্য যেকোনো দলের বিপক্ষে খেলি, আমি জিততে চাই। তাই এটি এমন এক ধরনের মানসিকতা, যা আমাকে খেলোয়াড়দের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে যেন তারাও একই কথা ভাবে।”

দলে তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সংমিশ্রণ রয়েছে, এমনটি উল্লেখ করে কোচ জানান, প্রত্যেকেই তাদের নিজস্ব গুণ নিয়ে জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছে। মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। “আমরা এমন খেলা উপহার দিতে চাই যেন দর্শকরা হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে না যায়। তারা যেন মুখ ফিরিয়ে নেয়।”

ডুলি আরো জানান, “তারা যেন বলে, দল যে খেলাটা খেলে তা পছন্দ হয়েছে এবং আমি চাই দর্শকরা যেন জয় নিয়ে খুশি হয়ে বাড়ি ফিরতে পারে।”

বাংলাদেশ আট বছর পর ঘরের মাঠে সাফ খেলতে যাচ্ছে। তাই শিরোপা জয়ের বিকল্প দেখছেন না কোচ। তিনি বলেন, “টুর্নামেন্টের মূল লক্ষ্য? আপনাদের কী মনে হয়? অবশ্যই চ্যাম্পিয়ন হওয়া। ফুটবলারদেরও আমি একটাই বার্তা দিব—মাঠে নামো, নিজের যা আছে সবটুকু উজাড় করে দাও। এরপর যদি অন্য দল ভালো খেলে ফেলে বা জিতে যায়, সেটা হবে আমাদের দুর্ভাগ্য। দর্শকদের প্রতি অনুরোধ, আমরা ভুল করলে কঠোর হবেন না। কারণ, বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলে কোটি কোটি ডলার উপার্জন করা ফুটবলাররাও ভুল করে।”

বাংলাদেশ একবারই সাফে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল; ২০০৩ সালে দেশের মাটিতে। ২৩ বছর ধরে ওই ট্রফি আর পাওয়া যায়নি, সেই খরা এবার কাটাতে চান ডুলি। এজন্য তিনি দর্শকদের মাঠে এসে বাংলাদেশ দলকে উৎসাহিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

ডুলির এই অদম্য মানসিকতা এবং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বাংলাদেশকে কাক্সিক্ষত সাফল্য এনে দিতে পারে কি না, তা সময়ই বলে দিবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘তেলাপোকাদের’ পানি ও খাবার দেওয়া ব্যক্তির বাড়িতে পুলিশের অভিযান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৪০ পি.এম


‘তেলাপোকাদের’ পানি ও খাবার দেওয়া ব্যক্তির বাড়িতে পুলিশের অভিযান

ভারতের দিল্লিতে কররোচ (তেলাপোকা) জনতা পার্টির আন্দোলন চলাকালীন পানি ও খাবার বিতরণ করায় মোহাম্মদ জুনায়েদ নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে পুলিশ হানা দিয়েছে।

পুলিশ ওই ব্যক্তির বাবা ও ছোট শিশু ভাইকে ধরে নিয়ে গেছে। শুধু তাই নয়; পুলিশ জুনায়েদের বোনের বাড়িতেও হানা দিয়েছে এবং তার শশুর বাড়ির লোকদেরও ধরে নিয়ে গেছে।

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ৩৬ দিন তীব্র আন্দোলন চলেছিল। এই আন্দোলন শনিবার (২৫ জুলাই) শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের ব্যবস্থা না নেওয়ার আশ্বাসে শেষ হয়েছে।

৩৬ দিন যন্তর মন্তরে আন্দোলন চলাকালীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাবার ও পানি বিতরণ করে সহায়তা করেছেন অনেক মানুষ, তাদের মধ্যে জুনায়েদ ছিলেন। আন্দোলনের সময় তার পানি বিতরণের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। এরপরই তিনি পুলিশের নজরে পড়েন।

জুনায়েদ স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য লালানটপকে বলেছেন, উত্তরপ্রদেশে তার বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালায় এবং ওই সময় তার বাবা ও ছোট ভাইকে তারা ধরে নিয়ে যায়। অন্যদিকে, মেরুতে অবস্থিত তার বোনের শশুরবাড়ি থেকে পুলিশ তার বোনের শশুর ও দেবরকেও আটক করে নিয়ে যায়।

জুনায়েদ প্রশ্ন রেখেছেন, 'আমার অপরাধ কি? পানি ও খাবার দেওয়া কি অপরাধ?'

জুনায়েদের পরিবারকে হেনস্তা করার বিষয়ে জানার পর ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) তার প্রতি সংহতি জানিয়েছে। এক্সে একটি পোস্টে সিজেপি বলেছে, অপরাধীদের ধরার বদলে উত্তরপ্রদেশের পুলিশ আমাদের স্বেচ্ছাসেবী মোহাম্মদ জুনায়েদের বাড়িতে গিয়ে তাদের সময় নষ্ট করছে। এখন পুলিশ তার পরিবারকে হেনস্তা করছে। তারা আরও জানিয়েছে, তার সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ রয়েছে এবং আমরা কখনো তাকে ও তার পরিবারকে ভিক্টিম হতে দেবো না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কিশোরগঞ্জে একদিনে পানিতে ডুবে প্রাণ গেল ৩ জনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৪৮ পি.এম


কিশোরগঞ্জে একদিনে পানিতে ডুবে প্রাণ গেল ৩ জনের

কিশোরগঞ্জের সদর ও বাজিতপুর উপজেলায় একদিনের মধ্যে পানিতে ডুবে মোট তিনজনের মৃত্যু ঘটেছে।

শুক্রবার (২৫ জুলাই) সদর উপজেলার নীলগঞ্জ এলাকার একজন এবং বাজিতপুর পৌরসভার মীরারবন্দ এলাকায় দুইজন মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মীরারবন্দ গ্রামের সুজন মিয়ার ছেলে মো. তাসিন (৫), একই এলাকার শাওন মিয়ার মেয়ে জান্নাতুল মাওয়া (৫) এবং সদর উপজেলার লতিবাবাদ ইউনিয়নের ডুবাইল গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ছেলে ফয়সাল (২২)।

বাজিতপুর থানার ওসি এস এম শহীদুল্লাহ জানিয়ে বলেন, দুপুরে তাসিন ও মাওয়া বাড়ির পাশে খেলছিল। এক সময় তারা পাশের খালে পড়ে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা তাদের খোঁজাখুজি শুরু করেন। পরে স্বজনরা খালে নেমে তাদের সন্ধানের চেষ্টা করেন। পরে এক পর্যায়ে তাসিন ও মাওয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চলে আসে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা এখন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এদিকে আজ বিকেলে সদর উপজেলার নীলগঞ্জ বাজার ঘাট সংলগ্ন নরসুন্দা নদীতে এক তরুণ ফয়সালের মৃত্যু ঘটে।

কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা মোমেন মুর্শেদ জানান, ফয়সালসহ কয়েকজন নীলগঞ্জ বাজারের জামে মসজিদে তাবলিগ জামাতে অংশ নিতে এসেছিলেন। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তারা বাজারের নদীর ঘাটে গোসল করতে নেমে ফয়সাল পানিতে তলিয়ে যান।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি স্থান থেকে ফয়সালের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মন্ত্রী পদত্যাগের পরও থামেনি দিল্লির বিক্ষোভ—মোদির দুর্গ কি ভেঙ্গেই ছাড়বে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এম এ সাঈদ

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৪৮ পি.এম


মন্ত্রী পদত্যাগের পরও থামেনি দিল্লির বিক্ষোভ—মোদির দুর্গ কি ভেঙ্গেই ছাড়বে?

সম্প্রতি কিছুদিন আগেই শুরু হওয়া অনলাইন প্লাটফর্ম থেকে একটি ক্ষুদ্র ছাত্র জনগোষ্ঠীর আন্দোলন অতি অল্প সময়ের ব্যবধানে গোটা ভারতে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে যা, দীর্ঘ এক যুগের মোদী বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনীতিকেও যেন ছাড়িয়ে গেছে। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পরেও এই আন্দোলনের উত্তাল ঢেউয়ের আন্দোলন বন্ধ না করায় বিশ্লেষকদের কাছে প্রশ্ন উঠছে, তবে কি মোদীর ক্ষমতার মসনদকে না কাঁপিয়ে ওরা থামবে না?

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস, দুর্নীতি, শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল দশা এসব অল্প কিছু দাবি নিয়ে তৈরি হওয়া আন্দোলন অতি অল্প সময়ের মধ্যে গোটা ভারতকে কাঁপিয়ে দিয়েছে। মোদির অপশাসন, একনায়ক তান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার কাঠামো ভাঙতে দীর্ঘ এক যুগ ধরে বিরোধীরা ব্যর্থ হওয়া কিংবা প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো যখন মোদি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে ব্যর্থ, তখন ছাত্রদের এই অনলাইন প্লাটফর্মটি যেন গোটা ভারতের জন্য এক আশীর্বাদ হয়ে নেমে এসেছে। তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে ছাত্র-জনতার আন্দোলন বিশ্বগুরু মনে করা মোদি সরকারের শিক্ষামন্ত্রীকেও পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছে।

কিন্তু অরাজনৈতিক ছাত্রদের সংগঠন সিজেপি তাতেও সন্তুষ্ট নয়, তাদের আরো দুটি দাবি পূরণ না করা হলে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আর এই বিক্ষোভ সারা দেশে এত দ্রুত দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে যে, দীর্ঘ এক যুগের মোদীর শাসনামলেও মোদি সরকারের এমন টনক নড়াতে পারেনি কোন শক্তি। অথচ শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগের পরেও ছাত্রদের হাতে তৈরি হওয়া এই আন্দোলন থেকে বলা হয়েছে, বাকি দুটো দাবি সরকার পূরণ না করা পর্যন্ত এ আন্দোলন থামবে না। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পরেও আন্দোলন না থামানোর ঘোষণা কি অন্য কিছুর বার্তা দিচ্ছে? ছাত্রদের পক্ষ থেকে করা বাকি দুটি দাবি পূরণ হলেও এ আন্দোলন এখানেই থেমে যাবে নাকি এর মাধ্যমে দীর্ঘ এক যুগের শাসন ক্ষমতায় থাকায় ১৪০ কোটি মানুষের কাছে অজনপ্রিয় হওয়া মোদি সরকারের ক্ষমতার ভিত নাড়িয়ে দেবে সেটি এখন বিশাল প্রশ্নবোধক চিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ক্ষমতা যত দীর্ঘ হয়, তার আত্মবিশ্বাসও তত দীর্ঘ হয়। কিন্তু ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, কখনো কখনো সেই দীর্ঘ আত্মবিশ্বাসই ক্ষমতাসীনদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতায় পরিণত হয়। রাষ্ট্রযন্ত্র, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আমলাতন্ত্র, এমনকি জনমত তৈরির বিভিন্ন মাধ্যম—সবকিছুর ওপর দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর অনেক সরকারই মনে করে, রাস্তায় মানুষের কণ্ঠ আর কোনোদিন ফিরে আসবে না। অথচ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিস্ময়গুলোর একটি হলো—নিয়ন্ত্রিত নীরবতার ভেতরেই সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিবাদের জন্ম হয়।

দিল্লিকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া ছাত্র-জনতার চলমান বিক্ষোভ সেই প্রশ্নটিকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। আন্দোলন দমাতে লাঠিচার্জ, জলকামান কিংবা কাঁদানে গ্যাসের মতো কঠোর পন্থা যত বেশি আলোচনায় এসেছে, ততই প্রতিবাদের আগুন অন্য প্রান্তেও ছড়িয়ে পড়েছে—এমন ধারণা অনেক বিশ্লেষকের।

কোনো আন্দোলন কেবল একটি ঘটনার বিরুদ্ধে থাকে না; অনেক সময় তা বহু বছরের জমে থাকা ক্ষোভ, বঞ্চনা ও অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ হয়ে ওঠে। যখন মানুষ মনে করতে শুরু করে যে তাদের কণ্ঠস্বর শোনা হচ্ছে না, তখন একটি দাবির আন্দোলন ধীরে ধীরে রাজনৈতিক ও নৈতিক প্রশ্নে রূপ নেয়। তখন আর প্রশ্ন থাকে না শুধু একটি সিদ্ধান্তের; প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায় রাষ্ট্র পরিচালনার ধরন।

ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায়ও সেই প্রশ্ন উচ্চারিত হচ্ছে। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ—রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ক্রমেই অতিমাত্রায় কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়েছে, যার ফলে সমালোচনার পরিসর সংকুচিত হয়েছে। অন্যদিকে সরকার ও তাদের সমর্থকদের বক্তব্য, তারা সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই উন্নয়ন ও প্রশাসন পরিচালনা করছে। এই দুই বিপরীত বয়ানের সংঘাতই আজকের রাজনৈতিক বাস্তবতাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এমন পরিস্থিতিতে যদি কোনো আন্দোলনের চাপে একজন মন্ত্রী পদত্যাগ করেন, তবুও আন্দোলন থেমে না থেকে আরও দাবি সামনে আনে, তাহলে সেটি নিছক প্রশাসনিক সংকটের ইঙ্গিত নয়; বরং জনআস্থার গভীর সংকটের প্রতিফলন বলেই অনেকে মনে করেন। কারণ আন্দোলন যখন নেতৃত্বের চেয়ে বৃহত্তর জনমনে স্থান করে নেয়, তখন সেটিকে কেবল প্রশাসনিক পদক্ষেপ দিয়ে থামানো কঠিন হয়ে পড়ে।

ইতিহাসের বহু অধ্যায়ে দেখা গেছে, প্রথমে মানুষ একটি দাবিতে রাজপথে নামে, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই দাবি রূপ নেয় বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষায়। সে কারণেই আজ অনেকের প্রশ্ন—এই আন্দোলন কি কেবল কিছু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি এটি আরও বিস্তৃত রাজনৈতিক রূপ নেবে?

এর উত্তর সময়ই দেবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শক্তির সবচেয়ে বড় উৎস লাঠি, জলকামান কিংবা কাঁদানে গ্যাস নয়; জনগণের আস্থা। সেই আস্থায় ফাটল ধরলে সবচেয়ে সুদৃঢ় ক্ষমতার কাঠামোও অপ্রতিরোধ্য থাকে না।

শেষ পর্যন্ত এই আন্দোলনের পরিণতি যাই হোক না কেন, একটি শিক্ষা ইতিহাস বারবার দিয়েছে—ক্ষমতা মানুষের কণ্ঠকে দীর্ঘদিন স্তব্ধ রাখতে পারলেও চিরদিন নীরব রাখতে পারে না। আর যখন নীরবতা ভাঙে, তখন তার প্রতিধ্বনি শুধু রাজধানীতেই সীমাবদ্ধ থাকে না; তা ছড়িয়ে পড়ে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে।
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%