০৬:২৯ পি.এম
বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। এ পরিস্থিতির মধ্যেও নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ীদের জন্য খুবই হতাশাজনক মনে করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
ঢাকা চেম্বার জানিয়েছে, টানা চার বছর ধরে সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি কার্যকর রয়েছে। কিন্তু মূল্যস্ফীতি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় কমানো যায়নি। বরং মে মাসে এটি বেড়ে ৯.৪২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ। তবে সদ্য অনুমোদিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেটে ব্যবসা সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিল্পায়ন গতিশীল করতে বিভিন্ন কর ও শুল্ক সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, নতুন মুদ্রানীতিতে বাজেটের সেই প্রবৃদ্ধিমুখী ভাবনার প্রতিফলন নেই। সরকারের রাজস্বনীতি ও মুদ্রানীতির মধ্যে স্পষ্ট অমিল প্রতিফলিত হচ্ছে। উচ্চ নীতি সুদহার বজায় থাকায় ব্যবসায়ীদের ঋণের খরচ কমানোর সুযোগ এখন সীমিত হয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন: ‘জনপ্রতিনিধিদের সব সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়, নাগরিকদের এগিয়ে আসতে হবে’
ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে গতি ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিলের উষ্ণ অভ welcome জানায় ডিসিসিআই। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এই তহবিলের বিষয়টি সুষ্ঠ, স্বচ্ছ ও কার্যকর করা অত্যন্ত জরুরি। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ও টিকে থাকার সংগ্রামে থাকা সিএমএসএমই, রপ্তানিমুখী শিল্প ও অন্যান্য উৎপাদনমুখী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্ত, ডকুমেন্টেশনে জটিলতা কমানো এবং দ্রুত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই তহবিলকে আওতায় আনা জরুরি।
ডিসিসিআই বলছে, ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প-প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করা যেমন প্রয়োজন, তেমনি ধ্বংসের ঝুঁকিতে থাকা শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহায়তা প্রদান করা অত্যন্ত জরুরি। তাই ঢাকা চেম্বার ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত উদ্যোক্তাদের কাছে দ্রুত ও কার্যকরভাবে এই প্রণোদনা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান করছে।
এছাড়াও, সরকারের ব্যাংক ঋণের প্রতি ক্রমবর্ধমান নির্ভরশীলতা গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি প্রায় ২৬ শতাংশে পৌঁছেছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এর ফলে ব্যাংক খাতের সীমিত তারল্যের একটি বড় অংশ সরকারি খাতে ব্যবহার হচ্ছে, ফলে বেসরকারিখাতের জন্য পর্যাপ্ত ঋণপ্রবাহ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। অথচ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বেসরকারিখাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬.৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
ঢাকা চেম্বার মনে করছে, বিদ্যমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং বেসরকারিখাত নির্ভর টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় এবং নীতিগত সামঞ্জস্য আবশ্যক।
আরও পড়ুন: মহাসচিবসহ দুই শীর্ষ নেতা বহিষ্কার, আমিনুল ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন