১২:২৪ এম
হোমনা, কুমিল্লা থেকে এফএনএস-এর মোর্শেদুল ইসলাম শাজুর রিপোর্ট অনুযায়ী, কুমিল্লার হোমনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা কোনো নিয়ম কিংবা নীতির তোয়াক্কা না করে নিজেদের ইচ্ছেমতো ভাড়া বাড়িয়ে নিয়েছে। এই ঘটনায় সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভাড়ার বৃদ্ধি করে এক মাস পার হলেও সিএনজিচালিত অটোরিকশার বাড়তি ভাড়া এখনো হ্রাস পায়নি। ঈদ ও নানা ধরনের অজুহাতে ভাড়া বৃদ্ধি করার এই অনৈতিক প্রথা বর্তমানে একটি স্থায়ী রূপ ধারণ করেছে। ফলস্বরূপ, প্রতিটি রুটে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ১০ টাকা বেশি আদায় করা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রশাসন কর্তৃক নির্ধারিত ভাড়ার তোয়াক্কা না করে চালকরা নিজেদের মতো করে হোমনা ব্রিজের নিচ থেকে শ্রীমদ্দি কালি বাড়ি ২.৫ কিলোমিটার ২০ টাকা, দড়িচর ৩ কিলোমিটার ২০ টাকা, আলীপুর ৪ কিলোমিটার ৩০ টাকা, দুলালপুর ৭ কিলোমিটার ৪০ টাকা, দৌলতপুর ৯ কিলোমিটার ৫০ টাকা, রামকৃষ্ণপুর ১১ কিলোমিটার ৬০ টাকা, ঘাড়মোড়া ৪ কিলোমিটার ২০ টাকা, শ্রীপুর ৫ কিলোমিটার ৩০ টাকা, কাশিপুর ৮ কিলোমিটার ৪০ টাকা, চান্দেরচর বাগের হাট ১০ কিলোমিটার ৬০ টাকা, চান্দেরচর ৯ কিলোমিটার ৫০ টাকা, ঘনিয়ারচর ৭ কিলোমিটার ৪০ টাকা, কলাগাছিয়া সাড়ে ৭ কিলোমিটার ৪০ টাকা এবং আসাদপুর ৬ কিলোমিটার ও মঙ্গলকান্দি সাড়ে ৪ কিলোমিটার ভাড়া ৩০ টাকা করে আদায় করছে।
চালকদের সাথে কথা বললে জানা গেছে যে, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের পেছনে প্রশাসনের কোনো নির্দেশনা আগে ছিল, তবে এখন নেই। তারা নিজেদের মধ্যে বসে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে প্রতিদিন যাত্রীদের সঙ্গে চালকদের মধ্যে কথাকাটি ও মনোমালিন্যের ঘটনা ঘটছে। হোমনা-কাশিপুর রুটের নিয়মিত যাত্রী মো. দুলাল জানিয়েছেন, হোমনা থেকে কাশিপুর ৪০ টাকা ভাড়া নেওয়া স্পষ্ট 'জুলুম'। একই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হোমনা-চান্দেরচর ও রামকৃষ্ণপুর রুটে নিয়মিত যাত্রী তথা স্থানীয় সংবাদকর্মী মো. হারুন অর রশিদ এবং মো. রাসেল। রাসেল জানিয়েছেন, জনঅসন্তোষের এই বিষয়টি তিনি পূর্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
আরও পড়ুন: কাঁঠালিয়ায় ৫০ চুল্লিতে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি, জনস্বাস্থ্যে ঝুঁকি
হোমনা পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহাম্মেদ মোফাচ্ছের বলেছন, পৌরসভার অভ্যন্তরে কিংবা কোনো রুটে প্রশাসনের নির্ধারিত তালিকার বাইরে সিএনজি চালকদের ইচ্ছেমতো বাড়তি ভাড়া আদায়ের আইনগত কোনো সুযোগ নেই। যাত্রীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অতিরিক্ত টাকা নেওয়া সম্পূর্ণ অবৈধ। জনভোগান্তির এই বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। দ্রুতই পৌর কর্তৃপক্ষ এবং উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে ব্যবস্থা নেবো।
এ বিষয়ে হোমনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শহিদুল ইসলাম বলেছেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। পৌরসভা যেহেতু স্ট্যান্ডগুলো ইজারা দেয়, সেহেতু পৌরসভার প্রশাসককে বলেছি সংশ্লিষ্টদের থেকে কারণ জেনে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য। সমস্যা সমাধান না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসন নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। পৌরসভা যেহেতু স্ট্যান্ডগুলো ইজারা দেয়, তাই এসি ল্যান্ডকে বলেছি, যথাযথ কারণ জেনে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য। পরে প্রশাসনিকভাবেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন