বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৯:২২ পি.এম
রাজশাহী জেলার তানোর উপজেলার শিবরামপুর এলাকায় কালীমাতার নামে রেকর্ডভুক্ত দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের চেষ্টা এবং সেখানে বসবাসরত হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে উচ্ছেদের চেষ্টার অভিযোগ তুলে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কাছে স্থানীয় মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দসহ কিছু হিন্দু বাসিন্দা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগকারীরা জানান, তানোর উপজেলার শিবরামপুর মৌজায় কালীমাতার নামে প্রায় ৫ একর ৪ শতাংশ জমি দীর্ঘদিন ধরে দেবোত্তর সম্পত্তি হিসেবে রেকর্ডভুক্ত রয়েছে। এই সম্পত্তির একটি অংশ স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন ভোগদখল করে আসছেন এবং ওই এলাকায় কালীমাতার মন্দিরে নিয়মিত পূজা-অর্চনাও হয়ে আসছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, শিবরামপুর মৌজার সিএস খতিয়ান নম্বর ১৩৭ ও ১৩৮ এবং আরএস খতিয়ান নম্বর ১২৩-এ সংশ্লিষ্ট জমির তথ্য রয়েছে। অভিযোগকারীদের মতে, বিভিন্ন সময়ে ভূমি রেকর্ডে এসব সম্পত্তিকে দেবোত্তর হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সেবায়েত ও জিম্মাদারদের নামের উল্লেখও বিভিন্ন রেকর্ডে প্রতিফলিত হয়েছে বলে তারা দাবি করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি একটি পক্ষ সেবায়েতদের ওয়ারিশদের কাছ থেকে ওই সম্পত্তি কেনার দাবি করে জমির দখল নেওয়ার চেষ্টা করছে। এর ফলে জমিতে বসবাসকারী কয়েকটি হিন্দু পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
এছাড়া, অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয় যে, গত ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নতুনহাট-নামোশংকরবাটি এলাকার খাইরুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম ও কায়েম আলীসহ ১৫ থেকে ২০ জন ব্যক্তি শিবরামপুর এলাকায় গিয়ে স্থানীয় হিন্দুদের ধানিজমি ও বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয়রা একত্রিত হয়ে বাধা দেওয়ায় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। তাদের প্রশ্ন, দেবোত্তর হিসেবে রেকর্ডভুক্ত কোনো সম্পত্তি কীভাবে ব্যক্তি মালিকানায় বিক্রি করা হলো এবং ওই সম্পত্তির মালিকানা পরিবর্তনের বৈধতা কী?
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিকার চেয়ে গত ১৬ আগস্ট ২০২৬ রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। অভিযোগকারীদের মধ্যে হেমন্ত কুমার মাহাতো, আকাশ মাহাতো, রঞ্জিত কুমার মাহাতো, দয়াল চন্দ্র মাহাতো, নিপেন্দ্রনাথ মাহাতো, সুজন মুন্ডা, দুঃখু মুন্ডা, নয়ন মাহাতো, শ্রীনাথ রাজবংশী, রাজকুমার মুন্ডা, প্রদীপ কুমার মাহাতো, দিপু, হরিপদ মাহাতো, খোশু মাহাতো, জোসনা সরেন, শ্রীমন্ত মাহাতো, দেবেন কর্মকার, মহেশ মাহাতো, মুড্ডা, উতফর মাহাতো, আনন্দ কর্মকার এবং বাদল কর্মকারের নাম উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগকারীরা সংশ্লিষ্ট জমির রেকর্ড ও দলিলপত্র যাচাই-বাছাই, সরেজমিন তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন।
স্থানীয় জনগণের আশঙ্কা, যদি দ্রুত বিষয়টির সুরাহা না হয়, তবে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে এলাকায় আরও উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে। অভিযোগের বিষয়ে খাইরুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম ও কায়েম আলীর মুঠোফোনে কল করা হলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার উদয়কাঠী ইউনিয়নের তেতলা গ্রামে সংখ্যালঘু একটি পরিবারের বিরুদ্ধে ২০ শতাংশ পৈতৃক সম্পত্তি জোরপূর্বক লিখে নিয়ে দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় হুমায়ুন গাজীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারটি অভিযোগ করেছে যে, উন্নত ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তাদের পৈতৃক ভিটা তুলে নেয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা ওই এলাকা ছেড়ে নেছারাবাদ উপজেলার মাদ্রা এলাকায় বসবাস করছেন।
ভুক্তভোগী নারায়ণ চন্দ্র সিকদারের (৭৭) মেয়ে অঞ্জনা সিকদার সাংবাদিকদের অভিযোগ করেন, তেতলা ও হারতা এলাকার সীমান্তবর্তী স্থানটিতে তাদের পূর্বপুরুষের শেষ সম্বল ২০ শতাংশ পৈতৃক সম্পত্তি ছিল। তার বক্তব্য অনুযায়ী, হুমায়ুন গাজী ছলচাতুরীর মাধ্যমে তার বাবা নারায়ণ চন্দ্র সিকদারের কাছ থেকে ওই সম্পত্তি লিখে নেয়। তবে তাদের দাবি, সম্পত্তির বিনিময়ে কোনও অর্থ দেওয়া হয়নি।
অঞ্জনা সিকদার দাবি করেন যে, সম্পত্তি লিখে নেওয়ার পর তাদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। যখন তারা সম্পত্তি ফেরত অথবা সম্পত্তির মূল্য দাবি করেন, তখন হুমায়ুন গাজী তাদের প্রতি হুমকি দিয়েছেন। এমনকি বর্তমানে তারা নেছারাবাদ উপজেলার মাদ্রা এলাকায় বসবাস করে থাকলেও সেখানে গিয়ে প্রাণনাশেরও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও জানান, বিগত সরকারের আমলে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে অনেকের কাছে অভিযোগ করার পরও তারা কোনও প্রতিকার পাননি। তাদের চাওয়া, তাদের পৈতৃক সম্পত্তি ফেরত চাই। যদি সম্পত্তি ফেরত দেওয়া সম্ভব না হয়, তবে ন্যায্য মূল্য পরিশোধের দাবি করা হচ্ছে।
অঞ্জনা সিকদার বলেন, “আমরা হুমায়ুন গাজীর হাত থেকে মুক্তি চাই। আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি ফেরত চাই, অথবা সম্পত্তির ন্যায্য মূল্য চাই।”
এদিকে, স্থানীয়ভাবে হুমায়ুন গাজীর বিরুদ্ধে জমি দখল এবং মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অভিযোগ করা হয়েছে বলেও জানান ভুক্তভোগী পরিবার।
অভিযোগের বিষয়ে হুমায়ুন গাজীর বক্তব্য জানার জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এজন্য তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগী পরিবারটি বিষয়টি তদন্ত করে তাদের পৈতৃক সম্পত্তি উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিরিয়ার একটি পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটিতে ইসরায়েলি হামলা নিয়ে নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক আলোচনার সূচনা হয়েছে। ইসরায়েল বলছে, সেখানে তুরস্কের উপস্থিতি বিদ্যমান। তবে আঙ্কারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর পাতা কোনো ‘ফাঁদে’ পা দিতে রাজি নয়।
এই ঘটনার শুরু সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত আবু আল-জুহুর বিমানঘাঁটিকে কেন্দ্র করে। গৃহযুদ্ধের কারণে ২০১২ সাল থেকে বিমানঘাঁটিটি সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। সম্প্রতি সেখানে অপ্রত্যাশিতভাবে ধারাবাহিক বোমা হামলা চালায় ইসরায়েল। তাদের দাবি, জায়গাটি পুনরায় সচল করার জন্য সম্প্রতি সেখানে তুরস্কের একটি সামরিক প্রতিনিধি দল পরিদর্শন করেছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অভিযোগ করেছেন যে, তারা তুরস্কের এমন কোনো সামরিক অগ্রসরতা মেনে নেবেন না। কিন্তু তুরস্ক এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, হামলার পর বা আগে তাদের প্রতিনিধিদল সেখানে সময় কাটায়নি। তুরস্কের অভিমত হলো, ইসরায়েলের এই হামলা মূলত সিরিয়ার স্থিতিশীলতা ও অবকাঠামোর নষ্ট করার একটি প্রচেষ্টা। তারা সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষায় সর্বদাই পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে।
হামলার পর উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলেও, তুরস্ক কোনো পালটা সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার ভাবনা করছে না। দেশের যোগাযোগ পরিচালক বুরহানেত্তিন দুরান বিষয়টি অত্যন্ত সাবলীলভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি জানান, দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ এবং আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহু এমন অযৌক্তিক দাবি করছেন। তুরস্ক একটি অভিজ্ঞ দেশ। তাই তারা নেতানিয়াহুর মতো নেতাদের দ্বারা পাতা ফাঁদে পা দিয়ে ওই অঞ্চলের শান্তি এবং স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চায় না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যেখানে এক পক্ষের মোটরসাইকেলকে অন্য পক্ষের ট্রাক্টরের সাইড দেওয়া নিয়ে বাকবিতণ্ডা এবং পূর্ব শত্রুতার জেরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এই সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। এটি ঘটে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে, দোয়ারাবাজার উপজেলার বোগলাবাজার ইউনিয়নের কাঁঠালবাড়ী গ্রামের আলী আশরাফের বাড়ির কাছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সকালে কাঁঠালবাড়ী গ্রামের মো. ওয়াদুদ মিয়া (৫৭) ও আলী আশরাফ (৪৮)-এর মধ্যে মোটরসাইকেলকে ট্রাক্টরের সাইড দেওয়া নিয়ে তর্কাতর্কি শুরু হয়। এই তর্কের জেরে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে পড়ে। সংঘর্ষে ১ম পক্ষের সিদ্দিকুর রহমান (২৫), রিয়াজ উদ্দিন (২১), মিছবা উদ্দিন (২৫), জাফর ইকবাল (২০) এবং ২য় পক্ষের জয়নাল আবেদীন (৩৫), সোলেমান (৩০), রিফাত মিয়া (১৬), রিয়াদ (২৫), দেলোয়ার হোসেন (৩৫), বেবী (৪৫) ও ইউনুছ মিয়াসহ (৫০) অন্তত ১২ জন আহত হন।
সংবাদে জানা যায়, দোয়ারাবাজার থানার পুলিশ ঘটনার খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় মুরুব্বিদের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। আহতদের উদ্ধার করে দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং পুনরায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শ্রীমঙ্গলে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে ৯৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ইয়াবা বিক্রির জন্য ৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে।
বুধবার বিকেলে শ্রীমঙ্গল থানার সিন্দুরখাঁন ইউনিয়নের ইসলামপুর (কামারগাঁও) এলাকায় অভিযানটি পরিচালিত হয়। শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ সরকার আবদুল্লাহ আল মামুনের সার্বিক নির্দেশনায় এসআই মো. ইমানুর হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ইসলামপুর (কামারগাঁও) এলাকায় জনৈক রুকন মিয়ার বাড়ির পশ্চিম পাশে অভিযান চালায়।
অভিযানের সময় মো. ফাহিম মিয়া, যিনি পাবেল মিয়া নামে পরিচিত (২০) এবং মো. নাইম মিয়া (২৫) নামে দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়। তারা উভয়ে ওই এলাকার বাসিন্দা এবং তাদের পিতার নাম মো. রুকন মিয়া।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার করার পর তাদের থেকে ৯৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ইয়াবা বিক্রির নগদ ৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার পর গ্রেফতারকৃত দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে শ্রীমঙ্গল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ