প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজশাহী জেলার তানোর উপজেলার শিবরামপুর এলাকায় কালীমাতার নামে রেকর্ডভুক্ত দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের চেষ্টা এবং সেখানে বসবাসরত হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে উচ্ছেদের চেষ্টার অভিযোগ তুলে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কাছে স্থানীয় মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দসহ কিছু হিন্দু বাসিন্দা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগকারীরা জানান, তানোর উপজেলার শিবরামপুর মৌজায় কালীমাতার নামে প্রায় ৫ একর ৪ শতাংশ জমি দীর্ঘদিন ধরে দেবোত্তর সম্পত্তি হিসেবে রেকর্ডভুক্ত রয়েছে। এই সম্পত্তির একটি অংশ স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন ভোগদখল করে আসছেন এবং ওই এলাকায় কালীমাতার মন্দিরে নিয়মিত পূজা-অর্চনাও হয়ে আসছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, শিবরামপুর মৌজার সিএস খতিয়ান নম্বর ১৩৭ ও ১৩৮ এবং আরএস খতিয়ান নম্বর ১২৩-এ সংশ্লিষ্ট জমির তথ্য রয়েছে। অভিযোগকারীদের মতে, বিভিন্ন সময়ে ভূমি রেকর্ডে এসব সম্পত্তিকে দেবোত্তর হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সেবায়েত ও জিম্মাদারদের নামের উল্লেখও বিভিন্ন রেকর্ডে প্রতিফলিত হয়েছে বলে তারা দাবি করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি একটি পক্ষ সেবায়েতদের ওয়ারিশদের কাছ থেকে ওই সম্পত্তি কেনার দাবি করে জমির দখল নেওয়ার চেষ্টা করছে। এর ফলে জমিতে বসবাসকারী কয়েকটি হিন্দু পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
এছাড়া, অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয় যে, গত ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নতুনহাট-নামোশংকরবাটি এলাকার খাইরুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম ও কায়েম আলীসহ ১৫ থেকে ২০ জন ব্যক্তি শিবরামপুর এলাকায় গিয়ে স্থানীয় হিন্দুদের ধানিজমি ও বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয়রা একত্রিত হয়ে বাধা দেওয়ায় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। তাদের প্রশ্ন, দেবোত্তর হিসেবে রেকর্ডভুক্ত কোনো সম্পত্তি কীভাবে ব্যক্তি মালিকানায় বিক্রি করা হলো এবং ওই সম্পত্তির মালিকানা পরিবর্তনের বৈধতা কী?
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিকার চেয়ে গত ১৬ আগস্ট ২০২৬ রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। অভিযোগকারীদের মধ্যে হেমন্ত কুমার মাহাতো, আকাশ মাহাতো, রঞ্জিত কুমার মাহাতো, দয়াল চন্দ্র মাহাতো, নিপেন্দ্রনাথ মাহাতো, সুজন মুন্ডা, দুঃখু মুন্ডা, নয়ন মাহাতো, শ্রীনাথ রাজবংশী, রাজকুমার মুন্ডা, প্রদীপ কুমার মাহাতো, দিপু, হরিপদ মাহাতো, খোশু মাহাতো, জোসনা সরেন, শ্রীমন্ত মাহাতো, দেবেন কর্মকার, মহেশ মাহাতো, মুড্ডা, উতফর মাহাতো, আনন্দ কর্মকার এবং বাদল কর্মকারের নাম উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগকারীরা সংশ্লিষ্ট জমির রেকর্ড ও দলিলপত্র যাচাই-বাছাই, সরেজমিন তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন।
স্থানীয় জনগণের আশঙ্কা, যদি দ্রুত বিষয়টির সুরাহা না হয়, তবে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে এলাকায় আরও উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে। অভিযোগের বিষয়ে খাইরুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম ও কায়েম আলীর মুঠোফোনে কল করা হলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন