ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

ভারতে বর্জ্যের স্তূপ ধসে বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রাণ গেল ৯ শ্রমিকের


ভারতে বর্জ্যের স্তূপ ধসে বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রাণ গেল ৯ শ্রমিকের

ভারতের পশ্চিমাঞ্চলে একটি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে বর্জ্যের বিশাল স্তূপ ধসে পড়ে। এ ঘটনায় প্রশাসনিক ভবনের ওপর পড়ে অন্তত নয় শ্রমিক মৃত্যুবরণ করেছেন। ভারী বৃষ্টিপাতের পর এ দুর্ঘটনা ঘটে। কেন্দ্রটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান সোমবার এই তথ্য জানিয়েছে।

গত বুধবার পুনের উপকণ্ঠে অবস্থিত অ্যান্টনি ওয়েস্ট প্ল্যান্টে দুর্ঘটনাটি ঘটে। পাশের একটি ল্যান্ডফিল থেকে কয়েক হাজার টন বর্জ্যের স্তূপ ধসে পড়ে প্রশাসনিক ভবনের ওপর। এ ঘটনায় ভবনের ভেতরে ২৩ জন আটকা পড়েন।

প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে জানায়, ‘টানা বৃষ্টির কারণে পাশের ল্যান্ডফিলের কয়েক হাজার টন বর্জ্য অস্থিতিশীল হয়ে পড়ায় এ ঘটনা ঘটে। এতে ভবনটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আরও পড়ুন: ঢাকা-সৌদি রুটে ১০৭ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ১৬ হাজার ৬২০ যাত্রী

তখন সেখানে ২৩ জন কর্মী উপস্থিত ছিলেন।’ এই দুর্ঘটনায় নয়জন নিহত হন। বাকি ১৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

নয়াদিল্লি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। কেন্দ্রটির কর্মকর্তারা জানান, টানা বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছাতে উদ্ধারকর্মীদের বেগ পেতে হয়।

ভারতে জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা বর্ষা মৌসুমে প্রায়ই ভবন ও নির্মাণসংক্রান্ত দুর্ঘটনা ঘটে। টানা বৃষ্টিতে পুরোনো এবং জরাজীর্ণ স্থাপনা অনেক সময় ধসে পড়ে।

কাঠামোগত অবস্থা এবং নিরাপত্তা মূল্যায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারতে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন এবং তীব্র হয়ে উঠছে।

আরও পড়ুন: ঢাবি শিক্ষক দুলাল কান্তি বাসায় ফিরেছেন, পরিবার অভিযোগ করেছে অপহরণের

আবহাওয়া পূর্বাভাসকারীরা জানিয়েছেন, চলতি বছরে সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনো দেশটির স্বাভাবিক আবহাওয়ার ধরণেও পরিবর্তন আনতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছাতা মাথায় বৃষ্টির মধ্যেই পরীক্ষা দিলেন শিক্ষার্থীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:২৪ পি.এম


ছাতা মাথায় বৃষ্টির মধ্যেই পরীক্ষা দিলেন শিক্ষার্থীরা

শিক্ষার্থীরা ছাতা মাথায় পরীক্ষা দিলেন। ছবি: সংগৃহীত। পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার কোটখালী ফাজিল মাদ্রাসার অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা চলাকালে শ্রেণিকক্ষের ছাদ দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ার কারণে তাদের ছাতা মাথায় পরীক্ষা দিতে হয়েছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

রোববার (১২ জুলাই) অনুষ্ঠিত অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার সময় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষের ছাদ থেকে টপটপ করে বৃষ্টির পানি পড়ছে। এই অবস্থায় কয়েকজন ছাত্রী এক হাতে ছাতা ধরে এবং অন্য হাতে কলম চালিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে। তারা প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও নির্ধারিত পরীক্ষা শেষ করতে বাধ্য হন।

স্থানীয়রা দাবি করেন, ১৯২৭ সালে প্রতিষ্ঠিত কোটখালী ফাজিল মাদ্রাসার ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে অত্যন্ত জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে ছাদের বিভিন্ন অংশ দিয়ে পানি চুঁইয়ে পড়ায় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও পরীক্ষা গ্রহণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।

এদিকে, মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে একটি নতুন ভবনের নির্মাণকাজ চললেও কাজের ধীরগতির কারণে কার্যক্রম এখনো সম্পন্ন ও হস্তান্তর করা হয়নি। ফলে নতুন ভবনটি ব্যবহার করা সম্ভব না হলে ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো ভবনেই ক্লাস ও পরীক্ষা নিতে হচ্ছে।

এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সচেতন মহল দ্রুত ভবনটির সংস্কার এবং নির্মাণাধীন ভবনের কাজ শেষ করে শিক্ষার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তবে, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এ মাসেই দীপু মনিসহ সাবেক ১০ এমপির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:২৮ পি.এম


এ মাসেই দীপু মনিসহ সাবেক ১০ এমপির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ

জুলাই হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেয়েছে প্রসিকিউশন। এ প্রতিবেদনগুলোতে আওয়ামী লীগের প্রায় ১০ জন এমপি মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে আমির হোসেন আমু, দীপু মনি, শাহজাহান খান, কামাল আহমেদ মজুমদার, আবদুর রাজ্জাকসহ অন্যান্যরা রয়েছেন।

সোমবার (১৩ জুলাই) চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেছেন, তদন্ত প্রতিবেদনগুলো যাচাই-বাছাই এবং প্রয়োজনীয় পর্যালোচনার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হলে চলতি মাসের মধ্যেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হবে। তাদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে সুপেরিয়র রেসপনসিবিলিটির অভিযোগ।

ইতোমধ্যে জুলাই হত্যাযজ্ঞের ২৪ টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ৬ টি মামলার রায়ও হয়েছে।

এদিকে, শাপলা চত্বর হত্যার ঘটনায় তদন্ত কাজও শেষ হয়েছে। চিফ প্রসিকিউটর জানান, তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে আগামী ২১ জুলাই ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সর্বনিম্ন ৫ সপ্তাহের মধ্যে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৩৮ পি.এম


হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সর্বনিম্ন ৫ সপ্তাহের মধ্যে

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ৫ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় এটি ঘটেছে, যা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিকে প্রভাবিত করেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রোববার (১২ জুলাই) প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচল গত পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে নিচে নেমেছে।

জাহাজ পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার জানিয়েছে যে, রোববার হরমুজ প্রণালিতে মাত্র ছয়টি জাহাজ চলাচল করেছে, যা গত পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন। প্রণালি ছেড়ে যাওয়া জাহাজগুলোর মধ্যে ছিল ‘হিউম্যানিটি’ নামের একটি ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার, যা প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল বহন করছিল। এছাড়াও ‘ক্যাপেটান আন্দ্রেয়াস’ নামের একটি ট্যাংকার প্রায় ৫ লাখ ব্যারেল কুয়েতি তেলজাত পণ্য নিয়ে প্রণালি অতিক্রম করেছে।

কেপলার তথ্য অনুযায়ী, অপরিশোধিত তেল বোঝাইয়ের জন্য তিনটি খালি তেলবাহী জাহাজ উপসাগরে প্রবেশ করেছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার সময় বেশিরভাগ জাহাজই নিজেদের অবস্থান শনাক্তকারী ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখেছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে কেপলার জানাচ্ছে, হরমুজ প্রণালিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী কোনো জাহাজের প্রবেশ ঘটেনি।

অন্যদিকে, কেপলারের আরেকটি তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ১০ থেকে ১২ জুলাইয়ের মধ্যে আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি পরিচালিত মাত্র একটি তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে, এবং এই জাহাজটি ভারতের দাহেজ বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটছে। তবে রোববারের হামলার পরিধি আগের চেয়ে অনেক বেশি ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, রোববার রাতে তারা ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা চালিয়েছে, যেখানে নির্ভুল নির্দেশিত অস্ত্র দিয়ে ডজনখানেক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প রোববার দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি এখনও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে, যদিও বাস্তবে তা দেখা যাচ্ছে না।

তবে এর আগে, গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। ইরানের দাবি, অনুমোদনহীন পথে চলাচল করা একটি জাহাজে আঘাত হানার পর এই পদক্ষেপ নেয়া হয়।

তথ্যসূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ড্রেজারের গর্জনে গিলছে আড়িয়াল খাঁ,একের পর এক হারাচ্ছে ঘর, জমি, স্কুল; নদীভাঙনের আতঙ্কে শতাধিক পরিবারের নির্ঘুম জীবন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাদারীপুর প্রতিনিধি শাওন বল

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৪৩ পি.এম


ড্রেজারের গর্জনে গিলছে আড়িয়াল খাঁ,একের পর এক হারাচ্ছে ঘর, জমি, স্কুল; নদীভাঙনের আতঙ্কে শতাধিক পরিবারের নির্ঘুম জীবন

একসময় ছিল বসতভিটা, ফসলভরা জমি আর স্বচ্ছল সংসার। এখন সেই সবই স্মৃতি। আড়িয়াল খাঁ নদীর ভয়াল ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়েছেন মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের হোগলপাতিয়া গ্রামের মো. এনামুল আকন। তাঁর মতো শতাধিক পরিবার প্রতিদিন নদীভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের পর থেকেই নদীর গতিপথ বদলে গিয়ে ভয়াবহ ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।

৪৮ বছর বয়সী এনামুল আকন জানান, একসময় প্রায় ১০ বিঘা আবাদি জমিতে কৃষিকাজ করে পরিবার চালাতেন। ১৯৮৮ সালের বন্যার পর থেকে ধীরে ধীরে নদী তাঁদের জমি গ্রাস করতে শুরু করে। সময়ের ব্যবধানে পারিবারিক ভাগে পাওয়া শেষ দুই বিঘা জমি ও বসতভিটাও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এখন পরিবার নিয়ে স্থানীয় সাইফুল ইসলামের আট শতাংশ জমিতে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি।

চোখের জল মুছতে মুছতে এনামুল বলেন, “ড্রেজার দিয়ে বালু না তুললে নদী এভাবে ভাঙত না। যারা এসব করে তারা খুবই প্রভাবশালী। প্রতিবাদ করলে হামলার ভয় থাকে। তাই মুখ খুলতেও ভয় পাই। আল্লাহ ছাড়া আমাদের দেখার কেউ নেই।”

একই গ্রামের টিটল আকনের জীবনেও নেমে এসেছে একই ট্র্যাজেডি। গোলাভরা ধান, বসতবাড়ি ও ফসলি জমি—সবই এখন নদীর তলদেশে। বাধ্য হয়ে নদীর ওপারে নিজের ছয় শতাংশ জমিতে নতুন করে ঘর তুলেছেন তিনি।

টিটল আকনের ভাষ্য, “আমাদের এলাকায় আগে কখনো নদীভাঙন ছিল না। ড্রেজার বসানোর পর থেকেই ভাঙন শুরু হয়েছে। যারা বালু তোলে, তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলার সাহস কারও নেই।”

আড়িয়াল খাঁ নদী মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়ন এবং কালকিনি উপজেলার আলিনগর ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। হোগলপাতিয়া, চরহোগলপাতিয়া, চর কালকিনি, সস্তাল ও কাদের আকন কান্দিসহ বিস্তীর্ণ এলাকা এখন নদীভাঙনের স্থায়ী ঝুঁকিতে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রতিবছর নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, আবাদি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা, কমিউনিটি ক্লিনিক ও হাটবাজার। যেসব ঘর এখনো নদীর কিনারায় টিকে আছে, সেসব পরিবারের প্রতিটি বর্ষা কাটে চরম উৎকণ্ঠায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বৃদ্ধ বলেন, “সংবাদ করলে আমাদেরই বিপদ হয়। কিন্তু সমস্যার কোনো সমাধান হয় না।”

নদীভাঙনের ধাক্কায় চরহোগলপাতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও সামাজিক স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে শিক্ষা কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় শিক্ষার্থীরা জানায়, নদীভাঙনের কারণে নৌকায় চলাচল করতে ভয় লাগে। এ কারণে অনেক সময় তারা স্কুলেও যেতে পারে না।

স্থানীয় বাসিন্দা জলিল বেপারী বলেন, “রাতভর ড্রেজারের শব্দে ঘুমাতে পারি না। কিছু বলতে গেলেই ভয় দেখানো হয়।”

শাহানুর আকন, সিদ্দিকী আকন, আজম হাওলাদার ও রাজ্জাক হাওলাদারসহ একাধিক বাসিন্দার অভিযোগ, অবৈধ ড্রেজারে বালু উত্তোলনের পর থেকেই নদীভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অনেক পরিবার পাঁচ থেকে সাতবার পর্যন্ত ঘর সরাতে বাধ্য হয়েছে। তাঁদের দাবি, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে পুরো জনপদই একসময় নদীগর্ভে বিলীন হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা বিল্লাল হোসাইন অভিযোগ করেন, অবৈধ বালু ব্যবসার সঙ্গে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট জড়িত। দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নিলে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে চলে যাবে।

 

ঝাউদি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম আবুল হাওলাদারের চাচাতো ভাই জাফর হাওলাদার বলেন, নদীর পাড়ে কয়েকজন মিলে বরই ও আমের বাগান করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, শামীম আকন নদীর পাড়ের মাটি ড্রেজার ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করায় তাঁর বাগান নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

জাফর হাওলাদার বলেন, “আমি বাধা দিলে আমাকে লোক দিয়ে মারতে আসে। প্রশাসনের কাছে এর বিচার চাই।”


হোগলপাতিয়া ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য লোকমান বেপারী বলেন, “তারা অনেক প্রভাবশালী। আমি প্রতিবাদ করলে আমার ওপরও হামলার আশঙ্কা রয়েছে।”

আলিনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহিদ পারভেজের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঝাউদি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম আবুল হাওলাদার বলেন, নদীভাঙনের বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন। অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ তাঁকে অবহিত করেননি বলেও দাবি করেন।


মাদারীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সানাউল কাদের খান বলেন, ঝাউদি ইউনিয়নে নদীতীর সংরক্ষণের জন্য একটি প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞ দলের পরিদর্শন শেষে প্রকল্প অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে কাজ শুরু হবে।

মাদারীপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব বলেন, অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে জরিমানা ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

জেলা প্রশাসক মিস মর্জিনা আক্তার বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পৃথক ম্যাজিস্ট্রেট টিম নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ অভিযান চলমান থাকবে।

আড়িয়াল খাঁর তীরে দাঁড়িয়ে এখন মানুষের একটাই প্রশ্ন—অবৈধ ড্রেজারের গর্জন থামবে কবে? তার আগেই কি নদী গিলে খাবে এই জনপদের শেষ আশ্রয়টুকুও?

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%