প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ৫ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় এটি ঘটেছে, যা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিকে প্রভাবিত করেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রোববার (১২ জুলাই) প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচল গত পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে নিচে নেমেছে।
জাহাজ পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার জানিয়েছে যে, রোববার হরমুজ প্রণালিতে মাত্র ছয়টি জাহাজ চলাচল করেছে, যা গত পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন। প্রণালি ছেড়ে যাওয়া জাহাজগুলোর মধ্যে ছিল ‘হিউম্যানিটি’ নামের একটি ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার, যা প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল বহন করছিল। এছাড়াও ‘ক্যাপেটান আন্দ্রেয়াস’ নামের একটি ট্যাংকার প্রায় ৫ লাখ ব্যারেল কুয়েতি তেলজাত পণ্য নিয়ে প্রণালি অতিক্রম করেছে।
কেপলার তথ্য অনুযায়ী, অপরিশোধিত তেল বোঝাইয়ের জন্য তিনটি খালি তেলবাহী জাহাজ উপসাগরে প্রবেশ করেছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার সময় বেশিরভাগ জাহাজই নিজেদের অবস্থান শনাক্তকারী ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখেছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে কেপলার জানাচ্ছে, হরমুজ প্রণালিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী কোনো জাহাজের প্রবেশ ঘটেনি।
অন্যদিকে, কেপলারের আরেকটি তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ১০ থেকে ১২ জুলাইয়ের মধ্যে আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি পরিচালিত মাত্র একটি তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে, এবং এই জাহাজটি ভারতের দাহেজ বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটছে। তবে রোববারের হামলার পরিধি আগের চেয়ে অনেক বেশি ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, রোববার রাতে তারা ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা চালিয়েছে, যেখানে নির্ভুল নির্দেশিত অস্ত্র দিয়ে ডজনখানেক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প রোববার দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি এখনও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে, যদিও বাস্তবে তা দেখা যাচ্ছে না।
তবে এর আগে, গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। ইরানের দাবি, অনুমোদনহীন পথে চলাচল করা একটি জাহাজে আঘাত হানার পর এই পদক্ষেপ নেয়া হয়।
তথ্যসূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন