ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

খেলাধুলা সীমান্ত পেরিয়ে শান্তি ও বন্ধুত্বের সেতুবন্ধ গড়ে তোলে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী


খেলাধুলা সীমান্ত পেরিয়ে শান্তি ও বন্ধুত্বের সেতুবন্ধ গড়ে তোলে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

খেলাধুলা শুধুমাত্র পদক জয়ের প্রতিযোগিতার বিষয় নয়, এটি সীমান্ত, ভাষা ও সংস্কৃতির বিভেদ অতিক্রম করে মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং দীর্ঘস্থায়ী কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। এই মন্তব্য করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

শুক্রবার (১৮ জুলাই) সকাল ১০টায় রাজধানীর মিরপুরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ১০ম ক্যাডেট, জুনিয়র, অনূর্ধ্ব-২১ ও সিনিয়র সাউথ এশিয়ান কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।

আমিনুল হক আরো জানান, ‘খেলাধুলার এমন একটি অনন্য শক্তি আছে, যা সব ধরনের সীমারেখা অতিক্রম করে অনেক মানুষের মধ্যে মিলন ঘটাতেই সক্ষম। আজ এখানে সাত শতাধিক অ্যাথলেট ও কর্মকর্তাদের একত্রিত হয়ে উপস্থিত হয়ে মনে হচ্ছে, খেলাধুলা কেবল প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নয়, বরং এটি শান্তি, বন্ধুত্ব এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও একটি শক্তিশালী মাধ্যম।’

আরও পড়ুন: পিরোজপুরে লাশ দাফনে বাধা, নাহিদ ইসলামের নিন্দা ও ইনসাফের আহ্বান

তিনি অপ্রকাশিত এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘এই আন্তর্জাতিক চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজন কেবল প্রশাসনিক সাফল্য নয়, পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সংহতি ও পারস্পরিক আস্থার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।’ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর তরুণদের জন্য যে অভিন্ন ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে একত্রিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে সেটি শান্তি এবং সম্মিলিত অগ্রগতি আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।

সরকারের ক্রীড়া উন্নয়ন পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যুব উন্নয়নকে সরকার জাতীয় অগ্রগতির প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। বিশ্বমানের ক্রীড়া অবকাঠামো নির্মাণ, উচ্চমানের প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে ধারাবাহিকভাবে বিনিয়োগ করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের সক্ষমতা অর্জনে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার প্রমাণ হিসাবে এই সাউথ এশিয়ান কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপ কাজ করবে।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শ্রীলঙ্কা, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান এবং স্বাগতিক বাংলাদেশের অংশগ্রহণকারী অ্যাথলেটদের স্বাগত জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, ‘এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী প্রতিটি ক্রীড়াবিদ তাদের নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করলেও তারা সম্মিলিতভাবে দক্ষিণ এশিয়ার ঐক্য ও সম্প্রীতির দূত।’

অ্যাথলেটদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বহু বছরের কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে আপনারা এই মঞ্চে পৌঁছেছেন। প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে লড়াই করবেন, তবে ক্রীড়াসুলভ আচরণ, বিনয় ও পারস্পরিক সম্মান যেন সব সময় অটুট থাকে। বিজয় বিনয়ের সঙ্গে গ্রহণ করবেন এবং পরাজয় মর্যাদার সঙ্গে মেনে নেবেন। আপনারা এই নিষ্ঠা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।’

আরও পড়ুন: বিদেশি ঋণ শোধে চাপ বাড়ছে, সহায়তার অর্থছাড় কমেছে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
কনস্টেবল সাইদুলের করুণ বার্তা

‘বাইরে আগুন ভেতরে ছাই, এটাই আমার জীবন’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৫৪ পি.এম


‘বাইরে আগুন ভেতরে ছাই, এটাই আমার জীবন’

‘হারিয়ে ফেলতে চাইনি বলেই আমাদের সম্পর্কের নাম দিয়েছি স্বামী-স্ত্রী। যদি তোমাকে হারানোর ইচ্ছে থাকত, যদি এই ভালোবাসা ক্ষণিকের মোহ হতো, তবে কখনোই এত পবিত্র এক বন্ধনের নামে তোমাকে নিজের বলে ঘোষণা করতাম না।

কখনোই তোমাকে নিজের নামে লিখিত করতাম না।’

মৃত্যুর আগে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া এক পোস্টে কথাগুলো লিখেছিলেন রাজধানীর ডেমরা পুলিশ লাইনে কর্মরত তরুণ কনস্টেবল সাইদুল ইসলাম (২১)। তিনি ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়া উত্তর চাঁদপুর গ্রামের এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান।

ওই পোস্টে সাইদুল লিখেন, ‘‘দিনের বেলা আমি যোদ্ধা... কিন্তু রাত? রাত আসলেই সব মুখোশ খুলে যায়।

যে মানুষটা দিনের আলোয় পাহাড় ঠেলতো, সে রাতের অন্ধকারে একটা মেসেজের কাছে ভেঙে পড়ে। লোকে বলে 'সময় সব ঠিক করে দেয়', আমি হাসি কারণ আমি জানি কিছু ক্ষত সময়ে না, অভ্যাসে ভালো হয়; আর তোমাকে ভোলার অভ্যাসটা আমার হচ্ছে না। এটাই এখন আমার জীবন— দিনে যুদ্ধ, রাতে পরাজয়; বাইরে আগুন, ভেতরে ছাই। একটা শেষ হয়ে যাওয়া মন নিয়ে রোজ বেঁচে থাকার মিথ্যে অভিনয়...’

তার ফেসবুক আইডির একাধিক পোস্টে উঠে আসে হতাশার গল্প।

২৩ জুন এক পোস্টে তিনি লিখেন, ‘হে জীবন তুমি সংক্ষিপ্ত হয়ে যাও, বেদনার রজনী সংক্ষিপ্ত হবার নয়...!!’

৩০ জুন লিখেন, ‘আত্মারও একটা আত্মসম্মান আছে, সুতরাং বিদায়...।’

গত ১৪ জুলাই আরেক পোস্টে তিনি লিখেন, ‘দরজাটা তুমি বন্ধ করলা, শাস্তিটা আমি পাইলাম, মানুষ বিয়েটাও এখন ট্রায়াল দিয়ে দেখে কি অদ্ভুত বাস্তবতা..!! শেষে এটাই মেনে নিলাম: যে থাকে না তাকে জোর করে স্টকে রাখি না। এটাই শেষ চিঠি তোমার নামে, আর কোনো অক্ষর খরচ হবে না। এরপর থেকে তুমি শুধু নীরবতা। চিরতরে বিদায়।’

মৃত্যুর আগে ফেসবুকে স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে একটি ভিডিও পোস্ট করেন সাইদুল, যা মূলত তার জীবনের শেষ আকুতি ও চিরকুট। ভিডিওটিতে দেখা যায়, তাদের মিলনের পর বিচ্ছেদের সেই মুহূর্ত, যেখানে তারা আইনজীবীর (অ্যাডভোকেট) সামনে বিষণ্ণ মনে বসে আছেন এবং বিচ্ছেদের দলিলে খাতায় স্বাক্ষর করছেন।

ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লিখেন, ‘তোমায় কেন্দ্র করে আমি যে জগৎ সাজিয়ে গুছিয়ে গড়ে তুলেছিলাম একটু একটু করে, হঠাৎ যেন সে জগৎটাকে দুদিনেই চোখের সামনে ভেঙেচুরে চুরমার করে দিলে। আমি সবকিছু চুপচাপ দেখে গেলাম। সমুদ্রের মাঝখানে তরী ডোবা মানুষ অনেকক্ষণ সাঁতার কাটার পর যেমন কুলের দেখা না পেয়ে শেষমেশ নিয়তিকে মেনে নেয়, সদরে গ্রহণ করে মৃত্যুকে, তেমনি আমারও যেন কিছুই করার নেই।

কত তুচ্ছ বাহানা দিয়ে মানুষ একটা গভীরতম সম্পর্কের ইতি টানে, আমি অবাক হই, মানুষ আসলেই কি মানুষকে ভালোবাসে..? জানো.? মাঝে মাঝে কেন জানি নিজেরে দেখলে নিজের অনেক মায়া লাগে, হাহাকার লাগে কি হয়ে গেলাম কি বানাইয়া গেলা, আচ্ছা বলতো আমার দোষটা কি ছিল.? কি করছিলাম আমি.? তোমারে ভালোবাসাটা অপরাধ.? নাকি সব কিছু উপেক্ষা করে তোমাকে বিয়ে করাটা অপরাধ?

তুমি না বলছিলা মৃত্যু ছাড়া তুমি কখনোই আমাকে ছেড়ে যাবে না? এখন কই তুমি? আমিতো তোমার অভাবেই শেষ হয়ে গেলাম, অনেকবারই তো আঘাত করছো সব ভুলে বার বার মাপ করে তোমাকে বুকে টেনে নিলাম এই মূল্য দিলা.? একেবারেই শেষ করে দিতে আসলা? আমি তো নিয়তি মেনে নিয়ে দূরেই ছিলাম তোমার থেকে কেন আবার আসছিলা কেন এত কাছে আসচিলা? কোন উত্তর খুঁজে পাইনা আমি।

শুধু দ্বিতীয় বার না, তৃতীয় বার না, চতুর্থ বার না, আমি হাজার বার সুযোগ দিয়েছি। কিন্তু তুমি প্রতিবারই আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছো মানুষকে এতটাও বিশ্বাস করতে হয় না, যে বিশ্বাস করলে নিজেই আর বাঁচার সুযোগ থাকে না।

আমার কাছে এই সম্পর্ক কোনো সাময়িক অনুভূতি নয় এটি আজীবনের অঙ্গীকার, বিশ্বস্ততা আর একে অপরকে পাশে থাকার নীরব শপথ ছিল কিন্তু তুমি সব শেষ করে দিলা। আচ্ছা যদি যাওয়ারই ছিল আসছিলাই কেন.? বহুকাল বয়ে বেড়াতে হবে হৃদয় ভাঙা এই ব্যথা, হয়তো এই জন্মে আর সেরে উঠবে না মৃত্যু ছাড়া। তাই আমি সেই পথেই গেলাম। সারা জীবন মানুষকে বুঝাইলাম অথচ দিন শেষে এসে দেখি আমি নিজেই অবুঝ..!

যাও ভালো থাকো, যতটুকু দূরত্ব নিয়ে তুমি চলে গেলে তার থেকে দ্বিগুণ দূরত্ব নিয়ে আমি হারিয়ে গেলাম, সুখে থাকো এটাই কামনা। তোমাকে বলেছিলাম না এটাই আমার শেষ শক্তি হয়তো তুমি, নয়তো আমি শেষ। নাও তারও প্রমাণ দিলাম সারা জীবন তো প্রমাণই দিয়ে আসলাম তারপরও। যাই হোক। তুমি তো জানোই চাইলে আমি অনেক কিছুই করতে পারতাম কিন্তু আমার প্রতিপক্ষ তো তুমি হয়ে গেলা কি আর করব, যাও প্রমাণ সব তোমার অনুকূলে কারণ আমার পক্ষের উকিল হচ্ছে এমন নীরবতা আমার নীরবে হারিয়ে যাওয়া, যেখানে তুমি জবানবন্দি দিলে আর তুমি দিলে বিচ্ছেদের চূড়ান্ত রায়.’’

পোস্টের শেষে তিনি তার জন্মদাতা বাবা-মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে লিখেন, ‘দুঃখিত আম্মু আব্বু আপনাদের ছেলে আর নিতে পারতেছে না আম্মু আর পারতেছে না আর তিলে তিলে মরার শক্তি আমার নাই। মাপ করবেন আপনাদের অযোগ্য ছেলেকে। আমার যেন আর কিছুই করার নেই। একদম ভেঙে চুরে শেষ হয়ে গেলাম।’

মৃত্যুর ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে পুলিশের তরুণ এই সদস্য আরেকটি পোস্টে লিখেছিলেন, ‘মন হৃদয়টা আর বাজে না, পুরোপুরি শেষ, একদম নিঃশব্দ একটা কবরখানা। ভেতরে আর কোনো শব্দ নেই, শুধু পুরনো দেয়ালে ঝুলে থাকা তোমার রেখে যাওয়া কিছু ফ্রেম যা খুলে ফেলার সাহস হয় না। তবু আমি অভিনয় করি প্রতিদিন, সকালে ঘুম থেকে উঠে চোখে পানি মুছে ঠোঁটে হাসির রং লাগাই, বন্ধুদের আড্ডায় সবচেয়ে জোরে হাসি, স্ট্যাটাসে লিখি 'নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত', সবাইকে দেখাই আমি কত স্ট্রং।

কেউ বোঝে না এই স্ট্রংনেসটা আসলে একটা ইউনিফর্ম, যুদ্ধের ময়দানে পরে থাকা মিথ্যে বর্ম, ভেতরে রক্ত ঝরে, বাইরে মেডেল ঝোলে। ...অনেক চেয়েছি শক্ত হতে, নিজেকে বুঝিয়েছি 'যা গেছে তা গেছে', নতুন করে শুরু করেছি একশো বার, কিন্তু মন তো কাগজ না যে চাইলেই নতুন পাতা পাওয়া যায়। এটা মাংসের টুকরো যেখানে তোমার নামটা খোদাই হয়ে আছে, যতই ঘষি, দাগটা থেকে যায়। ...তাই আমি আবার সকালে উঠি, আবার স্ট্রং সাজি, আবার মানুষকে দেখাই আমার কিছু হয়নি, আর রাতে আবার হেরে যাই স্মৃতির কাছে, নিজের কাছে, নিজের মিথ্যের কাছে। ...যদি কোনোদিন সত্যি স্ট্রং হতে পারি, সেদিন তোমাকে চিঠি লিখবো না, শুধু নিজেকে বলবো 'যুদ্ধটা শেষ পর্যন্ত জিতেছি'। কিন্তু আজ? আজও আমি হেরে যাচ্ছি, দিনশেষে তোমার স্মৃতির কাছে।’

নিহতের বাবা মোহাম্মদ সাদেক জানান, এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের ২ তারিখে বাংলাদেশ পুলিশে জয়েন করেছে। অনেক স্বপ্ন নিয়ে আমার এই ছেলে... আমার এবং আমার ছেলের স্বপ্ন ছিল খুব বড় কিছু। সব এক মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল!

তিনি আরো বলেন, ‘আমি কি করমু? আমি কি বলমু? আমি জানি না। কেউ কিছু জানে না, তার ফেসবুকে আমিও দেখতে পেয়েছি। যা হয়েছে সে জানে আর আল্লাহই জানে। তাছাড়া তার মোবাইল থেকে শুরু করে সবকিছু পুলিশ নিয়ে গেছে। আর আমরা বুঝি না, গ্রামের মানুষ। আমার মন মানসিকতাও ঠিক নেই।’

ডিএমপি কল্যাণ ট্রাস্টের এএসআই কামরুল পুরো প্রক্রিয়ার বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, ‘ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গ থেকে প্রথমে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে সহকর্মীদের উপস্থিতিতে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মরদেহ ডেমরা পুলিশ লাইন্সে নেওয়া হলে সেখানে সহকর্মী ও স্থানীয়দের অশ্রুসিক্ত উপস্থিতিতে দ্বিতীয় জানাজা সম্পন্ন করা হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘দুই দফা জানাজা সম্পন্ন করার পর মরদেহটি চূড়ান্তভাবে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। স্বজনরা চোখের জলে ভাসতে ভাসতে তার নিথর দেহ গ্রামের বাড়ি ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়া উত্তর চাঁদপুর গ্রামে নিয়ে যান এবং সেখানে আরেকটি জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে চিরনিদ্রায় দাফন করা হয়।’

ডেমরা থানা সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু হয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে সাইদুলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসহ যাবতীয় আলামত পুলিশ হেফাজতে নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালানো হচ্ছে।

নিহত সাইদুলের পরিবার ও সহকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, ডেমরা পুলিশ লাইন্সের ২০ তলা ভবনের নবম তলার একটি কক্ষে থাকতেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিজ কক্ষে গলায় ফাঁস দেন তিনি। পরে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে শুক্রবার ভোরে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সাইদুলের ঠিক পাশের সিটে থাকা এক পুলিশ সদস্যের বরাতে এসআই নজরুল জানান, সাইদুল চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ঠিক এক সপ্তাহ আগে পুলিশে যোগদান করেন। তিনি অত্যন্ত হাসিখুশি ও উদ্যমী স্বভাবের ছেলে ছিলেন। তার মনের ভেতর যে এমন গভীর বিষাদ ও আত্মহননের পরিকল্পনা চলছিল, তা কেউ টের পাননি।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছিল। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে গুরুত্বের সঙ্গে জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডিএমপির ২৪ ঘণ্টার অভিযানে গ্রেপ্তার ৪৬৩, মামলা ৩৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৫৪ পি.এম


ডিএমপির ২৪ ঘণ্টার অভিযানে গ্রেপ্তার ৪৬৩, মামলা ৩৮

 রাজধানী ঢাকায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৪৬৩ জন গ্রেফতার হয়েছে।, একই সময়ে ৩৮ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রমনা বিভাগ থেকে ৪৭, লালবাগ বিভাগ থেকে ৩২, ওয়ারী বিভাগ থেকে ৪৫, মতিঝিল বিভাগ থেকে ৫০, তেজগাঁও বিভাগ থেকে ৫০, মিরপুর বিভাগ থেকে ১১৪, গুলশান বিভাগ থেকে ৪৭, উত্তরা বিভাগ থেকে ৬৪, সিটিটিসি বিভাগ থেকে একজন ও গোয়েন্দা বিভাগ থেকে ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এই অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১৫,৩৬৪ পিস ইয়াবা, ৪৫ কেজি ৫৮০ গ্রাম গাঁজা, একটি সিএনজি, একটি মোটরসাইকেল, ১০ টি মোবাইল, চারটি অটোরিকশার ব্যাটারি, একটি চাকু, একটি চাপাতি এবং একজন ভিকটিম।

রাজধানীর নানা থানা এলাকায় এই অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য উদ্ধার করার পাশাপাশি গ্রেফতার করা হয়েছে।

ডিএমপির মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী আজ এই তথ্য প্রকাশ করেন।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশে চলবে বুলেট ট্রেন, জানালেন চীনা রাষ্ট্রদূত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৫৫ পি.এম


বাংলাদেশে চলবে বুলেট ট্রেন, জানালেন চীনা রাষ্ট্রদূত

ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানিয়েছেন, চীনের উচ্চগতির রেল প্রযুক্তি বাংলাদেশে ব্যবহারের সম্ভাবনা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ গুরুত্বপূর্ণ রুটে দ্রুতগতির বুলেট ট্রেন চালুর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সমিতি’ আয়োজিত এক সেমিনারে রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এ সময় ইয়াও ওয়েন বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন সম্ভাবনার একটি বিস্তৃত রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে পূর্ণ সহযোগিতা, বাংলাদেশের পণ্যের জন্য চীনের বাজার আরো উন্মুক্ত করা, দ্রুতগতির বুলেট ট্রেনের সম্ভাবনা এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সক্রিয় মধ্যস্থতা করার বিষয়ে আলোচনা করেন।

বুলেট ট্রেনের সম্ভাবনা ও যোগাযোগ খাতে সহযোগিতার সম্পর্কে ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর (বিসিএম) নিয়ে কাজ এগিয়ে চলেছে।

রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন আরো বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক বর্তমানে ইতিহাসের অন্যতম সেরা পর্যায়ে রয়েছে। সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের সফর দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরো শক্তিশালী করেছে।

উন্নয়ন, বাণিজ্য, যোগাযোগ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা দিতে চীন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিস্তা মহাপরিকল্পনায় পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইয়াও ওয়েন বলেন, তিস্তা নদী মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীন আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তিনি জানান, প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দিতে বেইজিং প্রস্তুত রয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষি ও পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, কাঁঠাল রপ্তানির জন্য চীনের বিশাল বাজার খুলছে। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরে বাংলাদেশের তাজা কাঁঠাল রপ্তানির বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রটোকল স্বাক্ষর হয়েছে। এর ফলে, আমের পর এবার দেশের জাতীয় ফল কাঁঠালও চীনের বিশাল ভোক্তা বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে, যা কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, মিয়ানমারে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সংলাপ এগিয়ে নিতে এবং টেকসই সমাধান খুঁজে বের করতে চীন মধ্যস্থতামূলক ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে বিজিএমইএ, সিএমপি ও জেলা পুলিশের কাছে ত্রাণ হস্তান্তর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৫৮ পি.এম


বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে বিজিএমইএ, সিএমপি ও জেলা পুলিশের কাছে ত্রাণ হস্তান্তর

চট্টগ্রামে টানা বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা প্রভাবিত মানুষের সহায়তায় বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এগিয়ে এসেছে। বন্যাকবলিত অসহায় মানুষদের জন্য সংগঠনটির পক্ষ থেকে সরাসরি ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রমও হাতে নেওয়া হয়েছে।

বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমানের উদ্যোগে এবং ভারপ্রাপ্ত সহসভাপতি এনামুল আজিজ চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে এই মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

এর অংশ হিসেবে গত ১৪ ও ১৬ জুলাই, বিজিএমইএর পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এবং চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের কাছে ২০০ বস্তা করে ত্রাণসামগ্রী হস্তান্তর করা হয়। সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন যে, প্রশাসনের মাধ্যমে এই ত্রাণসামগ্রী দ্রুত ও সুষমভাবে বন্যাদুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

ত্রাণসামগ্রী হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ’র ভারপ্রাপ্ত সহসভাপতি এনামুল আজিজ চৌধুরী, পরিচালক ও সাবেক প্রথম সহসভাপতি এস এম আবু তৈয়ব, পরিচালক এমডি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, সাবেক পরিচালক খন্দকার বেলায়েত হোসেন এবং সংগঠনের বিভিন্ন স্থায়ীত্ব কমিটির চেয়ারম্যানরা।

এসময় সিএমপি ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন।

ত্রাণ গ্রহণের সময় সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এবং পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিজিএমইএ’র এই উদ্যোগের উচ্চ প্রশংসা করেন। তারা সকলেই আশ্বাস দেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে দ্রুততম সময়ে এই ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে।

এর আগে, গত ১৫ জুলাই বিজিএমইএ’র বিভিন্ন স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ও কর্মকর্তারা চট্টগ্রামের বন্যাবিধ্বস্ত বাঁশখালী ও সাতকানিয়া এলাকার বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন।

এ সময়ে সেখানকার সহস্রাধিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

বিজিএমইএ নেতারা উল্লেখ করেন, দেশের যেকোনো দুর্যোগ ও সংকটময় পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো তাদের সামাজিক এবং নৈতিক দায়। তৈরি পোশাক শিল্পের উন্নয়নের পাশাপাশি মানবিক এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডেও বিজিএমইএর এ ধরনের সহায়তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তারা জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%