১২:২৬ পি.এম
সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার সীমান্ত নদী পাঠলাই এর কামাল পুর যাদুকাটা নদীর ফাজিলপুর স্থানে বিআইডব্লিউটিএর টোল আদায়ের নামে সরকারের নির্ধারিত হারের চেয়ে অতিরিক্ত দুইগুণ বেশি হারে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। শুধু অতিরিক্ত টাকা আদায়েই নয়! তাদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দিলে বালু-পাথর, কয়লা ও চুনাপাথর বহনকারী নৌকা আটকে রাখাসহ নৌ- শ্রমিকদের মারধর করছে বলে অভিযোগ নৌ শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের। এ দিকে বিআইডব্লিউটি'র ইজারা কর্তৃপক্ষের দাবি সরকারের নির্ধারিত হারেই টোল আদায় করছে তারা। , চলতি ২৫-২৬ অর্থ বছরের জন্য প্রায় সাড় ৭ কোটি টাকায় পহেলা জুলাই থেকেই পাঠলাই নদীর বিআইডব্লিউটি'র ইজারা নেন তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাছির মিয়া।
তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা, রক্তি ও পাটলাই নদীতে অতিরিক্ত টোল আদায়, নৌ-শ্রমিকদের হয়রানি ও অবৈধ অর্থ আদায় বন্ধের দাবিতে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে যাদুকাটা নদী নৌকা মালিক সমিতি ও স্টোন ক্রাশার মালিক সমিতি।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে দুই সংগঠনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক এ সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপারের কাছে চার দফা দাবিতে স্মারকলিপি দেন তার।
পাশাপাশি চুনাপাথর ও কয়লা বহনকারী নৌ শ্রমিকরা নদী পথে অতিরিক্ত টোল আদায়ের নামে চাঁদাবাজি বন্ধ না হওয়ায় পর্যন্ত পাঠলাই ও যাদুকাটা নদী দিয়ে কোনরকম নৌযান চলাচল করবে মর্মে গত ১ জুলাই থেকে দুইদিন ধরে অনির্দিষ্টকালের জন্য নৌ ধর্ম ঘটের ডাক দিয়ে প্রায় ৩ শতাধিক চুনাপাথর ও কয়লা বুঝাই নৌকা নিয়ে পাঠলাই নদীর বিআইডব্লিউটি'র টোল আদায় ঘট কামালপুর এলাকায় অবস্থান করছে নৌ শ্রমিকরা।
নৌপথে চলাচলকারী পরিবহন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পাটলাই নদীসহ আশেপাশের পয়েন্টগুলোতে কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এবং কোনো সরকারি টোল চার্ট বা বৈধ রশিদ ছাড়া ইচ্ছামাফিক বিআইডব্লিউটি'র নামের অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে ইজারাদার নাছির মিয়া এবং কোটগারি নামে শ্রীপুর গ্রামের ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন । এইসব টোল নৈরাজ্যের কারণে সাধারণ শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
আজ ৪ জুলাই শনিবার দুপুরে সরেজমিনে পাঠলাই নদীর বিআইডব্লিউটি'র টোলটেক্স ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, গত মাসেই( জুন মাসে) সরকারের নির্ধারিত প্রতি টনে ৩৪ টাকা টোল আদায়ের স্থলে ওই ঘাটের নতুন ইজারাদার নাছির মিয়া পহেলা জুলাই থেকেই প্রতি টনে আদায় করছে ৭০ টাকা হারে। তাদের চাহিদা অনুযায়ী টোল না দেয়ায় আটক থাকা শত শত পাথর ও কয়লা বোঝাই নৌ শ্রমিকদের জীবনে মানবিক দুর্ভোগ। এ সময় সাংবাদিক দেখেই দীর্ঘ নিঃশ্বাস নিয়ে নৌ-শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে।
বাজিদপুর গ্রামের মোতাহার নৌকার মাঝি অহিদ মিয়া(৪৫) বলেন, আজ ১৫ দিন ধরে আমার নৌকা আটক। আমরা আওয়ামী লীগের দুঃশাসনেরও চেয়েও খারাপ অবস্থায় আছি। উন্নতি অইব, উন্নতি অইব, কিন্তু উন্নতির কোন খবরই নাই। খালি রেইট বাড়ে, রেইট বাড়ে, আমারও তো জান বাঁচতে অইব। কোটি টেহা দিয়া নাও লইয়া শ্রম দিতাছি। হেরারে( টোল আদায়কারী ইজারাদার) চাঁদা দিতে দিতেই কিছু থাহেনা।
আহমদ শাহ নৌ পরিবহনের মাঝি তাহিরপুর উপজেলা সিকশা গ্রামের তৈবুর রহমান(৩৭) বলেন, আমরা গত মাসেও( জুন মাস) ৩৪ টাকা টোল দিছি। এই মাস(জুলাই) নতুন ইজারা প্রতি টনে ৭০ টাকা না দিলে আমরারে যাতে দিতনা। তাই আমরা প্রায় ৩ শ নৌ এইগান আটকা আছি।
যাদুকাটা স্টোন ক্রাশার মালিক সমিতির সভাপতি ও ব্যবসায়ী কামাল হোসেন বলেন, তিনদিনের ব্যবধানে বিআইডব্লিউটি এর টোল দিতে হচ্ছে ৩৪ টাকার স্থলে ৭০ টাকা। এখন একই ইউনিয়নে কোর্টগারির নামে দুই স্থানে প্রতিটি নৌকা দিতে হয় ১০ হাজার টাকা। পাঠলাই ও যাদুকাটা নদী দিয়ে একটা নৌকা জামালগঞ্জ যেতে যেতে চাঁদা গুনতে হয় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। চাঁদাবাজদের চাঁদা দিতে দিতেই আমাদের কিছুই থাকেনা। এখন মনে হয় আমরা ব্যবসাও ছেড়ে দিতে হবে। নৌকাও বিক্রি করে দিতে হবে।
পাঠলাই নদীর বিআইডব্লিউটি এর ইজারাদার নাছির মিয়া অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সরকারের নির্ধারিত হারেই আমি টোল আদায় করছি। বিআইডব্লিউটি কর্তৃপক্ষ আমাকে প্রতি টানে ৭০ টাকা হারে টোল আদায়ের নির্দেশনা দিয়েছেন আমি তাই আদায় করছি।
বিআইডব্লিউটি'র সিলেট অঞ্চলিক দপ্তর এর উপ পরিচালক শরিফুল ইসলাম বলেন, পহেলা জুলাই থেকে সরকার টেরিট তফসিলে মালামাল লো ডাউনলোডে পূর্ণ নির্ধারণ করা হইছে ৭০ টাকা হারে। এটি সরকার নির্ধারিত সারা বাংলাদেশের জন্য বিআইডব্লিউটি'র টোল আদায়ের হার। এখানে ইজারাদার কোনরূপ বেশি টাকা বা চাঁদা নিচ্ছে না।
আরও পড়ুন: নাব্যতা সংকটে হবিগঞ্জের সুতাং নদী মরা খালে পরিণত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন