ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

৪ বছরে যুক্তরাজ্য পেয়েছে ৫ প্রধানমন্ত্রী, পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারবেন কি বার্নহাম?


৪ বছরে যুক্তরাজ্য পেয়েছে ৫ প্রধানমন্ত্রী, পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারবেন কি বার্নহাম?

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে টালমাটাল পরিস্থিতি যেন কোনোভাবেই কাটছে না। বিগত ৪ বছরে মোট ৫ জন প্রধানমন্ত্রী পাওয়ার মধ্য দিয়ে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক অস্থিরতার সাক্ষী হলো ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট।

কিয়ার স্টারমারের নাটকীয় পদত্যাগের পর সোমবার (২০ জুলাই) লেবার পার্টির অভিজ্ঞ নেতা এবং গ্রেটার ম্যানচেস্টারের জনপ্রিয় সাবেক মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম যুক্তরাজ্যের ৫৯তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

বাকিংহাম প্যালেসে রাজা চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার গঠনের দায়িত্ব পাওয়ার পর বার্নহাম জানান, তার সরকার দেশের অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। তবে বর্তমান ব্রিটিশ রাজনীতির ঘূর্ণাবর্তে দাঁড়িয়ে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— অ্যান্ডি বার্নহাম কি তার পূর্ণ মেয়াদ সাফল্যের সঙ্গে শেষ করতে পারবেন, নাকি পূর্বসূরিদের মতোই মাঝপথে বিদায় নিতে হবে?

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-জাপান চুক্তি: ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হবে পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মসংস্থান চুক্তি

বিগত কয়েক বছর ধরে ব্রেক্সিট-পরবর্তী অর্থনৈতিক ধাক্কা ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সংকটে ব্রিটেনের রাজনীতিতে একের পর এক নেতৃত্ব পরিবর্তন হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম পিবিএস নিউজ তাদের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, মাত্র এক দশকে বার্নহাম ব্রিটেনের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী। বরিস জনসন, লিজ ট্রাস, ঋষি সুনাক এবং সর্বশেষ কিয়ার স্টারমারের পর বার্নহামের এই অভিষেককে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো ব্রিটেনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজনের চরম বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছে। স্টারমার যেখানে মাত্র দুই বছর টিকে থাকতে পেরেছেন, সেখানে বার্নহামের সামনে চ্যালেঞ্জটা পাহাড়সম।

যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক কাউন্সিল অব ফরেন রিলেশনস (সিএফআর)-এর এক রাজনৈতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বার্নহামের ক্ষমতার কেন্দ্রে আসা লেবার পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের একটি বড় রূপান্তর। তিনি মূলত বিকেন্দ্রীকরণ এবং আঞ্চলিক পুনর্গঠনের নীতি নিয়ে চলেন। তবে তার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি নির্ভর করবে তিনি তার নিজস্ব মন্ত্রিসভা এবং বিভক্ত লেবার এমপিদের কতটা ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারেন তার ওপর।

ব্রিটেনের সংসদীয় ব্যবস্থায় সাধারণ নির্বাচন ছাড়াই ক্ষমতাসীন দল তাদের নেতা পরিবর্তন করতে পারে, যার ফলে দলের ভেতরে একটু অসন্তোষ দানা বাঁধলেই প্রধানমন্ত্রীর চেয়ার নড়েচড়ে ওঠে।

ওয়াশিংটন পোস্ট তাদের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বার্নহামের আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও বিশ্বরাজনীতির চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেছে। সংবাদমাধ্যমটির মতে, বার্নহামের দীর্ঘ অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা থাকলেও বৈশ্বিক রাজনীতি কিংবা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তার অভিজ্ঞতা তুলনামূলক সীমিত। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ডাউনিং স্ট্রিটের সমীকরণ মেলানো এবং ইউক্রেন-রাশিয়া সংকটে ব্রিটেনের অবস্থান ধরে রাখা তার জন্য বড় পরীক্ষা হবে। ওয়াশিংটন পোস্টের বিশ্লেষকদের মতে, বার্নহামের ব্যক্তিত্ব কিছুটা আবেগপ্রবণ, যা আন্তর্জাতিক চাপের মুখে তাকে কিছুটা নাজুক অবস্থানে ফেলতে পারে, যদিও ১০ বছরের আঞ্চলিক মেয়রের অভিজ্ঞতা তাকে শাসনকাজে অনেকটাই পরিপক্ব করেছে।

আরও পড়ুন: হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতার শিকার প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

অন্যদিকে ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু’র ভাষ্য, বার্নহাম লেবার পার্টির ৪০১ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৩৭৯ জনের বিপুল সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন। এই বিশাল জনসমর্থন এবং জনগণের কাছে তার ‘কিং অব দ্য নর্থ’ বা সাধারণ মানুষের নেতা হিসেবে ইমেজ তাকে প্রাথমিক স্তরে বড় সুবিধা দেবে। দ্য হিন্দুর মতে, অর্থনৈতিক সংস্কার ও কর কাঠামোতে বড় কোনো বিপর্যয় না ঘটলে এবং দলের ভেতরের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পারলে বার্নহামের পক্ষে আগামী সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত টিকে থাকা অসম্ভব নয়।

পরিশেষে বলা যায়, অ্যান্ডি বার্নহাম এমন এক সময়ে ব্রিটেনের হাল ধরেছেন যখন ব্রিটিশ নাগরিকরা ঘন ঘন সরকার পরিবর্তনে ক্লান্ত। তবে ব্রিটেনের বর্তমান অর্থনৈতিক মন্দা, মূল্যস্ফীতি এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির যে জটিল সমীকরণ, তাতে বার্নহামের মেয়াদ শেষ করার বিষয়টি শুধু তার জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভর করছে না। ডাউনিং স্ট্রিটের এই ‘মিউজিক্যাল চেয়ার’ খেলা বন্ধ করে তিনি যদি আগামী তিন বছর সরকারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারেন, তবেই ব্রিটেনের রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বন্যায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য ঝুঁকি, কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৫৭ এম


বন্যায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য ঝুঁকি, কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন?

 

দেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর মধ্যে বন্যা একটি গুরুত্বপূর্ণ দুর্যোগ, যা অন্যান্য অনেকের মধ্যে অন্যতম। ভারি বর্ষণের জন্য বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে এবং হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যা দুর্গতরা সুপেয় পানি, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং থাকার নূনতম পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

বন্যার সময় কিছু রোগ-বালাই দেখা দেয়। এই দুর্যোগ মোকাবিলার পাশাপাশি এসব রোগ-বালাই থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং সচেতন হতে হবে।

* বিশুদ্ধ পানি

বন্যার সময় পানির উৎস হিসেবে পানিকে ভালোমতো ফুটিয়ে ঠান্ডা করে পান করা প্রয়োজন, এছাড়া এটি গৃহস্থালির অন্যান্য কাজে ব্যবহার করতে হবে। যদি বন্যার পানিতে টিউবওয়েল তলিয়ে যায় তবে এক কলস পানিতে তিন-চার চা চামচ ব্লিচিং পাউডার মিশিয়ে টিউবওয়েলের ভেতর ঢালা উচিত। আধা ঘণ্টা রেখে দিয়ে একটানা আধা ঘণ্টা চেপে বের করে ফেললে সে পানি খাওয়ার উপযোগী হয়ে যাবে। যদি ব্লিচিং পাউডার না থাকে তবে এক ঘণ্টা টিউবওয়েলের পানি চেপে বের করে ফেলতে হবে। কিন্তু নিরাপত্তার জন্য টিউবওয়েলের পানিও ভালোমতো ফুটিয়ে গ্রহণ করা উচিত এবং পানি একটানা ৩০ মিনিট ফুটিয়ে ঠান্ডা করতে হবে। যদি পানি ফোটানোর ব্যবস্থা না থাকে, তবে প্রতি দেড় লিটার পানিতে ৭.৫ মিলিগ্রাম হ্যালোজেন ট্যাবলেট (হ্যালো ট্যাব), তিন লিটার পানিতে ১৫ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট, এবং ১০ লিটার পানিতে ৫০ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা রেখে দিলে পানি বিশুদ্ধ হয়। আবার বাসার পানির ট্যাংকের প্রতি এক হাজার লিটারে ২৫০ গ্রাম ব্লিচিং পাউডার এক ঘণ্টা রাখতে পানিকে বিশুদ্ধ করা সম্ভব। তবে এই ক্ষেত্রে ভাইরাস জীবাণু ধ্বংস হয় না।

* ডায়রিয়া প্রতিরোধে

বন্যার সময় ডায়রিয়া হচ্ছে প্রধান স্বাস্থ্য সমস্যা। তাই খাওয়ার আগে এবং পায়খানা করার পরে হাত ভালোভাবে পরিষ্কার করার ওপর জোর দিতে হবে। যদি ডায়রিয়া শুরু হয় তাহলে পরিমাণ মতো খাওয়ার স্যালাইন খেতে হবে। ২ বছরের কম বয়সী শিশুদের পাতলা পায়খানার পর ১০-১২ চা চামচ এবং ২ থেকে ১০ বছরের শিশুদের জন্য ২০ থেকে ৪০ চা চামচ খাওয়ার স্যালাইন দিতে হবে। খাওয়ার স্যালাইন না থাকলে বিকল্প হিসেবে লবণ-গুড়ের শরবত খাওয়াতে হবে। এ সময় নিরাপদ পানি খাওয়ানো যেতে পারে। শিশুর পুষ্টিহীনতা রোধে খিচুড়ি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে। ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলও গ্রহণ করা উচিত। যদি পাতলা পায়খানা ও বমির মাত্রা বেড়ে যায়, তবে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে।

* খাবার গ্রহণে সতর্কতা

বন্যার সময় অনেক মানুষ পচা বা বাসি খাবার খেতে বাধ্য হন, ফলে ডায়রিয়াসহ অন্যান্য রোগ ছড়িয়ে পড়ে। এই সময়ে খিচুড়ি খাওয়া স্বাস্থ্যকর। খাবারের প্লেট সাবান ও নিরাপদ পানিতে ধোয়া উচিত। অনেকেই পানি বেশি খরচ হয় বলে প্রথমে একবার সাধারন পানিতে থালা-বাসন ধুয়ে তারপর ফুটানো পানিতে ধুয়ে থাকেন, তবে এটি সঠিক নয় কারণ এতে থালা-বাসনে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে।

* দুর্ঘটনা থেকে সাবধানতা

বন্যার সময় আকস্মিক বিভিন্ন দুর্ঘটনা ঘটে, যেমন বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা, পানিতে ডুবে যাওয়া, সাপ এবং পোকা-মাকড়ের কামড়ের ঘটনা। বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে গেলে বা পানিতে পড়ে থাকতে দেখলে তা স্পর্শ না করে দ্রুত বিদ্যুৎ কর্মীদের খবর দিতে হবে। সাপ এবং ইঁদুর মানুষ ও পশপাখির মাঝে অবস্থান নেয়, ফলে সাপ কাটার ঘটনা বেড়ে যায়। বিষহীন সাপে কাটলে ভয়ের কিছু নেই, কিন্তু বিষধর সাপে কাটলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। হাসপাতালে জরুরিভিত্তিতে অ্যান্টিভেনম এবং টিটেনাস প্র্যাকটিশ প্রয়োগ করতে নির্দেশ পেরাতে হবে। ইঁদুরে কাটলেও অবহেলা না করে ডাক্তারদের পরামর্শ নিতে হবে।

* মলত্যাগে সতর্কতা

বন্যার সময় যেখানে-সেখানে মলত্যাগ করা দূষণ ছড়ায়, যা পেটের পীড়া এবং কৃমির সংক্রমণ বৃদ্ধি করে। সম্ভব হলে একটি নির্দিষ্ট স্থানে মলত্যাগ করতে হবে এবং পরে হাত সাবান বা ছাই দিয়ে ভালো করে ধোয়া উচিত। মলত্যাগের সময় খালি পায়ে থাকলে বক্রকৃমির জীবাণু শরীরে সংক্রমিত হয়। এ সময় বাসার সবাইকে কৃমির ওষুধ খাওয়ানো উচিত। তবে দুই বছরের নিচের শিশুদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

* বন্যা-পরবর্তী সতর্কতা

বন্যা-পরবর্তী সময় মানুষ (দুই বছরের নিচের শিশু ছাড়া) ও গবাদিপশুকে কৃমিনাশক খাওয়াতে হবে। শামুক বিভিন্ন পরজীবীর বা কৃমির মধ্যবর্তী পোষক হিসাবেও কাজ করে। শামুক যখন হাঁসের খাবার হয়ে যায় তখন তা কম ক্ষতিকর। এ ছাড়াও কৃমিনাশক নিয়মিতভাবে চার থেকে ছয় মাস অন্তর খাওয়ানো উচিত।

লেখক : মেডিসিন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ, ল্যাবএইড ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার, উত্তরা, ঢাকা।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাতে ফোনে ‘ডার্ক মোড’ ব্যবহার, চোখের জন্য কতটা নিরাপদ?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:০৫ এম


রাতে ফোনে ‘ডার্ক মোড’ ব্যবহার, চোখের জন্য কতটা নিরাপদ?

রাতে স্মার্টফোন ব্যবহারের সময় ‘ডার্ক মোড’ অন করার ফলে চোখের জন্য এটি কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে আলোচনা করা জরুরি।

অনলাইন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে স্মার্টফোনের স্ক্রিনের দিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাকিয়ে থাকার ফলস্বরূপ চোখের ক্লান্তি, মাথাব্যথা এবং ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। তবে আশার বিষয় হলো, ফোনের ডিসপ্লে সামান্য কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে চোখের ক্ষতি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব এবং ফোন ব্যবহারকে আরও আরামদায়ক করা যায়।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী ফোনের স্ক্রিনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৫টি সেটিং নিচে তুলে ধরা হলো।

১. নাইট মোড বা ব্লু লাইট ফিল্টার চালু করুন। আইফোন এবং বেশিরভাগ অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ‘ব্লু লাইট ফিল্টার’ বা ‘নাইট শিফট’ মোড রয়েছে। এটি স্ক্রীন থেকে নির্গত ক্ষতিকর নীল আলো (ব্লু লাইট) কমিয়ে দেয়, যা বিশেষ করে সন্ধ্যার পর চোখের জন্য খুব উপকারি। এই সেটিংটি চোখের ক্লান্তি কমায় এবং ঘুমের মান উন্নত করতে সাহায্য করে।

২. অ্যাডাপ্টিভ ব্রাইটনেস সক্রিয় করুন। ফোনের ব্রাইটনেস বা উজ্জ্বলতা সবসময় সর্বোচ্চ স্তরে না রেখে ‘অ্যাডাপ্টিভ ব্রাইটনেস’ বা ‘অটো ব্রাইটনেস’ অপশনটি চালু রাখুন। এর ফলে আপনার চারপাশের আলোর ওপর ভিত্তি করে ফোনের স্ক্রিনের আলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে। অতিরিক্ত উজ্জ্বল স্ক্রিন যেমন চোখের ক্ষতি করে, তেমনই খুব বেশি আবছা আলোও চোখের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।

৩. লেখার আকার বা টেক্সট সাইজ বাড়িয়ে নিন। স্ক্রিনে খুব ছোট ছোট লেখা পড়ার কারণে চোখের ওপর বেশি চাপ পড়ে। ফোনের ‘ফন্ট সাইজ’ এবং ‘ডিসপ্লে স্কেলিং’ বাড়িয়ে নিলে লেখাগুলো বড় দেখায়, যা দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহারের পরও চোখের ক্লান্তি অনেকাংশে দূর করে।

৪. ডার্ক মোড ব্যবহার করুন। কম আলোতে বা রাতে ফোন ব্যবহারের সময় ‘ডার্ক মোড’ ব্যবহার করা অত্যন্ত কার্যকর। এটি কালো ব্যাকগ্রাউন্ডের ওপর হালকা রঙের লেখা প্রদর্শন করে স্ক্রীনের অতিরিক্ত ঝলকানি কমিয়ে দেয়। রাতের বেলা ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনেকেই এই মোডটিকে বেশি আরামদায়ক মনে করেন।

৫. স্ক্রীন টাইমআউট কমিয়ে দিন। স্ক্রীন টাইমআউটের সময়সীমা কমিয়ে দিলে প্রয়োজন শেষে ফোনের ডিসপ্লেটি দ্রুত বন্ধ হয়ে যায়। এটি যেমন আপনার চোখকে দীর্ঘক্ষণ অনাকাঙ্ক্ষিত স্ক্রীন এক্সপোজার থেকে রক্ষা করে, তেমনই ফোনের ব্যাটারির আয়ুও সাশ্রয় করে।

সুস্থ চোখের জন্য কিছু অতিরিক্ত টিপসও রয়েছে। শুধুমাত্র ফোনের সেটিং পরিবর্তনেই নয়, চোখ ভালো রাখতে বিশেষজ্ঞদের এই নিয়মগুলো মেনে চলা উচিত। ২০-২০-২০ নিয়ম অনুসরণ করুন: প্রতি ২০ মিনিট ফোন ব্যবহারের পর, অন্তত ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে তাকিয়ে থাকুন। ঘন ঘন চোখের পলক ফেলুন। একটানা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখ শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা হয়, তাই ঘন ঘন চোখের পলক ফেলুন। সঠিক দূরত্ব বজায় রাখুন। ফোন সবসময় আপনার মুখ থেকে অন্তত ১৬ থেকে ১৮ ইঞ্চি দূরে রাখুন। সম্পূর্ণ অন্ধকারে ফোন ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। ঘরের আলো পুরোপুরি বন্ধ করে ঘুটঘুটে অন্ধকারে ফোন চালানো চোখের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। নিয়মিত বিরতি নিন। একটানা দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহার না করে মাঝে মধ্যে ছোট ছোট বিরতি নিন।

যদিও এই সেটিং বা নিয়মগুলো ডিজিটাল আই স্ট্রেন পুরোপুরি নির্মূল করতে পারে না, তবে এগুলো দৈনিক স্মার্টফোন ব্যবহারকে অনেক বেশি আরামদায়ক করে তোলে এবং দীর্ঘমেয়াদে চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে।

সূত্র: সামা টিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুষ্টি ও সুস্বাস্থ্যই আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ তৈরির ভিত্তি: আমিনুল হক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:১০ এম


পুষ্টি ও সুস্বাস্থ্যই আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ তৈরির ভিত্তি: আমিনুল হক

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক পুষ্টি ও সুস্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, দেশের উদীয়মান কিশোর-কিশোরী ক্রীড়াবিদদের আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তুলতে নিয়মিত অনুশীলনের প্রয়োজন। একই সাথে তিনি সুষম খাদ্যাভ্যাস ও সঠিক পুষ্টিরও ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও বলেন, একজন ক্রীড়াবিদের সাফল্য শুধুমাত্র মাঠের অনুশীলনের মাধ্যমেই নির্ধারিত হয় না; সুস্বাস্থ্য, সঠিক পুষ্টি এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাপনও প্রতিষ্ঠা করতে সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়ামে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ক্রীড়া পরিদপ্তরের উদ্যোগে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’-এর জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়দের নিয়ে আয়োজিত বিশেষ পুষ্টি সচেতনতা বিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান।

সেমিনারে এসেছিলেন প্রায় ৫৫০ জন কিশোর-কিশোরী ক্রীড়াবিদ, যারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থেকে অংশগ্রহণ করেন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহফুজুল আলম খান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। সেমিনারটি পরিচালনা করেন পাবলিক অ্যান্ড ওয়েলনেস কনসালট্যান্ট, পুষ্টিবিদ ও ক্লিনিক্যাল ডায়েটিশিয়ান ইসরাত জাহান।

সেমিনারের আলোচ্য বিষয় ছিল ক্রীড়াবিদদের সুষম খাদ্যাভ্যাস, স্পোর্টস নিউট্রিশন, স্ট্যামিনা ও পারফরম্যান্স বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত হাইড্রেশন, অনুশীলনের আগে ও পরে খাদ্য নির্বাচন, রিকভারি নিউট্রিশন, আঘাত প্রতিরোধ এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অনুসরণের বিভিন্ন দিক। এছাড়াও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় সফল হতে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ব্যবস্থাপনা ও শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখার কৌশলও তুলে ধরা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন বার্তা দিলেন তারেক রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:২০ এম


নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন বার্তা দিলেন তারেক রহমান

জাতীয়

যুক্তরাজ্যের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী গণমাধ্যমকে জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ যুক্তরাজ্যের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দনবার্তা পাঠিয়েছেন।

অভিনন্দনবার্তায়, তারেক রহমান অ্যান্ডি বার্নহ্যামের নেতৃত্বে যুক্তরাজ্যের শান্তি, সমৃদ্ধি ও গণতান্ত্রিক অগ্রগতি কামনা করেন।

এছাড়া, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়া এবং দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে, তিনি বাংলাদেশ সরকার, দেশের জনগণ এবং নিজের পক্ষ থেকে লেবার পার্টির নেতাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।

তারেক রহমান বলেন, অ্যান্ডি বার্নহ্যামের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়া, তার নেতৃত্বের প্রতি তার দল এবং যুক্তরাজ্যের জনগণের আস্থার প্রতিফলন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যুক্তরাজ্য বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা, টেকসই উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক সুশাসন এবং বিভিন্ন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

বার্তায়, তারেক রহমান বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক এবং বহুমাত্রিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, কমনওয়েলথের নীতি এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ভিত্তিতে এই অংশীদারিত্ব গড়ে উঠেছে।’

তিনি বলেন, ‘বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, শিক্ষা, নিরাপত্তা, অভিবাসন এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করছেন এবং উভয় দেশের অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছেন।

অভিনন্দন বার্তায়, তারেক রহমান বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদারে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

একই সঙ্গে, তিনি সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান।

এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সুস্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত কল্যাণ এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সফল দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের জনগণের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%