০২:০৫ এম
রাতে স্মার্টফোন ব্যবহারের সময় ‘ডার্ক মোড’ অন করার ফলে চোখের জন্য এটি কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে আলোচনা করা জরুরি।
অনলাইন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে স্মার্টফোনের স্ক্রিনের দিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাকিয়ে থাকার ফলস্বরূপ চোখের ক্লান্তি, মাথাব্যথা এবং ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। তবে আশার বিষয় হলো, ফোনের ডিসপ্লে সামান্য কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে চোখের ক্ষতি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব এবং ফোন ব্যবহারকে আরও আরামদায়ক করা যায়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী ফোনের স্ক্রিনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৫টি সেটিং নিচে তুলে ধরা হলো।
আরও পড়ুন: সংবিধান অনুযায়ী সব নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা রয়েছে
১. নাইট মোড বা ব্লু লাইট ফিল্টার চালু করুন। আইফোন এবং বেশিরভাগ অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ‘ব্লু লাইট ফিল্টার’ বা ‘নাইট শিফট’ মোড রয়েছে। এটি স্ক্রীন থেকে নির্গত ক্ষতিকর নীল আলো (ব্লু লাইট) কমিয়ে দেয়, যা বিশেষ করে সন্ধ্যার পর চোখের জন্য খুব উপকারি। এই সেটিংটি চোখের ক্লান্তি কমায় এবং ঘুমের মান উন্নত করতে সাহায্য করে।
২. অ্যাডাপ্টিভ ব্রাইটনেস সক্রিয় করুন। ফোনের ব্রাইটনেস বা উজ্জ্বলতা সবসময় সর্বোচ্চ স্তরে না রেখে ‘অ্যাডাপ্টিভ ব্রাইটনেস’ বা ‘অটো ব্রাইটনেস’ অপশনটি চালু রাখুন। এর ফলে আপনার চারপাশের আলোর ওপর ভিত্তি করে ফোনের স্ক্রিনের আলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে। অতিরিক্ত উজ্জ্বল স্ক্রিন যেমন চোখের ক্ষতি করে, তেমনই খুব বেশি আবছা আলোও চোখের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।
৩. লেখার আকার বা টেক্সট সাইজ বাড়িয়ে নিন। স্ক্রিনে খুব ছোট ছোট লেখা পড়ার কারণে চোখের ওপর বেশি চাপ পড়ে। ফোনের ‘ফন্ট সাইজ’ এবং ‘ডিসপ্লে স্কেলিং’ বাড়িয়ে নিলে লেখাগুলো বড় দেখায়, যা দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহারের পরও চোখের ক্লান্তি অনেকাংশে দূর করে।
৪. ডার্ক মোড ব্যবহার করুন। কম আলোতে বা রাতে ফোন ব্যবহারের সময় ‘ডার্ক মোড’ ব্যবহার করা অত্যন্ত কার্যকর। এটি কালো ব্যাকগ্রাউন্ডের ওপর হালকা রঙের লেখা প্রদর্শন করে স্ক্রীনের অতিরিক্ত ঝলকানি কমিয়ে দেয়। রাতের বেলা ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনেকেই এই মোডটিকে বেশি আরামদায়ক মনে করেন।
আরও পড়ুন: স্পেনে প্রবল বৃষ্টিতে বন্যায় ৪ জনের মৃত্যু
৫. স্ক্রীন টাইমআউট কমিয়ে দিন। স্ক্রীন টাইমআউটের সময়সীমা কমিয়ে দিলে প্রয়োজন শেষে ফোনের ডিসপ্লেটি দ্রুত বন্ধ হয়ে যায়। এটি যেমন আপনার চোখকে দীর্ঘক্ষণ অনাকাঙ্ক্ষিত স্ক্রীন এক্সপোজার থেকে রক্ষা করে, তেমনই ফোনের ব্যাটারির আয়ুও সাশ্রয় করে।
সুস্থ চোখের জন্য কিছু অতিরিক্ত টিপসও রয়েছে। শুধুমাত্র ফোনের সেটিং পরিবর্তনেই নয়, চোখ ভালো রাখতে বিশেষজ্ঞদের এই নিয়মগুলো মেনে চলা উচিত। ২০-২০-২০ নিয়ম অনুসরণ করুন: প্রতি ২০ মিনিট ফোন ব্যবহারের পর, অন্তত ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে তাকিয়ে থাকুন। ঘন ঘন চোখের পলক ফেলুন। একটানা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখ শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা হয়, তাই ঘন ঘন চোখের পলক ফেলুন। সঠিক দূরত্ব বজায় রাখুন। ফোন সবসময় আপনার মুখ থেকে অন্তত ১৬ থেকে ১৮ ইঞ্চি দূরে রাখুন। সম্পূর্ণ অন্ধকারে ফোন ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। ঘরের আলো পুরোপুরি বন্ধ করে ঘুটঘুটে অন্ধকারে ফোন চালানো চোখের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। নিয়মিত বিরতি নিন। একটানা দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহার না করে মাঝে মধ্যে ছোট ছোট বিরতি নিন।
যদিও এই সেটিং বা নিয়মগুলো ডিজিটাল আই স্ট্রেন পুরোপুরি নির্মূল করতে পারে না, তবে এগুলো দৈনিক স্মার্টফোন ব্যবহারকে অনেক বেশি আরামদায়ক করে তোলে এবং দীর্ঘমেয়াদে চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে।
সূত্র: সামা টিভি
আরও পড়ুন: মহেশপুরে শ্বশুরের বিরুদ্ধে জামাই আব্দুর রহমান হত্যার অভিযোগ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন