০৫:৩৭ পি.এম
আজ বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জার্নালিস্ট আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রেখেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। অনুষ্ঠানে তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় কোন প্রকার হস্তক্ষেপ করবে না। বরং, গণমাধ্যমকে পূর্ণ স্বাধীনতার মধ্যে দেখতে চায় সরকার। তবে শুধু সমালোচনার ওপরই নয়, দেশের স্বার্থের জন্য সরকারের ইতিবাচক কাজগুলোও গণমাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আজ রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জার্নালিস্ট (বিএজে) আয়োজন করা ‘আওয়ামী শাসন আমলে গণমাধ্যম ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সরকার কোনো গণমাধ্যমের ওপর হস্তক্ষেপ করবে না, এবং আমাদের লক্ষ্য গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে দেখতে চাই। কিন্তু সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলা মানেই স্বাধীনতা নয়। আপনাদের সমালোচনা অব্যাহত রাখা উচিত, কিন্তু সরকারের ভালো দিকগুলোও জনসাধারণের সামনে তুলে ধরতে হবে।
আরও পড়ুন: সিজেপির দুই মুখপাত্র এক সপ্তাহ পর মুক্তি
তিনি আরও যোগ করেন, সমাজ ও রাষ্ট্রে ফ্যাসিবাদ দূর করার জন্য সাংবাদিকদেরও দায়িত্ব রয়েছে। সরকার সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, কারণ দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে।
পূর্ববর্তী শাসনামলের সমালোচনা করতে গিয়ে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনের সময় অনেক সাংবাদিকের ওপর অবর্ণনীয় নির্যাতন হয়েছে। বর্তমান সরকার সে অন্ধকার অধ্যায় মুছে ফেলে মুক্ত ও পেশাদার সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরি করতে বদ্ধপরিকর।
আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, অটোক্রেসি (স্বৈরাচার) থেকে ফ্যাসিবাদের ইতিহাস আওয়ামী লীগের ইতিহাস। শেখ মুজিব তার কাছে ফ্যাসিবাদের আইকন ছাড়া আর কিছুই নয়।
তিনি স্বাধীনতা ও মানবাধিকার হরণ করেছেন এবং শেখ হাসিনা মিডিয়াকে চাটুকারে পরিণত করেছেন। ড. মাহমুদুর রহমান আরও বলেন, শেখ মুজিব ফ্যাসিবাদের যাত্রা শুরু করেছিলেন আব্দুস সালামের মতো কিংবদন্তি সম্পাদককে চাকরিচ্যুত করার মাধ্যমে।
আরও পড়ুন: ‘ভাই ফটো তুললেন না, বিজিবি দেখলে বিপদ’
ফ্যাসিবাদের নিয়ম হলো তাদের একটি আইকনের প্রয়োজন ফ্যাসিবাদকে বৈধতা প্রদানের জন্য। যারা আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে তারা মহান জুলাই বিপ্লবের পর থেকে সবসময় শেখ মুজিবকে শেখ হাসিনার থেকে পৃথক করার চেষ্টা করছে। আসলে শেখ মুজিব এবং শেখ হাসিনার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।
বিএজে-এর সভাপতি এম. আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আবদুল লতিফ মাসুম।
মূলপ্রবন্ধে অধ্যাপক মাসুম বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক এবং সামাজিক ইতিহাসের একটি যুগসন্ধিক্ষণ। এর চূড়ান্ত ও বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন সময়ই করবে। তবে একটি রাজনৈতিক সত্য ইতোমধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—যখন গণমাধ্যম জনগণের ভাষা হারিয়ে ফেলে, তখন জনগণ রাজপথে নিজেদের নতুন ভাষা তৈরি করে। যখন গণমাধ্যম বাস্তবতাকে ব্ল্যাকআউট করতে চায়, তখন বাস্তবতা নিজেই ইতিহাস হয়ে স্বৈরাচারের সামনে দাঁড়িয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ আজ এক নতুন রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক যাত্রার প্রাক্কালে রয়েছে। সামনে নির্বাচন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার এবং নতুন বন্দোবস্তের রূপরেখা উপস্থিত। এই সময়ে একটি স্বাধীন, নির্ভীক ও বিশ্বাসযোগ্য গণমাধ্যম অপরিহার্য। কারণ গণতন্ত্রের প্রাণশক্তি শুধু ভোট দেওয়ার মধ্যে নয়; তােতে নিহিত রয়েছে প্রতি মুহূর্তে সত্য বলার এবং শাসককে প্রশ্ন করার সাহসের মধ্যে।
আরও পড়ুন: সাইবার সিকিউরিটি আইনসহ বিভিন্ন আইন সংশোধনের উদ্যোগ: তথ্যমন্ত্রী
আলোচনা সভায় বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ বলেন, বিগত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণমাধ্যম সাহসী ভূমিকা পালন করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশকে এগিয়ে নিতে গণমাধ্যমকে এখন দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রেখেছেন বিএফইউজের সাবেক সভাপতি এম এ আজিজ, ডিআরইউ’র সভাপতি আবু ছালেহ আকন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, ডিআরইউ’র সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল, ডিআরইউর সাবেক সভাপতি ইলিয়াস হোসেন, আমার দেশ পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক জাহিদ চৌধুরী, ডিইউজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, ডিইউজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সরদার ফরিদ আহমেদ, ডিইউজের সাবেক সহ-সভাপতি শাহীন হাসনাত প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন