০৪:০৩ পি.এম
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়ে উঠেছে। টানা তৃতীয় রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। একই সঙ্গে, ইরানও পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ভয়াবহ হামলার মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশসমূহের মার্কিন ঘাঁটিতে আক্রমণ চালানো হয়েছে।
এদিকে, বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন পঞ্চম নৌবহর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, এবারের হামলাগুলো মূলত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণে ইরানের সক্ষমতার সাথে সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে চালানো হয়েছে। এই হামলার মধ্যে উপকূলীয় নিরাপত্তা ঘাঁটি, বিমান হামলা প্রতিরোধক আশ্রয়কেন্দ্র এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার সাথে জড়িত ইরানি সামরিক স্থাপনার বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা প্রথমে একটি মার্কিন জাহাজ এবং পরে কুয়েতে অবস্থানরত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি অনুসারে, হামলায় যোগাযোগ কেন্দ্র, জ্বালানি ডিপো এবং প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: অবৈধ মোবাইল ফোনের রাজস্ব ফাঁকি রোধে এনইআইআর চালু হচ্ছে
এছাড়া, হরমুজ প্রণালির উপর একটি এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিত করারও দাবি করেছে ইরান। একই সাথে, অঞ্চলজুড়ে থাকা আরও কয়েকটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ভবিষ্যতে হামলা চালানোরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন পঞ্চম নৌবহর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ব্যাপারে আইআরজিসি আবারও দাবি করেছে।
আইআরজিসির দাবি অনুসারে, ওই হামলায় ঘাঁটির জ্বালানি সংরক্ষণাগারে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এর পাশাপাশি, একটি প্যাট্রিয়ট রাডার, নৌবহরের এয়ার কন্ট্রোল রাডার, সি-র্যাম আগাম সতর্কীকরণ রাডার ব্যবস্থা এবং মানববিহীন সারফেস ভেসেল (ইউএসভি) নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ধ্বংস হয়েছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, এই ‘প্রতিশোধমূলক অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।’
ইরানে মার্কিন হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে একাধিক শহর এবং দ্বীপ অন্তর্ভুক্ত ছিল। বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ইরানের বিভিন্ন বার্তা সংস্থার খবর অনুযায়ী, আবু মুসা ও কেশম দ্বীপে আগের রাতগুলোর মতো বিস্ফোরণ ঘটেছে। এছাড়া, এবার প্রথমবারের মতো কিশ দ্বীপেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক বন্দরনগরী বান্দার আব্বাস থেকেও বিস্ফোরণের খবর এসেছে।
দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল অন্তর্ভুক্ত কোনারাক, চাবাহার, বুশেহর এবং খুজেস্তান প্রদেশেও হামলার খবর সামনে এসেছে। এসব এলাকায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো রয়েছে। এছাড়া ওমিদিয়েহ, জাম এবং কানগানেও হামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুকে ঠেকাতে এবার ‘অবশ্যই’ ভোট দেবেন ফিলিস্তিনিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন