ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

লাফিয়ে বেড়ে বিশ্ববাজারে সাত সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে স্বর্ণের দাম


লাফিয়ে বেড়ে বিশ্ববাজারে সাত সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে স্বর্ণের দাম

ট্রেজারি ইল্ডের কমে আসা, ডলারের দুর্বলতা এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দেয়ার বিষয়ে অগ্রগতির আশায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম পৌঁছেছে প্রায় সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে। একই সঙ্গে ফেব্রুয়ারির পর এটি সবচেয়ে বড় একদিনের মূল্যবৃদ্ধির সংক্ষিপ্ত সময়কালেও পৌঁছেছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (৫ আগস্ট) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৫৬ দশমিক ৮৫ ডলারে। দিনের একপর্যায়ে দাম ৪ হাজার ২৫৮ দশমিক ৯৯ ডলারে উঠে যায়, যা ১৮ জুনের পর এটি ছিল সর্বোচ্চ। এ সময় স্বর্ণের দাম ৫০ দিনের মুভিং অ্যাভারেজ ৪ হাজার ১৬০ ডলারের ওপরে উঠেছে, যা এখন বাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩১৭ দশমিক ৪০ ডলারে।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

স্বাধীন ধাতু ব্যবসায়ী তাই ওং বলেছেন, যারা আগে বিনিয়োগ শুরু করেছিলেন তারা আবার মূল্যবান ধাতুর বাজারে ফিরছেন। কারণ গত সপ্তাহ থেকে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা হ্রাস পেয়েছে। পাশাপাশি ডলারের দর উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যা স্বর্ণের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ইরান ইস্যুতে সাময়িক বিরতিও বাজারকে কিছু সহায়তা দিচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে তার প্রশাসনের 'খুব ভালো আলোচনা' হয়েছে। এ ঘোষণার পর প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে ডলারের দর ছয় সপ্তাহের সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে আসে। একই সঙ্গে ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি নোটের ইল্ডও এক সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থান করছে। এতে বাজারে প্রায় পাঁচ মাস ধরে চলমান সংঘাতের অবসানের সম্ভাবনা নিয়ে আশা তৈরি হয়েছে।

তবে জানুয়ারিতে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ৫৯৫ ডলারের রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর থেকে স্বর্ণের দাম এখনও প্রায় ২৪ শতাংশ কম রয়েছে। এছাড়া ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দাম কমেছে প্রায় ১৯ শতাংশ। ওই সংঘাত জ্বালানির মূল্যস্ফীতির উদ্বেগ বাড়িয়ে সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশাও তুলনামূলকভাবে জোরালো করেছে।

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনার পরিমাণ ২০২২ সালের পর সর্বনিম্ন ছিল। দ্বিতীয় প্রান্তিকে স্বর্ণভিত্তিক এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ) থেকে মোট ৪৫ টন স্বর্ণ তুলে নেওয়া হয়েছে। ওই সময় স্বর্ণের দাম ১৪ শতাংশ কমে যায়, যা ২০১৩ সালের পর সবচেয়ে বড় ত্রৈমাসিক পতন ছিল।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

জেপি মরগ্যান এক নোটে জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ক্রয় কমে যাওয়া, খুচরা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ অন্য খাতে চলে যাওয়া এবং এশিয়ায় প্রকৃত স্বর্ণের চাহিদা দুর্বল হওয়ার কারণে বর্তমানে সুদের হারের প্রতি সংবেদনশীল ইটিএফের বিনিয়োগই স্বর্ণের দামের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে।

তাই ওংয়ের মতে, মূল্যবান ধাতুর বাজারে স্থায়ী গতি ফিরতে হলে সুদের হার কমার বিষয়টি বাজারে প্রতিফলিত হতে হবে। তবে সেটি অন্তত ২০২৭ সালের আগে হওয়ার সম্ভাবনা তিনি নির্দেশ করেছেন কিছুমাত্র।

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে, ৬ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে স্পট রুপার দাম ৪ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬২ দশমিক ৪৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

প্ল্যাটিনামের দাম প্রায় অপরিবর্তিত থেকে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৭৩৫ দশমিক ২৮ ডলারে অবস্থান করছে। অন্যদিকে প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৩৭৪ দশমিক ৭৫ ডলারে পৌঁছেছে। ইরানকে ঘিরে শান্তি আলোচনার অগ্রগতির আশা প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম যথাক্রমে ১৭ জুন ও ২ জুনের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের বিশ্লেষক সুকি কুপার জানিয়েছেন, সংঘাত শুরুর পর থেকে প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের বাজারে বিভিন্ন ঝুঁকির প্রভাব পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গাড়ি উৎপাদনের ধীরগতি, বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারের সম্প্রসারণ এবং পুনর্ব্যবহারের সুযোগ বৃদ্ধি।

তিনি আরো জানান, চলতি বছর প্ল্যাটিনামের বাজারে সরবরাহ ঘাটতি থাকতে পারে। তবে ২০২৬ সালের মধ্যে প্যালাডিয়ামের বাজারে সরবরাহ উদ্বৃত্ত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রযুক্তি উদ্ভাবনেই অর্জিত হবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব : ববি হাজ্জাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:২৫ পি.এম


প্রযুক্তি উদ্ভাবনেই অর্জিত হবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব : ববি হাজ্জাজ

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, একটি দেশ যদি শুধু প্রযুক্তি কিনে ব্যবহার করে, তবে সে দেশ সবসময় অন্যের ওপর নির্ভরশীল থাকবে। কিন্তু যে দেশ স্টেম বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, শিল্পকলা এবং গণিত শিক্ষার মাধ্যমে প্রযুক্তিকে বুঝতে, নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী অভিযোজিত করতে এবং নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে সক্ষম মানবসম্পদ গড়ে তুলতে পারে, সেই দেশই প্রকৃত অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব অর্জন করে।

জাপানের ওসাকায় অনুষ্ঠিত আরটেক জেনারেল এক্সিবিশনে ২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাপান ইতিহাসের সেই পথ দেখিয়েছে, আর বাংলাদেশও প্রাথমিক শিক্ষা থেকেই স্টেমভিত্তিক দক্ষতা গড়ে তুলে একই পথ অনুসরণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আজ ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার এমন একটি স্টেম (সায়েন্স, টেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্টস অ্যান্ড ম্যাথেমেটিক্স) শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে বিজ্ঞান বা প্রযুক্তি শেখানোই একমাত্র লক্ষ্য নয়; বরং শিশুদের প্রশ্ন করতে শেখানো, সমালোচনামূলকভাবে চিন্তা করা, ধারণাকে গভীরভাবে বোঝা, সমস্যা বিশ্লেষণ করা এবং মুখস্থনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে বাস্তবভিত্তিক সমাধান তৈরির সক্ষমতা গড়ে তোলাই হবে মূল উদ্দেশ্য।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের শ্রমশক্তি সাত কোটিরও বেশি এবং বিপুলসংখ্যক শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছে। একটি বহুমুখী, জ্ঞানভিত্তিক ও উচ্চ মূল্য সংযোজনকারী অর্থনীতি গড়ে তুলতে হলে প্রাথমিক স্তর থেকেই স্টেম শিক্ষার শক্ত ভিত নির্মাণ করতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় জাপানের ইতিহাস এক গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা। মেইজি পুনর্গঠনের সময় কিংবা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের পর উভয় ক্ষেত্রেই জাপান শিক্ষা, প্রযুক্তি, শৃঙ্খলা এবং উদ্ভাবনে বিনিয়োগের মাধ্যমে নিজেদের নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বাংলাদেশও সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে চায়।

ববি হাজ্জাজ বলেন, বাংলাদেশের সরকার বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষার মৌলিক শিখন সংকট মোকাবিলাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। শিশুদের সাক্ষরতা, সংখ্যাজ্ঞান এবং মৌলিক দক্ষতা শক্তিশালী করার মাধ্যমে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য একটি দৃঢ় শিক্ষাভিত্তি গড়ে তোলা হচ্ছে। তিনি বলেন, স্টেম শিক্ষা বাস্তবায়নের জন্য ব্যয়বহুল প্রযুক্তি সবসময় প্রয়োজন হয় না। একটি শিশুর লাগানো একটি গাছই হতে পারে জীববিজ্ঞান শেখার ল্যাবরেটরি। স্থানীয় পানির মান পরীক্ষা করা, বৃষ্টিপাত পরিমাপ করা, কাগজ দিয়ে সেতু নির্মাণ করা কিংবা নিজ এলাকার রাস্তা ও ড্রেনেজ সমস্যার সহজ প্রকৌশলভিত্তিক সমাধান খোঁজা, এসবই শিশুদের জন্য কার্যকর স্টেম শিক্ষার অংশ হতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ পর্যায়ক্রমে গণিত ল্যাব, বিজ্ঞান ক্লাব এবং মৌলিক রোবোটিক্স শিক্ষার বিস্তার ঘটাতে চায়। পাশাপাশি, শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্টেম শিক্ষা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরিচালনা করার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। তিনি বলেন, আরটেক জেনারেল এক্সিবিশনে প্রদর্শিত শিক্ষা উপকরণ ও শেখানোর পদ্ধতিগুলো অত্যন্ত সহজ, মডুলার, ব্যবহারিক এবং সাশ্রয়ী। এসব উদ্ভাবনী মডেল বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সহজেই অভিযোজিত করা সম্ভব। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ব্যয়সাশ্রয়ী ও বিস্তৃত পরিসরে বাস্তবায়নযোগ্য শিক্ষাসমাধানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষা এমন হওয়া উচিত যা শিক্ষার্থীদের শুধু তথ্য মুখস্থ করাবে না বরং সমস্যাকে শনাক্ত করতে, বিশ্লেষণ করতে এবং বাস্তবসম্মত সমাধান উদ্ভাবনে সক্ষম করে তুলবে। তিনি উল্লেখ করেন, জলবায়ু পরিবর্তন, নদীভাঙন, দ্রুত নগরায়ণ, খাদ্য নিরাপত্তা, অটোমেশন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো বড় বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি বাংলাদেশ।

তবে এসব শুধু বাংলাদেশের নয়, বরং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। তাই এসব মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, জ্ঞান বিনিময় এবং উদ্ভাবনী চিন্তার বিকল্প নেই।

বক্তব্যের শেষে প্রতিমন্ত্রী আরটেক, অক্টোব্রেইন, অনুষ্ঠানের আয়োজক, অংশগ্রহণকারী এবং আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আগামী প্রজন্মের শিক্ষায় বিনিয়োগের মাধ্যমে আমরা আরো সহনশীল, উদ্ভাবনী এবং সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়ে তুলতে পারি।

অনুষ্ঠানে ওসাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শিক্ষা প্রশাসনের প্রতিনিধিবৃন্দ, শিক্ষা প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, আন্তর্জাতিক অতিথি এবং আরটেক ও অক্টোব্রেইনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইবির ৪৪ শিক্ষককে নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:২৬ পি.এম


ইবির ৪৪ শিক্ষককে নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ৪৪ জন শিক্ষককে নিয়ে রাষ্ট্রবিরোধী অপতৎপরতায় যুক্ত থাকার অভিযোগের ভিত্তিতে একটি পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বুধবার (৫ আগস্ট) দফতরের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ সংক্রান্ত তথ্য জানানো হয়েছে।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪ জন শিক্ষক রাষ্ট্রবিরোধী গোপন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার যে অভিযোগ রয়েছে, তার ভিত্তিতে তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরির উদ্দেশ্যে এ তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান, আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যানেল আইনজীবী ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. মো. সাজ্জাত হোসেন। কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অর্থ ও হিসাব বিভাগের উপ-হিসাব পরিচালক মো. ইসরাফুল হক।

অফিস আদেশে এটি জানানো হয়েছে যে, আগামী ১২ আগস্টের মধ্যে তারা অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান করে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত শিক্ষকদের চিহ্নিত করবেন, করণীয় নির্ধারণ করবেন এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেবেন। আরো উল্লেখ করা হয়েছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত ফ্যাসিবাদ সহযোগিতা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন এবং শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগও তদন্ত করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রদত্ত রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জড়িত থাকার অভিযোগ গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের প্রচলিত আইন এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থি এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের স্থিতিশীলতা নষ্টের উদ্যোগ হিসাবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আরও জানায়, রাষ্ট্র এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন-শৃঙ্খলা লঙ্ঘনকারী ব্যক্তি, তার পরিচয় বা অবস্থান নির্বিশেষে, কোনো ছাড় পাবেন না। আর শিক্ষকদের, শিক্ষার্থীদের, কর্মকর্তাদের ও কর্মচারীদের কর্তব্য এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যেন ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ একাডেমিক পরিবেশ বজায় থাকে।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার রাতে একটি বেসরকারি গণমাধ্যমে ‘শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষকের গোপন তৎপরতা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, যেখানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪ শিক্ষকের নাম উল্লিখিত হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিভিন্ন কর্মসূচিতে দেশজুড়ে পালিত হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:২৭ পি.এম


বিভিন্ন কর্মসূচিতে দেশজুড়ে পালিত হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস

আজ বুধবার যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা ও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশজুড়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ পালিত হয়েছে।

জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সংবর্ধনা, আলোচনা সভা, র‌্যালি ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

বিভিন্ন কর্মসূচিতে বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন ও গণহত্যার বিচারের জোরালো দাবি জানান।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে ঢাকা বিভাগের গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরিয়তপুর, গোপালগঞ্জ ও রাজবাড়ি জেলায় নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অপরদিকে, ময়মনসিংহ বিভাগের জামালপুর, শেরপুর ও নেত্রকোণায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত হয়েছে।

নেত্রকোণা: “জুলাই এর চেতনায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সংবর্ধনা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।

পাবলিক হলে আয়োজিত সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন নেত্রকোণা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক।

তিনি ১৭ জন শহীদ পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কবর সংরক্ষণের নির্দেশনা দিয়ে দলমত নির্বিশেষে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

চট্টগ্রাম বিভাগের কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাঙ্গামাটি, নোয়াখালী, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, ফেনী, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও বান্দরবান জেলায় নানা আনুষ্ঠানিকতায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর: উত্তর তেমুহনী এলাকায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিনের সূচনা হয়। পরে সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সম্রাট খিসা, ছাত্র প্রতিনিধি আরমান হোসেন, সায়েদুর রহমান রাফি ও সাইফুল ইসলাম মুরাদ।

বান্দরবান: জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা ও সম্মাননা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌসের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার ওহাবুল ইসলাম খন্দকার, পৌরসভার প্রশাসক এস. এম. মনজুরুল হক ও প্রেসক্লাব সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু। অনুষ্ঠান শেষে আন্দোলনে আহত দুই শিক্ষার্থীর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী জেলায় জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত হয়েছে।

বরগুনা: বরগুনা সার্কিট হাউস মাঠে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক মিজ তাছলিমা আক্তার, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা ও পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা।

পরে শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম মণি।

গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য দেন বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. অলিউল্লাহ। জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তার আহতদের পুনর্বাসন, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

খুলনা বিভাগে খুলনা জেলাসহ যশোর, সাতক্ষীরা জেলা, মেহেরপুর, নড়াইল, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মাগুরা, খুলনা, বাগেরহাট ও ঝিনাইদহ জেলায় নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত হয়েছে।

সাতক্ষীরা: জেলা বিএনপির উদ্যোগে শহরের সংগীতা মোড় থেকে বর্ণাঢ্য বিজয় র‌্যালি বের হয়ে প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। পরে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমাতুল্লাহ পলাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী আলাউদ্দীন ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবু জাহিদ ডাবলু।

বাগেরহাট: জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন, পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার, জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রেজাউল করিম, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোজাফফর রহমান আলম, এনসিপির জেলা সদস্য সচিব লাবিব হাসান এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা সাদ্দাম হোসেন উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ সুপার সকল জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যদের বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়ার আশ্বাস দেন।

খুলনা (কুয়েট): খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) আলোচনা সভা, প্রতিযোগিতা ও বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

কুয়েটের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে ছাত্র কল্যাণ পরিচালক প্রফেসর ড. মো. হাসান আলী সভাপতিত্ব করেন।

রংপুর বিভাগের পঞ্চগড়, দিনাজপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও, রংপুর, কুড়িগ্রামসহ সবকটি জেলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও: বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে ঠাকুরগাঁওয়ে নানা আয়োজনে পালিত হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস।

সকালে শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, জুলাই যোদ্ধা ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা পর্যায়ক্রমে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জুলাই যোদ্ধাদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং শহীদ ও আহতদের স্মরণে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার ব্যবস্থা করে জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনও পৃথক কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করে।

নীলফামারী: সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, রাজনৈতিক দল, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন অংশ নেয়।

দুপুরে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং জুলাই শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধণা দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামানের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খাঁন, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী, জেলা বিএনপির আহবায়ক মীর সেলিম ফারুক ও এনসিপির জেলা আহবায়ক আব্দুল মজিদ।

এছাড়া বিকেলে জুলাই স্মৃতি চত্বরে পৃথক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে জেলা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

রাজশাহী বিভাগের জয়পুরহাট, নওগাঁ, নাটোর, পাবনা, বগুড়া , সিরাজগঞ্জ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ: পাঠানপাড়া ফুড অফিস মোড় সংলগ্ন জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গি, পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস ও জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশিদ হারুন পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান এবং শহীদদের কবর জিয়ারত করা হয়।

পাবনা: জেলা পরিষদ চত্বরে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। এতে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব, জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ শ্রদ্ধা জানান।

পরে শহীদদের কবর জিয়ারত, পরিবারদের সাথে সাক্ষাৎ ও জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে সংবর্ধনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়াও সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হয়েছে।

সুনামগঞ্জ: জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, জুলাই যোদ্ধা ও জুলাই শহিদ পরিবারের সংবর্ধনা প্রদান এবং পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক অসীম চন্দ্র বর্মন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক দ্বিপান্বীতা দেবী ও জেলা শিল্পকলার কালচারাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুরুল হক পাবেল এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ -৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড.নুরুল ইসলাম নুরুল।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকির হোসেন পিপিএম, সিভিল সার্জন ডা. মো জসিম উদ্দিন পিপি এডভোকেট মল্লিক মঈনুদ্দিন সোহেল, এডিশনাল পিপি অ্যাডভোকেট শেরেনুর আলী, মাসুক আলম, আবুল কালাম আজাদ, নজরুল ইসলাম, জুনেদ আহমদ, আ ত ম মিসবাহ, ফারুক আহমদ লিলু, মুর্শেদ আলম, এ টি এম হেলাল, কালারচান,দুলু, তফাজ্জুল হোসেন, সৌরভ প্রমুখ।

এছাড়াও বক্তৃতা দেন জুলাইযোদ্ধা জহুর আহমদ, রিপন মিয়া, সায়মন আহমেদ শিহাব, রাহুল মোহাম্মদ নূর উদ্দিন, সাদিকুর রহমান চৌধুর, ওয়বায়দুল ইসলাম, মোহাম্মদ তারেক মিয়া জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

হবিগঞ্জ: জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ - এই স্লোগান সামনে রেখে হবিগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে পদযাত্রা করেছে জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন।

সকাল ১০টায় জেলা বিএনপির উদ্যোগে একটি পদযাত্রা শহরে অনুষ্ঠিত হয়।

পদযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শেষে একটি পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য, হুইপ এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব জিকে গউছ।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’nin যুগ্ম আহ্বায়ক ইসলাম তরফদার তুন, অ্যাড. নুরুল ইসলাম, হাজী এনামুল হক, হবিগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান কাজল, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক জালাল আহমেদ, সদস্য সচিব সফিকুর রহমান সিতু, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজীব আহমেদ রিংগন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মাহবুবসহ বিএনপি’nin অঙ্গ-সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডাক্তারের সংকটেও থেমে নেই সেবা: হাম প্রতিরোধে নিরলস কাজ করছে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ ইসলাম উদ্দিন তালুকদার

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৩২ পি.এম


ডাক্তারের সংকটেও থেমে নেই সেবা: হাম প্রতিরোধে নিরলস কাজ করছে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

দেশব্যাপী হামের সংক্রমণ মোকাবিলার পাশাপাশি সাধারণ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ডাক্তারের সংকটের মধ্যেও সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সীমিত জনবল থাকা সত্ত্বেও রোগীদের চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসাসেবা নিতে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগী ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসছেন। যদিও রোগীর তুলনায় চিকিৎসকের সংখ্যা কম, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেবা কার্যক্রম সচল রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। হামে আক্রান্ত শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী রোগীদের চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণে চিকিৎসকরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন।

ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের (ভারপ্রাপ্ত) আরএমও (Resident Medical Officer) ডা: শৈলেন্দ্র বৈষ্ণব সাংবাদিকদের বলেন, "আমাদের উপজেলায় যে হারে রোগী আসছেন, সেই তুলনায় চিকিৎসকের সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুসরাত আফরিন ম্যাডামের নেতৃত্বে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য একটাই—প্রত্যেক রোগী যেন যথাসম্ভব সর্বোত্তম চিকিৎসাসেবা পান।"

তিনি আরও জানান, হামের সংক্রমণ প্রতিরোধে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে মাইকিং, সচেতনতামূলক প্রচারণা, ক্যাম্পেইন এবং টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত কাজ করছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুসরাত আফরিন বলেন, "আমার কাছে কোনো রোগই ছোট বা বড় নয়। প্রত্যেক রোগীই সমান গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী যেসব ওষুধ পাওয়া যায়, সেগুলো সম্পূর্ণ বিনামূল্যে রোগীদের দেওয়া হচ্ছে। আমি সব সময় চিকিৎসকদের নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে আন্তরিকতার সঙ্গে রোগীদের সেবা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে থাকি।"

হাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। শিশুদের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সী রোগীও আক্রান্ত হচ্ছেন। আমরা সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করে রোগীদের দ্রুত সুস্থ করে তুলতে কাজ করছি। জনগণেরও উচিত নির্ধারিত সময়ে টিকা গ্রহণ করা এবং রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যোগাযোগ করা।"

হাসপাতালের চিকিৎসকরাও জানান, সীমিত জনবল থাকা সত্ত্বেও রোগীদের চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা না করে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছেন তারা। দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের সংকট থাকলেও ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা প্রতিটি রোগীকে যথাসম্ভব মানসম্মত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ করা হলে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ মানুষ আরও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%