১১:২৬ পি.এম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ৪৪ জন শিক্ষককে নিয়ে রাষ্ট্রবিরোধী অপতৎপরতায় যুক্ত থাকার অভিযোগের ভিত্তিতে একটি পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বুধবার (৫ আগস্ট) দফতরের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ সংক্রান্ত তথ্য জানানো হয়েছে।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪ জন শিক্ষক রাষ্ট্রবিরোধী গোপন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার যে অভিযোগ রয়েছে, তার ভিত্তিতে তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরির উদ্দেশ্যে এ তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধান তথ্য কমিশনার ও দুই কমিশনারের সাক্ষাৎ
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান, আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যানেল আইনজীবী ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. মো. সাজ্জাত হোসেন। কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অর্থ ও হিসাব বিভাগের উপ-হিসাব পরিচালক মো. ইসরাফুল হক।
অফিস আদেশে এটি জানানো হয়েছে যে, আগামী ১২ আগস্টের মধ্যে তারা অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান করে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত শিক্ষকদের চিহ্নিত করবেন, করণীয় নির্ধারণ করবেন এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেবেন। আরো উল্লেখ করা হয়েছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত ফ্যাসিবাদ সহযোগিতা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন এবং শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগও তদন্ত করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রদত্ত রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জড়িত থাকার অভিযোগ গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের প্রচলিত আইন এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থি এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের স্থিতিশীলতা নষ্টের উদ্যোগ হিসাবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আরও জানায়, রাষ্ট্র এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন-শৃঙ্খলা লঙ্ঘনকারী ব্যক্তি, তার পরিচয় বা অবস্থান নির্বিশেষে, কোনো ছাড় পাবেন না। আর শিক্ষকদের, শিক্ষার্থীদের, কর্মকর্তাদের ও কর্মচারীদের কর্তব্য এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যেন ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ একাডেমিক পরিবেশ বজায় থাকে।
আরও পড়ুন: মকবুল হত্যা মামলায় সুলতান মনসুর ও মঈনউদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখাল আদালত
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার রাতে একটি বেসরকারি গণমাধ্যমে ‘শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষকের গোপন তৎপরতা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, যেখানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪ শিক্ষকের নাম উল্লিখিত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন