ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইবির ৪৪ শিক্ষককে নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন


ইবির ৪৪ শিক্ষককে নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ৪৪ জন শিক্ষককে নিয়ে রাষ্ট্রবিরোধী অপতৎপরতায় যুক্ত থাকার অভিযোগের ভিত্তিতে একটি পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বুধবার (৫ আগস্ট) দফতরের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ সংক্রান্ত তথ্য জানানো হয়েছে।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪ জন শিক্ষক রাষ্ট্রবিরোধী গোপন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার যে অভিযোগ রয়েছে, তার ভিত্তিতে তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরির উদ্দেশ্যে এ তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে।

আরও পড়ুন: তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধান তথ্য কমিশনার ও দুই কমিশনারের সাক্ষাৎ

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান, আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যানেল আইনজীবী ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. মো. সাজ্জাত হোসেন। কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অর্থ ও হিসাব বিভাগের উপ-হিসাব পরিচালক মো. ইসরাফুল হক।

অফিস আদেশে এটি জানানো হয়েছে যে, আগামী ১২ আগস্টের মধ্যে তারা অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান করে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত শিক্ষকদের চিহ্নিত করবেন, করণীয় নির্ধারণ করবেন এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেবেন। আরো উল্লেখ করা হয়েছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত ফ্যাসিবাদ সহযোগিতা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন এবং শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগও তদন্ত করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রদত্ত রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জড়িত থাকার অভিযোগ গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের প্রচলিত আইন এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থি এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের স্থিতিশীলতা নষ্টের উদ্যোগ হিসাবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আরও জানায়, রাষ্ট্র এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন-শৃঙ্খলা লঙ্ঘনকারী ব্যক্তি, তার পরিচয় বা অবস্থান নির্বিশেষে, কোনো ছাড় পাবেন না। আর শিক্ষকদের, শিক্ষার্থীদের, কর্মকর্তাদের ও কর্মচারীদের কর্তব্য এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যেন ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ একাডেমিক পরিবেশ বজায় থাকে।

আরও পড়ুন: মকবুল হত্যা মামলায় সুলতান মনসুর ও মঈনউদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখাল আদালত

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার রাতে একটি বেসরকারি গণমাধ্যমে ‘শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষকের গোপন তৎপরতা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, যেখানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪ শিক্ষকের নাম উল্লিখিত হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিভিন্ন কর্মসূচিতে দেশজুড়ে পালিত হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:২৭ পি.এম


বিভিন্ন কর্মসূচিতে দেশজুড়ে পালিত হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস

আজ বুধবার যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা ও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশজুড়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ পালিত হয়েছে।

জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সংবর্ধনা, আলোচনা সভা, র‌্যালি ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

বিভিন্ন কর্মসূচিতে বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন ও গণহত্যার বিচারের জোরালো দাবি জানান।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে ঢাকা বিভাগের গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরিয়তপুর, গোপালগঞ্জ ও রাজবাড়ি জেলায় নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অপরদিকে, ময়মনসিংহ বিভাগের জামালপুর, শেরপুর ও নেত্রকোণায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত হয়েছে।

নেত্রকোণা: “জুলাই এর চেতনায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সংবর্ধনা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।

পাবলিক হলে আয়োজিত সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন নেত্রকোণা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক।

তিনি ১৭ জন শহীদ পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কবর সংরক্ষণের নির্দেশনা দিয়ে দলমত নির্বিশেষে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

চট্টগ্রাম বিভাগের কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাঙ্গামাটি, নোয়াখালী, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, ফেনী, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও বান্দরবান জেলায় নানা আনুষ্ঠানিকতায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর: উত্তর তেমুহনী এলাকায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিনের সূচনা হয়। পরে সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সম্রাট খিসা, ছাত্র প্রতিনিধি আরমান হোসেন, সায়েদুর রহমান রাফি ও সাইফুল ইসলাম মুরাদ।

বান্দরবান: জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা ও সম্মাননা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌসের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার ওহাবুল ইসলাম খন্দকার, পৌরসভার প্রশাসক এস. এম. মনজুরুল হক ও প্রেসক্লাব সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু। অনুষ্ঠান শেষে আন্দোলনে আহত দুই শিক্ষার্থীর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী জেলায় জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত হয়েছে।

বরগুনা: বরগুনা সার্কিট হাউস মাঠে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক মিজ তাছলিমা আক্তার, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা ও পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা।

পরে শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম মণি।

গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য দেন বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. অলিউল্লাহ। জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তার আহতদের পুনর্বাসন, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

খুলনা বিভাগে খুলনা জেলাসহ যশোর, সাতক্ষীরা জেলা, মেহেরপুর, নড়াইল, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মাগুরা, খুলনা, বাগেরহাট ও ঝিনাইদহ জেলায় নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত হয়েছে।

সাতক্ষীরা: জেলা বিএনপির উদ্যোগে শহরের সংগীতা মোড় থেকে বর্ণাঢ্য বিজয় র‌্যালি বের হয়ে প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। পরে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমাতুল্লাহ পলাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী আলাউদ্দীন ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবু জাহিদ ডাবলু।

বাগেরহাট: জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন, পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার, জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রেজাউল করিম, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোজাফফর রহমান আলম, এনসিপির জেলা সদস্য সচিব লাবিব হাসান এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা সাদ্দাম হোসেন উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ সুপার সকল জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যদের বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়ার আশ্বাস দেন।

খুলনা (কুয়েট): খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) আলোচনা সভা, প্রতিযোগিতা ও বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

কুয়েটের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে ছাত্র কল্যাণ পরিচালক প্রফেসর ড. মো. হাসান আলী সভাপতিত্ব করেন।

রংপুর বিভাগের পঞ্চগড়, দিনাজপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও, রংপুর, কুড়িগ্রামসহ সবকটি জেলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও: বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে ঠাকুরগাঁওয়ে নানা আয়োজনে পালিত হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস।

সকালে শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, জুলাই যোদ্ধা ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা পর্যায়ক্রমে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জুলাই যোদ্ধাদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং শহীদ ও আহতদের স্মরণে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার ব্যবস্থা করে জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনও পৃথক কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করে।

নীলফামারী: সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, রাজনৈতিক দল, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন অংশ নেয়।

দুপুরে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং জুলাই শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধণা দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামানের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খাঁন, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী, জেলা বিএনপির আহবায়ক মীর সেলিম ফারুক ও এনসিপির জেলা আহবায়ক আব্দুল মজিদ।

এছাড়া বিকেলে জুলাই স্মৃতি চত্বরে পৃথক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে জেলা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

রাজশাহী বিভাগের জয়পুরহাট, নওগাঁ, নাটোর, পাবনা, বগুড়া , সিরাজগঞ্জ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ: পাঠানপাড়া ফুড অফিস মোড় সংলগ্ন জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গি, পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস ও জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশিদ হারুন পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান এবং শহীদদের কবর জিয়ারত করা হয়।

পাবনা: জেলা পরিষদ চত্বরে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। এতে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব, জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ শ্রদ্ধা জানান।

পরে শহীদদের কবর জিয়ারত, পরিবারদের সাথে সাক্ষাৎ ও জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে সংবর্ধনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়াও সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হয়েছে।

সুনামগঞ্জ: জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, জুলাই যোদ্ধা ও জুলাই শহিদ পরিবারের সংবর্ধনা প্রদান এবং পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক অসীম চন্দ্র বর্মন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক দ্বিপান্বীতা দেবী ও জেলা শিল্পকলার কালচারাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুরুল হক পাবেল এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ -৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড.নুরুল ইসলাম নুরুল।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকির হোসেন পিপিএম, সিভিল সার্জন ডা. মো জসিম উদ্দিন পিপি এডভোকেট মল্লিক মঈনুদ্দিন সোহেল, এডিশনাল পিপি অ্যাডভোকেট শেরেনুর আলী, মাসুক আলম, আবুল কালাম আজাদ, নজরুল ইসলাম, জুনেদ আহমদ, আ ত ম মিসবাহ, ফারুক আহমদ লিলু, মুর্শেদ আলম, এ টি এম হেলাল, কালারচান,দুলু, তফাজ্জুল হোসেন, সৌরভ প্রমুখ।

এছাড়াও বক্তৃতা দেন জুলাইযোদ্ধা জহুর আহমদ, রিপন মিয়া, সায়মন আহমেদ শিহাব, রাহুল মোহাম্মদ নূর উদ্দিন, সাদিকুর রহমান চৌধুর, ওয়বায়দুল ইসলাম, মোহাম্মদ তারেক মিয়া জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

হবিগঞ্জ: জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ - এই স্লোগান সামনে রেখে হবিগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে পদযাত্রা করেছে জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন।

সকাল ১০টায় জেলা বিএনপির উদ্যোগে একটি পদযাত্রা শহরে অনুষ্ঠিত হয়।

পদযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শেষে একটি পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য, হুইপ এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব জিকে গউছ।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’nin যুগ্ম আহ্বায়ক ইসলাম তরফদার তুন, অ্যাড. নুরুল ইসলাম, হাজী এনামুল হক, হবিগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান কাজল, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক জালাল আহমেদ, সদস্য সচিব সফিকুর রহমান সিতু, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজীব আহমেদ রিংগন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মাহবুবসহ বিএনপি’nin অঙ্গ-সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডাক্তারের সংকটেও থেমে নেই সেবা: হাম প্রতিরোধে নিরলস কাজ করছে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ ইসলাম উদ্দিন তালুকদার

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৩২ পি.এম


ডাক্তারের সংকটেও থেমে নেই সেবা: হাম প্রতিরোধে নিরলস কাজ করছে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

দেশব্যাপী হামের সংক্রমণ মোকাবিলার পাশাপাশি সাধারণ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ডাক্তারের সংকটের মধ্যেও সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সীমিত জনবল থাকা সত্ত্বেও রোগীদের চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসাসেবা নিতে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগী ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসছেন। যদিও রোগীর তুলনায় চিকিৎসকের সংখ্যা কম, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেবা কার্যক্রম সচল রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। হামে আক্রান্ত শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী রোগীদের চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণে চিকিৎসকরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন।

ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের (ভারপ্রাপ্ত) আরএমও (Resident Medical Officer) ডা: শৈলেন্দ্র বৈষ্ণব সাংবাদিকদের বলেন, "আমাদের উপজেলায় যে হারে রোগী আসছেন, সেই তুলনায় চিকিৎসকের সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুসরাত আফরিন ম্যাডামের নেতৃত্বে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য একটাই—প্রত্যেক রোগী যেন যথাসম্ভব সর্বোত্তম চিকিৎসাসেবা পান।"

তিনি আরও জানান, হামের সংক্রমণ প্রতিরোধে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে মাইকিং, সচেতনতামূলক প্রচারণা, ক্যাম্পেইন এবং টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত কাজ করছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুসরাত আফরিন বলেন, "আমার কাছে কোনো রোগই ছোট বা বড় নয়। প্রত্যেক রোগীই সমান গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী যেসব ওষুধ পাওয়া যায়, সেগুলো সম্পূর্ণ বিনামূল্যে রোগীদের দেওয়া হচ্ছে। আমি সব সময় চিকিৎসকদের নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে আন্তরিকতার সঙ্গে রোগীদের সেবা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে থাকি।"

হাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। শিশুদের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সী রোগীও আক্রান্ত হচ্ছেন। আমরা সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করে রোগীদের দ্রুত সুস্থ করে তুলতে কাজ করছি। জনগণেরও উচিত নির্ধারিত সময়ে টিকা গ্রহণ করা এবং রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যোগাযোগ করা।"

হাসপাতালের চিকিৎসকরাও জানান, সীমিত জনবল থাকা সত্ত্বেও রোগীদের চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা না করে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছেন তারা। দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের সংকট থাকলেও ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা প্রতিটি রোগীকে যথাসম্ভব মানসম্মত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ করা হলে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ মানুষ আরও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আমরাও ছক্কা মারতে পারি: তাওহীদ হৃদয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৩৫ পি.এম


আমরাও ছক্কা মারতে পারি: তাওহীদ হৃদয়

লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের (এলপিএল) দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে ব্যাট হাতে ঝড় তুলে জাফনা কিংসকে ফাইনালে তুলেছেন তাওহীদ হৃদয়। দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখার পর, যিনি ২১ বলে ৫৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন, তিনি ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলীয় সাফল্যকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তাওহীদ হৃদয় বাংলাদেশের এই মিডল অর্ডার ব্যাটার ছক্কা মারার সক্ষমতা নিয়েও আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য করেছেন।

বিদেশের মাটিতে 'স্টার বয়' তকমা পাওয়া কেমন লাগছে—এমন প্রশ্নের জবাবে হৃদয় বলেন, "বক্তিগত স্বীকৃতির চেয়ে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অবদান রাখতে পারাটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।"

হৃদয়ের ভাষায়, "আলহামদুলিল্লাহ, খুব ভালো লাগছে। দলের জন্য অবদান রাখতে পেরে আরও বেশি ভালো লাগছে। এটা আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ ছিল। পরিস্থিতি যেটা দাবি করছিল, আমি চেষ্টা করেছি সেই অনুযায়ী দলের জন্য যতটা সম্ভব অবদান রাখতে।"

ইনিংসের শুরু থেকেই হৃদয় ছিলেন আক্রমণাত্মক। কেন শুরু থেকেই বাউন্ডারির দিকে ঝুঁকেছিলেন, সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি। হৃদয় বলেন, "পরিস্থিতি এমন ছিল যে দ্রুত বাউন্ডারি দরকার ছিল। মিশারা (সহব্যাটার) কিছুটা ক্লান্ত ছিল। আমার ব্যাটেও ভালো লাগছিল, তাই চেষ্টা করেছি সুযোগটা যতটা সম্ভব কাজে লাগাতে।"

নিচের দিকে নেমে অল্প সময়ের মধ্যে ম্যাচের গতি বদলে দেওয়ার মতো ইনিংস খেলা একজন ব্যাটারের জন্য কতটা তৃপ্তির—এমন প্রশ্নে হৃদয় বলেন, "একজন ব্যাটারের সবচেয়ে বড় গুণ হলো পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া।"

তিনি আরও বলেন, "ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতি ও কন্ডিশনে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া খুব জরুরি। আমি নিচের দিকে ব্যাটিং করেছি, তাই চেষ্টা করেছি যতক্ষণ ক্রিজে ছিলাম দলের জন্য সর্বোচ্চ অবদান রাখতে।"

এলপিএলে একের পর এক বড় ছক্কা হাঁকানো হৃদয়ের কাছে ছক্কা মারা যেন সহজ হয়ে গেছে—এমন মন্তব্যের জবাবে তিনি বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়েও কথা বলেন। হৃদয়ের দাবি, "আমরা ছক্কা মারতে পারি না, বিষয়টা এমন নয়। গত বছরও বাংলাদেশ দল অনেক ছক্কা মেরেছে। আমরাও পারি। কিন্তু দল হিসেবে যখন ভালো ফল করব, তখন দেখবেন আমাদের জন্য আরও বেশি সুযোগ আসবে। শুধু আমার জন্য নয়, পুরো দলের জন্যই সুযোগ বাড়বে। এজন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দল হিসেবে ভালো ফল করা।"

ম্যাচের ইনিংস বিরতিতে বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের সঙ্গে কী কথা হয়েছিল, সেটিও জানিয়েছেন হৃদয়। তিনি বলেন, "সাকিব ভাই ব্যাটিং নিয়ে একটি বিষয় জানতে চেয়েছিলেন। আমি আমার দিক থেকে সেটা বোঝানোর চেষ্টা করেছি। আবার আমারও একটি শট নিয়ে তার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।"

শ্রীলঙ্কার উইকেটে ধারাবাহিকভাবে বড় স্কোর হওয়ার কারণ নিয়েও নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন তিনি। হৃদয় বলেন, "বাংলাদেশেও গত এক-দুই বছরে ভালো উইকেট হয়েছে। তবে এখানে প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই ২০০ বা তার বেশি রান হচ্ছে। ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়ম থাকায় সেটাও বড় স্কোর করতে সাহায্য করছে। পাশাপাশি ব্যাটার ও বোলার—দুই পক্ষই ভালো ক্রিকেট খেলছে।"

আগের ম্যাচে ১০১ মিটারের বিশাল একটি ছক্কার জন্য যেমন আলাদা পুরস্কার পেয়েছেন, তেমনি এই ম্যাচে ২০ বলে ফিফটি ছোঁয়ার জন্যও পেয়েছেন বিশেষ স্বীকৃতি। তবে এসব অর্জনের কৃতিত্ব নিজের নয়, সৃষ্টিকর্তার প্রতি উৎসর্গ করেছেন হৃদয়। তিনি বলেন, "আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া যে এমন একটি সুযোগ ভালোভাবে কাজে লাগাতে পেরেছি। একজন ব্যাটার হিসেবে পারফর্ম করলে অবশ্যই ভালো লাগে। আর যখন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে কিংবা বাংলাদেশের হয়ে ভালো খেলতে পারবেন, তখন সেই অনুভূতিটা আরও বিশেষ হয়ে ওঠে।"

২১ বলে অপরাজিত ৫৪ রানের ঝড়ো ইনিংসে জাফনা কিংসকে ফাইনালে তোলার পর তাওহীদ হৃদয়ের ব্যাট কথা বলেছে, পাশাপাশি ফুটে উঠেছে তার আত্মবিশ্বাস, দলকেন্দ্রিক মানসিকতা এবং বাংলাদেশের ক্রিকেটকে আরও উঁচুতে নেওয়ার প্রত্যয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ককরোচ পার্টি যেভাবে আন্দোলন করবে, জানাল ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৩৭ পি.এম


ককরোচ পার্টি যেভাবে আন্দোলন করবে, জানাল ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

ভারতের বর্তমান পরিস্থিতিতে, নির্বাচনী রাজনীতিতে না গিয়ে আপাতত একটি চাপ সৃষ্টিকারী সংগঠন বা প্রেশার গ্রুপ হিসেবে কাজ করবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। এসব তথ্য বুধবার মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে সিজেপির কোর টিমের বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।

টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিজেপি-র এই সভায় সংবাদমাধ্যম এবং বিচারবিভাগের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সাধারণ মানুষের কমে আসা আস্থা নিয়ে আলোচনা করা হবে। এর পাশাপাশি, ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব এবং ইথানল-মিশ্রিত জ্বালানির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোও তাদের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। দলের প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস জানিয়েছেন যে, প্রখ্যাত অ্যাক্টিভিস্ট সোনম ওয়াংচুক তাদের মেন্টর বা পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করবেন।

এদিকে, দীপকে আরো বলেন, পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং অন্যান্য অনিয়মের বিরুদ্ধে সিজেপির সাম্প্রতিক আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের জন্য তারা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছেন। পাশাপাশি আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থীদের আইনি ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার কাজও চলছে।

সিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছে, বৈঠকে সাম্প্রতিক আন্দোলনের পর্যালোচনা, তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন বিস্তার এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে। দীপকে বলেন, দিল্লির যন্তর মন্তরের আন্দোলন দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এর ফলে সংগঠনের দায়িত্ব ও মানুষের প্রত্যাশা দুটোই বেড়েছে।

দীপকে নির্বাচনী রাজনীতিতে নামার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ‘খুবই খারাপ’ এবং তার মূল লক্ষ্য হলো একটি তৃণমূল পর্যায়ের সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা। তিনি আরো জানান যে, বিচারবিভাগ, রাজনীতি, গণমাধ্যম এবং নির্বাচন কমিশনের ওপর থেকে মানুষ আস্থা হারিয়েছে, তাই এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একটি জনচাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রয়োজন।

এদিকে ঝাড়খণ্ডে সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন দীপকে। তিনি বলেন, “আমরা অবশ্যই ঝাড়খণ্ডে যাব, তাদের পাশে দাঁড়াব এবং তাদের সব দাবিকে সমর্থন করব।”

তবে সিজেপি নির্বাচনি রাজনীতিতে প্রবেশ করবে কি না—এমন প্রশ্নে দীপকে বলেন, গণমাধ্যম এ বিষয়ে সংগঠনের চেয়ে বেশি আগ্রহী। তিনি জানান, আপাতত রাজনৈতিক দল গঠনের কোনো পরিকল্পনা নেই।

এদিকে, আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল ১০০ জন সমর্থক নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে পদযাত্রা করেন। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের চাপে সরকার ইথানল-মিশ্রিত জ্বালানি (ই২০) প্রচার করছে এবং এর পেছনে একটি ‘গোপন উদ্দেশ্য’ রয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের প্রতিবাদে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে জুন মাসে ভারতে ফেরেন অভিজিৎ দীপকে। ওই আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের তরুণরা অংশ নেয়। পরবর্তীকালে আন্দোলন বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে, যদিও কয়েকটি জায়গায় বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেয় এবং পুলিশের অভিযানে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয় মোদি সরকার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%