০৪:৩০ পি.এম
দিল্লিতে বিক্ষোভ দমনে পুলিশের কার্যক্রমের তীব্র সমালোচনা করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জার্মানির নাৎসি নেতা অ্যাডলফ হিটলারের সঙ্গে তুলনা করেছেন আম আদমি পার্টির (এএপি) নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিনি অভিযোগ করেন যে, বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়ে মোদি সরকার সমস্ত সীমা অতিক্রম করেছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পাশাপাশি মোদিকেও পদত্যাগ করতে হতে পারে।
রোববার (১১ অক্টোবর) টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে কেজরিওয়ালের এই বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। এর পূর্ববর্তী দিন শনিবার, দিল্লিতে কক্রোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রস্তাবিত বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে পুলিশ ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করে। দলটি ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীর যন্তর মন্তরে সমাবেশের আয়োজন করেছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি ভিডিওবার্তায় কেজরিওয়াল অভিযোগ করেন, শনিবারের অভিযানে তরুণী, আইনজীবী ও সাংবাদিকদেরও হেনস্তা করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের আচরণে দমন-পীড়নের চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কেজরিওয়াল মন্তব্য করেন যে, শুধু জ্ঞানেশ কুমার নয়, মোদিকেও পদত্যাগ করতে হতে পারে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকার ও পুলিশের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
আরও পড়ুন: শ্রমিক নেতা বাবুল আখতারের উসকানি উপেক্ষা করে কাজে ফেরার আহ্বান
বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করার সময় কেজরিওয়ালসহ বিরোধী দলের কয়েকজন নেতাকে আটক করা হয়। আটক নেতাদের মধ্যে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। পরে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার একটি পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার দিল্লিতে বিক্ষোভের কারণে সাত হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছিল। পরে কক্রোচ জনতা পার্টির নেতাদের ছাড়া আটক বিক্ষোভকারীদের মুক্তি দেয় পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দলটির নেতা অভিজিৎ দীপ, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চালানোর পরিকল্পনা ছিল। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে তাঁদেরও মুক্তি দেওয়া হয় বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের আপত্তি এবং বিক্ষোভ দমনে পুলিশের ভূমিকা ঘিরে ভারতের রাজনীতিতে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকায় অনিয়মের প্রতিবাদ দমনে সরকার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। অন্যদিকে, বিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা ও পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
আরও পড়ুন: পঞ্চগড়ে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন