রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৫১ পি.এম
জাতীয় সংসদের হুইপ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রশ্ন করেছেন, কোন ডিসেম্বর মাসে তিনি বাংলাদেশে আসবেন।
তিনি উল্লেখ করেন, "এ রকম ডিসেম্বর মাস আমাদের জীবনে বহু গেছে। বহু রোজ, ঈদ, পূজা ও বর্ষাকালও গেছে। ২০৩০ সালের নাকি ৫০ সালের ডিসেম্বর এটা ক্লিয়ার করেন।" হুইপ বলেন, "হুমকি-ধমকি দিয়ে গণতান্ত্রিক ধারাকে বিঘ্ন করা যাবে না। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়েই আমরা ক্ষমতায় এসেছি।"
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে উত্তরাঞ্চল জাতীয়তাবাদী ফোরাম আয়োজিত ‘বর্তমান সরকারের সফলতা শীর্ষক’ আলোচনা সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।
হুইপ শেখ হাসিনাকে কোন বর্ডার দিয়ে আসবেন তা জানাতে বলেন। তিনি বলেন, "জুলাই আন্দোলন ২ হাজার ছাত্র-জনতাকে হত্যা করেছেন, তাদের রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি। ছাত্র-জনতা, জুলাই যোদ্ধা এবং ১৭ বছরের গুম-খুনের শিকার পরিবারসহ আমরা সবাই আপনার জন্য অপেক্ষা করছি।" তিনি আরও বলেন, "গত ১৭ বছরের প্রতিটি হত্যার বিচার হবে। এবার আপনাকে কাশিমপুর কারাগারে যেত হবে। আপনাকে বাংলাদেশের মানুষের বিচারের মুখোমুখি হতে হব।"
দুলু প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের কাজের প্রসঙ্গে বলেন, "নির্বাচনের পর থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সকাল ৯টা থেকে রাত প্রায় ১২ টা পর্যন্ত একটানা কাজ করছেন। তিনি কোনো প্রটোকল নেন না।" তিনি বলেন, "স্বাধীনতার পর একমাত্র প্রধানমন্ত্রী যিনি সরকারি সমস্ত নিয়ম-নীতি ও প্রটোকল ভেঙে দিয়েছেন।"
তিনি উল্লেখ করেন, "একটা দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছেন। অতীতে আমরা দেখছি, প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকলের জন্য মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকেছেন। একজন মুমূর্ষু রোগী মারা গেলেও রাস্তা খোলা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী চেয়েছেন, আমিও একজন মানুষ, রিকশাওয়ালা একজন মানুষ। কারো সাথে কোনো বৈষম্য থাকবে না, পার্থক্য থাকবেন।"
দুলু আরও বলেন, "১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষকদের কৃষক ঋণ মওকুফ করে দিয়েছে সরকার। কৃষকদের কৃষক কার্ড দেওয়া হচ্ছে। অসহায় নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছেন প্রধানমন্ত্রী।" তিনি বলেন, "ইমাম মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মগুরুদের সম্মানী দেওয়া শুরু করেছেন। এটাও সরকারের উন্নয়নের সফলতা।"
হুইপ বলেন, "গত ৬ মাসে একজন মানুষ গুম হয়নি। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানো, কাউকে আটকে করেও গুম করা হয়নি।"
তিনি বলেন, "বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে একটা সিস্টেম বা প্রক্রিয়ার মধ্যে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে প্রধানমন্ত্রী। গ্যাস বিদ্যুৎসহ মানুষের সকল সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন। সকল সমস্যার সমাধানও করবেন ইনশাআল্লাহ।"
আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) মিছিল প্রসঙ্গে দুলু বলেন, "নামাজের সময় একটা মিছিল করেছে। ওরা নামাজও পড়ে না, আল্লাহকেও বিশ্বাস করে না।"
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "আমাদের মধ্যে মতপার্থক্যে থাকতে পারে। কিন্তু দেশটাকে বাঁচাতে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।"
সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মাহমুদা হাবীবা বলেন, "সরকার গঠনের পর দ্রুত সময়ে গত ৫ মাসে ২৫ হাজার কোটি টাকা বিদেশি ঋণ পরিশোধ করেছে। ঋণের সুদের চাপ কমিয়ে আনতেও কাজ করছে সরকার।"
এছাড়া চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনকারী হজযাত্রীকে উদ্বৃত্ত তাদের প্রতিটি ব্যাংক একাউন্টে ফেরত দিচ্ছে সরকার। "এটা শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীতে নজির।"
উত্তরাঞ্চল জাতীয়তাবাদী ফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. এছাহক আলীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাড. মাহমুদা হাবীবা, বিএনপির নির্বাহী কমিটির রমেস দত্ত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা পানি ও পরিবেশ বিভাগ অধ্যাপক ড. মো. নাদিরুজ্জামান মন্ডল প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মাহিরা খান দ্বিতীয়বার মা হওয়ার সুখবর দিয়েছেন। ৪১ বছর বয়সে তিনি তার দ্বিতীয় সন্তানের আগমন সম্পর্কে ঘোষণা করেছেন। কানাডার টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (TIFF) ২০২৬-এ অংশ নেওয়ার সময় বেবি বাম্পের ছবি প্রকাশ করে এই খবরটি জানান অভিনেত্রী।
মাহিরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি সাদা রঙের গাউন পরা ছবি শেয়ার করেছেন। ছবিতে তার বেবি বাম্প স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। আনুষ্ঠানিকতা না রেখে ছবির সঙ্গে তিনি লেখেন, “We make plans and then there is ALLAH’S plan.” অর্থাৎ, মানুষ পরিকল্পনা করে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আল্লাহর পরিকল্পনাই কার্যকর হয়।
এই ঘোষণার পর থেকে ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাকে শুভেচ্ছা জানাতে শুরু করেন। টরন্টো চলচ্চিত্র উৎসবে এবারের সপ্তাহটি মাহিরার জন্য ছিল বেশ ব্যস্ত। উৎসবের ‘কমিউনিটি ইমপ্যাক্ট’ কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি সিনেমায় অবদানের জন্য তিনি সম্মাননাও পেয়েছেন।
গর্ভধারণের খবর জানানোর সময় মাহিরার পরনে ছিল ফুলহাতা ও ঢিলেঢালা সাদা গাউন। এক হাতে বেবি বাম্প ধরে তিনি ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তার চুল, মেকআপ ও সাজসজ্জা ছিল বেশ সাধারণ।
আরো পড়ুন
বডি শেমিং নিয়ে মুখ খুললেন শেহনাজ গিল
এটি মাহিরার দ্বিতীয় সন্তান এবং ব্যবসায়ী সেলিম করিমের সঙ্গে তার প্রথম সন্তান। ২০২৩ সালের অক্টোবরে সেলিম করিমকে বিয়ে করেন মাহিরা। এর আগে, প্রথম স্বামী আলি আসকারির সঙ্গে তার ১৭ বছর বয়সী ছেলে আজলান রয়েছে।
মাহিরার ব্যক্তিজীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্তে ছেলে আজলানকে দেখা গিয়েছিল। ২০২৩ সালে সেলিম করিমের সঙ্গে বিয়ের সময় সে মাকে বিয়ের মঞ্চে নিয়ে গিয়েছিল।
২০১৬ সালে শাহরুখ খানের বিপরীতে ‘রাইস’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক ঘটে মাহিরার। এরপর ‘বিন রয়ে’, ‘সুপারস্টার’ ও ‘দ্য লিজেন্ড অব মওলা জাট’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। টেলিভিশনে ‘শেহর-ই-জাত’ ও ‘সাদকায়ে তোমারে’র মতো নাটকেও কাজ করেছেন এই অভিনেত্রী।
মাহিরার দ্বিতীয়বার মা হওয়ার খবরটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভক্তদের শুভেচ্ছায় ভাসছেন এই অভিনেত্রী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শেভরনের বেস অ্যাসেটস ও উদীয়মান দেশবিষয়ক প্রেসিডেন্ট জাভিয়ার লা রোসার নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে।
এই সাক্ষাৎটি রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি শাহাদাৎ স্বাধীন জানিয়েছেন, সাক্ষাতে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে, দেশে বিদ্যমান ও পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে শেভরনের বিনিয়োগের বিষয়টি আলোচনায় উঠে এসেছে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, শেভরন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শু শিয়ং সহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় জুটি মৌসুমী ও ওমর সানীর সম্পর্কের কাহিনী তিন দশক পেরিয়ে আজও দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রেম, বিয়ে, সংসার, সন্তান এবং অভিমান—বিভিন্ন সময়ে তাঁদের নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা ও বিচ্ছেদের গুঞ্জন সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। তবে দীর্ঘ ৩১ বছর ধরে একসঙ্গে আছেন এই তারকা দম্পতি।
১৯৯৫ সালের ৪ মার্চ মৌসুমী ও ওমর সানী গোপনে বিয়ে করেন। বিয়ের দেড় বছর পর ২ আগস্ট তাঁদের বিবাহোত্তর সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। সম্প্রতি, দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে, মৌসুমীর প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা জানিয়েছেন ওমর সানী।
দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে মাঝে মাঝে বিচ্ছেদের গুঞ্জন ছড়িয়েছে। এই বিষয়ে মৌসুমীর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ওমর সানী বলেন, “আমি তো মানুষ, আমার ভুল হতেই পারে। মৌসুমীও তা-ই। ওরও ভুল হতে পারে। এ রকম আমরা সবাই মানুষ। সমস্যা হয় যখন এসব নিয়ে অতিমাত্রায় লেখালেখি হয়।”
এ ধরনের খবর সামনে এলে মৌসুমী তাঁকে কী বলেন, সেটিও জানিয়েছেন সানী। তাঁর ভাষায়, “ওদের হয়তোবা এসব বলে কিংবা লিখে সংসার চলে। হয়তোবা দুইটা পয়সার কারণে চাল-ডাল কিনে খায়।”
তবে সব আলোচনা ও সমালোচনার বাইরে, স্ত্রীকে নিয়ে নিজের অনুভূতি স্পষ্ট করেছেন ওমর সানী। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “এই বয়সেও এসে আমি বলব, ফারদীন-ফাইজার আম্মু তোমাকে ভালোবাসি।”
দাম্পত্য সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে বিশ্বাস ও ত্যাগকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন এই অভিনেতা। তিনি বলেন, “আসলে হয় কি, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কটা হচ্ছে একজন আরেকজনকে বিশ্বাস করা, স্যাক্রিফাইজ করা। সেটা আমাদের মধ্যে আছে।”
মৌসুমীর কোন বিষয়টি তাঁকে এখনো সবচেয়ে বেশি টানে—এমন প্রশ্নের জবাবে গণমাধ্যমে ওমর সানী বলেন, “মৌসুমীর কেয়ারিং এবং ওর জিদটাও আমাকে ভীষণ টানে। ও একটা কথা অনেক জমাট করে রাখতে পারে, আমি পারি না। আমার একটু ধৈর্য কম, ওর একটু বেশি আছে।”
তবে স্ত্রী হিসেবে মৌসুমীর সবচেয়ে বড় পরিচয় তাঁর কাছে সন্তানদের মা হিসেবে।
সানী-মৌসুমীর সম্পর্কের শুরুটা খুব সহজ ছিল না। তাঁদের প্রথম দেখা হয়েছিল ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবির মহরত অনুষ্ঠানে। পরে পরিচালক শেখ নজরুল ইসলাম একটি ছবির প্রস্তাব নিয়ে ওমর সানীকে সঙ্গে করে মৌসুমীদের ঢাকার মোহাম্মদপুরের বাসায় নিয়ে যান। সেখানেই প্রথম কথা হয় তাঁদের। তবে অন্য ছবির ব্যস্ততার কারণে মৌসুমী সেই প্রস্তাবে রাজি হতে পারেননি। মন খারাপ নিয়ে সেদিন ফিরেছিলেন ওমর সানী।
১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ মুক্তির পর কয়েকজন প্রযোজকের উদ্যোগে ‘দোলা’ ছবিতে প্রথমবার জুটি বাঁধেন মৌসুমী ও ওমর সানী।
সিলেটে ছবিটির শুটিংয়ের সময় তাঁদের মধ্যে মনোমালিন্যও হয়েছিল। তবে সেই দূরত্ব একসময় ভালো লাগায় রূপ নেয়। মৌসুমীর ব্যক্তিত্ব, পরিবারের আন্তরিকতা ও তাঁর আচরণ মুগ্ধ করে ওমর সানীকে।
এরপর ১৯৯৫ সালের ৪ মার্চ দুই পরিবারের কাছের মানুষ এবং দুজনের ঘনিষ্ঠ দুই চলচ্চিত্র পরিচালকের উপস্থিতিতে চুপিসারে বিয়ে করেন তাঁরা।
বিয়ের দেড় বছর পর ২ আগস্ট আয়োজন করা হয় তাঁদের বিবাহোত্তর সংবর্ধনা। এরপর পেরিয়ে গেছে তিন দশকেরও বেশি সময়। নানা গুঞ্জন, অভিমান ও আলোচনার মধ্যেও সেই সম্পর্ক আজও টিকে আছে একই ছাদের নিচে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শুরুতে মাত্র তিন দিনে ৫ কোটি রুপির কিছু বেশি আয় হয়েছে। এরপর দর্শকদের কাছে মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ার মাধ্যমে সিনেমাটির গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়, আর আট সপ্তাহের প্রেক্ষাগৃহ প্রদর্শন শেষে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০০ কোটি রুপি আয় করে। বলিউডের বড় বাজেটের অ্যাকশন ও তারকাখচিত সিনেমার ভিড়ে ইমতিয়াজ আলীর ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’ এমন ব্যতিক্রমী সাফল্য অর্জন করেছে।
১২ জুন মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি, বিশাল প্রচারণা কিংবা চোখধাঁধানো অ্যাকশনের ওপর নির্ভর করেনি। বরং ৯৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের স্মৃতি, দেশভাগের ক্ষত, হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসা এবং শিকড়ে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষার গল্পই ধীরে ধীরে দর্শককে সিনেমাটির দিকে আকৃষ্ট করেছে।
শেষ পর্যন্ত ভারতের বাইরে থেকেও সিনেমাটি ২০ কোটির বেশি রুপি আয় করেছে। প্রেক্ষাগৃহে আট সপ্তাহের যাত্রা শেষে প্রায় ১০০ কোটি রুপি আয় করায় ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’ সাম্প্রতিক বলিউডের চেনা বাণিজ্যিক ছকের বাইরে একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্যের উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
কী নিয়ে সিনেমার গল্প?
‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’র কাহিনী ৯৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে কেন্দ্র করে। বয়সের কারণে তাঁর স্মৃতি ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু জীবনের একটি পুরোনো অধ্যায় তাঁকে বারবার টেনে নিয়ে যায় ফেলে আসা পাঞ্জাবের দিকে।
আরো পড়ুন
‘দ্য অডিসি’র নারী চরিত্রগুলো কি হারিয়েছে নিজেদের গভীরতা?
দেশভাগের কারণে যে ভূমি আজ সীমান্তের ওপারে, সেখানে রয়েছে তাঁর কৈশোরের ভালোবাসার স্মৃতি। সেই মানুষটি এখনো বেঁচে আছেন কি না, সেটিও তাঁর জানা নেই। তবু স্মৃতি পুরোপুরি হারিয়ে যাওয়ার আগে একবার সেখানে ফিরে যেতে চান তিনি।
তবে সিনেমাটি শুধু হারিয়ে যাওয়া প্রেমের গল্প নয়। দেশভাগের সময় সাধারণ মানুষের জীবনে নেমে আসা বিভাজন, অনিশ্চয়তা ও মানসিক ক্ষতের কথাও ছবিটি তুলে ধরেছে। দুই দেশে ভাগ হয়ে গেলেও মানুষের ভেতরের আন্তরিকতা, মমতা ও ভালোবাসা যে সীমান্তের কাঁটাতারে থেমে থাকে না—গল্পের আবেগে সেই বিষয়টিও উঠে এসেছে।
বৃদ্ধকে সেই যাত্রায় নিয়ে বের হয় তাঁর নাতি। দাদা-নাতির এই যাত্রাই ধীরে ধীরে সিনেমার মূল গল্প হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে এটি হয়ে ওঠে স্মৃতি, শিকড়, হারানো সময় ও ঘরে ফেরার আকাঙ্ক্ষার গল্প।
নাসিরুদ্দিন শাহর অভিনয়ে মুগ্ধ দর্শক
সিনেমাটির আবেগের বড় জায়গা দখল করে আছেন নাসিরুদ্দিন শাহ। ৯৫ বছর বয়সী বৃদ্ধের চরিত্রে তিনি শুধু স্মৃতিভ্রংশের অসহায়ত্ব তুলে ধরেননি, বরং চরিত্রটির হাসি, দুষ্টুমি ও জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাও ফুটিয়ে তুলেছেন।
আরো পড়ুন
সন্তান নিতে ইউরোপে ছুটছেন মার্কিন দম্পতিরা, চিকিৎসার সঙ্গে চলছে ভ্রমণও।
দিলজিৎ দোসাঞ্জও সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছেন। তবে নাসিরুদ্দিন শাহর অভিনয়ই সিনেমাটির অন্যতম বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
এ আর রহমানের সংগীতেও আলাদা আবহ
সিনেমাটির আবেগকে আরও গভীর করেছে এ আর রহমানের সংগীত। ইমতিয়াজ আলীর ধীরগতির গল্প বলার সঙ্গে রহমানের সুর চরিত্রগুলোর স্মৃতি ও আবেগকে আরও গভীর করে তুলেছে।
গীতিকার ইরশাদ কামিলের লেখা গানও গল্পের সঙ্গে মিশে গেছে। ‘দরিয়া’ গানে বাংলা লাইন ব্যবহারের বিষয়টিও আলাদা করে নজর কেড়েছে। এর মাধ্যমে ১৯৪৭-এর দেশভাগের স্মৃতিকে পাঞ্জাবের গণ্ডি ছাড়িয়ে বাংলার অনুভূতির সঙ্গেও যুক্ত করা হয়েছে।
আরো পড়ুন
শাহরুখকে প্রস্তাব দিয়েও ফিরলেন তিগমাংশু, কেন রাজি হননি কিং খান?
প্রেক্ষাগৃহের পর নেটফ্লিক্সে
৭ আগস্ট নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’। ফলে প্রেক্ষাগৃহের পর আরও বড় দর্শকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর সুযোগ পেয়েছে সিনেমাটি।
বিশেষ করে দেশভাগের সময় ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া পরিবারগুলোর কাছে সিনেমাটির ঘরে ফেরার গল্পটি আলাদা আবেগ তৈরি করতে পারে।
আরো পড়ুন
‘ছয় বছর জেলে থেকেও মারাঠি শিখিনি’, মন্ত্রীকে সঞ্জয়ের মজার জবাব।
সাম্প্রতিক সময়ে বলিউডে বড় বাজেটের অ্যাকশন ও জাঁকজমকপূর্ণ সিনেমার দাপটের মধ্যেও ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’র সাফল্য দেখিয়েছে যে দর্শক এখনো ধীরগতির গল্প, আবেগ ও শক্তিশালী অভিনয়ের সিনেমাকে গ্রহণ করেন।
এটি ইমতিয়াজ আলীর সিনেমাটি তাই শুধু প্রায় ১০০ কোটি রুপি আয়ের গল্প নয়; বরং দেশভাগের ক্ষত, হারিয়ে যাওয়া সম্পর্ক আর ঘরে ফেরার আকাঙ্ক্ষাকে নরম ও মানবিকভাবে তুলে ধরে দর্শকের মনে জায়গা করে নেওয়ার এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ