ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

ভিডিও প্রযুক্তি ব্যবহারে উয়েফার নতুন নির্দেশনা


ভিডিও প্রযুক্তি ব্যবহারে উয়েফার নতুন নির্দেশনা

ভিএআর প্রযুক্তির ব্যবহারকে আরও স্বচ্ছ ও নির্ভুল করার জন্য উয়েফা নতুন একটি উদ্যোগ নিয়েছে। ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘ক্লিয়ার লাইন’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে, যেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে ভিএআর কখন এবং কীভাবে হস্তক্ষেপ করবে।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস এর প্রতিবেদনে জানা গেছে, ‘ক্লিয়ার লাইন’ ইতোমধ্যে কার্যকর হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা ভিএআর নিয়ে বিতর্ক এবং বিভ্রান্তি কমানোর লক্ষ্যেই এই প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করা হয়েছে। এখানে বিভিন্ন ঘটনার বিবরণ, ম্যাচ পরিস্থিতি, ভিএআর ব্যবহারের পদ্ধতি এবং হস্তক্ষেপের মানদণ্ড তুলে ধরা হয়েছে।

উয়েফার রেফারি কমিটির প্রধান রবার্তো রোসেত্তি বলেছেন, ‘সবাই যে প্রশ্নটি করছেন, তা হলো—কখন ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির হস্তক্ষেপ করা উচিত? এটিই মূল বিষয়। অনেকেই সঠিকভাবে জানেন না কখন তাদের হস্তক্ষেপ করা উচিত।’

আরও পড়ুন: লাউতারোর বদলে আর্জেন্টিনার একাদশে ব্রাজিলের ক্লাবে খেলা স্ট্রাইকার?

রোসেত্তি আরও জানান, ‘ক্লিয়ার লাইন’ তৈরি করতে প্রায় আট বছরের অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন ভিএআর ঘটনা এবং ১০০টিরও বেশি ভিডিও ক্লিপ বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এটি একটি নথি, যেখানে আমরা ব্যাখ্যা করেছি কখন এবং কীভাবে ভিএআর-এর হস্তক্ষেপ করা উচিত। এটি এমনভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে, যাতে সবাই একটি স্পষ্ট নির্দেশনা পেতে পারে। এটি শুধু রেফারিদের জন্য নয়; খেলোয়াড়, কোচ, ভক্ত ও সংবাদমাধ্যমের জন্যও উপযোগী।’

উয়েফার আরেক কর্মকর্তা ভেলাস্কো কার্বালো জানান, ‘ক্লিয়ার লাইন’ শুধু রেফারিদের জন্য তৈরি কোনো ওয়েবসাইট নয়। ফুটবলের সাথে সংশ্লিষ্ট সবার কাছে ভিএআর ব্যবহারের মৌলিক নীতিগুলো সহজভাবে তুলে ধরার উদ্দেশ্যেই এটি নির্মিত হয়েছে।

কার্বালো বলেন, ‘আমরা চাই, যেকোনো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচের পর আমাদের লাইব্রেরিতে থাকা ক্লিপগুলোর সাথে ম্যাচের ঘটনাগুলো তুলনা করার ক্ষেত্রে এই প্ল্যাটফর্মটি একটি রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হোক।’

আরও পড়ুন: হিন্দু সম্প্রদায় কোনো দলের দাসত্ব করে না: মীর শাহে আলম

২০২৬-২৭ মৌসুম থেকে এই নির্দেশিকা অনুসরণ করবে উয়েফা। নতুন ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো সূক্ষ্ম ও ছোটখাটো ভুলের পরিবর্তে কেবল বড় এবং স্পষ্ট ভুলের ক্ষেত্রে ভিএআরকে হস্তক্ষেপ করতে দেওয়া। এইভাবে ভিএআরকে আরও কম হস্তক্ষেপকারী এবং একই সাথে আরও নির্ভুল করে তোলার পরিকল্পনা করেছে উয়েফা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার পথে বাংলাদেশ, টানা তৃতীয়বার বাছাই পর্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:১৭ পি.এম


সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার পথে বাংলাদেশ, টানা তৃতীয়বার বাছাই পর্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

সব শঙ্কা উড়িয়ে ২০২৭ এর ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আফগানিস্তানের সিরিজ জয় আইসিসির ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।

আগামী বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপে আনুষ্ঠানিকভাবে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জনের জন্য টাইগারদেরকে অবশ্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর র‍্যাঙ্কিংয়ের কাট-অফের পর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে। বর্তমানে বাংলাদেশ শীর্ষ আটে অবস্থান করছে, তাদের পিছনে ফেলার বাস্তবসম্মত সুযোগ অন্য দলগুলোর নেই, এবং তাই সাত সপ্তাহেরও কম সময় বাকি থাকায় তাদের আশা জিইয়ে রাখা সম্ভব।

দুই স্বাগতিক দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা এবং জিম্বাবুয়ে ইতোমধ্যে সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করেছে। ফলে ৩০ সেপ্টেম্বর ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আট দল সরাসরি ২০২৭ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে।

রোববার (৯ আগস্ট) বেলফাস্টে আয়ারল্যান্ডকে ৩ উইকেটে হারিয়ে আফগানিস্তান শীর্ষ আটে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে। এই ফলের পর সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়ার তালিকায় রয়েছে—অস্ট্রেলিয়া, ভারত, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড, আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশ।

এখন বাংলাদেশের বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব এড়িয়ে সরাসরি মূল পর্বে খেলা প্রায় নিশ্চিত। আগামী বছর দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে এবং নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ। ৩০ সেপ্টেম্বরের কাট-অফের পর বাংলাদেশের জায়গা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হবে।

অন্যদিকে, দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দীর্ঘ বাছাই পর্ব পাড়ি দিতে হবে। ক্যারিবীয় দলটি বর্তমানে র‍্যাঙ্কিংয়ে ১০ নম্বরে অবস্থান করছে। কাট-অফের আগে ভারতের বিপক্ষে নিজেদের বাকি দুটি ওয়ানডে জিতলেও, শীর্ষ আটে ওঠার তাদের কোনও সুযোগ নেই। ফলে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে খেলতে হবে তাদের।

এ নিয়ে টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ চক্রে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বাছাইপর্ব মোকাবেলা করতে হচ্ছে। ২০২৩ বিশ্বকাপে ক্যারিবীয়রা বাছাই পর্ব পেরোতে পারেনি এবং সুপার সিক্স পর্বে পঞ্চম হয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সুযোগ হারিয়েছে। ওই ব্যর্থতার কারণে ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও তারা খেলতে পারেনি। ২০১৩ সালের পর এটি ছিল তাদের প্রথম অনুপস্থিতি।

২০২৭ সালের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং আয়ারল্যান্ড নন-হোস্ট পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে র‍্যাঙ্কিংয়ে সবচেয়ে নিচে থাকা দুই দল হিসেবে অংশ নেবে। তাদের সঙ্গে থাকবে ওয়ার্ল্ড কাপ লিগ-২ এবং কোয়ালিফায়ার প্লে-অফ থেকে উঠে আসা দলগুলো।

এবার বিশ্বকাপে ওঠার নিয়মেও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাছাইপর্বের চ্যাম্পিয়ন দল সরাসরি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে জায়গা পাবে। এছাড়া দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ স্থানে থাকা দলগুলো একটি সুপার সিরিজ খেলবে, যেখানে বিজয়ী দলও বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলার সুযোগ পাবে।

তবে র‍্যাঙ্কিংয়ে শেষ মুহূর্তে বড় কোনো পরিবর্তন না হলে বাংলাদেশকে এই বাছাইপর্বের কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে না। বাংলাদেশ সরাসরি ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার সুযোগ হাতে রেখেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অ্যামচেম প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:১৭ পি.এম


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অ্যামচেম প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম)-এর একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে।

এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয় মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে। অ্যামচেম বাংলাদেশের সভাপতি ও মাস্টারকার্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ কামালের নেতৃত্বে সংগঠনটির আট সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।

সাক্ষাৎকালে তারা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, প্রায় দুই মাস আগে সংগঠনটির নতুন কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। নতুন কমিটি বাংলাদেশে আরও মার্কিন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে। তিনি জানান, আগ্রহী বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভূমধ্যসাগর থেকে ১৫ বাংলাদেশিকে উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:১৯ পি.এম


ভূমধ্যসাগর থেকে ১৫ বাংলাদেশিকে উদ্ধার

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার সময় সাগরে ভাসমান অবস্থায় থাকা ১৫ বাংলাদেশি নাগরিক ও ৩২ মিশরীয় নাগরিকসহ মোট ৪৭ জনকে উদ্ধার করেছে ডেনমার্কের বাণিজ্যিক জাহাজ ‘মায়েরস্ক’। পরে উদ্ধার করা ব্যক্তিদের মিশরীয় নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। নৌবাহিনী তাদের পোর্ট সাঈদ সিকিউরিটি সেন্টারে নিয়ে যায়।

ঘটনার খবর পেয়ে কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস তৎক্ষণাত পদক্ষেপ নেয়। সম্প্রতি দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত গৌতম কুমার দে এবং প্রথম সচিব (শ্রম) মো. জাকির হোসেন পোর্ট সাঈদে গিয়ে সুয়েজ ক্যানাল কর্তৃপক্ষের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং পোর্ট সাঈদ সিকিউরিটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

এ সময়, হেফাজতে থাকা বাংলাদেশিদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি তাদের আইনি সহায়তা এবং দেশে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করা হয়।

পোর্ট সাঈদ সিকিউরিটি সেন্টারের পুলিশ প্রধান দূতাবাসের কর্মকর্তাদের জানান, উদ্ধার হওয়া ১৫ বাংলাদেশি নাগরিক তাদের হেফাজতে রয়েছেন। পরে দূতাবাসের কর্মকর্তারা তাদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে পুরো ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেন।

বাংলাদেশি নাগরিকদের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে তারা পৃথকভাবে লিবিয়ায় যান। সেখানে অবস্থানকালে ইউরোপে অনিয়মিতভাবে প্রবেশের উদ্দেশ্যে কেউ কেউ মানবপাচারকারী চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আবার অনেকেই লিবিয়ার বিভিন্ন মাফিয়া চক্রের হাতে আটক হওয়ার পর তাদের মাধ্যমে সমুদ্রপথে ইউরোপে যাওয়ার উদ্যোগ নেন।

এ উদ্দেশ্যে, পাচারকারীদের সঙ্গে মৌখিক চুক্তির মাধ্যমে তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করেন। অর্থের জোগান দিতে কেউ কেউ বাংলাদেশে থাকা জমিজমা বিক্রি করেছেন বলেও জানান। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষেত্রবিশেষে প্রত্যেকে ১০ লাখ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করেছেন।

আটক বাংলাদেশিরা জানান, ১০ জুলাই দিবাগত রাতে মিশরীয় নাগরিকসহ মোট ৪৭ জন একটি রাবারের নৌকায় করে লিবিয়ার তবরুক থেকে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। নৌকাটি স্পিডবোটের ইঞ্জিনে চলছিল, তবে এতে কোনো নেভিগেশন ব্যবস্থা ছিল না। তাদের জানানো হয়েছিল, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে পৌঁছাতে প্রায় ৩৬ ঘণ্টা সময় লাগবে।

কিন্তু নেভিগেশন ব্যবস্থা না থাকায় নৌকাটি দিক হারিয়ে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা ভূমধ্যসাগরে ঘুরতে থাকে। একপর্যায়ে, জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ায় নৌকাটি সম্পূর্ণ অচল হয়ে সাগরে ভাসতে থাকে।

অতএব, প্রায় দুই দিন তিন রাত পর্যাপ্ত খাবার ও পানীয় জল ছাড়াই সাগরে ভাসতে হয় তাদের। জীবন বাঁচাতে আরো রাতে দূরে কোনো জাহাজের আলো দেখা গেলে মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে সাহায্যের সংকেত দেওয়ার চেষ্টা করেন তারা।

অবশেষে, ডেনমার্কের বাণিজ্যিক জাহাজ ‘মায়েরস্ক’ তাদের উদ্ধার করে এবং মিশরীয় নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে। পরে নৌবাহিনী তাদের পোর্ট সাঈদ সিকিউরিটি কর্তৃপক্ষের কাছে স্থানান্তর করে।

দীর্ঘ সময় প্রতিকূল পরিবেশে সমুদ্রে অবস্থানের কারণে ১৫ বাংলাদেশির অনেকেই শারীরিকভাবে দুর্বল ও অসুস্থ হয়ে পড়েন। গ্রিসে পৌঁছানোর চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় তারা হতাশ হলেও বর্তমানে দ্রুত বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

পোর্ট সাঈদ সিকিউরিটি সেন্টারে হেফাজতে থাকা ১৫ বাংলাদেশি নাগরিকের মধ্যে রয়েছেন—মুন্সিগঞ্জের মো. শাওন খান, সুনামগঞ্জের মো. সাজুর আহমেদ, সুনামগঞ্জের সুলেমান মিয়া, হবিগঞ্জের মো. সবুজ আহমেদ, হবিগঞ্জের মো. সারওয়ার হোসেন, সুনামগঞ্জের মো. সেলিম হোসেন, ফরিদপুরের মো. সাইম শেখ, কিশোরগঞ্জের মো. তোফায়েল হোসেন, হবিগঞ্জের জয় শেখ, সিলেটের জয়নাল উদ্দিন, হবিগঞ্জের আব্দুল আওয়াল চৌধুরী, সুনামগঞ্জের মো. মেহেদী হাসান, সুনামগঞ্জের মো. মাসুম মিয়া, হবিগঞ্জের মো. শিহাব উদ্দিন এবং তুহিন মিয়া।

দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মো. জাকির হোসেন জানান, মিশরের সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে প্রত্যাবাসনের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেসব নাগরিকের কাছে বৈধ পাসপোর্ট নেই, তাদের দেশে ফেরানোর জন্য দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ট্রাভেল পারমিট (টিপি) ইস্যুর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এদিকে, ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিয়মিত সমুদ্রপথে ইউরোপে যাওয়ার ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে সচেতন থাকার পাশাপাশি মানবপাচারকারী চক্রের প্রলোভনে না পড়তে বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনসহ ২০ জনের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ২৭ অক্টোবর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:১৯ পি.এম


সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনসহ ২০ জনের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ২৭ অক্টোবর

 

দুর্নীতি, প্রতারণা ও অবৈধ বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে পরস্পর যোগসাজশে ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের নামে ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার অধিগ্রহণের অভিযোগে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৭ অক্টোবর দিন ধার্য করেছে আদালত।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল।

কিন্তু এ দিন তদন্ত সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রতিবেদন দাখিল করতে সক্ষম হয়নি। পরবর্তীতে ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবিরের আদালত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন করে ২৭ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ইসলামী ব্যাংকের পক্ষে সিনিয়র অফিসার মো. আবদুচ ছামাদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়েরের আবেদন করেছিলেন।

ওই দিন আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে দুদককে বিষয়টির তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিল।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেড ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ৭ কোটি ৭৫ লাখ ৩৬ হাজার ৩৯৩টি শেয়ার অধিগ্রহণ করে। এসব শেয়ার ব্যাংকটির মোট শেয়ারের ৪ দশমিক ৮১৬০ শতাংশ, যার মূল্য ২৫১ কোটি টাকা।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা হলেও পরিশোধিত মূলধন ছিল মাত্র ৮ লাখ টাকা।

এ অবস্থায় ৮ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের একটি প্রতিষ্ঠানের নামে ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার অধিগ্রহণকে আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

এতে আরো বলা হয়েছে, আসামিরা পরিকল্পিতভাবে ও পরস্পর যোগসাজশে জনগণের অর্থে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ওই লেনদেন সম্পন্ন করেছেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির মোট ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার ২৪টি শেয়ারহোল্ডার কোম্পানি অধিগ্রহণ করেছে। এসব কোম্পানির অনেকগুলোই এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

শেয়ার স্থানান্তরের প্রক্রিয়া, অর্থের উৎস এবং ক্রয়-বিক্রয়ের তারিখ বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, শেয়ার বিক্রি ও ক্রয়ের তারিখ উভয় পক্ষের ক্ষেত্রেই একই দিন ছিল।

এতে শেয়ার হস্তান্তরের পুরো প্রক্রিয়াটি পূর্বপরিকল্পিত ও সমন্বিতভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

মামলায় আরো অভিযোগ করা হয়েছে, এস আলম গ্রুপ, এর মালিক ও সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিরা, ২৪টি শেয়ারহোল্ডার কোম্পানি এবং তাদের নিয়োগ করা পরিচালকরা সম্মিলিতভাবে ইসলামী ব্যাংকের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। এ প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বার্থসংশ্লিষ্ট লেনদেন ও বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার আসামিদের মধ্যে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ছাড়াও ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল ওয়াহেদ, চেয়ারম্যান মিরফাত আরা বেগম, এস আলম গ্রুপ ও এস আলম সেন্টারের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ওরফে এস আলম এবং ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির তৎকালীন কয়েকজন পরিচালক রয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%