ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভূমধ্যসাগর থেকে ১৫ বাংলাদেশিকে উদ্ধার


ভূমধ্যসাগর থেকে ১৫ বাংলাদেশিকে উদ্ধার

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার সময় সাগরে ভাসমান অবস্থায় থাকা ১৫ বাংলাদেশি নাগরিক ও ৩২ মিশরীয় নাগরিকসহ মোট ৪৭ জনকে উদ্ধার করেছে ডেনমার্কের বাণিজ্যিক জাহাজ ‘মায়েরস্ক’। পরে উদ্ধার করা ব্যক্তিদের মিশরীয় নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। নৌবাহিনী তাদের পোর্ট সাঈদ সিকিউরিটি সেন্টারে নিয়ে যায়।

ঘটনার খবর পেয়ে কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস তৎক্ষণাত পদক্ষেপ নেয়। সম্প্রতি দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত গৌতম কুমার দে এবং প্রথম সচিব (শ্রম) মো. জাকির হোসেন পোর্ট সাঈদে গিয়ে সুয়েজ ক্যানাল কর্তৃপক্ষের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং পোর্ট সাঈদ সিকিউরিটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

এ সময়, হেফাজতে থাকা বাংলাদেশিদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি তাদের আইনি সহায়তা এবং দেশে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করা হয়।

আরও পড়ুন: বিএমইউতে ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব বিশেষজ্ঞদের

পোর্ট সাঈদ সিকিউরিটি সেন্টারের পুলিশ প্রধান দূতাবাসের কর্মকর্তাদের জানান, উদ্ধার হওয়া ১৫ বাংলাদেশি নাগরিক তাদের হেফাজতে রয়েছেন। পরে দূতাবাসের কর্মকর্তারা তাদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে পুরো ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেন।

বাংলাদেশি নাগরিকদের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে তারা পৃথকভাবে লিবিয়ায় যান। সেখানে অবস্থানকালে ইউরোপে অনিয়মিতভাবে প্রবেশের উদ্দেশ্যে কেউ কেউ মানবপাচারকারী চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আবার অনেকেই লিবিয়ার বিভিন্ন মাফিয়া চক্রের হাতে আটক হওয়ার পর তাদের মাধ্যমে সমুদ্রপথে ইউরোপে যাওয়ার উদ্যোগ নেন।

এ উদ্দেশ্যে, পাচারকারীদের সঙ্গে মৌখিক চুক্তির মাধ্যমে তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করেন। অর্থের জোগান দিতে কেউ কেউ বাংলাদেশে থাকা জমিজমা বিক্রি করেছেন বলেও জানান। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষেত্রবিশেষে প্রত্যেকে ১০ লাখ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করেছেন।

আটক বাংলাদেশিরা জানান, ১০ জুলাই দিবাগত রাতে মিশরীয় নাগরিকসহ মোট ৪৭ জন একটি রাবারের নৌকায় করে লিবিয়ার তবরুক থেকে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। নৌকাটি স্পিডবোটের ইঞ্জিনে চলছিল, তবে এতে কোনো নেভিগেশন ব্যবস্থা ছিল না। তাদের জানানো হয়েছিল, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে পৌঁছাতে প্রায় ৩৬ ঘণ্টা সময় লাগবে।

আরও পড়ুন: শ্বাসকষ্টে হাসপাতালে ভর্তি বিএনপি নেতা বুলু, দোয়া চাইলেন পরিবার

কিন্তু নেভিগেশন ব্যবস্থা না থাকায় নৌকাটি দিক হারিয়ে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা ভূমধ্যসাগরে ঘুরতে থাকে। একপর্যায়ে, জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ায় নৌকাটি সম্পূর্ণ অচল হয়ে সাগরে ভাসতে থাকে।

অতএব, প্রায় দুই দিন তিন রাত পর্যাপ্ত খাবার ও পানীয় জল ছাড়াই সাগরে ভাসতে হয় তাদের। জীবন বাঁচাতে আরো রাতে দূরে কোনো জাহাজের আলো দেখা গেলে মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে সাহায্যের সংকেত দেওয়ার চেষ্টা করেন তারা।

অবশেষে, ডেনমার্কের বাণিজ্যিক জাহাজ ‘মায়েরস্ক’ তাদের উদ্ধার করে এবং মিশরীয় নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে। পরে নৌবাহিনী তাদের পোর্ট সাঈদ সিকিউরিটি কর্তৃপক্ষের কাছে স্থানান্তর করে।

দীর্ঘ সময় প্রতিকূল পরিবেশে সমুদ্রে অবস্থানের কারণে ১৫ বাংলাদেশির অনেকেই শারীরিকভাবে দুর্বল ও অসুস্থ হয়ে পড়েন। গ্রিসে পৌঁছানোর চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় তারা হতাশ হলেও বর্তমানে দ্রুত বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

আরও পড়ুন: দুর্গাপূজা নিয়ে জামায়াত-শিবির-এনসিপির রাজনীতি: ছাত্রদল সেক্রেটারি নাছির উদ্দীন নাছির

পোর্ট সাঈদ সিকিউরিটি সেন্টারে হেফাজতে থাকা ১৫ বাংলাদেশি নাগরিকের মধ্যে রয়েছেন—মুন্সিগঞ্জের মো. শাওন খান, সুনামগঞ্জের মো. সাজুর আহমেদ, সুনামগঞ্জের সুলেমান মিয়া, হবিগঞ্জের মো. সবুজ আহমেদ, হবিগঞ্জের মো. সারওয়ার হোসেন, সুনামগঞ্জের মো. সেলিম হোসেন, ফরিদপুরের মো. সাইম শেখ, কিশোরগঞ্জের মো. তোফায়েল হোসেন, হবিগঞ্জের জয় শেখ, সিলেটের জয়নাল উদ্দিন, হবিগঞ্জের আব্দুল আওয়াল চৌধুরী, সুনামগঞ্জের মো. মেহেদী হাসান, সুনামগঞ্জের মো. মাসুম মিয়া, হবিগঞ্জের মো. শিহাব উদ্দিন এবং তুহিন মিয়া।

দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মো. জাকির হোসেন জানান, মিশরের সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে প্রত্যাবাসনের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেসব নাগরিকের কাছে বৈধ পাসপোর্ট নেই, তাদের দেশে ফেরানোর জন্য দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ট্রাভেল পারমিট (টিপি) ইস্যুর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এদিকে, ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিয়মিত সমুদ্রপথে ইউরোপে যাওয়ার ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে সচেতন থাকার পাশাপাশি মানবপাচারকারী চক্রের প্রলোভনে না পড়তে বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন: টেকনাফে অপহৃত মাদ্রাসাছাত্র সিফাত উদ্ধার, দুই অপহরণকারী গ্রেফতার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনসহ ২০ জনের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ২৭ অক্টোবর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:১৯ পি.এম


সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনসহ ২০ জনের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ২৭ অক্টোবর

 

দুর্নীতি, প্রতারণা ও অবৈধ বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে পরস্পর যোগসাজশে ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের নামে ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার অধিগ্রহণের অভিযোগে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৭ অক্টোবর দিন ধার্য করেছে আদালত।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল।

কিন্তু এ দিন তদন্ত সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রতিবেদন দাখিল করতে সক্ষম হয়নি। পরবর্তীতে ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবিরের আদালত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন করে ২৭ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ইসলামী ব্যাংকের পক্ষে সিনিয়র অফিসার মো. আবদুচ ছামাদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়েরের আবেদন করেছিলেন।

ওই দিন আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে দুদককে বিষয়টির তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিল।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেড ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ৭ কোটি ৭৫ লাখ ৩৬ হাজার ৩৯৩টি শেয়ার অধিগ্রহণ করে। এসব শেয়ার ব্যাংকটির মোট শেয়ারের ৪ দশমিক ৮১৬০ শতাংশ, যার মূল্য ২৫১ কোটি টাকা।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা হলেও পরিশোধিত মূলধন ছিল মাত্র ৮ লাখ টাকা।

এ অবস্থায় ৮ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের একটি প্রতিষ্ঠানের নামে ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার অধিগ্রহণকে আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

এতে আরো বলা হয়েছে, আসামিরা পরিকল্পিতভাবে ও পরস্পর যোগসাজশে জনগণের অর্থে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ওই লেনদেন সম্পন্ন করেছেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির মোট ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার ২৪টি শেয়ারহোল্ডার কোম্পানি অধিগ্রহণ করেছে। এসব কোম্পানির অনেকগুলোই এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

শেয়ার স্থানান্তরের প্রক্রিয়া, অর্থের উৎস এবং ক্রয়-বিক্রয়ের তারিখ বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, শেয়ার বিক্রি ও ক্রয়ের তারিখ উভয় পক্ষের ক্ষেত্রেই একই দিন ছিল।

এতে শেয়ার হস্তান্তরের পুরো প্রক্রিয়াটি পূর্বপরিকল্পিত ও সমন্বিতভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

মামলায় আরো অভিযোগ করা হয়েছে, এস আলম গ্রুপ, এর মালিক ও সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিরা, ২৪টি শেয়ারহোল্ডার কোম্পানি এবং তাদের নিয়োগ করা পরিচালকরা সম্মিলিতভাবে ইসলামী ব্যাংকের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। এ প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বার্থসংশ্লিষ্ট লেনদেন ও বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার আসামিদের মধ্যে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ছাড়াও ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল ওয়াহেদ, চেয়ারম্যান মিরফাত আরা বেগম, এস আলম গ্রুপ ও এস আলম সেন্টারের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ওরফে এস আলম এবং ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির তৎকালীন কয়েকজন পরিচালক রয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঠোঁট নিয়ে বিতর্কের মাঝে ২৯ বছর বয়সেই ৮ হাজার কোটি টাকার মালিক কিশোরী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:২১ পি.এম


ঠোঁট নিয়ে বিতর্কের মাঝে ২৯ বছর বয়সেই ৮ হাজার কোটি টাকার মালিক কিশোরী

আন্তর্জাতিক বিনোদনজগতের আলোচিত তারকা কাইলি জেনার। নানা কারণে তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছেন, কখনো তার ঠোঁটের আকৃতি, কখনো প্রসাধনী ব্যবসার বিপুল সাফল্য নিয়ে, আবার কখনো প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে। যদিও তিনি কার্ডাশিয়ান-জেনার পরিবারের সবচেয়ে ছোট সদস্য, তবুও নিজের পরিচয়কে শুধুমাত্র পারিবারিক খ্যাতিতে সীমাবদ্ধ রাখেননি কাইলি। বরং, গত এক দশকে নিজের নামকে একটি বৈশ্বিক ব্র্যান্ডে রূপান্তরিত করেছেন।

১০ আগস্ট তিনি ২৯ বছরে পা দিয়েছেন। জন্মদিন উপলক্ষে বেভারলি হিলসের বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয় ‘প্রিন্সেস কিটি’ থিমের বিশেষ পার্টি। সেখানে গোলাপি সাজে হাজির ছিলেন কিম কার্ডাশিয়ান, ক্লোয়ি কার্ডাশিয়ান, কেন্ডাল জেনার ও হেইলি বিবারসহ কাইলির ঘনিষ্ঠজনেরা। তবে কাইলির দীর্ঘদিনের প্রেমিক টিমোথি শ্যালামে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

কাইলির পরিচিতির শুরুটা ছিল রিয়েলিটি শো ‘কিপিং আপ উইথ দ্য কার্ডাশিয়ানস’। ছোট বয়স থেকেই ক্যামেরার সামনে বেড়ে উঠা কাইলি, তিনি ধীরে ধীরে বুঝতে পারেন, শুধু রিয়েলিটি শোর তারকা হওয়া যথেষ্ট নয়। নিজের জনপ্রিয়তাকে ব্যবসায় কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করেন তিনি।

২০১৫ সালে, কাইলি নিজের উপার্জনের ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করে শুরু করেন ‘কাইলি কসমেটিকস’। প্রথম পণ্য ছিল লিপ কিট লিপ লাইনার ও লিপস্টিকের একটি জুটি। প্রথম দফার ১৫ হাজার কিট দ্রুত বিক্রি হয়ে যায়।

কাইলির ব্যবসার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তার নিজের জনপ্রিয়তা। ইনস্টাগ্রামে নিজের ছবি, মেকআপের ভিডিও এবং নতুন পণ্যের প্রচারণাকে তিনি সরাসরি ব্যবসার বিপণন কৌশলে পরিণত করেন। ফলে একটি প্রসাধনী পণ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায় তারকার ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড।

এই ব্যবসায়িক মডেল পরবর্তী সময়ে অসংখ্য তারকা ও ইনফ্লুয়েন্সার অনুসরণ করতে শুরু করেন। কাইলির ব্যবসায়িক জীবনের বড় মোড় আসে ২০২০ সালে। ওই বছর সৌন্দর্যপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের ৫১ শতাংশ অংশীদারত্ব ৬০০ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়। ফোর্বসের হিসাবে, এই চুক্তির আগে কাইলির আয় ছিল আনুমানিক ৫৪০ মিলিয়ন ডলার। একই সময়ে তিনি কোম্পানির প্রায় ৪৪ শতাংশ মালিকানা ধরে রাখেন।

এর আগে ২০১৯ সালে ফোর্বস কাইলিকে বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী ‘সেলফ-মেড বিলিয়নিয়ার’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল। কিন্তু পরবর্তী বছর সেই হিসাব প্রশ্নের মুখে পড়ে। ফোর্বস জানায়, কাইলি কসমেটিকসের প্রকৃত বিক্রি ও ব্যবসার আকার পরিবারটির দেওয়া হিসাবের তুলনায় অনেক ছোট ছিল। পরে তার সম্পদের হিসাব নতুন করে করে কাইলিকে আর বিলিয়নিয়ার হিসেবে বিবেচনা করেনি সাময়িকীটি।

২০২০ সালে ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী কাইলির সম্পদের পরিমাণ ছিল ৯০০ মিলিয়ন ডলারের সামান্য কম। তবে কাইলি ও তার প্রতিনিধিরা অভিযোগটি প্রত্যাখ্যান করেন। কাইলির দাবি ছিল, বিলিয়নিয়ার পরিচয় পাওয়ার জন্য তিনি কখনো মিথ্যা বলেননি।

ফোর্বসের ২০২৫ সালের হিসাবে কাইলি জেনারের সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৬৭০ মিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি। কাইলির ব্যবসার পরিধি এখন প্রসাধনীর গণ্ডি ছাড়িয়ে অনেক দূর। ‘কাইলি কসমেটিকস’-এর পাশাপাশি রয়েছে ‘কাইলি স্কিন’। এছাড়া পানীয় ও পোশাকের ব্যবসাতেও যুক্ত হয়েছেন তিনি।

২০২৩ সালে চালু হওয়া তার পোশাকের ব্র্যান্ড সাম্প্রতিক সময়ে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। ২০২৬ সালে ব্র্যান্ডটির ব্যবসায়িক মডেল ও নকশায় পরিবর্তন এনে নতুনভাবে বাজারে ফিরেছেন কাইলি। লক্ষ্য হল, দ্রুত বদলে যাওয়া ফ্যাশন ট্রেন্ডের পেছনে না ছুটে একটি দীর্ঘস্থায়ী ও নিজস্ব পরিচয় তৈরি করা।

ব্যবসার বিভিন্ন পর্যায়েও ব্যক্তিগতভাবে যুক্ত থাকেন কাইলি। পণ্যের নমুনা দেখা থেকে শুরু করে অনুপ্রেরণার বোর্ড তৈরি, ব্র্যান্ডের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে।

কাইলিকে নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল ব্যবসা প্রতিষ্ঠার আগেই। কিশোরী বয়সে তার ঠোঁট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। হঠাৎ ঠোঁটের আকৃতি বদলে যাওয়ার পিছনে কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে।

২০১৫ সালে কাইলি স্বীকার করেন, তিনি ঠোঁটে অস্থায়ী ফিলার নিয়েছিলেন। তার ভাষ্য ছিল, এটি ছিল তার নিজের অনিশ্চয়তার একটি জায়গা এবং তিনি সেটি পরিবর্তন করতে চেয়েছিলেন।

পরবর্তীতে তার ঠোঁটই হয়ে ওঠে ব্যবসার অন্যতম পরিচয়ের অংশ। কাইলিকে অনুসরণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ‘কাইলি জেনার চ্যালেঞ্জ’। অনেকে ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে ঠোঁট ফুলিয়ে তার মতো দেখানোর চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যায় যে কাইলিকেই ভক্তদের সতর্ক করতে হয়, যেন কেউ বিপজ্জনক পদ্ধতি ব্যবহার না করেন।

কাইলির জনপ্রিয়তার সঙ্গে বিতর্কও কম নেই। তার মোটা ঠোঁট, নির্দিষ্ট মুখের গড়ন ও শরীরের আকৃতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট সৌंदर্যের ধারণাকে জনপ্রিয় করেছে বলে সমালোচনা রয়েছে।

২০১৯ সালে যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা এএসএ কাইলির ছবি ব্যবহার করে প্রচারিত কয়েকটি প্রসাধনী চিকিৎসার বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করে। ওই বিজ্ঞাপনগুলোতে কাইলির মতো দেখতে হওয়ার দাবি করা হয়েছিল।

তবে সময়ের সঙ্গে সৌন্দর্য নিয়ে কাইলির নিজের দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন এসেছে। ২০২৩ সালে ‘দ্য কার্ডাশিয়ানস’-এর একটি পর্বে তিনি সৌন্দর্যের মানদণ্ড নিয়ে পরিবারের আরও বড় ধরনের আলোচনা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন। নিজের অতীতের প্রসাধনী পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে মেয়ের ওপর একই ধরনের চাপ না পড়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

কাইলির ব্যক্তিজীবনও বরাবরই আলোচিত। তরুণ বয়সে র‍্যাপার টাইগার সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। ২০১৬ সালে সেই সম্পর্ক ভাঙে। এরপর ২০১৭ সালে র‍্যাপার ট্রাভিস স্কটের সঙ্গে কাইলির সম্পর্কের খবর সামনে আসে। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁদের প্রথম সন্তান স্টর্মির জন্ম হয়। ২০২২ সালে জন্ম নেয় তাদের দ্বিতীয় সন্তান, ছেলে আইয়ার। তবুও কাইলি ও ট্রাভিসের সম্পর্ক ছিল বারবার ভাঙা-গড়ার। ২০১৯ সালে বিচ্ছেদের পর আবার সম্পর্ক জোড়া লাগলেও ২০২৩ সালের শুরুতে তারা ফের আলাদা হয়ে যান।

তখন তাদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছিল, দুজনের জীবনযাপন ছিল অনেকটা আলাদা। কাইলি ছিলেন সন্তান ও পরিবারকেন্দ্রিক, আর ট্রাভিসের জীবন ছিল স্টুডিও, রাতের অনুষ্ঠান ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোকে কেন্দ্র করে।

ট্রাভিস স্কটের পর কাইলির জীবনে সবচেয়ে আলোচিত নাম টিমোথি শ্যালামে। ২০২৩ সালে তাদের সম্পর্কের খবর প্রকাশ্যে আসে। শুরুতে এ জুটি অনেকের কাছে ছিল অপ্রত্যাশিত। একদিকে রিয়েলিটি টিভি ও ব্যবসার কাইলি, অন্যদিকে হলিউডের অন্যতম আলোচিত অভিনেতা শ্যালামে।

তবে সময়ের সঙ্গে সম্পর্কটি টিকে গেছে। পিপলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন বছরের বেশি সময় ধরে একসঙ্গে থাকা কাইলি ও টিমোথি এখনো সম্পর্কে আছেন। বিয়ের ব্যাপারে তারা তাড়াহুড়া করছেন না বলে জানা গেছে।

চলতি বছর অস্কার, ক্রিটিকস চয়েস অ্যাওয়ার্ডস ও বিশ্বকাপ ফাইনালসহ বেশ কিছু বড় আয়োজনে তাদের একসঙ্গে দেখা গেছে। কাইলির বিতর্কের তালিকায় তার ব্যক্তিগত জেট ব্যবহারের বিষয়টিও রয়েছে। ২০২২ সালে খুব স্বল্প দূরত্বের একটি ব্যক্তিগত বিমানযাত্রার তথ্য সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। বিশেষ করে পরিবেশের ওপর ব্যক্তিগত জেটের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন হয়ে তাকে আক্রমণ করা হয়।

তবে এসব বিতর্ক কাইলির জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলেনি। বরং অনেকক্ষেত্রে বিতর্কই তার নামকে আরও বেশি মানুষের সামনে নিয়ে এসেছে। কাইলির ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের অন্যতম বড় শক্তি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনুসারী। ২০২৬ সালের হিসাবে ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ৩৯ কোটি।

এ বিশাল অনুসারী কাইলির ব্যবসাগুলোর জন্য কার্যত সরাসরি বিপণনশক্তি হিসেবে কাজ করে। নতুন কোনো লিপস্টিক, পোশাক, সুগন্ধি কিংবা পানীয় বাজারে আনলে, কাইলি যখন নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করেন, তখন সেটি মুহূর্তেই কোটি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।

কাইলির ব্যবসায়িক মডেলের বিশেষত্ব এখানেই। তিনি শুধু পণ্য বিক্রি করেন না; বরং নিজের জীবনধারা, চেহারা, ফ্যাশন ও পরিচিতিকেও পণ্যের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেন।

২৯ বছরে কাইলি জেনারের পরিচয় এখন আর শুধু ‘কার্ডাশিয়ান-জেনার পরিবারের ছোট মেয়ে’ নয়। তিনি বর্তমানে উদ্যোক্তা, প্রসাধনী ব্যবসার মালিক, ফ্যাশন ব্র্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অন্যতম প্রভাবশালী তারকা। একই সঙ্গে তিনি দুই সন্তানের মা।

মেয়ে স্টর্মি ও ছেলে আইয়ার এখন তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ব্যবসা নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে নিজের প্রতিষ্ঠানগুলো সন্তানদের হাতে তুলে দেওয়ার স্বপ্নের কথাও জানিয়েছেন কাইলি। বিশেষ করে কাইলি কসমেটিকসকে তিনি দীর্ঘস্থায়ী পারিবারিক ব্র্যান্ড হিসেবে দেখতে চান।

ব্যবসায়িক সাফল্য, প্রেম, বিতর্ক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিপুল প্রভাব সব মিলিয়ে ২৯ বছর বয়সেও কাইলি জেনার বিনোদন ও ব্যবসাজগতের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন। তার জন্মদিনের আয়োজন যেন আবারো তারই প্রমাণ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাল লন্ডনে ফিরে যাচ্ছেন ইলিয়াস কাঞ্চন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:২২ পি.এম


কাল লন্ডনে ফিরে যাচ্ছেন ইলিয়াস কাঞ্চন

আগামীকাল ১২ আগস্ট, লন্ডনে ফিরে যাচ্ছেন অভিনেতা এবং নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। ব্রেন টিউমারের পরবর্তী ধাপের চিকিৎসার জন্য তিনি লন্ডনে যাচ্ছেন। বুধবার সকাল ১০টার ফ্লাইটে তিনি ঢাকা ছাড়বেন। এ বিষয়টি জানিয়েছেন তার ছেলে মিরাজুল মইন জয়। এ সময় অভিনেতার সঙ্গে থাকবেন তার স্ত্রী এবং জামাতা আরিফুল ইসলাম কলিন্স। লন্ডনে পৌঁছানোর পর ইলিয়াস কাঞ্চন এক সপ্তাহ বিশ্রামে থাকবেন। এরপর শুরু হবে তার পরবর্তী ধাপের চিকিৎসা। চিকিৎসকেরা প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার পরবর্তী চিকিৎসাপদ্ধতি নির্ধারণ করবেন। জয় জানিয়েছেন, পূর্ব লন্ডনের টেমস নদীতীরবর্তী শহর বার্কিংয়ে তার বোন ইমা ইসলাম থাকেন। এবার লন্ডনে ফিরে সেখানেই উঠবেন ইলিয়াস কাঞ্চন। ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হওয়ার পর তার মেয়ের বাসায় থেকেই চিকিৎসা নেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এবারও মাউন্ট ভার্নন হাসপাতালে তার চিকিৎসা শুরু হবে। গত বছরের আগস্টে লন্ডনের একটি হাসপাতালে ইলিয়াস কাঞ্চনের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকেরা টিউমারের বড় একটি অংশ অপসারণে সক্ষম হলেও ঝুঁকি থাকায় পুরো টিউমার অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। এরপর তাকে দীর্ঘ চিকিৎসার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। টানা তিন মাস কেমোথেরাপির পাশাপাশি ওরাল থেরাপিও নিতে হয়েছে ইলিয়াস কাঞ্চনকে। সপ্তাহে পাঁচ দিন করে ১২ সপ্তাহের চিকিৎসায় তিনি ৬০টির বেশি কেমোথেরাপি নিয়েছেন। পরে প্রথম ধাপের তিন মাসের ওরাল থেরাপি শেষ করে আরও তিন মাসের দ্বিতীয় ধাপের ওরাল থেরাপি নেন। জয় জানিয়েছেন, ইলিয়াস কাঞ্চনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে চিকিৎসকেরা সন্তুষ্ট। চিকিৎসায় টিউমারটি অনেকটাই ছোট হয়ে এসেছে। যেহেতু এখনো টিউমারটি পুরোপুরি অপসারণ করা সম্ভব হয়নি এবং কেমোথেরাপির ধাপও শেষ হয়েছে, তাই এবার নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি শুরু করার কথা ভাবছেন চিকিৎসকেরা। লন্ডনে পৌঁছানোর পর সিটি স্ক্যান, এমআরআইসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। এসব পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করেই পরবর্তী চিকিৎসাপদ্ধতি ঠিক করবেন চিকিৎসকেরা। গত ৩ আগস্ট পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে সময় কাটাতে দেশে ফেরেন ইলিয়াস কাঞ্চন। দেশে ফেরার পর চলচ্চিত্র অভিনেতা আলমগীর, মিশা সওদাগরসহ অনেকেই তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। গত ৭ আগস্ট রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত নিসচার ১১তম মহাসমাবেশে যোগ দেন ইলিয়াস কাঞ্চন। আজ কিশোরগঞ্জে নিজের গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার কথা রয়েছে তার। ৯ আগস্ট রাতে নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘দেশে আসার পর আজ একটু বেশি আরাম বোধ করছি। ঘুমটা খুব ভালো হয়েছে। অনেকেই আসছেন, দেখা করছেন, কথা বলছি, খুব ভালো লাগছে। জীবনের এই পর্যায়ে এসে শুধু একটাই চাওয়া—আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন, যেন দ্রুত চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরতে পারি। আমার দেশে থাকতেই ভালো লাগে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাঁচ তারকা হোটেলে দুই মেয়েকে হত্যার পর বাবার ‘রহস্যময় চিঠি’ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:২২ পি.এম


পাঁচ তারকা হোটেলে দুই মেয়েকে হত্যার পর বাবার ‘রহস্যময় চিঠি’ উদ্ধার

ভারতের বেঙ্গালুরুর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে, এক ব্যক্তি তার দুই শিশুসন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যা করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন।

সোমবার (১০ আগস্ট) দিনেফা, কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটে অবস্থিত ওই পাঁচ তারকা হোটেল থেকে পুলিশ দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত শিশুদের মধ্যে ৫ বছর বয়সী শেখ জোহরা এবং ১০ বছর বয়সী শেখ জোয়া রয়েছে। তাদের ৪০ বছর বয়সী বাবা এস জি ইমরানকে গলা কাটা অবস্থায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, ইমরান উত্তর বেঙ্গালুরুর নাগভারা এলাকার বিলালনগরের একটি বাসিন্দা। তিনি একটি বেসরকারি ক্যাব সংস্থার ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেন। হোটেলের কক্ষ থেকে একটি চিঠি উদ্ধার হয়েছে, যা পুলিশ সন্দেহ করছে যে এটি ইমরান লিখেছিলেন।

চিরকুটে স্ত্রীর পরকীয়া এবং পারিবারিক কলহের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। চিঠিতে লেখা হয়েছে, ‘স্ত্রীর অনৈতিক সম্পর্কের কারণে আমি জীবনে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। তার এই সম্পর্কের যথেষ্ট প্রমাণ আমার কাছে রয়েছে। সে আমাকে গভীরভাবে কষ্ট দিয়েছে, তাই আমি আমার দুই মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছি।’

পুলিশ জানিয়েছে, হোটেল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ইমরান রোববার (৯ আগস্ট) রাতে, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দুই সন্তানকে নিয়ে হোটেলে ওঠেন। তিনি জানিয়েছিলেন যে মধ্যরাতের পর দুবাই থেকে একটি অতিথি আসবে। পরের দিন সোমবার দুপুরে চেক-আউট না করায়, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে হাউসকিপিং কর্মীরা দরজায় নক করেন। সাড়া শব্দ না পেয়ে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মাস্টার কি (ডুপ্লিকেট চাবি) ব্যবহার করে কক্ষটি খোলা হয়।

কক্ষে প্রবেশ করে পুলিশ খাটের পাশে দুই শিশুর নিথর দেহ এবং সোফার পাশে গলায় ক্ষতসহ ইমরানকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। তাদের তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা দুই শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে, ইমরান একটি বেসরকারি হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।

বেঙ্গালুরুর নর্থ-ইস্ট ডিভিশনের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার মিথুন কুমার জি জানান, হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া চিঠি, পারিবারিক বিবাদ এবং পুরো ঘটনার নেপথ্যের কারণ অনুসন্ধান করে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%