০৩:০৫ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই আবারও ভয়াল রূপ ধারণ করেছে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার আড়িয়াল খাঁ নদ। নদীর তীব্র স্রোতে উপজেলার বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের খুনের চর, সাহেবরামপুর, কয়ারিয়া, মোল্লারহাটসহ নদীতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে ব্যাপক নদীভাঙন। প্রতিবছরের মতো এবারও বসতভিটা, ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটছে শত শত পরিবারের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে প্রায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদীভাঙন দেখা দেয়। এতে গড়ে ১০০ থেকে ২০০ পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়। অনেক পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। কেউ স্বজনের বাড়িতে, আবার কেউ ভাড়া বাসায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
সবচেয়ে বেশি ভাঙন দেখা দিয়েছে বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের খুনের চর এলাকায়। এছাড়া মাদারীপুর সদর উপজেলার মহিষের চর এলাকাতেও নদীভাঙন শুরু হয়েছে। নদীর তীব্র স্রোতে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা বিলীন হওয়ায় চরম উদ্বেগে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দা রহিম আলী বলেন, “প্রতি বছর বর্ষা এলেই আমাদের আতঙ্ক শুরু হয়। কখন ঘরবাড়ি নদীতে চলে যায়, সেই ভয় নিয়ে দিন কাটাতে হয়। অনেকেই সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।”
আরেক বাসিন্দা করিম মোল্লা বলেন, “প্রতিবছর জিও ব্যাগ ফেলা হলেও কয়েক দিনের মধ্যেই সেগুলো নদীর স্রোতে কার্যকারিতা হারায়। স্থায়ী নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ছাড়া এই সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান হবে না।”
স্থানীয় গৃহিণী ফুলমতি বেগম বলেন, “আমাদের রাতের ঘুম নেই। নদী একটু একটু করে এগিয়ে আসছে। সন্তানদের নিয়ে সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয়। সরকার যেন দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়, এটাই আমাদের একমাত্র দাবি।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিবছর সাময়িকভাবে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হলেও তা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হচ্ছে না। তাই আড়িয়াল খাঁ নদে দ্রুত একটি স্থায়ী নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফ উল আরেফীন বলেন, নদীভাঙন রোধে সরকারের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি স্থায়ী নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হলে প্রতিবছরের নদীভাঙনের অভিশাপ থেকে রক্ষা পাবে হাজারো মানুষ। সেই সঙ্গে টিকে থাকবে তাদের বসতভিটা, ফসলি জমি ও জীবিকার শেষ সম্বল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেটে প্রতিদিন বাড়ছে হামের মৃত্যুর হার, এ রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৭৯ জন। বিশেষ করে সিলেটে হামে মৃত্যুর সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। সিলেটে নতুন করে হাম উপসর্গে আরো ১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে মৃত্যুবরণকারী ৫ বছর বয়সী শিশু আবু হুরাইরা হবিগঞ্জ জেলার বানিয়চং উপজেলার বাসিন্দা। এনিয়ে সিলেট বিভাগে হামে ও উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৭ জনে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে নতুন করে ল্যাব পরীক্ষায় কারো হাম শনাক্ত হয়নি। এই সময়ে হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরো ৭৯ জন। রোববার (৫ জুলাই) এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মোঃ মাহবুবুল আলম।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মোট ২৭৫ জন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারী থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হামে ও উপসর্গে ৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে একজন ২২ বছর বয়সী নার্স এবং বাকী ৮৬ জন শিশু। এর মধ্যে ৪ জনের হাম নিশ্চিত হলেও বাকীরা উপসর্গে মারা গেছেন।
মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৭ জন সুনামগঞ্জ জেলার, এরপর ৩১ জন সিলেটের, মৌলভীবাজারের ১১ ও হবিগঞ্জের ৮ জন রয়েছেন।
এদিকে সিলেট বিভাগে এখন পর্যন্ত ৪১৮ জন ল্যাব-নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২৩৪ জন সুনামগঞ্জ জেলার, সিলেটের ১৩১, হবিগঞ্জের ৩৭ ও মৌলভীবাজারের ১৬ জন রয়েছেন।
বর্তমানে সিলেট বিভাগে হাসপাতালে ভর্তিকৃত সন্দেহজনক ২৭৫ জন রোগীর মধ্যে- সর্বোচ্চ ১১২ জন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯৪, রাগীব রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতালে ৪, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ১, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ৪, পার্কভিউ মেডিকেল হাসপাতালে ১, সিলেট লায়ন্স হাসপাতালে ৩, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩০, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৮ ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৮ জন ভর্তি রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কের কুঞ্জেরহাট-মনিরাম সড়কের মাঝামাঝি বটতলা এলাকায় একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় এক ট্রাকচালক নিহত হয়েছেন। সোমবার এ দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী জানান, ভোলা থেকে চরফ্যাশনগামী একটি ট্রাক বটতলা এলাকায় পৌঁছালে সামনে থাকা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে রক্ষা করতে গিয়ে চালক হঠাৎ ট্রাকটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। পরে ট্রাকটি সড়কের পাশে উল্টে গেলে চালক গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শুরু করে। এ সময় কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও পরে তা স্বাভাবিক হয়।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিহত ট্রাকচালকের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এতে অন্য কোনো যানবাহনের সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে। নিহতের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, মহাসড়কের ওই অংশে অতিরিক্ত গতিতে যানবাহন চলাচল এবং অসতর্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংয়ের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। তারা ওই এলাকায় কার্যকর সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ