ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আনুষ্ঠানিকভাবে কোরীয় যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব দক্ষিণ কোরিয়ার


আনুষ্ঠানিকভাবে কোরীয় যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব দক্ষিণ কোরিয়ার

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জায়ে-মিউ আনুষ্ঠানিকভাবে কোরীয় যুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। শনিবার (১৫ আগস্ট) জাপানের ঔপনিবেশিক শাসন থেকে কোরিয়ার স্বাধীনতা লাভের বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে লি এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি বলেন, আসুন আমরা একে অপরকে হুমকি দেওয়ার মানসিকতা পরিহার করি এবং এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে সরাসরি সংশ্লিষ্ট পক্ষ হিসেবে আলোচনা শুরু করি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এর ফলে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রক্রিয়া রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা করা সম্ভব হতে পারে।

লি এমন এক সময়ে এই প্রস্তাব দিলেন যখন উত্তর কোরিয়া আসন্ন বার্ষিক যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া যৌথ সামরিক মহড়ার তীব্র নিন্দা করেছে এবং আরও শক্তিশালী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের হুমকি দিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি বলেন, দুই কোরিয়ার মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান প্রতিষ্ঠায় আলোচনার বিকল্প নেই। ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত চলা কোরীয় যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির জন্য উত্তর কোরিয়া ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপ প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: দুই সন্তানকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যা, ওড়না পেঁচিয়ে

কোরীয় যুদ্ধের সক্রিয় সংঘাত ১৯৫৩ সালের ২৭ জুলাই যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে শেষ হয়। কিন্তু দুই পক্ষের মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। ফলে আইনগতভাবে যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি এখনো ঘটেনি। লি অব্যাহতভাবে বলেছেন, এর মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব হতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের বর্তমান অবস্থান গত বছর দেওয়া তার প্রতিশ্রুতির অনুসরণ। ওই সময়ে তিনি উত্তর কোরিয়ার রাজনৈতিক ও শাসনব্যবস্থাকে সম্মান জানিয়ে পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান প্রতিষ্ঠার কথা বলেছিলেন।

তবে বাস্তবে দুই কোরিয়ার মধ্যে টানাপোড়েন বেড়েই চলেছে। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং–উন দুই কোরিয়াকে এক করার নীতি থেকে সরে এসেছেন। দক্ষিণ কোরিয়াকে তিনি উত্তর কোরিয়ার 'সবচেয়ে শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্র' হিসেবে অভিহিত করেছেন। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এছাড়া জুলাই মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার একত্রীকরণ বিষয়ক মন্ত্রী দাবি করেছিলেন যে, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ধ্বংসের জন্য চাপ প্রয়োগের নীতিতে সিউল সরে এসেছে। পরিবর্তে পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক কার্যক্রমের বিস্তার রোধের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

উত্তর কোরিয়ার নেতৃত্ব লি'-এর বারবার দেওয়া প্রস্তাবের বিষয়ে এখনও কোনো সাড়া দেয়নি। বরং তারা রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক জোরদার করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সেনা ও গোলাবারুদ সরবরাহের বিনিময়ে পিয়ংইয়ং মস্কোর কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা, খাদ্য, জ্বালানি ও সামরিক প্রযুক্তি পাচ্ছে।

আরও পড়ুন: ককরোচদের মোকাবিলায় এবার ‘লাল হিট’

এ বছরের শেষের দিকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন রাশিয়া সফর করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্ভবত মস্কোতে আরও অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে আলোচনা করার জন্যই এই সফর হতে পারে। সিউলের প্রধান নিরাপত্তা মিত্র ওয়াশিংটন দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় ২৮,৫০০ সেনা মোতায়েন করে রেখেছে, যাতে পিয়ংইংয়ের সামরিক হুমকি মোকাবেলায় দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা যায়।

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ বাহিনীর কমান্ডের মুখপাত্র কর্নেল রায়ান ডোনাল্ড এই সপ্তাহে বলেছেন, ইউরোপের যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার সেনা মোতায়েনের ফলে কোরিয় উপদ্বীপে তার বাহিনীর সদস্যদের সম্ভাব্য হুমকির ধরন বদলে গেছে।

এদিকে সোমবার শুরু হতে যাওয়া দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের ১১ দিনব্যাপী যৌথ সামরিক মহড়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, তারা সেখানে যেসব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, তা সঙ্গে করে উত্তর কোরিয়ায় নিয়ে এসেছে। তিনি আরও জানান, আমাদের প্রশিক্ষণে সেই হুমকির বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৫০ সালের ২৫ জুন উত্তর কোরিয়ার বাহিনী দক্ষিণ কোরিয়ায় সামরিক অভিযান শুরু করলে কোরীয় যুদ্ধের সূচনা হয়। সোভিয়েত নির্মিত ট্যাংক ও যুদ্ধবিমানসহ উত্তর কোরিয়ার বাহিনী দ্রুত দক্ষিণের দিকে অগ্রসর হয়। মাত্র তিন দিনের মধ্যে তারা দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল দখল করে নেয়। এর পরে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘ বাহিনী দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষে যুদ্ধে অংশ নেয়। দীর্ঘ সংঘাতের পর ১৯৫৩ সালে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। তবে শান্তিচুক্তি না হওয়ায় দুই কোরিয়া এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারেনি।

আরও পড়ুন: ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় সউদী বাহিনীর ১১০ হামলার দাবি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে রিজভী, কুড়িগ্রামে নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:২২ পি.এম


বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে রিজভী, কুড়িগ্রামে নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় আন্দোলন-সংগ্রাম, হামলা-মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাবরণের নানা অধ্যায় পেরিয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে জায়গা করতে সফল হয়েছেন কুড়িগ্রামের সন্তান অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ। রিজভীর স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির খবরটি কুড়িগ্রামে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করেছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদকের সই করা এক চিঠির মাধ্যমে রিজভীসহ চার নেতাকে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য করার তথ্য জানানো হয়েছে। বিএনপির দুঃসময়ে রাজপথে আন্দোলন ও কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে এবং গণমাধ্যমে দলের অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রে রিজভী দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

কুড়িগ্রামের সন্তান রুহুল কবীর রিজভীর রাজনৈতিক কর্মজীবন শুরু হয় ছাত্রজীবন থেকেই। রাজশাহী কলেজে পড়ার সময় ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় হন। পরবর্তীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ছাত্রদলের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতৃত্বেও আসেন তিনি। ১৯৮৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন রিজভী।

পরবর্তী সময়ে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত কুড়িগ্রামের এই সন্তান হামলা-মামলা ও কারাবরণের পাশাপাশি রাজনৈতিক জীবনে নানা সংগ্রামের সম্মুখীন হয়েছেন। ২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশের অভিযানের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন মামলায় কারাগারে থাকতে হয়েছে তাকে। ২০২৩ সালের এপ্রিলে কারামুক্ত হওয়ার আগে তার বিরুদ্ধে থাকা বহু মামলায় জামিনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। কারাগারে থাকা অবস্থাতেও রিজভী রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসেননি এবং বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন।

কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেছেন, ‘কারাগারে থাকাকালে মৃত্যুও যদি হয়—সেই মৃত্যুকেও তিনি তোয়াক্কা করেননি। রাজনীতিতে কোনো অন্যায় চাপের কাছে আপস করেননি, কোনো ভয়-ভীতিকে গুরুত্ব দেননি।' রাজিবপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘রুহুল কবীর রিজভী ভাইয়ের রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই আমরা তার ত্যাগ ও সংগ্রাম দেখেছি। এত হামলা-মামলা, নির্যাতন ও কারাবরণের পরও তিনি দল থেকে বিচ্যুত হননি।’ কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা বলেন, ‘রুহুল কবীর রিজভী শুধু কুড়িগ্রামের নয়, বিএনপির দুঃসময়ের একজন পরীক্ষিত নেতা।’

দলের বিভিন্ন আন্দোলন-কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি দীর্ঘসময় বিএনপির মুখপাত্র হিসেবে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন ও রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছেন রিজভী। দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দপ্তর পরিচালনা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রাপথে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে এবার বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে জায়গা পেলেন রুহুল কবীর রিজভী। কুড়িগ্রামের স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী তাঁর এই অর্জনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছে। তারা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের ত্যাগ, আন্দোলন-সংগ্রাম ও দলের প্রতি আনুগত্যের স্বীকৃতি হিসেবেই স্থায়ী কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন রিজভী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বগুড়া বিমানবন্দর ঘিরে ৩ হাজার কোটি টাকার মহাপরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:২৩ পি.এম


বগুড়া বিমানবন্দর ঘিরে ৩ হাজার কোটি টাকার মহাপরিকল্পনা

বগুড়া বিমানবন্দরকে আধুনিক বাণিজ্যিক বিমানবন্দরে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নেওয়া এ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এর ফলে শুধু বগুড়া নয়, উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকার যোগাযোগ, কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

প্রস্তাবিত উন্নয়ন পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে বিমানবন্দরের বর্তমান চার হাজার ৫০০ ফুট রানওয়ে বাড়িয়ে ১০ হাজার ফুট করা। সহ এটি অন্তর্ভুক্ত আধুনিক যাত্রী টার্মিনাল, নতুন ট্যাক্সিওয়ে ও অ্যাপ্রোন, আন্তর্জাতিক মানের নেভিগেশন ও লাইটিং ব্যবস্থা, উন্নত ড্রেনেজসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বগুড়া বিমানবন্দর চালু হলে উত্তরাঞ্চলের কৃষিপণ্য, মাছ, সবজি, দুগ্ধজাত পণ্য ও বিভিন্ন শিল্পপণ্য দ্রুত দেশের অন্য অঞ্চল এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর ফলে কৃষক ও উদ্যোক্তাদের বাজার সম্প্রসারণসহ রপ্তানি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগও বৃদ্ধি পাবে।

বিমানবন্দরটি চালু হলে বগুড়ার পাশাপাশি জয়পুরহাট, নওগাঁ, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, রংপুর ও দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মানুষ এর সুফল ভোগ করবে। বিশেষ করে কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলে দ্রুত পণ্য পরিবহনের সুযোগ সৃষ্টি হলে উৎপাদক ও ব্যবসায়ীরা কম সময়ে বড় বাজারে তাদের পণ্য পৌঁছাতে সক্ষম হবেন। একইসঙ্গে বিমানবন্দর ঘিরে গড়ে উঠতে পারে লজিস্টিকস, গুদাম, কোল্ড স্টোরেজ, পরিবহন ও অন্যান্য সহায়ক ব্যবসা। ফলে কৃষি ও শিল্প উৎপাদনের পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিমানবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় বগুড়া বিমানবন্দরের রানওয়ে চার হাজার ৫০০ ফুট থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ফুট করা হবে। নির্মাণ করা হবে আধুনিক যাত্রী টার্মিনাল ভবন। এই পরিকল্পনার মধ্যে নতুন ট্যাক্সিওয়ে ও অ্যাপ্রোন, আন্তর্জাতিক মানের নেভিগেশন ও লাইটিং ব্যবস্থা এবং উন্নত ড্রেনেজ অবকাঠামো নির্মাণও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এ ছাড়া বিমানবন্দরের মাস্টারপ্ল্যান, রানওয়ে ও পেভমেন্ট ডিজাইন, টার্মিনাল ভবনের নকশা এবং কারিগরি সহায়তার জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বুয়েট) পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বগুড়া শহর থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সদর উপজেলার এরুলিয়া এলাকায় বিমানবন্দরটির অবস্থান রয়েছে। মূলত এটি একটি কার্গো বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল।

১৯৯১-৯৬ মেয়াদে বগুড়াকে মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিমানবন্দর প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। এরপর ১০৯ দশমিক ৮১ একর জমি অধিগ্রহণ করে রানওয়ে, অফিস ভবন, আবাসিক ভবনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত বিমানবন্দরটি বাণিজ্যিকভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। ২০০৬ সালের ২২ অক্টোবর থেকে এটি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

নতুন উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় ভূ-প্রকৌশল জরিপ, মাটি পরীক্ষা, পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন এবং আর্থিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ করা হবে। এ ছাড়া বিমানবন্দরের সঙ্গে সংযোগ সড়ক, পার্কিং এলাকা এবং অন্যান্য সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়ও পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি বলেছেন, 'বগুড়া বিমানবন্দর শুধু একটি জেলার প্রকল্প নয়, এটি পুরো উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। প্রয়োজনীয় কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আমি আশা করছি, খুব দ্রুত দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে।'

প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'এই বিমানবন্দর চালু হলে উত্তরবঙ্গের কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যাচাই শেষে ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেবে মিয়ানমার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:২৫ পি.এম


যাচাই শেষে ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেবে মিয়ানমার

বাংলাদেশে আশ্রিত ৩ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থী, যারা পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের বাসিন্দা, তাদের যাচাইয়ের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে মিয়ানমারের জান্তা-সমর্থিত সরকার। মিয়ানমার জানিয়েছে, রাজ্যটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে তারা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেবে।

২০১৭ সালের আগস্টে, রাখাইনে একটি রোহিঙ্গা বিদ্রোহী গোষ্ঠী সামরিক বাহিনীর চৌকিতে হামলা করে। এ হামলার প্রেক্ষিতে জান্তা বাহিনী মিয়ানমারে অভিযান শুরু করে, যার ফলে পালিয়ে আসা কয়েক লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

আসোসিয়েট প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবার (১৫ আগস্ট) এই ঘোষণা দিয়েছে। সেই সময়ে রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট নবম বছরে পদার্পণ করেছে।

ওই সামরিক অভিযানের ফলে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে চলে আসে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর একের পর এক সহিংসতায় লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে বহু দশক ধরে বসবাস করে আসছে।

জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন ও গণহত্যার অভিযোগ তোলে, কারণ অভিযানের ব্যাপকতা, সাংগঠনিক রূপ ও নৃশংসতা। বার্মা নামে পরিচিত মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের দেশটির ১৩৫টি বৈধ জাতিগত সংখ্যালঘুর একটি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।

বরং তারা রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উল্লেখ করে বোঝাতে চায় যে, এরা বাংলাদেশের বাসিন্দা এবং মিয়ানমারে বেআইনিভাবে বসতি স্থাপন করেছে।

মিয়ানমার জানিয়েছে, জুলাইয়ের শেষের দিকে বাংলাদেশ কর্তৃক সরবরাহকৃত তালিকায় থাকা ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন শরণার্থীর মধ্যে ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনের তথ্য তারা যাচাই করেছে। যাচাইকৃতদের মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জন রাখাইনের বাসিন্দা হিসাবে নিশ্চিত হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং ৪ হাজার ২৪১ জনকে তথাকথিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাখাইনে নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে যাচাইকৃত বাসিন্দাদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে তারা।

দ্বারা থেকে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার দাবিকে মন্ত্রণালয় প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, ২০১৭ সালের সহিংসতার পর ৫ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এবং ২ লাখেরও বেশি মানুষ উত্তর রাখাইনেই অবস্থান করছে।

তবে ২০২১ সালে সামরিক বাহিনী অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর, মিয়ানমারের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং ব্যাপক সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। এর ফলে শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা সফল হয়নি।

২০২৩ সালে রাখাইন-ভিত্তিক জাতিগত গোষ্ঠী ‘আরাকান আর্মি’ ও সামরিক বাহিনীর মধ্যে নতুন সংঘাত শুরু হয়। এই সংঘাতের ফলে আরো বেশি সংখ্যক শরণার্থী নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশ ও অন্যান্য স্থানে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামরিক বাহিনীর কাছ থেকে বিভিন্ন এলাকা দখলের মাধ্যমে আরাকান আর্মি বর্তমানে রাখাইনের বৃহৎ অংশের নিয়ন্ত্রণ করছে। শরণার্থী শিবিরগুলোর দুরবস্থা, বিদেশি সহায়তা কমে আসা এবং মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার কোন নিরাপদ পথ না থাকায় বেড়ে চলা সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থী ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে জরাজীর্ণ নৌকায় মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করছে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জুলাইয়ের শেষে জানিয়েছিলেন, প্রত্যাবাসন কর্মসূচির অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত ৫,০০০ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সম্মত হয়েছে। তবে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা হান উইন অং এসময় অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) বলেছিলেন, এই প্রত্যাবাসন কর্মসূচিটি শুধুমাত্র মালয়েশিয়ায় আটক কেন্দ্রে থাকা মিয়ানমারের যাচাইকৃত নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য। তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের খবরটি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদিতে আরামকোর নাজরান স্থাপনায় ড্রোন হামলার দাবি হুথিদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:২৬ পি.এম


সৌদিতে আরামকোর নাজরান স্থাপনায় ড্রোন হামলার দাবি হুথিদের

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর নাজরান শহরের একটি স্থাপনায় ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) হুথি-নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনি বার্তা সংস্থা সাবা নিউজ এজেন্সি এক সামরিক সূত্রের বরাতে এই দাবি জানায়। সূত্রটি জানায়, নাজরানে আরামকোর স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে এবং এতে হামলার উদ্দেশ্য অর্জিত হয়েছে। তবে হামলায় স্থাপনাটি বাস্তবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষ বা আরামকোর পক্ষ থেকেও হামলার বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

হুথিদের দাবি, ইয়েমেনের সাদা প্রদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আকাশসীমায় সৌদি সামরিক বিমান প্রবেশ করে ইয়েমেনের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করায় এর জবাবে তারা এই হামলা চালিয়েছে।

এর আগে, বৃহস্পতিবারও সৌদি আরবের জাজান এলাকায় আরামকোর একটি তেল শোধনাগারে দুটি ড্রোন দিয়ে হামলার দাবি করেছিল হুথিরা। ওই হামলার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। হুথিরা সৌদি আরবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা বাড়ানোর পাশাপাশি সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণাও দিয়েছে। এর জবাবে সৌদি আরব ইয়েমেনে হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালাচ্ছে।

সূত্র : আলজাজিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%