প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় আন্দোলন-সংগ্রাম, হামলা-মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাবরণের নানা অধ্যায় পেরিয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে জায়গা করতে সফল হয়েছেন কুড়িগ্রামের সন্তান অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ। রিজভীর স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির খবরটি কুড়িগ্রামে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করেছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদকের সই করা এক চিঠির মাধ্যমে রিজভীসহ চার নেতাকে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য করার তথ্য জানানো হয়েছে। বিএনপির দুঃসময়ে রাজপথে আন্দোলন ও কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে এবং গণমাধ্যমে দলের অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রে রিজভী দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
কুড়িগ্রামের সন্তান রুহুল কবীর রিজভীর রাজনৈতিক কর্মজীবন শুরু হয় ছাত্রজীবন থেকেই। রাজশাহী কলেজে পড়ার সময় ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় হন। পরবর্তীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ছাত্রদলের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতৃত্বেও আসেন তিনি। ১৯৮৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন রিজভী।
পরবর্তী সময়ে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত কুড়িগ্রামের এই সন্তান হামলা-মামলা ও কারাবরণের পাশাপাশি রাজনৈতিক জীবনে নানা সংগ্রামের সম্মুখীন হয়েছেন। ২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশের অভিযানের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন মামলায় কারাগারে থাকতে হয়েছে তাকে। ২০২৩ সালের এপ্রিলে কারামুক্ত হওয়ার আগে তার বিরুদ্ধে থাকা বহু মামলায় জামিনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। কারাগারে থাকা অবস্থাতেও রিজভী রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসেননি এবং বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন।
কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেছেন, ‘কারাগারে থাকাকালে মৃত্যুও যদি হয়—সেই মৃত্যুকেও তিনি তোয়াক্কা করেননি। রাজনীতিতে কোনো অন্যায় চাপের কাছে আপস করেননি, কোনো ভয়-ভীতিকে গুরুত্ব দেননি।' রাজিবপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘রুহুল কবীর রিজভী ভাইয়ের রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই আমরা তার ত্যাগ ও সংগ্রাম দেখেছি। এত হামলা-মামলা, নির্যাতন ও কারাবরণের পরও তিনি দল থেকে বিচ্যুত হননি।’ কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা বলেন, ‘রুহুল কবীর রিজভী শুধু কুড়িগ্রামের নয়, বিএনপির দুঃসময়ের একজন পরীক্ষিত নেতা।’
দলের বিভিন্ন আন্দোলন-কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি দীর্ঘসময় বিএনপির মুখপাত্র হিসেবে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন ও রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছেন রিজভী। দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দপ্তর পরিচালনা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রাপথে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে এবার বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে জায়গা পেলেন রুহুল কবীর রিজভী। কুড়িগ্রামের স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী তাঁর এই অর্জনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছে। তারা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের ত্যাগ, আন্দোলন-সংগ্রাম ও দলের প্রতি আনুগত্যের স্বীকৃতি হিসেবেই স্থায়ী কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন রিজভী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন