পারভিন আক্তার স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ
০৬:৫৬ পি.এম
নারায়ণগঞ্জে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় 'মৌলিক দক্ষতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ'-এর সমাপনী অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে নারায়ণগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ রায়হান কবির উপস্থিত ছিলেন। তিনি তার বক্তৃতায় অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে এই ধরনের দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেন এবং প্রশিক্ষণার্থীদের অর্জিত জ্ঞান ব্যবহার করে স্বাবলম্বী হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানটি জেলা প্রশাসন ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং প্রশিক্ষণার্থীবৃন্দের সম্মিলিত উপস্থিতিতে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে সফলভাবে কোর্স সম্পন্নকারী প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বিতরণ করা হয়।
সম্মেলন কক্ষ, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, নারায়ণগঞ্জ || ৩০ জুন, ২০২৬ খ্রি. মঙ্গলবার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, হাসপাতালগুলোর ওপর ধারাবাহিক হামলা এবং রোগী সরিয়ে নেয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় বহু মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়েছে। এর মধ্যে নতুন করে হামলায় অন্তত পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। পশ্চিম তীরেও ইসরাইলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের নাসের হাসপাতাল বর্তমানে গাজার স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম প্রধান ভরসা হিসেবে কাজ করছে। উত্তর গাজার অধিকাংশ হাসপাতাল ধ্বংসের কারণে আল-মাওয়াসি এলাকা সহ হাজারো রোগীর চিকিৎসা চাপ সামলাতে হচ্ছে এই হাসপাতালকে। তবে চিকিৎসকরা জানান, প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও বিশেষায়িত যন্ত্রপাতির তীব্র সংকট রয়েছে। এর মধ্যেও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সীমিত সহায়তায় ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা চালিয়ে যতোটা সম্ভব চেষ্টা করা হচ্ছে।
গাজায় বর্তমানে মাত্র একটি বিশেষায়িত কার্ডিয়াক মেশিন সচল রয়েছে, যার ফলে হৃদরোগীদের চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
চিকিৎসা সংকট আরো গভীর করেছে চলমান সামরিক অভিযান। হাসপাতালটির কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, ইসরাইলি বাহিনী দুই দফা নাসের হাসপাতালে অভিযান চালিয়েছে। হাসপাতালের চত্বরে আটকে পড়া বহু ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে গণকবর দেয়ার অভিযোগও উঠেছে। উদ্ধারকারী দল মরদেহগুলো উদ্ধার করলেও, অনেক পরিবার স্বজনদের মরদেহ শনাক্ত করতে হিমশিম খাচ্ছে।
অ্যাম্বুলেন্সে গুলিবর্ষণ, আগুন ও যন্ত্রাংশ ধ্বংসের ঘটনায় আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যে জানা গেছে, গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী, প্রায় ২১ হাজার মানুষকে চিকিৎসার জন্য গাজার বাইরে নেয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জরুরি চিকিৎসাপ্রার্থী। তবে এখনও ৭ হাজার ৫শ’রও কম মানুষ গাজা ছাড়তে পেরেছে, যা প্রতিশ্রুতির মাত্র ৩৬ শতাংশ বাস্তবায়ন।
জরুরি চিকিৎসার অনুমোদন পাওয়া হাজারো রোগী এখনও অবরুদ্ধ গাজায় আটকে আছেন। অনেক রোগী যদি সময়মতো চিকিৎসা না পান, তাহলে তাদের প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) ইসরাইলি হামলার ফলে গাজায় শিশুসহ কয়েকজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। খান ইউনিসে একটি তাঁবুতে বিমান হামলায় আরও বেশ কয়েকে হতাহত হয়েছেন।
একই সময় অধিকৃত পশ্চিম তীরেও অভিযান অব্যাহত আছে। এল-বিরেহ শহরে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে ১৫ বছর বয়সি এক কিশোর নিহত হয়েছে। নাবলুসের দক্ষিণে বেইতা শহরে এক ফিলিস্তিনি নিরাপত্তারক্ষীকে মারধর করেছে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা। নতুন বসতি স্থাপনের উদ্যোগ, হেবরনের ইব্রাহিমি মসজিদে নতুন স্থাপনা নির্মাণ এবং বিভিন্ন এলাকায় সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনাও ঘটছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাশিয়ার হামলা থামছে না। তেমনি পাল্টা আঘাত ইউক্রেনও আরও গভীরে নিয়ে যাচ্ছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় একদিনেই ইউক্রেনে নিহত হয়েছে অন্তত আটজন, এবং আহত হয়েছে ৩৫ জন। একই সময়ে, রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় ইউক্রেনের ধারাবাহিক হামলা মস্কোর যুদ্ধ সক্ষমতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলছে। একে অপরকে ছাড় দিতে নারাজ দুই পক্ষই।
ইউক্রেনজুড়ে আবারও বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির তথ্য অনুযায়ী, হামলায় কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। দিনিপ্রো শহরে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন বেশ কয়েকজন। আর জাপোরিঝিয়াতে যে যাত্রীবাহী মিনিবাসে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সুমি অঞ্চলসহ আরও কয়েকটি এলাকায় হতাহতের খবর নিশ্চিত করেছে।
নতুন এই হামলার পর ইউরোপের প্রতি আবারও আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন জেলেনস্কি। বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার জন্য সক্ষম নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন নিয়ে তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।
রাশিয়ার হামলায় আটটি অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এটি দেশের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর অব্যাহত চাপের আরেকটি উদাহরণ।
অন্যদিকে যুদ্ধের গতিকে বদলে দেওয়ার চেষ্টা করছে ইউক্রেনের দীর্ঘ-পাল্লার ড্রোন অভিযান। গত কয়েক সপ্তাহে, রাশিয়ার জ্বালানি, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা পরিচালনা করেছে কিয়েভ। ফলে রাশিয়া এবং অধিকৃত ক্রিমিয়াতে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, এবং সরবরাহ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার অগ্রগতি ধীর হয়ে যাওয়ার পেছনে এসব হামলার প্রভাব বিশ্লেষকরা দেখতে পাচ্ছেন।
তবে পরিস্থিতিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ‘সাময়িক বাধা’ হিসেবেই দেখছেন। ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় জ্বালানি সংকট স্বীকার করলেও, যুদ্ধ থামাতে কোনো ধরনের ছাড়ের ইঙ্গিত তিনি দেননি। ক্রেমলিনও বলছে, রুশ বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং তারা নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে আত্মবিশ্বাসী। তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাশিয়ার অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ এবং জনমনে চাপ বাড়ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জে অভিবাসন প্রত্যাশীদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ নেওয়া এবং বৈধ ও নিরাপদ উপায়ে বিদেশে গমনের উদ্দেশ্যে এক বিশেষ উদ্বুদ্ধকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক, বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোঃ রায়হান কবির।
তিনি তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে অভিবাসন প্রত্যাশীদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা দালালের খপ্পরে না পড়েন এবং সরকারি নিয়মনীতি মেনে, সঠিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ও বৈধ উপায়ে বিদেশে যেতে পারেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, দক্ষ জনশক্তি হিসেবে বিদেশে গেলে একদিকে যেমন নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়, অন্যদিকে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জনাব সিফাত উদ্দিন।
তিনি নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় জেলা প্রশাসন ও জেলা কর্মসংস্থান অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা এবং বিপুল সংখ্যক অভিবাসন প্রত্যাশী উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা প্রত্যেকেই তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় সঠিক যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানান।
সম্মেলন কক্ষ, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, নারায়ণগঞ্জ ||
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বায়োগ্যাস ইমপ্যাক্ট প্রকল্পের আওতায় ২০ লাখ টাকার বেশি সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। রাজশাহীর বাগমারায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এই প্রকল্পের আওতায় উপকারভোগীদের বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থের একটি অংশ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। তদন্তের সময় দেখা গেছে, ৪১০ জন উপকারভোগীর নামে ভুয়া তালিকা তৈরি করে অন্তত ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলনের অভিযোগ সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
দুদকের তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একাধিক সরকারি নথি অনুযায়ী, বাগমারা উপজেলার তৎকালীন যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান তালুকদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে। তদন্তে দেখা যায়, এই কর্মকর্তা প্রকল্পের আওতায় ভুয়া উপকারভোগীদের তালিকা দাখিল করেছেন।
অভিযোগের পর দুদকের নির্দেশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি তদন্ত শেষে বিভিন্ন ইউনিয়নে গিয়ে অনুসন্ধান করে। তারা দেখতে পায়, তালিকায় থাকা অধিকাংশ উপকারভোগীর বাড়িতে সত্যিকার অর্থে কোনো বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়নি এবং অনেকেই জানিয়েছেন, তারা প্রকল্পের সুবিধা পাননি।
যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার অফিস থেকে তদন্তের প্রতিবেদন পরে দুদককে পাঠানো হয়। দুদকের সহকারী পরিচালক (বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত-৩) আন-আমিন ওই প্রতিবেদনে অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। সরকারি নথিতে উল্লেখ করা আছে যে, সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনার কারণে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তারা অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান তালুকদার বলেন, "উপকারভোগীদের তালিকা মূলত ইউনিয়ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা প্রস্তুত করেন। তাদের মাধ্যমেই তালিকাটি চূড়ান্ত করা হয়েছিল। অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় আমি কোনোভাবে জড়িত নই।" তবে তদন্ত কমিটির প্রধান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম ভূঁঞা বলেন, "তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান। তদন্ত শেষ হলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ