ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাশিয়ার হামলা থামছে না, ইউক্রেন পাল্টা আঘাত বাড়াচ্ছে


রাশিয়ার হামলা থামছে না, ইউক্রেন পাল্টা আঘাত বাড়াচ্ছে

রাশিয়ার হামলা থামছে না। তেমনি পাল্টা আঘাত ইউক্রেনও আরও গভীরে নিয়ে যাচ্ছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় একদিনেই ইউক্রেনে নিহত হয়েছে অন্তত আটজন, এবং আহত হয়েছে ৩৫ জন। একই সময়ে, রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় ইউক্রেনের ধারাবাহিক হামলা মস্কোর যুদ্ধ সক্ষমতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলছে। একে অপরকে ছাড় দিতে নারাজ দুই পক্ষই।

ইউক্রেনজুড়ে আবারও বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির তথ্য অনুযায়ী, হামলায় কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। দিনিপ্রো শহরে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন বেশ কয়েকজন। আর জাপোরিঝিয়াতে যে যাত্রীবাহী মিনিবাসে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সুমি অঞ্চলসহ আরও কয়েকটি এলাকায় হতাহতের খবর নিশ্চিত করেছে।

নতুন এই হামলার পর ইউরোপের প্রতি আবারও আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন জেলেনস্কি। বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার জন্য সক্ষম নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন নিয়ে তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: জামায়াতের আইজিপির ক্রসফায়ার বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ

রাশিয়ার হামলায় আটটি অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এটি দেশের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর অব্যাহত চাপের আরেকটি উদাহরণ।

অন্যদিকে যুদ্ধের গতিকে বদলে দেওয়ার চেষ্টা করছে ইউক্রেনের দীর্ঘ-পাল্লার ড্রোন অভিযান। গত কয়েক সপ্তাহে, রাশিয়ার জ্বালানি, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা পরিচালনা করেছে কিয়েভ। ফলে রাশিয়া এবং অধিকৃত ক্রিমিয়াতে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, এবং সরবরাহ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার অগ্রগতি ধীর হয়ে যাওয়ার পেছনে এসব হামলার প্রভাব বিশ্লেষকরা দেখতে পাচ্ছেন।

তবে পরিস্থিতিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ‘সাময়িক বাধা’ হিসেবেই দেখছেন। ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় জ্বালানি সংকট স্বীকার করলেও, যুদ্ধ থামাতে কোনো ধরনের ছাড়ের ইঙ্গিত তিনি দেননি। ক্রেমলিনও বলছে, রুশ বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং তারা নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে আত্মবিশ্বাসী। তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাশিয়ার অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ এবং জনমনে চাপ বাড়ছে।

আরও পড়ুন: ইরানের প্রেসিডেন্ট মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের আহ্বান জানালেন মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারায়ণগঞ্জে অভিবাসন প্রত্যাশীদের প্রশিক্ষণ ও নিরাপদ অভিবাসনে উদ্বুদ্ধকরণ সভা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ নাজির খান নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:০২ পি.এম


নারায়ণগঞ্জে অভিবাসন প্রত্যাশীদের প্রশিক্ষণ ও নিরাপদ অভিবাসনে উদ্বুদ্ধকরণ সভা অনুষ্ঠিত

নারায়ণগঞ্জে অভিবাসন প্রত্যাশীদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ নেওয়া এবং বৈধ ও নিরাপদ উপায়ে বিদেশে গমনের উদ্দেশ্যে এক বিশেষ উদ্বুদ্ধকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক, বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোঃ রায়হান কবির।

তিনি তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে অভিবাসন প্রত্যাশীদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা দালালের খপ্পরে না পড়েন এবং সরকারি নিয়মনীতি মেনে, সঠিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ও বৈধ উপায়ে বিদেশে যেতে পারেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, দক্ষ জনশক্তি হিসেবে বিদেশে গেলে একদিকে যেমন নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়, অন্যদিকে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জনাব সিফাত উদ্দিন।

তিনি নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় জেলা প্রশাসন ও জেলা কর্মসংস্থান অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা এবং বিপুল সংখ্যক অভিবাসন প্রত্যাশী উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা প্রত্যেকেই তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় সঠিক যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানান।

সম্মেলন কক্ষ, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, নারায়ণগঞ্জ ||

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বায়োগ্যাস প্রকল্পে ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে দুদকের তদন্তে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:০৩ পি.এম


বায়োগ্যাস প্রকল্পে ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে দুদকের তদন্তে

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বায়োগ্যাস ইমপ্যাক্ট প্রকল্পের আওতায় ২০ লাখ টাকার বেশি সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। রাজশাহীর বাগমারায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এই প্রকল্পের আওতায় উপকারভোগীদের বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থের একটি অংশ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। তদন্তের সময় দেখা গেছে, ৪১০ জন উপকারভোগীর নামে ভুয়া তালিকা তৈরি করে অন্তত ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলনের অভিযোগ সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

দুদকের তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একাধিক সরকারি নথি অনুযায়ী, বাগমারা উপজেলার তৎকালীন যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান তালুকদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে। তদন্তে দেখা যায়, এই কর্মকর্তা প্রকল্পের আওতায় ভুয়া উপকারভোগীদের তালিকা দাখিল করেছেন।

অভিযোগের পর দুদকের নির্দেশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি তদন্ত শেষে বিভিন্ন ইউনিয়নে গিয়ে অনুসন্ধান করে। তারা দেখতে পায়, তালিকায় থাকা অধিকাংশ উপকারভোগীর বাড়িতে সত্যিকার অর্থে কোনো বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়নি এবং অনেকেই জানিয়েছেন, তারা প্রকল্পের সুবিধা পাননি।

যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার অফিস থেকে তদন্তের প্রতিবেদন পরে দুদককে পাঠানো হয়। দুদকের সহকারী পরিচালক (বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত-৩) আন-আমিন ওই প্রতিবেদনে অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। সরকারি নথিতে উল্লেখ করা আছে যে, সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনার কারণে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তারা অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান তালুকদার বলেন, "উপকারভোগীদের তালিকা মূলত ইউনিয়ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা প্রস্তুত করেন। তাদের মাধ্যমেই তালিকাটি চূড়ান্ত করা হয়েছিল। অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় আমি কোনোভাবে জড়িত নই।" তবে তদন্ত কমিটির প্রধান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম ভূঁঞা বলেন, "তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান। তদন্ত শেষ হলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক-বাহক: রাষ্ট্রপতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:০৪ পি.এম


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক-বাহক: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক এবং বাহক। ফাইল ছবিতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বক্তব্যের বিষয়বস্তু তুলে ধরা হয়। ৩০ জুন, ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বলেন, উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই উচ্চশিক্ষার বিস্তার এবং জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা, উদ্ভাবনে অনন্য ভূমিকা পালন করে আসছে।

আগামীকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আজ নিজের দেওয়া এক বাণীতে এসব বিষয় উল্লেখ করেন। ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যাপীঠের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে জাতির রাজনৈতিক, সামাজিক ও জাতীয় জাগরণ ঘটেছে। এরই ক্রমধারায় অভ্যুদয় ঘটেছে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের।

রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন, দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রাম, ৯ মাসের সশস্ত্র রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবদান অসামান্য ও গৌরবোজ্জ্বল। একই সময়ে দেশের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, মানবিকতা, মুক্তবুদ্ধি চর্চা, শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশে এই বাতিঘরের কীর্তি গভীর ও অবিস্মরণীয়। দক্ষ মানবসম্পদ ও পেশাজীবী তৈরি, চিন্তক ও দূরদর্শী নেতৃত্ব গড়ে তোলা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে জনজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এই জ্ঞানপীঠের অবদান অনন্য এবং সাধারণ।

রাষ্ট্রপতি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, জাতির আশা-আকাক্সক্ষার প্রতীক এই বিশ্ববিদ্যালয়ের এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রতিপাদ্য ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ যথার্থ ও প্রাসঙ্গিক বলে মনে করেন।

তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বের পরিবর্তন দ্রুত হচ্ছে। দেশের উচ্চশিক্ষার পথিকৃৎ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেও বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

ডাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা পাঠ্যসূচিকে যুগোপযোগী ও আধুনিক করতে হবে। রাষ্ট্রপতি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আগামীতেও গৌরবময় ঐতিহ্য ও একাডেমিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখবে এবং জাতীয় জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে জনগণের পাশে থাকবে। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় ইতিবাচক অবদান অব্যাহত রাখবে, এটাই সকলের প্রত্যাশা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যেভাবে আমেরিকার ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তন করছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:০৬ পি.এম


যেভাবে আমেরিকার ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তন করছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট

বর্তমান সময়ে মাঝে মাঝে মনে হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট যেন দেশ পরিচালনার অন্যতম প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়েছে। কেননা, দেশটির নয় সদস্যের এই সর্বোচ্চ আদালতকে বারবার এমন সব বিতর্কিত ও জটিল বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে হচ্ছে, যেগুলো আমেরিকার গভীর রাজনৈতিক বিভাজনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

যে বিষয়গুলো নিয়ে সমাজ ও রাজনীতিতে তীব্র মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে এবং অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো যেগুলোর সমাধান করতে ব্যর্থ হয়েছে, শেষ পর্যন্ত সেগুলোর ভার পড়ছে আদালতের ওপর।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকা। নিজের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছেন এবং প্রায়ই আদালতে পরাজিত হলেও সেই রায়গুলোকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের রাজনৈতিক ঝড়ের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট শুধু আইনি সিদ্ধান্তই দিচ্ছে না; বরং যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক মূল্যবোধ, নির্বাচনব্যবস্থা এবং ক্ষমতার কাঠামোর ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে।

ট্রান্সজেন্ডার অধিকার, নাগরিকত্বের প্রশ্ন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা এবং প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার সীমা- এসব বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত আমেরিকার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক চরিত্রকে প্রভাবিত করতে পারে।

সাধারণ মানুষের চোখে দেশের সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নগুলোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যখন আদালত থেকে আসে, তখন সুপ্রিম কোর্টকে অনেক সময় সরকারের মতোই শক্তিশালী মনে হয়। অথচ প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের ভাষায়, আদালতের ভূমিকা হলো শুধু আইনি ও সাংবিধানিক নিয়মের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দেওয়া- যেন একজন আম্পায়ার খেলার নিয়ম প্রয়োগ করেন।

এই অবস্থার সঙ্গে কংগ্রেসের ভূমিকার বড় পার্থক্য রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে পরিবর্তন আনার বদলে কংগ্রেস হয় অকার্যকর হয়ে পড়েছে, নয়তো নিজেদের ক্ষমতার বড় অংশ হোয়াইট হাউসের হাতে ছেড়ে দিয়েছে।

ট্রাম্পের নীতির কারণে বাড়ছে আদালতের ভূমিকা। ট্রাম্পের ক্ষমতার সীমা পরীক্ষা করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলে সাম্প্রতিক সময়ে সুপ্রিম কোর্টে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ মামলা এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালত এখন শুধু যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ক্ষমতার অবস্থান নির্ধারণ করছে না; বরং সেই ক্ষমতার বণ্টনও নতুনভাবে সাজাচ্ছে।

ইতিহাসে এর আগেও সুপ্রিম কোর্ট রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রে ছিল। দাসপ্রথার সময়, প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাঙ্কলিন রুজভেল্টের ‘নিউ ডিল’ কর্মসূচি নিয়ে বিরোধের সময়ও আদালত তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের মুখে পড়েছিল।

বারাক ওবামার আমলে আদালত সমলিঙ্গ বিবাহ বৈধ ঘোষণা করে একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত দেয়, যা যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক উদারনীতির একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হয়েছিল।

অন্যদিকে ২০২২ সালে গর্ভপাতের সাংবিধানিক অধিকার বাতিলের সিদ্ধান্ত রক্ষণশীল রাজনৈতিক আন্দোলনের জন্য কয়েক দশকের প্রচেষ্টার পর বড় বিজয় হিসেবে বিবেচিত হয়।

কেন দলীয় বিভাজনের বাইরে থাকতে পারছে না সুপ্রিম কোর্ট। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে আদালত আরও বেশি রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে পড়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের অধিকাংশ সিদ্ধান্ত আইনি যুক্তির ভিত্তিতে হলেও সাধারণ মানুষের কাছে অনেক সময় সেগুলো দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয়। এর একটি কারণ হলো বিচারপতিদের মধ্যকার মতপার্থক্য এখন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।

তীব্র ভাষার ভিন্নমত অনেকের কাছে আদালতকে একটি রাজনৈতিক সংঘাতের জায়গা হিসেবে তুলে ধরে। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে অসন্তোষও রয়েছে। তাদের মতে, ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মনোনীত বিচারপতিকে অনুমোদন না দিয়ে রিপাবলিকানরা রাজনৈতিক কৌশল নিয়েছিল, কিন্তু ২০২০ সালে বিচারপতি রুথ বেডার গিন্সবার্গের মৃত্যুর পর ট্রাম্পের মনোনীত বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেটকে দ্রুত অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে ট্রাম্প নিজেও আদালতের সিদ্ধান্তকে প্রায়ই রাজনৈতিকভাবে ব্যাখ্যা করেন এবং তার নিয়োগ করা বিচারপতিরা তার প্রতি আনুগত্য দেখাবেন- এমন ধারণাও বিতর্ক তৈরি করেছে।

প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বাড়ানোর প্রশ্ন। সুপ্রিম কোর্টকে ট্রাম্পের ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক মনে করার আরেকটি কারণ হলো নির্বাহী ক্ষমতা সম্পর্কে আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি।

প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস কর্মজীবনের শুরুতে রোনাল্ড রিগ্যান প্রশাসনে কাজ করেছিলেন, যেখানে শক্তিশালী প্রেসিডেন্ট বা ‘একক নির্বাহী ক্ষমতা’ ধারণা নিয়ে রক্ষণশীল চিন্তাধারা গড়ে উঠেছিল।

২০৩৪ সালে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে চলা ফৌজদারি মামলার এক সিদ্ধান্তে সুপ্রিম কোর্ট সাবেক প্রেসিডেন্টদের সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় নেওয়া কিছু সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ব্যাপক আইনি সুরক্ষা থাকার কথা উল্লেখ করে। এই সিদ্ধান্তকে ট্রাম্পের ক্ষমতার ধারণাকে শক্তিশালী করার উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়।

সোমবার ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) এক কমিশনারকে বরখাস্ত করা নিয়ে মামলায় আদালত ১৯৩৫ সালের একটি পুরোনো নজির বাতিল করে। ওই নজিরের মাধ্যমে কংগ্রেস প্রেসিডেন্টের সরকারি সংস্থার প্রধানদের সরানোর ক্ষমতার ওপর কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছিল।

এই সিদ্ধান্তের ফলে এফটিসি’র মতো স্বাধীন সংস্থাগুলোর ওপর প্রেসিডেন্টের নিয়ন্ত্রণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সমালোচকরা। ট্রাম্প নিজেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই রায়কে ‘গত ১০০ বছরের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ক্ষমতার সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি’ বলে মন্তব্য করেছেন।

কংগ্রেস পিছিয়ে পড়ায় আদালতের গুরুত্ব বেড়েছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রভাব বেড়ার আরেকটি বড় কারণ হলো কংগ্রেসের কার্যকর আইন প্রণয়নে ব্যর্থতা।

অভিবাসন ইস্যুতে সাম্প্রতিক মামলাগুলোর অনেকগুলো হয়তো আদালত পর্যন্ত আসতো না, যদি কংগ্রেস দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারমূলক আইন পাস করতে পারতো। যেমন- যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া ও হাইতির মতো দেশ থেকে আসা কিছু অভিবাসীর যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী থাকার অনুমতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে সিদ্ধান্ত দেয়। একটি পূর্ণাঙ্গ অভিবাসন আইন থাকলে এই জটিলতা আগেই সমাধান হতে পারত।

তবে সুপ্রিম কোর্ট সবসময় ট্রাম্পের নীতির পক্ষে যায়নি। ২০২৫ সালে একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে আদালত জানায়, প্রেসিডেন্ট জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে ইচ্ছামতো শুল্ক আরোপ করতে পারবেন না। এতে ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বড় ধাক্কা খায়।

অন্যদিকে সোমবার আদালত রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির একটি চ্যালেঞ্জও প্রত্যাখ্যান করে। এতে মিসিসিপির এমন একটি আইন বহাল থাকে, যেখানে নির্বাচনের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পৌঁছানো কিছু ব্যালট গণনার সুযোগ রাখা হয়েছে।

আমেরিকার ভবিষ্যৎ ক্ষমতার লড়াই। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কিছু রায় আবার একটি বড় বৈপরীত্য তুলে ধরে। একদিকে সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার পরিধি বাড়াচ্ছে বলে সমালোচনা রয়েছে, অন্যদিকে একই আদালত অনেক ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ওপর সীমাও আরোপ করছে।

নিম্ন আদালতগুলোও ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু সিদ্ধান্ত ধীর করেছে। তবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন আদালতের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার আগেই দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ক্ষমতার পরিধি বাড়াতে সক্ষম হয়েছে।

ভবিষ্যতে কোনও ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট ক্ষমতায় এলে তিনি হয়তো ট্রাম্প আমলের তৈরি নজির ব্যবহার করে নিজের প্রশাসনিক ক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারেন- যদি আদালতের নির্বাহী ক্ষমতা সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গি একই থাকে।

তবে কংগ্রেস যদি নিজেদের সাংবিধানিক ভূমিকা পুনরুদ্ধার না করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রকৃত ক্ষমতা কার হাতে থাকবে- এই প্রশ্নের কেন্দ্রীয় খেলোয়াড় হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকা অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%