০৪:১৪ পি.এম
মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে বাংলাদেশিসহ সাত দেশের ৩১২ জন বিদেশি নাগরিককে বিশেষ দায়রা আদালতে হাজির করা হয় এবং তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়। দেশটির অভিবাসন বিভাগ তাদের আদালতে নিয়ে যায়।
শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জোহরের পেকেনানাস অভিবাসন আটককেন্দ্রে স্থাপিত বিশেষ আদালতে তাদের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়।
জোহর রাজ্য অভিবাসন বিভাগের প্রসিকিউশন কার্যক্রমে সরকারি কৌঁসুলির দপ্তর অংশগ্রহণ করে। আদালতে হাজির হওয়া অভিযুক্তদের বয়স ১৯ থেকে ৫৬ বছরের মধ্যে। তারা বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান ও চীনের নাগরিক।
আরও পড়ুন: কাউনিয়ায় রতন হত্যা: দুই জেলা থেকে ৩ আসামি গ্রেপ্তার
অভিবাসন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৩১২ জনের মধ্যে ১৯৬ জনের বিরুদ্ধে বৈধ পাসপোর্ট বা মালয়েশিয়ায় অবস্থানের অনুমতিপত্র না থাকার অভিযোগে ১৯৫৯/৬৩ সালের অভিবাসন আইনের ৬(১)(সি) ধারায় মামলা করা হয়। আদালতে তারা সবাই নিজেদের দোষ স্বীকার করেন। পরে প্রত্যেককে গ্রেফতারের তারিখ থেকে কার্যকর চার মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
অন্যদিকে, অনুমোদিত সময়ের বেশি মালয়েশিয়ায় অবস্থানের অভিযোগে আরও ১১০ জনের বিরুদ্ধে একই আইনের ১৫(১)(সি) ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়। তারাও আদালতে দোষ স্বীকার করেন। আদালত প্রত্যেককে গ্রেফতারের তারিখ থেকে কার্যকর ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন।
এছাড়া, প্রতিষ্ঠানে অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে ইন্দোনেশিয়ার এক নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইনের ৫৫(১) ধারায় মামলা করা হয়। তিনিও দোষ স্বীকার করলে আদালত তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন।
তবে বৈধ পাসপোর্ট বা অনুমতিপত্র ছাড়া মালয়েশিয়ায় অবস্থানের অভিযোগে একই আইনের ৬(১)(সি) ধারায় অভিযুক্ত বাংলাদেশের ও মিয়ানমারের দুই পুরুষ নাগরিক আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। পরে মামলার প্রয়োজনীয় নথিপত্র হস্তান্তরের জন্য আদালত তাদের মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ আগামী ১৯ নভেম্বর ও ৩ ডিসেম্বর নির্ধারণ করেন।
আরও পড়ুন: তাহসিফ হত্যা মামলায় দিশা রিমান্ড শেষে কারাগারে
আদালতের পুরো কার্যক্রম নির্বিঘ্ন, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ রাখতে জোহর রাজ্য অভিবাসন বিভাগ বা আইন প্রয়োগ শাখার পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়।
জোহর রাজ্য অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, দেশটির অভিবাসন আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান ও আইনি ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। রাজ্যে অবৈধ অভিবাসীদের (পিএটিআই) উপস্থিতি ও তাদের অবৈধ কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
বিভাগটির মতে, এ ধরনের ধারাবাহিক বিচারিক কার্যক্রমের মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি জোহর রাজ্যে অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে তাদের কঠোর অবস্থান প্রতিফলিত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: জামায়াত-এনসিপির দূরত্ব বাড়ার নেপথ্যে নির্বাচনী সিদ্ধান্ত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন