প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চুরির ঘটনাগুলি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগী এবং তাদের স্বজনরা অভিযোগ করছেন, তারা ওয়ার্ড, কেবিন, লিফট এবং বারান্দা থেকে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, নগদ টাকা এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী হারাচ্ছেন। গত এক সপ্তাহের মধ্যে অন্তত সাতটি চুরির ঘটনা ঘটেছে, যা রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ এবং আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
সরেজমিনে তথ্য পাওয়া গেছে, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বাসিন্দা মাসুদ রানা ১৮ জুন অসুস্থ বাবাকে দেখতে হাসপাতালে আসেন। কেবিনের বাইরে কিছু সময়ের জন্য যাওয়ার কারণে এক ব্যক্তি মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়ার কথা বলে কেবিনে প্রবেশ করে তার মানিব্যাগ এবং নগদ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে মাসুদ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
মাসুদ রানা অভিযোগ করেন, ঘটনার পর থানায় জিডি করার পরেও কার্যকর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। একই দিনে আরও দুজন চুরির শিকার হয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেছেন। হাসপাতালের সূত্র জানাচ্ছে, দিনে গড়ে প্রায় দেড় হাজার রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে হাসপাতালে আসেন। অতিরিক্ত রোগীর চাপ এবং মানুষের অবাধ যাতায়াতের কারণে সংঘবদ্ধ একটি চোরচক্র বিভিন্ন ওয়ার্ড ও কেবিনে প্রবেশ করে চুরি ঘটাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চুরির শিকার হওয়া রোগীর স্বজন ফয়সাল জানান, মেডিসিন বিভাগে যাওয়ার সময় যখন তিনি লিফটে ওঠেন, তখন নিচে নেমে এসে দেখতে পান তার মানিব্যাগ নেই। অন্য এক ভুক্তভোগী আমেনা বেগম জানান, রোগীকে দেখতে আসার সময়ে তার হাতে থাকা ব্যাগ এক যুবক ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এর ফলে হাসপাতালে সবসময় আতঙ্ক নিয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ করে জানান, একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটলেও কার্যকর কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার ফলস্বরূপ চোরচক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
এই বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফিরোজ জামান জুয়েল বলেন, চুরি প্রতিরোধের জন্য হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ৫২টি সিসিটিভি ক্যামেরা চলমান আছে। তিনি আরও জানান, আগামী মাসের শুরু থেকে ৩০ জন আনসার সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি রোগী ও স্বজনদের মূল্যবান জিনিসপত্রের বিষয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ করেন।
হাসপাতালে ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় রোগী ও স্বজনরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার এবং চোরচক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন