০৩:৫৩ এম
সংসদে উত্থাপিত গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলে আইনটির মূল উদ্দেশ্যকে অকার্যকর করার অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। আজ শনিবার গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে তিনি এই অভিযোগ করেন।
বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, আইনটি পাস হলে জনগণ গুমের প্রতিকার এবং তথ্য পাবে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তিনি বলেন, মানবাধিকার কমিশন হয়ে যাবে দন্তহীন বাঘ।
বিএনপি সরকার অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ এবং মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ পাস করেনি। পরিবর্তে, গত বৃহস্পতিবার সংসদে নতুন করে আইন দুটি প্রণয়নের জন্য বিল এনেছে। আগের অধ্যাদেশে বলা হয়েছিল, গুমের অভিযোগের তদন্ত করবে মানবাধিকার কমিশন। কিন্তু নতুন আইনের বিলে উল্লেখ করা হয়েছে, কমিশন নয়; আইন শৃঙ্খলাবাহিনী তদন্ত করবে। কমিশন বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত করবে না।
আরও পড়ুন: হাসনাত আবদুল্লাহর ডাক, শাহবাগে গণবিক্ষোভের আয়োজন
এই বিষয়ে আওয়ামী লীগ শাসনামলের উদাহরণ দিয়ে বিরোধী দল বলছে, সরকারের নির্দেশে গুম করে বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থা। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের দিয়ে তদন্ত করলে প্রতিকার মিলবে না। এই অবস্থার মধ্যে আগামীকাল রোববার পালিত হবে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস।
শেখ হাসিনার আমলে দেড় হাজারের বেশি মানুষকে গুমের অভিযোগ তদন্ত করে নিশ্চিত করেছে এই সংক্রান্ত কমিশন। যাদের মধ্যে ২৫১ জনকে তুলে নেওয়ার পর আর সন্ধান মেলেনি। জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এসব গুমের বিচার এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান দাবি করেছেন বিবৃতিতে।
তিনি বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের যন্ত্রণা কতটা দুঃসহ, তা ভুক্তভোগী পরিবার ছাড়া অন্য কারও পক্ষে পুরোপুরি অনুধাবন করা সম্ভব নয়। শেখ হাসিনার শাসনামলে বিরোধী মত ও কণ্ঠরোধ করার ঘৃণ্য উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল ‘আয়নাঘর’-এর মতো গোপন বন্দিশালা। দীর্ঘ ৮ বছরের অবর্ণনীয় বন্দিদশা শেষে আব্দুল্লাহিল আমান আযমী, ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান জামায়াত নেতা হাফেজ জাকির হোসাইন, শিবির আল মোকাদ্দাস ও মোহাম্মদ ওলিউল্লাহ, বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ও সাবেক কমিশনার চৌধুরী আলমসহ বহু নিখোঁজ ব্যক্তি আজও ফিরে আসেননি।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিএনপি সরকার সংসদের প্রথম অধিবেশনে কথা দিয়েছিল, অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শ ও আলোচনায় কার্যকর আইন প্রণয়ন করা হবে। কিন্তু নতুন আইনের বিলে গুমের সংজ্ঞাসহ বিভিন্ন ধারায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হল, গুমের মতো গুরুতর অপরাধ, যা সাধারণত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে সংঘটিত হয়, তা তদন্তে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্তভার তাদের হাতেই তুলে দেওয়া অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত।
আরও পড়ুন: যৌতুকের টাকার জন্য গৃহবধূকে হত্যা, স্বামী-শাশুড়ি পলাতক
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, গুম-সংক্রান্ত তথ্যভাণ্ডার তত্ত্বাবধানের দায়িত্বও সরকারের কাছে রেখেছে। অথচ অধিকাংশ ক্ষেত্রে গুমে ক্ষমতাসীন সরকার সম্পৃক্ত থাকে। গুমের তদন্ত মানবাধিকার কমিশনের মতো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংস্থার হাতে থাকা উচিত, এমন মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, মানবাধিকার কমিশন আইনের বিল যেভাবে প্রণয়ন করেছে, তাতেও কমিশনকে কার্যত একটি দন্তহীন বাঘে পরিণত করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন