০৫:৫১ এম
নেপালে ভয়াবহ বন্যার ফলে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া পরিস্থিতির মধ্যে, নিখোঁজ ও মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে সরকার একটি মানবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া ৬৭৫টি মরদেহের মধ্যে যেগুলোর পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না, সেগুলোর ডিএনএ নমুনা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংরক্ষণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে সেগুলো দাফন বা শেষকৃত্যের আগে সংরক্ষিত থাকে।
এই বৈজ্ঞানিক উদ্যোগটি উদ্ধার হওয়া লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর বা সরকারি ব্যবস্থাপনার প্রক্রিয়া চলাকালীন সময়ে গ্রহণ করা হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। তিনি জানান, যেসব মরদেহের পরিচয় স্বজনেরা শনাক্ত করতে পেরেছেন, সেগুলো ইতিমধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। তবে যেসব লাশ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি, কেবল সেগুলোর জন্য সরকার নিজ দায়িত্বে ব্যবস্থাপনার কাজ হাতে নেবে। পরবর্তী সময়ে শনাক্তকরণের সুবিধার জন্য প্রতিটি মরদেহের ডিএনএসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সকল জৈবিক প্রমাণ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সংরক্ষণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান, যাতে মরদেহ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি সৃষ্টি না হয়।
আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক ২০২৭ এর আবেদন পাঠানোর সময়সীমা বাড়ল
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নেপালের ৮টি প্রধান ক্ষতিগ্রস্ত জেলা—রাসুয়া, ধাদিং, নুয়াকোট, চিতওয়ান, তানাহুন, গোর্খা, নাওয়ালপারাসি পূর্ব এবং নাওয়ালপারাসি পশ্চিমের বিভিন্ন দুর্গম স্থান থেকে মোট ৬৭৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মরদেহগুলো পচন থেকে রক্ষা করতে বিশেষ এয়ারটাইট (বায়ুরোধক) ব্যাগে রাখা হচ্ছে। গোটা প্রক্রিয়াটি নেপালের ‘শনাক্তহীন ও দাবিহীন মরদেহ ব্যবস্থাপনা (প্রথম সংশোধন) নির্দেশিকা, ২০২৬’-এর অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।
প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, গত ২৬ আগস্ট রাসুয়া জেলার ভোটেকোশি নদীতে হঠাৎ ধেয়ে আসা প্রলয়ংকারী বন্যার ফলে ভয়াবহ বিপর্যয় সৃষ্টি হয়। এই প্লাবন রাসুয়া, নুয়াকোট এবং ধাদিং জেলাসহ পুরো নদী অববাহিকায় প্রাণহানি ঘটায় এবং ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে।
বিপর্যয়ের পরপরই নেপাল সরকার সমন্বিতভাবে অনুসন্ধান, উদ্ধার, আহতদের চিকিৎসা, ত্রাণ বণ্টন এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া যোগাযোগব্যবস্থা পুনর্বহালের কাজ জোরদার করেছে। দেশটির ফেডারেল বা কেন্দ্রীয় সরকার, প্রাদেশিক সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সরাসরি সমন্বয় রেখে সরকারি প্রতিটি সংস্থা তাদের পূর্ণ সক্ষমতা নিয়ে মাঠে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বিপন্ন নাগরিকদের জীবন রক্ষা করাকেই সরকারের সবচেয়ে বড় ও প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করে আশ্বাস দেন যে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া এবং পুনর্বাসন দৃশ্যমান না হওয়া পর্যন্ত সরকার ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি মানুষের পাশে থাকবে।
আরও পড়ুন: হেবরনে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা পুরো পশ্চিম তীরের জন্য অত্যন্ত গুরুতর কেন?
সূত্র:
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন