১২:৫০ পি.এম
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সুভাস গ্রামের একটি নির্মাণাধীন চার্চে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। স্থানীয় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের দাবি, একদল ব্যক্তি ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে দিতে চার্চে প্রবেশ করে এবং ক্রস, দরজা ও পিলার ভাঙচুর করে। হামলাকারীরা খ্রিস্টান পরিবারগুলোকে বিভিন্ন ধরনের হুমকিও প্রদান করে।
বিবিসি বাংলার একটি প্রতিবেদনে উল্লিখিত হয়েছে, গত ৫ জুলাই দুপুরে বুড়িবরতলা এলাকার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, হামলাকারীরা তিনটি ক্রস ভেঙে ফেলে এবং নির্মাণাধীন স্থাপনায় ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
স্থানীয় বাসিন্দা শিউলি ভূঁইয়া অভিযোগ করেছেন, হামলাকারীরা খ্রিস্টান পরিবারগুলোর নাম ও ফোন নম্বরের তালিকা দাবি করে। এর পাশাপাশি তারা পানি, বিদ্যুৎ এবং অন্যান্য নাগরিক সুবিধা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেয়। তাদের দাবি ছিল, হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় চার্চ নির্মাণ করা যাতে আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকে। একই সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে ধর্মান্তরের অভিযোগও তোলা হয়।
আরও পড়ুন: সৌদি আরব থেকে ৯ মাসে ২ হাজার মরদেহ, নারী কর্মীরা সন্তানের বাবার পরিচয় জানেন না
আরেক বাসিন্দা বর্ণালি ভূঁইয়া বলেন, হামলাকারীরা দাবি করে যে শাখা-সিঁদুর পরার অধিকার কেবল হিন্দু নারীদের। তিনি বলেন, “আমরা যদি অর্থের বিনিময়ে ধর্মান্তরিত হতাম, তাহলে আজও ঝুপড়ি ঘরে থাকতে হতো না।” তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, হামলাকারীরা চার্চের ক্রস ভেঙে ফেললেও তাদের অনুরোধ কোন গুরুত্ব দেয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, হামলাকারীরা নিজেদের ‘হিন্দু জাগরণ মঞ্চ’ এর কর্মী হিসেবে পরিচয় দেয়। তবে সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক তাপস বারিক বলেছেন, তারা নিশ্চিত নন যে, তাদের কোনো সদস্য ওই ঘটনার সাথে জড়িত ছিল। তবে তিনি জোরপূর্বক বা প্রলোভনের মাধ্যমে ধর্মান্তরের বিরোধিতা করেন।
অন্যদিকে, খ্রিস্টান সংগঠনগুলো এই ধর্মান্তরের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তারা দাবি করেছেন, এ ধরনের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ জানিয়েছে, সম্পত্তি নষ্ট, অনধিকার প্রবেশ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনজনকে আটক করা হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
আরও পড়ুন: দুধের উৎপাদন খরচ ৪৪.৮০ টাকা, বিক্রি ১০০-১১০ টাকায়
এদিকে খ্রিস্টান কল্যাণ সংস্থা বঙ্গীয় খ্রিস্টীয় পরিষেবা দাবি করেছে যে, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক হেরোদ মল্লিক জানিয়েছেন, গত দুই সপ্তাহে পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমানসহ বিভিন্ন এলাকায় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর অন্তত চারটি বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার কারণে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগ বেড়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন