বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০১:০৮ এম
সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে খাল পুনঃখনন প্রকল্পে সাশ্রয় হয়ে দাঁড়ানো ১ কোটি ২ লাখ ৩৫ হাজার ২৪৯ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোমানা আফরোজ।
নির্ধারিত মান বজায় রেখে প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও, প্রাক্কলনের তুলনায় কম ব্যয় হওয়ায় অবশিষ্ট অর্থ সরকারি বিধি অনুসারে ট্রেজারিতে জমা দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ‘অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)’–এর আওতায় চরফ্যাশন উপজেলার সুবল ডাক্তার বাড়ি থেকে সুন্দরী ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৩ দশমিক ৭ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের জন্য ২ কোটি ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময় নির্ধারিত কারিগরি মান এবং সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়েছে। তবে খালের বিভিন্ন অংশে প্রস্থ ও খননের গভীরতা প্রাক্কলনের তুলনায় কম হওয়ায় কাজটি বরাদ্দের পুরো অর্থ ব্যয় না করেই সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।
এই কারণে মোট ১ কোটি ২ লাখ ৩৫ হাজার ২৪৯ টাকা সাশ্রয় হয়েছে, যা সরকারি আর্থিক বিধিমালা অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
চরফ্যাশন উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোমানা আফরোজ জানান, দীর্ঘদিনের অবহেলায় খালটি ভরাট হয়ে কার্যত অকেজো হয়ে পড়েছিল। স্থানীয় মানুষের জলাবদ্ধতা নিরসন, পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সরকারের উদ্যোগে খালটি পুনঃখনন করা হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকারি অর্থের স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবহারের অংশ হিসেবে সাশ্রয় হওয়া প্রতিটি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। সরকারি অর্থের অপচয় রোধ তথা আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে উপজেলা প্রশাসন সবসময় দায়িত্বশীলভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পদ্মার পাড় ভাঙছে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে। ভাঙনের চিত্র দীর্ঘ হচ্ছে চাপ চাপ মাটি ধসে। মুহূর্তের মধ্যে প্রায় ১০০ মিটার এলাকা নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। বুধবার (২৮ জুলাই) দুপুরে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মার মধ্যে চকরাজাপুর ইউনিয়নের চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের উত্তরে কালিদাসখালী এলকায় এই ভাঙন দেখা যায়।
জানা গেছে, চকরাজাপুর ইউনিয়নের ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কালিদাসখালী ও লক্ষীনগর চরের মানুষ ঘরবাড়ি অন্যত্রে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন এবং হুমকির মধ্যে রয়েছে ২০-২৫টি বাড়ি। এ বিষয়ে চকরাজাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বর শহিদুল ইসলাম বলেন, এক সপ্তাহ আগে পদ্মার পানি বাড়তে শুরু করেছে। সেই সাথে ভাঙনও শুরু হয়েছে। এবারের ভাঙনে যে জমিগুলো কবলে পড়েছে, তার অধিকাংশ ছিল আম, মেহগনি গাছ ও বাড়িঘর। এই ওয়ার্ডের মোট ভোটার সংখ্যা এক হাজার ২৬২ জন। পরিবার ছিল চার শতাধিক। তবে নদী ভাঙনের কারণে ইতিমধ্যে প্রায় দেড় শতাধিক পরিবার বিভিন্ন স্থানে চলে গেছে।
৩ নম্বর কালিদাসখালী চরের ও চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা জানিয়েছেন, এক সপ্তাহের মধ্যে অনেকের বাড়ি ও আম বাগান নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। অনেকেই হুমকির মধ্যে রয়েছে। এবারের ভাঙনের ফলে মনে হচ্ছে কালিদাসখালী ও লক্ষীনগর নামে আর কোন চিহ্ন থাকবে না।
চকরাজাপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বর ফজলুল হক জানান, চকরাজাপুর নামে আর কোন চিহ্ন নেই। ইতিমধ্যে বিলিন হয়ে গেছে। এই ওয়ার্ডের তিন ভাগের দুই ভাগ পদ্মা গর্ভে চলে গেছে। বর্তমানে ভাঙন শুরু হয়েছে, এভাবে চলতে থাকলে কিছু দিনের মধ্যে এ ওয়ার্ডও বিলিন হয়ে যাবে।
এদিকে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বর আনোয়ার শিকদার বলেন, কয়েক বছরে আমার প্রায় ৩০ বিঘা জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। এই ওয়ার্ডের কোন চিহ্ন অবশিষ্ট নেই। এ ওয়ার্ডের ৩ শতাধিক পরিবার দুই বছরের মধ্যে অন্যত্র চলে গেছেন। চকরাজাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুল আযম বলেন, প্রতি বছর ভাঙনের কবলে পড়ে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে বর্তমানের ভাঙনের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাম্মী আক্তার বলেন, পদ্মার ভাঙনের খবর পেয়েছি। আমি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন গ্রেপ্তারের পর সাজ্জাদ, ইমন ও রায়হান বাহিনীর পুরো নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে সমন্বিত অভিযান চালানো হচ্ছে, এ তথ্য জানিয়েছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি (অ্যাডমিন অ্যান্ড ফিন্যান্স) মো. নাজিমুল হক।
বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি জানিয়ে বলেন, সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত নিরাপদ রুট ও আশ্রয়স্থলগুলোকে কঠোর নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, রোববার (২৬ জুলাই) রাতের অভিযানে মো. আসিফ (২৫) ও সাইদুল ইসলাম ওরফে আরিফ (২৪) নামে দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঐ দুই ব্যক্তি নিজেদের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের সহযোগী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এবং গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, ডেভিড ইমন ঢাকায় অবস্থান করেছেন। পরে, যশোরের দিকে চলে গেলে বুধবার জেলার ঝিকরগাছায় অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমনসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের ধারণা, তিনি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রাম বিভাগজুড়ে সক্রিয় সন্ত্রাসী চক্রগুলোর বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সাজ্জাদ বাহিনী, ইমন বাহিনী ও রায়হান বাহিনীর সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
তিনি জানান, অপরাধ বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, জঙ্গল সলিমপুর এবং রাউজান-রাঙ্গুনিয়া-ফটিকছড়ি সংলগ্ন পার্বত্য এলাকা দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসীদের চলাচল, অস্ত্র মজুত ও আত্মগোপনের করিডোর হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এসব এলাকাকে এখন বিশেষ নজরদারির আওতায় এনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
মো. নাজিমুল হক বলেন, গত দুই মাসে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ অস্ত্রসহ একাধিক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশও পৃথক অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারে সফল হয়েছে। আলোচিত ধামাই ইলিয়াস ও সর্বশেষ ডেভিড ইমনের গ্রেপ্তার সেই ধারাবাহিক অভিযানেরই অংশ।
তিনি আরও জানান, সন্ত্রাস দমনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়িতে ফেস ডিটেকশন প্রযুক্তিসমৃদ্ধ এআইভিত্তিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, এপিবিএনের চারটি ক্যাম্প নির্মাণ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থায়ী চেকপোস্ট ও রোড ব্লক স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ গ্রেডে বৃত্তিপ্রাপ্ত ৯১ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও শুভেচ্ছা স্মারক সহ বিভিন্ন পুরস্কার তুলে দেওয়া হচ্ছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি মিলনায়তনে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বাশিস) মান্দা উপজেলা শাখার ব্যবস্থাপনায় এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপুর উদ্যোগে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বাশিস মান্দা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক ও প্রধান শিক্ষক সদেরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মকলেছুর রহমান মকে, বিএনপি নেতা নুর বকস মণ্ডল, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি প্রভাষক এমদাদুল হক, উপজেলা মহিলাদলের সহ-সভাপতি লায়লা আঞ্জুমান বানু, প্রধান শিক্ষক আনিছার রহমান, প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিন সরদার, সহকারী প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন, শিক্ষক এনামুল হক, উপজেলা যুবদলের সভাপতি আব্দুল জলিল, সাধারণ সম্পাদক ওবাইদুল হক সহ উপজেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং শিক্ষক-অভিভাবকরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক জেনারেল হাসপাতাল চত্বরে রোপণের উদ্দেশ্যে একগুচ্ছ থাই চেরি ফুলের চারাগাছ দিয়েছেন নওগাঁ পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার পরিচলক দেশবরেণ্য বিশিষ্ট বৃক্ষপ্রেমী মাহমুদুন নবী বেলাল। বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে হাসপাতাল চত্বরে চারাগুলো গ্রহণ করেন ওই হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আবু জর গাফ্ফার। এই সময়ে উপস্থিত ছিলেন অন্যান্যদের মধ্যে নওগাঁ পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি — আসাদুজ্জামান খানওগাঁন চৌধুরী, সদস্য আব্দুল কাইউম, সজিব হোসেন এবং হাসপাতালের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।
ডা. আবু জার গাফফার বলেন, "হাসপাতালের মতো একটি জনাকীর্ণ ও সংবেদনশীল স্থানে এ ধরনের দৃষ্টিনন্দন ফুলের গাছ রোপণ রোগীদের মানসিক প্রশান্তি দেবে। পরিবেশ রক্ষায় ও হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশকে মনোরম করতে এই সবুজ উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।" বৃক্ষপ্রেমী মাহমুদুন নবী বেলাল বলেন, "পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। হাসপাতালে প্রাঙ্গণকে সুশোভিত করতে এবং এখানে আগত সেবাপ্রার্থীদের মনে কিছুটা স্বস্তি দিতেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।" উল্লেখ্য, বৃক্ষপ্রেমী মাহমুদুন নবী বেলাল পরিবেশ রক্ষায় একজন নিবেদিতপ্রাণ মানুষ। তিনি সম্পূর্ণ নিজ নিজ উদ্যোগে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের দু'পাশের প্রায় ৭৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে অসংখ্য তাল বীজ রোপণ করে দেশজুড়ে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। মহাসড়কের পাশে তাঁর রোপণ করা তালগাছগুলো বর্তমানে দৃশ্যমান এবং পরিবেশের শোভা বাড়াচ্ছে। এই অসাধারণ কীর্তির জন্য তিনি এলাকার মানুষ এবং পরিবেশবাদীদের কাছে ‘তাল বেলাল’ নামে বিশেষভাবে পরিচিতি অর্জন করেছেন। এর পাশাপাশি, জেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিনি নিয়মিত ফলজ, বনজ এবং ওষুধি গাছ রোপণ করে আসছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ