বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০১:৪৮ এম
নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক জেনারেল হাসপাতাল চত্বরে রোপণের উদ্দেশ্যে একগুচ্ছ থাই চেরি ফুলের চারাগাছ দিয়েছেন নওগাঁ পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার পরিচলক দেশবরেণ্য বিশিষ্ট বৃক্ষপ্রেমী মাহমুদুন নবী বেলাল। বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে হাসপাতাল চত্বরে চারাগুলো গ্রহণ করেন ওই হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আবু জর গাফ্ফার। এই সময়ে উপস্থিত ছিলেন অন্যান্যদের মধ্যে নওগাঁ পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি — আসাদুজ্জামান খানওগাঁন চৌধুরী, সদস্য আব্দুল কাইউম, সজিব হোসেন এবং হাসপাতালের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।
ডা. আবু জার গাফফার বলেন, "হাসপাতালের মতো একটি জনাকীর্ণ ও সংবেদনশীল স্থানে এ ধরনের দৃষ্টিনন্দন ফুলের গাছ রোপণ রোগীদের মানসিক প্রশান্তি দেবে। পরিবেশ রক্ষায় ও হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশকে মনোরম করতে এই সবুজ উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।" বৃক্ষপ্রেমী মাহমুদুন নবী বেলাল বলেন, "পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। হাসপাতালে প্রাঙ্গণকে সুশোভিত করতে এবং এখানে আগত সেবাপ্রার্থীদের মনে কিছুটা স্বস্তি দিতেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।" উল্লেখ্য, বৃক্ষপ্রেমী মাহমুদুন নবী বেলাল পরিবেশ রক্ষায় একজন নিবেদিতপ্রাণ মানুষ। তিনি সম্পূর্ণ নিজ নিজ উদ্যোগে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের দু'পাশের প্রায় ৭৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে অসংখ্য তাল বীজ রোপণ করে দেশজুড়ে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। মহাসড়কের পাশে তাঁর রোপণ করা তালগাছগুলো বর্তমানে দৃশ্যমান এবং পরিবেশের শোভা বাড়াচ্ছে। এই অসাধারণ কীর্তির জন্য তিনি এলাকার মানুষ এবং পরিবেশবাদীদের কাছে ‘তাল বেলাল’ নামে বিশেষভাবে পরিচিতি অর্জন করেছেন। এর পাশাপাশি, জেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিনি নিয়মিত ফলজ, বনজ এবং ওষুধি গাছ রোপণ করে আসছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণকে সফল ও টেকসই করার জন্য সরকারের নীতিনির্ধারক, অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা জোর দিয়েছেন জ্বালানি নিরাপত্তা, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ এবং নীতিগত ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার ওপর।
এই বিষয়ে বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর নীলক্ষেতে আইসিএমএবি ভবনের রুহুল কুদ্দুস অডিটোরিয়ামে দ্য ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) কর্তৃক আয়োজিত ‘বাংলাদেশের আসন্ন এলডিসি উত্তরণ: টেকসই রূপান্তরের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা’ শীর্ষক কৌশলগত সংলাপে গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। সভাপতিত্ব করেন আইসিএমএবির প্রেসিডেন্ট মো. কাওসার আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, রেডিয়েন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. নাসের শাহরিয়ার জাহেদী এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ও আইসিএমএবির সাবেক প্রেসিডেন্ট মো. আবদুর রহমান খান। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির ডিস্টিংগুইশড ফেলো অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করেছে, তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এই উত্তরণকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করে তোলা। তিনি জানান যে, এলডিসি সুবিধা থেকে বেরিয়ে গেলে রপ্তানি, ওষুধ শিল্প এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। তাই প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কার সম্পন্ন করেই উত্তরণের পথে এগোনো উচিত।
মন্ত্রী আরও জানান, সরকার জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি, এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণ, ব্যাংকিং খাতের ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজীকরণে কাজ করছে। নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য কোম্পানি নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, আমদানি-রপ্তানি নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সেবা দ্রুত এবং সম্পূর্ণ অনলাইনে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী আরো বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের শিল্প খাতের একটি বড় অংশ পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে শিল্প উৎপাদন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আইসিএমএবির সাবেক প্রেসিডেন্ট ও সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, এলডিসি-পরবর্তী সময়ে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে সুশাসন, অবকাঠামো উন্নয়ন, নীতির ধারাবাহিকতা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মানুষের সক্ষমতা ও সম্ভাবনা অসাধারণ; প্রয়োজন শুধু কার্যকর বাস্তবায়ন এবং সঠিক নীতি সহায়তা।
বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, আগামী দিনে শুধু রপ্তানির পরিমাণ বাড়ানো নয়, বরং ভ্যালু অ্যাডিশন বৃদ্ধি এবং দেশে বৈদেশিক মুদ্রার ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করাও হবে মূল চ্যালেঞ্জ। তিনি যোগ করেন, জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি এবং স্বল্পসুদে অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণ করা গেলে পোশাক শিল্পের জন্য অন্তত ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব। এর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ তহবিল আরো সম্প্রসারণের আহ্বান জানান তিনি।
মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা, শুল্ক ও বাণিজ্য সুবিধা হ্রাসের প্রভাব এবং অর্থনৈতিক রূপান্তরের কৌশল নিয়ে বিশদ বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন। তিনি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় নীতি-সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াস মৃধা। আলোচনা সঞ্চালনা করেন আইসিএমএবির সাবেক প্রেসিডেন্ট আরিফ খান, এফসিএমএ। অনুষ্ঠান শেষে আইসিএমএবির সেক্রেটারি মনজুর মো. সাইফুল আজম ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
সংলাপে অংশগ্রহণকারী বক্তারা অভিন্নভাবে মত দেন, এলডিসি উত্তরণ বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হলেও প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে কাঠামোগত সংস্কার, জ্বালানি নিরাপত্তা, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর। তাদের মতামত, তাড়াহুড়া নয়—সুশৃঙ্খল, পরিকল্পিত ও টেকসই প্রস্তুতির মাধ্যমেই বাংলাদেশ এলডিসি-পরবর্তী বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট থানার মানিকদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ চার শিশুকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের সঙ্গে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং দুই রাউন্ড গুলি পাওয়া গেছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য সম্পর্কিত জানালে পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতের মানিকদী আমতলা এলাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার একটি ঘটনার তদন্তের প্রেক্ষিতে চার শিশুকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে।
পুলিশের হেফাজতে নেওয়ার পর তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী একটি বাসার ছাদের ইটের স্তূপের মধ্যে বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, পার্টি করার সময় অস্ত্রটি দেখানোর সময় অসাবধানতাবশত গুলি ছুটে একজন গুলিবিদ্ধ হন। তাছাড়া, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্রটি ব্যবহার করে কিশোর গ্যাং-এর বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যক্রমে জড়িত ছিল।
এ ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানায় অস্ত্র আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইনসঙ্গতভাবে সংঘাতে অংশগ্রহণকারী শিশুদের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ সামরিক হামলার পর সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
ইরাকে ইরান–সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর একাধিক ঘাঁটিতে ব্যাপক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রিন্স খালিদের গত সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাওয়ার কথা ছিল। তবে সফরটি পিছিয়ে দেয়ার জন্য পরিস্থিতি ছিল। ওয়াশিংটনে তিনি সংক্ষিপ্ত সময় অবস্থান করেন এবং বৈঠক শেষে ভ্যান্সের সঙ্গে আলোচনা করার পর দেশে ত্যাগ করেন।
সূত্রগুলোর মতে, বৈঠকে ভ্যান্স ও প্রিন্স খালিদ যৌথ হামলা, সৌদি অবকাঠামোর ওপর হামলার জবাব এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। এছাড়া সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের একটি বার্তা তিনি ব্যক্তিগতভাবে ভ্যান্সের কাছে পৌঁছে দেন। আরেকটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, চলমান যুদ্ধ নিয়ে সৌদি আরবের অবস্থান তুলে ধরাই ছিল এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য।
সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, সৌদি আরবের মূল্যায়ন হলো—ইরান উত্তেজনা বাড়িয়ে কৌশলগত সুবিধা অর্জনের চেষ্টা করবে এবং এ জন্য ইরাকের ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া ও ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীকে ব্যবহার করবার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হবে।
সৌদি আরবের মতে, হুতি ও ইরাকি মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে তাদের সামরিক প্রতিক্রিয়ার উদ্দেশ্য ছিল বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলাকে ‘লাল রেখা’ হিসেবে স্পষ্ট করা, যার জবাব অবশ্যই দেয়া হবে। কিন্তু একই সঙ্গে রিয়াদ এখনও উত্তেজনা কমিয়ে আনার পক্ষেই রয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের বার্তা ছিল, এটি ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর যুদ্ধ নয় এবং তাদের এই সংঘাতে জড়ানো উচিত নয়।
রয়টার্স ও আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ হামলায় পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) নামের গোষ্ঠীটির অন্তত ২০ জন যোদ্ধা নিহত ও ৩০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। একই সময়ে জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে আকস্মিক হামলা চালিয়েছে ইরান। এ হামলার জন্য ইরানকে ‘চড়া মূল্য’ দিতে হবে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন।
এদিকে বুধবার রাতে মিশরের দামিয়েত্তা বন্দরের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনালে একটি গ্যাস সংরক্ষণ ট্যাংকারে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। ফলে জাহাজে আগুন লাগে এবং পরে সেই আগুন পাশের আরেকটি গ্যাসবাহী জাহাজেও ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান অ্যামব্রে জানিয়েছে, বুধবার (২৯ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন ভাসমান গ্যাস সংরক্ষণ ট্যাংকার এনারগোস উইন্টার-এ একটি ড্রোন আঘাত হানে। হামলার পর জাহাজে আগুন লাগে এবং তা পরে গ্যাসলগ সালেম নামের আরেকটি জাহাজে ছড়িয়েও পড়ে।
বন্দরসেবা প্রতিষ্ঠান ইঞ্চকেপ পৃথক এক বার্তায় জানিয়েছে, দামিয়েত্তা বন্দরে দুটি গ্যাসবাহী ট্যাংকারে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে। একই সাথে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীও সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার চেষ্টা চালিয়েছে। তবে এর আগে মিশর ইরান-সংশ্লিষ্ট কোনো ড্রোন হামলার শিকার হয়নি বলে জানা গেছে।
তথ্যসূত্র: সিএনএন, আল জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মিশরের দামিয়েত্তা বন্দরের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনালে ঘটে যাওয়া একটি গ্যাস সংরক্ষণ ট্যাংকারে ড্রোন হামলার ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে। এতে জাহাজে আগুন ধরে যায় এবং পরে সেই আগুন পাশের একটি গ্যাসবাহী জাহাজে ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ ঘটনার ফলে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান অ্যামব্রে জানিয়েছে, বুধবার (২৯ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন ভাসমান গ্যাস সংরক্ষণ ট্যাংকার এনারগোস উইন্টার-এ এক ড্রোন হামলা ঘটে। হামলার পর জাহাজে আগুন লাগে এবং তা পরে গ্যাসলগ সালেম নামের আরেকটি জাহাজে ছড়িয়ে পড়ে।
বন্দরসেবা প্রতিষ্ঠান ইঞ্চকেপ একটি পৃথক বার্তায় জানায়, দামিয়েত্তা বন্দরে দুটি গ্যাসবাহী ট্যাংকারে এই আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনার সঙ্গে পরিচিত তিনটি সূত্র জানিয়েছে, ড্রোন হামলায় এনারগোস উইন্টারে আগুন লাগার পর তা পাশের জাহাজে ছড়িয়ে পড়ে। দুটি নিরাপত্তা সূত্রও বিস্ফোরণের কারণ হিসেবে ড্রোন হামলার কথা নিশ্চিত করেছে।
অ্যামব্রের তথ্য অনুযায়ী, হামলার পরপরই জাহাজের সকল নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এখনও কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
মিশরের পেট্রোলিয়াম ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতিতে জানায়, দামিয়েত্তা বন্দরে এক টাগবোট ও এক গ্যাস সংরক্ষণ জাহাজে আগুন লাগার ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
মন্ত্রণালয় এক ফেসবুক পোস্টে জানিয়ে দেয়, 'জরুরি পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে থাকা অগ্নিনির্বাপণ ও নিরাপত্তা দল দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।' তবে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র বিভিন্ন আরব দেশের দিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একইসঙ্গে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীও সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তবে এর আগে মিশর ইরান-সংশ্লিষ্ট কোনো ড্রোন হামলার শিকার হয়নি বলেই জানা গেছে।
এদিকে পাল্টাপাল্টি হামলায় নতুন মোড় নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটিতে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ে ইরান। একইসঙ্গে ইরানে সমর্থিত গোষ্ঠীর ড্রোন হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব পূর্ব ইরাকে একাধিক অস্ত্রভাণ্ডার ও সরবরাহ কেন্দ্রে যৌথ হামলা চালায়।
মার্কিন সামরিক বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর কঠোর জবাব দেয়ার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেয়া টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তেহরানকে এর জন্য চরম মাশুল গুনতে হবে।
অন্যদিকে সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছে তেহরান। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বুশেহর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্পূর্ণ অচল হয়ে গেছে। এছাড়া একটি সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার, ১২টি সেতু, দুটি সুড়ঙ্গ, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ও মাছ ধরার নৌকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি সতর্ক করে বলেছেন, যদি কোনো দেশ বা কোম্পানি উপসাগরে ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ইরানের জব্দ করা অর্থ গ্রহণ করে, তবে তাদের হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। সেইসঙ্গে ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজের ক্ষতিপূরণ ইরানের জব্দ করা তহবিল থেকে দেয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ