০৭:০৯ পি.এম
দেশের শিশু-কিশোর এবং তরুণ সমাজকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ, শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং কর্মক্ষম নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিরক্ষা এবং ক্রীড়ার জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে ন্যূনতম ৮ বিঘা জমি চিহ্নিত করে খেলার মাঠ সংস্কার, উন্নয়ন বা প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাপন, খেলার স্থান সংকোচন এবং অতি-নগরায়ণের ফলে মাঠভিত্তিক ক্রীড়া কার্যক্রম ক্রমশ সীমিত হয়ে পড়ছে।
এর ফলে, শিশু-কিশোরদের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি মাদকাসক্তি, অপরাধপ্রবণতা ও সামাজিক অবক্ষয়ের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া চর্চার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকার এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আরও পড়ুন: সন্ত্রাস, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির আতঙ্ক থেকে নারায়ণগঞ্জবাসীকে মুক্ত করতে হবে- এবিএম সিরাজুল মামুন।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, খেলাধুলার সার্বিক বিকাশের জন্য পর্যাপ্ত মাঠ তৈরি করা জরুরি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে ইতোমধ্যে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন প্রতিমন্ত্রী নিজেই। এই কমিটিতে স্থানীয় সরকার ও গৃহায়ণ প্রতিমন্ত্রী সহ ১২ জন সচিব রয়েছেন। তাদের তত্ত্বাবধানে ঢাকাসহ সারা দেশে মাঠ সংরক্ষণ, সংস্কার এবং নতুন খেলার মাঠ নির্মাণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তিনি আরো জানান, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রতিটি সংসদ সদস্যকে নিজ নিজ এলাকায় অন্তত ৮ বিঘা জমি নির্ধারণের জন্য আধা-সরকারি পত্র (ডিও লেটার) দেওয়া হয়েছে। আন্ত মন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ হিসেবে চিহ্নিত করে সংস্কারের প্রস্তাব পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তাদের নির্বাচনী এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়ার মাধ্যমে এই কার্যক্রমে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে ভূমি একটি সীমিত জাতীয় সম্পদ, তাই সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যেসব ইউনিয়নে বর্তমানে কোনো বিদ্যমাণ খেলার মাঠ নেই, সেখানে মাঠ প্রতিষ্ঠার জন্য কৃষি জমি বিপন্ন করা যাবে না। কৃষি জমি রক্ষা করে ইউনিয়নের অধিভুক্ত এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে সরকারি খাসজমি থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ৮ বিঘা জমি চিহ্নিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে জানান, তৃণমূলের এই উদ্যোগের পাশাপাশি আগামী অর্থবছরে দেশের আটটি বিভাগ এবং ফরিদপুর ও কুমিল্লাসহ মোট ১০টি অঞ্চলে আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ করা হবে। এই স্পোর্টস ভিলেজগুলিতে ইনডোর স্টেডিয়াম, সুইমিং পুল, আর্চারি, শুটিং এবং ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলার আধুনিক সুবিধা থাকবে।
আরও পড়ুন: নীলফামারীতে জেলা জামায়াতের রোকন সম্মেলনে
শিশু-কিশোরদের মানসম্মত শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সরকার ইতোমধ্যে 'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস' কর্মসূচি চালু করেছে এবং চতুর্থ শ্রেণি থেকে পাঠ্যক্রমে ক্রীড়া শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের এই ক্রীড়াবান্ধব নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে খেলার মাঠ এবং আধুনিক স্পোর্টস ভিলেজগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই সমন্বিত উদ্যোগ সফল হলে স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি তৃণমূল থেকে প্রতিভা অন্বেষণ সহজ হবে, যা ভবিষ্যতে একটি স্বাস্থ্যবান, সুশৃঙ্খল ও উৎপাদনশীল জাতি গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন