বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৫১ পি.এম
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে গতিশীল ও আধুনিক করার লক্ষ্যে পাঁচটি নতুন কনটেইনার ক্যারিয়ার ট্রাক উদ্বোধন করেছেন সংস্থাটির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) গাবতলীর প্রস্তাবিত কাঁচাবাজারে ডিএনসিসির পরিবহন ডিপোতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এই ক্যারিয়ার ট্রাকের উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে ডিএনসিসি প্রশাসক উল্লেখ করেন, অতি বৃষ্টিপাতের কারণে বর্তমানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কোথাও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে না। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সংস্কার কার্যক্রম চলমান থাকার ফলে এবং কার্যকরী পদক্ষেপ বাস্তবায়নের কারণে এই সমস্যার সমাধান হয়েছে। তিনি বলেন, "এক্ষেত্রে আমরা প্রায় সফলতা অর্জন করেছি।"
তিনি আরও জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বাসাবাড়ির বর্জ্য দ্রুত অপসারণের জন্য এসটিএস এর মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক করার উদ্দেশ্যে ৫টি ক্যারিয়ার ট্রাক উদ্বোধন করা হয়েছে। এছাড়াও, আগামীতে আরও ১০টি কনটেইনার ক্যারিয়ার ট্রাক যুক্ত করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও সহজ এবং দ্রুততার সঙ্গে বর্জ্য অপসারণের মাধ্যমে নগরবাসীকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শহর উপহার দেওয়ার জন্য ডিএনসিসি সর্বদা সচেষ্ট এবং দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে জানিয়ে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, প্রতিদিন ১৮০-২০০টি গাড়ির মাধ্যমে ঢাকা শহরের চার হাজার টন বর্জ্য অপসারণ করছে ডিএনসিসি।
তিনি বলেন, নগরবাসীকে আরও উন্নত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে গৃহীত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আজ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগে নতুন পাঁচটি কনটেইনার ক্যারিয়ার ট্রাক যোগ করা হলো। এই গাড়িগুলোর মাধ্যমে সহজে ও দ্রুত সময়ের মধ্যে ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করে নগরবাসীকে স্বস্তি দেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া এক স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সাড়ে ৭টার দিকে রামু উপজেলার বাঁকখালী নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত মো. শাহীন (১৫) রাজারকুল ইউনিয়নের সিকদারপাড়া এলাকার প্রবাসী নুরুল আমিনের ছেলে এবং মনসুর আলী সিকদার আইডিয়্যাল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, বুধবার বিকেলে বাদামতলী মাঠে কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে ফুটবল খেলছিল শাহীন। খেলা শেষ হওয়ার পর শাহীন এবং তার তিন বন্ধু পাশের বাঁকখালী নদীতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে শাহীন পানির নিচে তলিয়ে যায়। স্থানীয়রা নদীতে নেমে দীর্ঘ সময় ধরে তার খোঁজ করতে থাকে, কিন্তু শাহীনের সন্ধান পায়নি। খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। পরে আজ সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
রাজারকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুফিজুর রহমান জানান, চট্টগ্রাম থেকে আসা ডুবুরি দল সকালে মরদেহটি উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে রামু ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের স্টেশন অফিসার আব্দুল কাদের চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, প্রথমে রামু ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার তৎপরতা চালান। তবে টিমে ডুবুরি না থাকায় চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ থেকে একটি ডুবুরি দলকে আনা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার ভেকিনগরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রয়েল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে যাওয়ার ঘটনায় অন্তত ২৫ যাত্রী আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ভোরের দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ভেকিনগর এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
দাউদকান্দি হাইওয়ে পুলিশ জানায়, ঢাকাগামী রয়েল পরিবহনের বাসটি একটি আটোরিকশাকে বাঁচাতে গিয়ে ব্রেক করলে সঙ্গে সঙ্গে মহাসড়কের মাঝখানে উল্টে যায়। এতে বাসে থাকা ৪৮ জন যাত্রী আটকে পড়েন। যাত্রীদের চিৎকার শুনে এলাকাবাসী এগিয়ে এসে হাইওয়ে পুলিশ ও দাউদকান্দি ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আটকে পড়া যাত্রীদের গাড়ির ভেতর থেকে বের করে আনতে সক্ষম হয়।
আহত ২৫ জন যাত্রীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গৌরীপুর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। তাঁদের মধ্যে মারাত্মকভাবে আহত তিনজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর চান্দিনা উপজেলার মাধাইয়া থেকে রায়পুর পর্যন্ত দীর্ঘ আট কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে বাসটি মহাসড়ক থেকে সরিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
দাউদকান্দি হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রেমদাস রায় জানান, বাসটি সড়কের মাঝপথে উল্টে গেলেও যাত্রীদের তেমন ক্ষতি হয়নি।
আহতদের হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনজন গুরুতর আহত হওয়ায় তাঁদের ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। বাসটি উদ্ধার করে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘নেশামুক্ত ভারত-২০২৯’ প্রকল্পের আওতায় কলকাতায় প্রায় ৩১ কোটি রুপি মূল্যের ৩ লাখ ১০ হাজার ফেনসিডিলের বোতল ধ্বংস করা হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) কলকাতার নিউটাউনের ইকোপার্ক চত্বরে রোড রোলার চালিয়ে ফেনসিডিলগুলো ধ্বংস করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
রাজ্য পুলিশ, সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এবং পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স (এসটিএফ) সহ বিভিন্ন সংস্থার অভিযানের মাধ্যমে এসব ফেনসিডিল জব্দ করা হয়। অনুষ্ঠানে রাজ্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট এই ধ্বংস কার্যক্রমের আয়োজন করে ‘নেশামুক্ত ভারত-২০২৯’ কর্মসূচির আওতায়।
কলকাতার নিউটাউনের ইকোপার্কে ‘নেশামুক্তি’ কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অংশগ্রহণ করেন। সেখানে কলকাতা পুলিশের জব্দ করা ৩ লাখ ১০ হাজার বোতল নিষিদ্ধ কফ সিরাপ রাখা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই রোড রোলারের চালকের আসনে বসে সেগুলো ধ্বংস করেন।
এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে প্রায় ২ লাখ বোতল ফেনসিডিল ধ্বংস করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ছিল ২০ কোটি রুপি। সেখানেও সুকান্ত মজুমদারকে সঙ্গে নিয়ে বালুরঘাট পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে রোড রোলার চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ ফেনসিডিল ধ্বংস করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ‘পশ্চিমবঙ্গে নিষিদ্ধ কাশির সিরাপের ব্যবসা চলতে দেওয়া হবে না।’ তিনি সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রাখার কথা বলেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তরুণ সমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করা এবং রাজ্যকে মাদকমুক্ত করার উদ্দেশ্যে এই ধরনের অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, ‘এটি নেশামুক্তি অভিযানের দ্বিতীয় বড় কর্মসূচি। কেন্দ্রের নেশামুক্ত ভারত অভিযান পশ্চিমবঙ্গের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি দাবি করেন, মাদকের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কারণে নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অবৈধ মাদকের কারণে অনেক পরিবারও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মাদকমুক্তির বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই অভিযানে বিএসএফ ও পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থা একসঙ্গে কাজ করছে। এর আগে বালুরঘাটেও একই ধরনের অভিযান চালানো হয়েছে।’
শুভেন্দু বলেন, ‘কলকাতায় এই অভিযানের মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেওয়া হয়েছে। কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য পুলিশ যৌথভাবে প্রতিদিন মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে।’ পুলিশ কর্মকর্তা জাভেদ শামিমের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘ইয়াবা উদ্ধারের ক্ষেত্রেও বড় সাফল্য এসেছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে মাদারীপুরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শুরু হয়েছে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার।
এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও এর আশপাশ নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কোথাও যাতে পানি জমে মশার প্রজননস্থল তৈরি না হয়, সেদিকেও সতর্ক নজর দিতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৭২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে। পাশাপাশি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফজলে এলাহী বলেন, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখতে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ডেঙ্গুর প্রজননস্থলমুক্ত রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জুয়েল আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফজলে এলাহীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ