০৪:৫৮ পি.এম
শিশু ছেলেকে হত্যার দায়ে টাঙ্গাইলের বিশেষ ট্রাইবুন্যাল-১ এর বিচারক হাফিজুর রহমান সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে মাতৃস্বরূপ আয়না বেগমকে ১৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। এই রায়টি গত ২৯ জুন, ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে।
দণ্ডিত ওই মায়ের নাম আয়না বেগম (২৪)। তিনি টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার শিবপুর চন্দনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জহিরুল ইসলামের স্ত্রী এবং দেলদুয়ার উপজেলা লাউহাটী মধ্যপাড়া গ্রামের আমিনুল ইসলামের সন্তান।
আদালতের পক্ষ থেকে রায়ে দণ্ডিত আয়না বেগমকে তাঁর শিশু পুত্র হত্যার দায়ে ১০ বছর এবং মরদেহ গুম করার অভিযোগে ৩ বছরসহ মোট ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, তাকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: শ্যামনগর সীমান্তে ৭৮ লাখ টাকার হেরোইন তৈরির কাঁচামাল জব্দ করেছে বিজিবি
টাঙ্গাইলের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) শফিকুল ইসলাম রিপন জানালেন, আয়না বেগম সন্তানের জন্মের পর নিজের বাবার বাড়িতে, লাউহাটী মধ্যপাড়া গ্রামে অবস্থান করছিলেন। বিগত ২০২০ সালের ৩০ আগস্ট সকাল ১১টার দিকে আয়না বেগমের স্বামী জহিরুল ইসলাম জানতে পারেন, তাঁর ১৮ দিন বয়সী শিশুপুত্রকে পাওয়া যাচ্ছে না। এই খবর জানার পর তিনি শশুড়বাড়িতে যান। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে শ্বশুরবাড়ির পাশে খালের পানিতে তিনি ছেলের মৃতদেহ দেখতে পান।
পুলিশ পরে খবর পেয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে জানা যায়, ১৮ দিনের শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। পরে জহিরুল ইসলাম তার স্ত্রী আয়না বেগমের বিরুদ্ধে দেলদুয়ার থানায় হত্যা মামলার অভিযোগ দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে দেলদুয়ার থানার এসআই মনোয়ার হোসেন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। মামলাটির বিচার কাজ ২০২০ সালের ১৫ ডিসেম্বর অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে শুরু হয়।
আরও পড়ুন: ঝালকাঠির রাজাপুরে ইজিবাইক উল্টে ১০ বছরের শিশুর মৃত্যু, আহত মা ও চালক
মামলার সাক্ষ্য হিসেবে ৯ জনের স্বাক্ষ গ্রহণ শেষে এই রায় প্রদান করা হয়। রায় ঘোষণার পর আয়না বেগমকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন