০১:৪৫ পি.এম
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে জমা হওয়া সোনা, রুপা এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওজন নির্ধারণ ও গণনার কার্যক্রম ছয় বছর পর শুরু হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ট্রেজারিতে ৯টি মাঝারি আকারের জার এবং ৬টি সিলগালাকৃত খাম খুলে গণনার কাজ শুরু করা হয়।
দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীরা পাগলা মসজিদে নগদ টাকার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ-রুপার গয়না এবং বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা দান করেন। দানবাক্স খোলার পর এসব মূল্যবান সামগ্রী সিলগালা করে জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে সংরক্ষণ করা হয়। বর্তমানে সেগুলো খুলে ক্যারেট অনুযায়ী স্বর্ণ ও রুপা পৃথক করে ওজন নির্ধারণ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে বাজারমূল্য নির্ধারণ সাপেক্ষে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিলামে বিক্রি করা হবে। বৈদেশিক মুদ্রাগুলো দেশভিত্তিক আলাদা করে বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ বিনিময় হার অনুযায়ী নগদায়ন করা হবে।
জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, সর্বশেষ ২০২০ সালের ১১ মার্চ পাগলা মসজিদের দানবাক্সে পাওয়া সোনা, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রা গণনা করা হয়েছিল। সে সময় ৪১৫ ভরি ১ আনা স্বর্ণ এবং ১৮৪ ভরি রুপা নিলামে বিক্রি করে ১ কোটি ১৫ লাখ ৪ হাজার ৯০০ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা নগদায়ন করে ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৫১ টাকা পাওয়া গিয়েছিল।
আরও পড়ুন: জাতীয় নিরাপত্তা সড়ক দিবস ২০২৬ পালিত হল জেলা প্রশাসন কার্যালয়।
তিনি আরও জানান, ২০২০ সালের ১১ মার্চের পর থেকে মোট ১৮ বার দানবাক্স খোলা হয়েছে, যার মধ্যে সর্বশেষ গত ২৭ জুন দানবাক্স খোলা হয়েছিল। বর্তমানে পাগলা মসজিদের মূল তহবিলে জমা রয়েছে ১৩১ কোটি ৮৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮১০ টাকা। মসজিদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে এ পর্যন্ত অনুদান হিসেবে এসেছে ৩৯ লাখ ৩২ হাজার ৯০৬ টাকা।
জেলা প্রশাসক মসজিদের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে জানান, ১ কোটি ১০ লাখ ৮৮ হাজার ৪৬৪ টাকা ব্যয়ে মসজিদ প্রাঙ্গণে তিনটি নামাজের শেড, ওজুখানা ও নারীদের জন্য পৃথক ওয়াশব্লক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর এ কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে মুসল্লিদের সুবিধার জন্য মসজিদের বাইরে পাবলিক টয়লেট নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। পাশাপাশি একটি দৃষ্টিনন্দন আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণের নকশা প্রণয়নের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
সোনা, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রা গণনা এবং ওজন নির্ধারণের পুরো প্রক্রিয়ায় কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তায় তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ১০ জন পুলিশ সদস্য ও ছয়জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। গণনার কাজে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ছয়জন কর্মচারী, মসজিদের কর্মী, বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) ১০ জন স্বর্ণকার এবং রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা সরাসরি সহযোগিতা করছেন।
গণনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান মারুফসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা।
আরও পড়ুন: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে উপড়ে পড়া গাছ সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন