প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লিওনেল মেসি এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দীর্ঘকালীন ব্যালন ডি’অর আধিপত্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সাবেক প্রধান পাসকাল ফেরে উভয়কেই ‘ভিনগ্রহের খেলোয়াড়’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তাঁর মতে, ২০০৮ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ফুটবলের সবচেয়ে সম্মানজনক ব্যক্তিগত পুরস্কারে মেসি ও রোনালদোর আধিপত্যের প্রধান কারণ ছিল তাঁদের মাঠে অসাধারণ পারফরম্যান্স।
ফ্রান্স ফুটবলের প্রাক্তন সম্পাদক ফেরে মন্তব্য করেন, ‘২০০৮ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তারা ব্যালন ডি’অর নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছে, কারণ তারা ছিলেন বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়। তারা দুজন ছিলেন ভিনগ্রহের।’ তাঁর এই বক্তব্য ফুটবলের ইতিহাসে মেসি ও রোনালদোর এক দশকের প্রতিদ্বন্দ্বিতার অনন্যতা তুলে ধরে।
এই সময়ের মধ্যে ২০০৮ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ১০টি ব্যালন ডি’অরের মধ্যে রোনালদো চারবার এবং মেসি পাঁচবার পুরস্কারটি জিতেছেন। ২০১০ সালে মেসি সতীর্থ আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা ও জাভিকে পেছনে ফেলে পুরস্কারটি অর্জন করেন। রোনালদো ২০১৩ ও ২০১৪ সালে টানা দুইবার পুরস্কার জিতে নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন।
মেসি ও রোনালদোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা কেবল পুরস্কারের মঞ্চেই সীমাবদ্ধ ছিল না। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তাঁদের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, গোল, রেকর্ড এবং দলীয় সাফল্য বিশ্ব ফুটবলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। ২০১৮ সালে লুকা মদরিচ ব্যালন ডি’অর জেতার মাধ্যমে সেই ধারায় ছেদ পড়ে। ২০২০ সালে রবার্ট লেভানদোভস্কি দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেও পুরস্কার না পাওয়ায় সেবার ব্যালন ডি’অর নিয়ে আলাদা বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
ফেরের সঙ্গে রোনালদোর অতীতেও প্রকাশ্য মতবিরোধ হয়েছিল। এক সাক্ষাৎকারে ফেরে দাবি করেছিলেন, রোনালদোর অন্যতম লক্ষ্য ছিল মেসির চেয়ে বেশি ব্যালন ডি’অর জেতা। সেই বক্তব্যের প্রতিবাদ করেছিলেন রোনালদো নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে ফেরে সেই ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, তাঁর মন্তব্যের কারণে রোনালদোর অনেক সমর্থকের কাছে তিনি মিথ্যাবাদী হিসেবে বিবেচিত হয়েছিলেন। তবে সাবেক এই কর্মকর্তা বিষয়টিকে গুরুতর কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ হিসেবে দেখেন না।
শেষ পর্যন্ত, মেসি ও রোনালদোর দ্বৈরথ কেবল ব্যালন ডি’অর জেতার প্রতিযোগিতা ছিল না; এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তাঁদের পারফরম্যান্স বিশ্ব ফুটবলের আলোচনার অন্যতম প্রধান মানদণ্ড হয়ে উঠেছিল। ফেরের ‘ভিনগ্রহের খেলোয়াড়’ মন্তব্য সেই ব্যতিক্রমী যুগের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিটিকে তুলে ধরেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন