ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আধুনিকায়নে বদলাচ্ছে বরিশাল বিমানবন্দর, ফ্লাইট সংকটে সুফল মিলছে না


আধুনিকায়নে বদলাচ্ছে বরিশাল বিমানবন্দর, ফ্লাইট সংকটে সুফল মিলছে না

বরিশাল বিমানবন্দরে আধুনিকায়নের কাজ প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা ব্যয়ে শেষের দিকে রয়েছে। নতুন টার্মিনাল ভবন, যাত্রীসেবার আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিমানবন্দরটির চিত্র পরিবর্তিত হচ্ছে। তবে উন্নত অবকাঠামো গড়ে উঠলেও বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ ফ্লাইট সংকটে প্রত্যাশিত সুফল পাচ্ছেন না।

বর্তমানে ঢাকা-বরিশাল রুটে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সপ্তাহে মাত্র তিন দিন ফ্লাইট পরিচালনা করছে। যাত্রী সংকটের অজুহাতে বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলো এ রুট থেকে সরে গেছে। ফলে জরুরি প্রয়োজনে আকাশপথে যাতায়াত করতে না পেরে যাত্রীদের সড়ক ও নৌপথের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুরে অবস্থিত বিমানবন্দরে গিয়ে সরজমিনে দেখা যায়, আধুনিকায়নের শেষ পর্যায়ের কাজ চলছে। নতুন টার্মিনাল ভবনে কাঁচ বসানো, সৌন্দর্যবর্ধনসহ বিভিন্ন কাজে নির্মাণশ্রমিকেরা ব্যস্ত রয়েছেন।

আরও পড়ুন: ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর-প্রতিমন্ত্রী সোহেল মনজুর

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সপ্তাহের বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও রোববার ঢাকা-বরিশাল রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। যাত্রীপ্রতি ভাড়া প্রায় ৪ হাজার ২০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। ফলে সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে জরুরি প্রয়োজনে ঢাকায় যাতায়াত করতে হলে যাত্রীদের বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা বেছে নিতে হচ্ছে। সড়কপথে বরিশাল থেকে ঢাকা যেতে সময় লাগে প্রায় চার ঘণ্টা, নৌপথে লাগে প্রায় আট ঘণ্টা। অন্যদিকে আকাশপথে যাত্রার সময় মাত্র ২০ মিনিট।

সচেতন সমাজের মতে, পদ্মা সেতু চালুর পর সড়ক যোগাযোগ সহজ হওয়ায় বরিশাল রুটে বিমানযাত্রীর সংখ্যা কমেছে। তবে দক্ষিণাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন, চিকিৎসাসেবা ও জরুরি যাতায়াতের ক্ষেত্রে বরিশাল বিমানবন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যদিও সীমিত ফ্লাইটের কারণে এ সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

বরিশাল নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম রাজন মন্তব্য করেন, 'বরিশাল বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন অবশ্যই ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন করলেই হবে না, নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা নিশ্চিত করতে হবে। সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন ফ্লাইট চালু করা গেলে জরুরি প্রয়োজনে ঢাকায় যাতায়াতকারী মানুষের দুর্ভোগ কমবে। পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গতি আসবে।'

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মো. রহমাতুল্লাহ বলেন, 'বরিশাল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগীয় শহর। অথচ এখানকার মানুষ প্রয়োজনের সময় নিয়মিত বিমানসেবা পাচ্ছেন না। বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলো যাতে আবার এ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করে, সে জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।'

আরও পড়ুন: আলোকসজ্জা, নান্দনিক সাজসজ্জা আর ব্যতিক্রমী গণেশ মূর্তি-বাকেরগঞ্জে দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রে দেবালয় পূজামণ্ডপ

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯১ সালে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুরে বিমানবন্দরের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ১৯৯৫ সালের জুলাইয়ে বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ চলাচলের জন্য বিমানবন্দরটি উন্মুক্ত করা হয়। দীর্ঘদিন পর যাত্রীসেবার মান বাড়ানো ও অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে নেয়া হয়েছে আধুনিকায়ন প্রকল্প।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে তিন বছর মেয়াদি চুক্তিতে প্রায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিকায়নের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হয়েছে দুই তলাবিশিষ্ট টার্মিনাল ভবন। এছাড়া কনভেয়ার বেল্ট স্থাপন, পার্কিংয়ের পরিসর বাড়ানো, সাবস্টেশন নির্মাণ, উড়োজাহাজ পার্কিংয়ের দুটি এপ্রোন সম্প্রসারণ, পিএপিআই লাইট স্থাপন এবং টয়লেট নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজ।

বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক সঞ্জয় কুমার রায় জানান, 'আধুনিকায়নের আওতায় যাত্রীসেবা ও পরিচালনাগত অবকাঠামো উন্নয়নে বিভিন্ন কাজ করা হয়েছে। এসব উন্নয়নের মাধ্যমে বিমানবন্দরের সুযোগ-সুবিধা বাড়বে। তবে ফ্লাইটের সংখ্যা ও রুট সম্প্রসারণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনস এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।'

বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, 'দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বরিশাল বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। নিয়মিত ফ্লাইট বাড়ানোর পাশাপাশি চট্টগ্রামের সঙ্গে সরাসরি আকাশপথে যোগাযোগ চালু করা গেলে এ অঞ্চলের মানুষ উপকৃত হবেন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা চলছে।'

আরও পড়ুন: বরিশালে ডিএনসির অভিযানে ২০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার

বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন মন্তব্য করেন, 'বরিশাল বিমানবন্দরে আধুনিকায়নের কাজের পাশাপাশি নিয়মিত ফ্লাইট চালু রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন ফ্লাইট পরিচালনা করা গেলে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারীরা উপকৃত হবেন। পাশাপাশি চট্টগ্রাম রুট চালুর উদ্যোগ নেয়া হলে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।'

তথ্য অনুযায়ী, চার বছর আগেও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ও নভোএয়ারসহ একাধিক বেসরকারি সংস্থা এ রুটে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করত। বর্তমানে এ রুটে কেবল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসই ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রবাসীদের সন্তানদের জন্য শিক্ষাবৃত্তির আবেদন ২৫ অক্টোবর থেকে শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:২০ পি.এম


প্রবাসীদের সন্তানদের জন্য শিক্ষাবৃত্তির আবেদন ২৫ অক্টোবর থেকে শুরু

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড প্রবাসী কর্মীদের মেধাবী সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তির জন্য আবেদন আহ্বান করেছে। ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান, ২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান এবং ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ যোগ্য শিক্ষার্থীরা এই বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে ২৫ অক্টোবর, যা চলবে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ৬ অক্টোবর এ-সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণি বা সমমান অথবা ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের প্রথম সেমিস্টার বা বর্ষে অধ্যয়নরত হলে আবেদন করতে পারবেন।

এছাড়া, ২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় বা মেডিক্যাল কলেজের প্রথম সেমিস্টার বা বর্ষে অধ্যয়নরত থাকলে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। একই বছর বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রথম সেমিস্টার বা বর্ষে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন।

আবেদন করার জন্য শিক্ষার্থীর বাবা বা মাকে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) বহির্গমন ছাড়পত্র গ্রহণকারী অথবা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্য হতে হবে। একজন প্রবাসী কর্মীর সর্বোচ্চ দুই সন্তান এই বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

এসএসসি ও সমমান-২০২৬ পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাধারণ ক্ষেত্রে ন্যূনতম জিপিএ-৫ থাকতে হবে। প্রবাসে মৃত কর্মীর সন্তানদের জন্য এ যোগ্যতা জিপিএ-৪ নির্ধারণ করা হয়েছে। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম জিপিএ যথাক্রমে ৪.৭৫ ও ৪ হতে হবে।

এইচএসসি ও সমমান-২০২৫ পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম জিপিএ-৪.৮০ এবং মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের জিপিএ-৪.৫০ থাকতে হবে। প্রবাসে মৃত কর্মীর সন্তানদের জন্য উভয় বিভাগের জন্য ন্যূনতম জিপিএ-৪ নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং-২০২৫ উত্তীর্ণদের সাধারণ ক্ষেত্রে ন্যূনতম জিপিএ-৩.২৫ এবং প্রবাসে মৃত কর্মীর সন্তানদের জিপিএ-৩ থাকতে হবে।

আবেদনের সঙ্গে প্রবাসী কর্মীর পাসপোর্টের কপি, বিএমইটির বহির্গমন ছাড়পত্র বা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্যপদের প্রমাণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়নপত্র, শিক্ষার্থীর ব্যাংক হিসাবের স্টেটমেন্ট, ছবি, স্বাক্ষর এবং জন্মনিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি জমা দিতে হবে। প্রত্যয়নপত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধানের মোবাইল নম্বর থাকতে হবে।

প্রবাসে মৃত কর্মীর সন্তানদের ক্ষেত্রে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন থেকে ইস্যু করা অনাপত্তিপত্র (এনওসি) জমা দিতে হবে। শিক্ষার্থীর নামে যেকোনো তফসিলি ব্যাংকে হিসাব থাকতে হবে। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের হিসাব গ্রহণযোগ্য হবে না।

বৃত্তির মেয়াদ এসএসসি ও সমমান উত্তীর্ণদের জন্য একাদশ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত দুই বছর। ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে অধ্যয়নরতদের জন্য সর্বোচ্চ চার বছর বৃত্তি দেওয়া হবে। এইচএসসি ও সমমান উত্তীর্ণদের মধ্যে ডিগ্রি (পাস) কোর্সের শিক্ষার্থীরা তিন বছর এবং স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা চার বছর বৃত্তি পাবেন। এমবিবিএস, বিডিএস, ডিভিএম, বি.আর্কসহ অন্যান্য প্রযোজ্য কোর্সে বৃত্তির মেয়াদ পাঁচ বছর। ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং উত্তীর্ণদের বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং পর্যায়ে বৃত্তির মেয়াদ চার বছর।

আগ্রহী শিক্ষার্থীদের [ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের ওয়েবসাইটে]( https://portal.wewb.gov.bd ) প্রবেশ করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। সরাসরি বা ডাকযোগে পাঠানো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

প্রবাসী কর্মীর পাসপোর্টে থাকা নামের সঙ্গে শিক্ষার্থীর সনদে উল্লিখিত পিতা বা মাতার নামের অমিল থাকলে আবেদন বাতিল হতে পারে। অসম্পূর্ণ আবেদন ও ভুল তথ্য দেওয়া আবেদনও বাতিল বলে গণ্য হবে।

বৃত্তিসংক্রান্ত তথ্যের জন্য প্রবাসী কল সেন্টারের ১৬১৩৫ নম্বরে (দেশ থেকে, টোল ফ্রি) অথবা +৮৮০৯৬১০২০৩০৩০ নম্বরে (বিদেশ থেকে) যোগাযোগ করা যাবে। জেলা প্রবাসী কল্যাণ সেন্টার থেকেও তথ্য পাওয়া যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দিরাইয়ের মিঠাপুর হাওরে পানি শুকিয়ে শক্ত হয়ে গেছে বোরো ধানের চারা রোপণের জমি, দুশ্চিন্তায় কৃষক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দিরাই, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: হামিদুল ইসলাম

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩২ পি.এম


দিরাইয়ের মিঠাপুর হাওরে পানি শুকিয়ে শক্ত হয়ে গেছে বোরো ধানের চারা রোপণের জমি, দুশ্চিন্তায় কৃষক

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ৭ নম্বর জগদল ইউনিয়নের মিঠাপুর হাওরে অতিরিক্ত পানি কমে যাওয়ায় বোরো ধানের চারা রোপণের জমিগুলো দ্রুত শুকিয়ে শক্ত হয়ে যাচ্ছে। এতে বোরো মৌসুমে ধানের চারা রোপণ ও জমি প্রস্তুত করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, হাওরের জমি থেকে পানি দ্রুত কমে যাওয়ায় অনেক জমির মাটি শক্ত হয়ে গেছে। ফলে এসব জমিতে হালচাষ ও চারা রোপণের উপযোগী করে তুলতে আগের তুলনায় বেশি পরিশ্রম ও খরচের প্রয়োজন হতে পারে। ইতোমধ্যে কিছু জমিতে পানি দেওয়া শুরু করেছেন কৃষকেরা, যাতে মাটির আর্দ্রতা বজায় রেখে জমি চাষের উপযোগী করা যায়।

কৃষকদের আশঙ্কা, শক্ত মাটিতে হালচাষ করতে অতিরিক্ত খরচ হবে। পাশাপাশি জমিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা না থাকলে ধানের চারা রোপণ ও সঠিকভাবে বেড়ে ওঠা ব্যাহত হতে পারে। জমির অবস্থা অনুযায়ী সেচের পানি, শ্রমিক, জমি চাষ এবং সার ব্যবহারে অতিরিক্ত ব্যয়ও বাড়তে পারে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া নিয

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘সুখবরে’ অতিষ্ঠ খানসামাবাসী: উচ্চশব্দের মাইকিংয়ে কোলাহল, জনজীবন বিপর্যস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩৫ পি.এম


‘সুখবরে’ অতিষ্ঠ খানসামাবাসী: উচ্চশব্দের মাইকিংয়ে কোলাহল, জনজীবন বিপর্যস্ত

‘সু-খবর, সু-খবর, সু-খবর’— দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার অনেক বাসিন্দার প্রতিদিন ভোরে ঘুম ভাঙে মাইকের উচ্চ শব্দে। কখনো বেসরকারি ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার কিংবা হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা পাওয়ার ঘোষণা আসে; কখনো কোচিং সেন্টারে ভর্তি, দোকান-হোটেল ও শোরুম উদ্বোধনের প্রচার করা হয়। এর পাশাপাশি কম দামে মুরগি, গরুর মাংস, মোবাইল সিমসহ বিভিন্ন পণ্যের বিজ্ঞাপনও প্রচারিত হয়। সকাল থেকে শুরু হয়ে কোথাও রাত ৮টা, আবার কোথাও রাত ১০টা পর্যন্ত চলে এই মাইকিং। প্রতিদিনের এই কোলাহলে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বস্তি হারাচ্ছেন।

উপজেলার আঞ্চলিক মহাসড়ক ধরে মাইক লাগানো ভ্যান ও ইজিবাইক চলার সঙ্গে সঙ্গে বিজ্ঞাপনের শব্দ ছড়িয়ে পড়ে। ঘরের ভেতরে থেকেও অনেকের রেহাই মেলে না। শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে, অসুস্থ ও বয়স্ক ব্যক্তিদের বিশ্রামেও বিঘ্ন ঘটে। দোকানে বসে ব্যবসা করতে গিয়ে ক্রেতার কথাও ঠিকমতো শুনতে পান না অনেকে। প্রচারের এই আয়োজন কারও কাছে ব্যবসা বাড়ানোর কৌশল হলেও সাধারণ মানুষের জন্য তা প্রতিদিনের ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভোর হলেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং শুরু হয়। বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসকদের প্রচার, কোচিং সেন্টারে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি এবং ভ্রাম্যমাণ দোকানে পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচারে উচ্চ শব্দের মাইক ব্যবহার করা হয়। কখন, কতটা শব্দে প্রচার চালানো হচ্ছে, তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন অসহনীয় হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

মাইকিংয়ের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এ কাজের জন্য তাঁদের দৈনিক আটশত থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভ্যান ও ইজিবাইকে একাধিক মাইক লাগিয়ে বিভিন্ন এলাকায় প্রচার চালান তাঁরা। কোচিং সেন্টার ও শোরুমের বিজ্ঞাপনেও উচ্চ শব্দের মাইক ব্যবহার করা হয়।

শিক্ষার্থী ইমন ইসলাম বলেন, “উচ্চ শব্দে মাইকিংয়ের কারণে বাসায় পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় এমন শব্দ খুবই বিরক্তিকর। প্রচারের জন্য নির্দিষ্ট সময় ও শব্দের মাত্রা মেনে চলা উচিত। এ বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ চাই।”

শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়ছে। চা বিক্রেতা রকিবুল ইসলাম রকি বলেন, “সকাল থেকে রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে মাইকিং চলায় দোকানে বসে স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলতে সমস্যা হয়, অনেক সময় অর্ডারও ঠিকমতো শুনতে পাই না। প্রচারের নামে এভাবে শব্দ সৃষ্টি না করে নির্দিষ্ট সময় ও সহনীয় মাত্রায় মাইকিং করা উচিত।”

মোটরসাইকেল পার্টস বিক্রেতা শাকিল বলেন, “দোকানে ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলা ও পণ্যের বিষয়ে বোঝাতে গিয়ে মাইকের উচ্চ শব্দে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়। দীর্ঘ সময় ধরে এমন শব্দ চলায় কাজে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ব্যবসার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে মাইকিংয়ের শব্দ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন।”

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারি বিধিমালা থাকলেও এর যথাযথ প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা অনুযায়ী, হাসপাতাল, ক্লিনিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চারপাশের ১০০ মিটার পর্যন্ত এলাকাকে নীরব এলাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব এলাকায় দিনের সর্বোচ্চ শব্দমাত্রা দিনে ৫০ ডেসিবেল এবং রাতে ৪০ ডেসিবেল নির্ধারণ করা হয়েছে। জনপরিসরে মাইক ও লাউডস্পিকার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ ও শাস্তির বিধান রয়েছে।

স্থানীয় শিক্ষক আব্দুল ওহাব বলেন, “উচ্চ শব্দে মাইকিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে সকাল ও সন্ধ্যায় পড়ার সময় এমন প্রচার তাদের মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটায়। প্রচার-প্রচারণা চালানোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় ও শব্দের মাত্রা মেনে চলা উচিত। এ বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।”

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. ফেরদৌস আলম রাসেল বলেন, সাধারণত মানুষের শ্রবণের জন্য ৪৫ ডেসিবেল শব্দ সহনীয় মাত্রা। তবে তা ৬৫ থেকে ৭০ ডেসিবেল অতিক্রম করলে ক্ষতিকর হতে পারে। ১৩০ ডেসিবেল শব্দে স্থায়ীভাবে শ্রবণশক্তি হারানোর আশঙ্কা থাকে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রতিনিয়ত যে হারে মাইকিং করা হয়, তাতে শব্দের মাত্রা প্রায়ই ৭০ ডেসিবেলের ওপরে থাকে, যা শিশুদের জন্য খুবই ক্ষতিকর।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অয়ন ফারহান শামস বলেন, শব্দদূষণের বিষয়টি আমাকে জানিয়ে খুব ভালো করেছেন। এ বিষয়ে ইউএনও স্যারের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান সরকার বলেন, শব্দদূষণ রোধে সংশ্লিষ্টদের লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হবে। কেউ শব্দদূষণ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি বাড়ানো কিংবা চিকিৎসাসেবার তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে প্রচার-প্রচারণার প্রয়োজন রয়েছে। তবে সেই প্রচার যেন অন্যের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করাও জরুরি। খানসামার বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, শুধু নির্দেশনা নয়, নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে মাইকিংয়ের সময় ও শব্দের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ‘সুখবরের’ নামে চলা এই কোলাহল কমিয়ে জনজীবনে স্বস্তি ফেরাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে-এমনটাই তাদের দাবি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টাঙ্গাইলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন অতিরিক্ত ডিআইজি সুলাইমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩৫ পি.এম


টাঙ্গাইলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন অতিরিক্ত ডিআইজি সুলাইমান

শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন ঢাকা রেঞ্জের পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) ও অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সুলাইমান, পিপিএম।

তিনি টাঙ্গাইল সদর থানাধীন ঐতিহ্যবাহী বড় কালীবাড়ী পূজামণ্ডপ এবং বাসাইল উপজেলার সাহাপাড়া পূজামণ্ডপসহ জেলার একাধিক পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনের সময় তিনি মণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং পূজা উদযাপন কমিটির প্রতিনিধি ও স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি আবহমান বাংলার চমৎকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সামাজিক ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে দুর্গোৎসব উদযাপনের জন্য সকলের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান।

এই পরিদর্শনের সময় টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এইচ. এম. মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী, সহকারী পুলিশ সুপার (সখীপুর সার্কেল) এ. কে. এম. মামুনুর রশীদ, টাঙ্গাইল সদর ও বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ (ওসি), প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ এবং এলাকার অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%