আবিদ ইসলাম আশিক। বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি
০১:৩৭ পি.এম
বরিশালের বাকেরগঞ্জে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দৃষ্টিনন্দন সাজসজ্জায় দর্শনার্থীদের বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে দেবালয় পূজামণ্ডপ। নান্দনিক আলোকসজ্জা, মন্দিরের প্রবেশপথের মনোমুগ্ধকর আলোকচিত্রের সৌন্দর্য এবং মন্দিরের পাশে পুকুরের পানিতে ভাসমান ব্যতিক্রমী গণেশ মূর্তি ঘিরে মণ্ডপটিতে দর্শনার্থীদের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
মন্দিরের মূল প্রবেশপথে করা হয়েছে আকর্ষণীয় আলোকসজ্জা ও দৃষ্টিনন্দন সাজসজ্জা। আলো আর নান্দনিকতার সমন্বয়ে প্রবেশপথটি দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। পূজামণ্ডপে আগত দর্শনার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে আপ্যায়নের ব্যবস্থাও। এতে উৎসবে আগত ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মধ্যে বাড়তি আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
এ বছরের পূজায় মণ্ডপটির অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে মন্দিরের পাশের পুকুরে স্থাপিত গণেশ মূর্তি। পুকুরের পানির উপর ভাসমান এই মূর্তি স্থাপনের ফলে পূজামণ্ডপের সৌন্দর্যে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে। ব্যতিক্রমী এই আয়োজনকে ঘিরে দর্শনার্থীদের মধ্যে কৌতূহলও রয়েছে।
দুর্গোৎসবকে আনন্দমুখর ও সুশৃঙ্খলভাবে উদ্যাপনের লক্ষ্যে মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপের সাজসজ্জা, দর্শনার্থীদের আপ্যায়ন এবং সার্বিক আয়োজনের মাধ্যমে উৎসবের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে কমিটি। দেবালয় মন্দির কমিটির সভাপতি প্রফুল্ল দাসের নেতৃত্বে পূজার সার্বিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
দেবালয় মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দাস জানান, শারদীয় দুর্গোৎসব শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি সম্প্রীতি, আনন্দ ও মিলনমেলারও উৎসব। দেবালয় পূজামণ্ডপের নান্দনিক সাজসজ্জা ও ব্যতিক্রমী আয়োজন সেই উৎসবের সৌন্দর্যকে আরও বর্ণিল করে তুলেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাধবদীর ব্যবসায়ীরা নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, ব্যবসায় মন্দা, ক্রেতাসংকট ও বিভিন্ন খরচের চাপে ইতিমধ্যেই দিশেহারা অবস্থায় রয়েছেন। এর মধ্যে সোনার বাংলা সমবায় কটন মিলস লিমিটেডের মালিকানাধীন মার্কেটের দোকানভাড়া এক লাফে চার গুণ বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এই আকস্মিক ভাড়া বৃদ্ধির ফলে মার্কেটের ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। তাদের মতে, চলমান সংকটের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, সোনার বাংলা কটন মিলসের সভাপতি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন বর্ধিত ভাড়া পরিশোধের জন্য ৭ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করে নোটিশ জারি করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বর্ধিত ভাড়া পরিশোধে ব্যর্থ হলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সোনার বাংলা সমবায় কটন মিলসের অধীনে মাধবদীতে প্রায় এক হাজার দোকান বা ভিটি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীরা সেখানে দোকান পরিচালনা করে আসছেন। তবে গত আগস্টে নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের পর দোকানভাড়া একলাফে চার গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার সিদ্ধান্ত তাদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে। নতুন ভাড়া কার্যকর হলে অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীর পক্ষে দোকান চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়বে এবং কেউ কেউ ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার আশঙ্কা করছেন।
বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিক্রিবাট্টা আগের মতো নেই। দোকানভাড়া, কর্মচারীদের বেতন, বিদ্যুৎ বিল, পণ্য পরিবহন ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় মেটাতে গিয়ে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। এ অবস্থায় একলাফে চার গুণ ভাড়া বাড়ানো হলে ব্যবসার আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলানো সম্ভব হবে না।
তাদের প্রশ্ন, ব্যবসার পরিবেশ ও আয়-ব্যয়ের বাস্তবতা বিবেচনা না করে কিভাবে এত বড় ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো? ভাড়া বৃদ্ধির আগে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
ব্যবসায়ীরা মনে করেন, দোকান ভাড়া বাড়ানোর ক্ষেত্রে যৌক্তিক ভিত্তি থাকা প্রয়োজন। বর্তমান বাজারের অবস্থা, দোকানের আয়তন, অবস্থান এবং ব্যবসায়ীদের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে ভাড়া নির্ধারণ করা উচিত। হঠাৎ করে কয়েক গুণ ভাড়া বাড়িয়ে দিলে শুধু ব্যবসায়ীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না, এর প্রভাব মার্কেটের সামগ্রিক ব্যবসায়িক পরিবেশেও পড়তে পারে। অতিরিক্ত ভাড়া বহন করতে না পেরে অনেক ব্যবসায়ী দোকান ছেড়ে দিতে বাধ্য হতে পারেন। এতে মার্কেটের দোকান খালি পড়ে থাকা, ব্যবসায়িক কার্যক্রম সংকুচিত হওয়া এবং ক্রেতাদের ভোগান্তি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় সোনার বাংলা মার্কেটের ব্যবসায়ীরা ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, মার্কেট কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সহনীয় ও যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ করবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, ২০২২ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত (১৪২৯-১৪৩২) তার দোকানের ভাড়া ছিল ১০ হাজার টাকা। গত আগস্টে এমপি সাহেব সভাপতি হয়ে চলতি মাসের ১৩ তারিখে এক লাফে সেটি ৪০ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছেন। বর্ধিত ভাড়া ৭ দিনের মধ্যে (পত্রপ্রাপ্তির) না দিতে পারলে দোকান খালি করার ব্যবস্থা নেওয়ার লিখিত হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আত্মহত্যা ছাড়া তাদের কোনো পথ নেই।
সোনার বাংলা সমবায় কটন মিলস লিমিটেড সূত্রে জানা গেছে, ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিটি ঘোষিত নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী গত ১২-১৫ জুলাই মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হয়। ৮টি পদের বিপরীতে ১৪টি মনোনয়নপত্র বিক্রি হলেও, খায়রুল কবির খোকনের নির্দেশে ৬টি মনোনয়ন দাখিল হয়। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী দাখিলকৃতদের বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে খায়রুল কবির খোকন সভাপতি নির্বাচিত হন।
সোনার বাংলা সমবায় কটন মিলসের সভাপতি খায়রুল কবির খোকন নোটিশে উল্লেখ করেছেন, বর্তমান বাজার মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সমিতির দোকান ভাড়া নির্ধারণের নিমিত্তে বর্তমান ব্যবস্থাপনা কমিটির গত ১৩ সেপ্টেম্বরের সভায় দোকান সঠিকতা যাচাই বাছাই করার জন্য ৫ সদস্যের একটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। উপকমিটির তদন্ত প্রতিবেদন, সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালকের নির্দেশনা ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক দোকান ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত সভায় সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করা হয়েছে। এটি কারো একক সিদ্ধান্ত নয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার একটি অদ্ভুত ভূমিরূপের ছবি সম্প্রতি প্রকাশ করেছে নাসা, যা মাকড়সার মতো দেখতে। এই গর্তটির নাম ‘স্পাইডার ক্রেটার’, যা একটি উল্কাপিণ্ডের আঘাতে সৃষ্টি হয়েছিল। প্রাকৃতিক ক্ষয়ের ফলে কয়েক শ কোটি বছর ধরে এটি বর্তমানের অদ্ভুত আকৃতি অর্জন করেছে।
এনডিটিভি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর নাসা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার যৌথ উপগ্রহ ল্যান্ডস্যাট ৯-এর একটি যন্ত্রের মাধ্যমে গর্তটির ছবি তোলা হয়। এটি পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার কিম্বারলি অঞ্চলে অবস্থিত। গর্তটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৩ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ১১ কিলোমিটার, যেখানে মাঝখানে মাকড়সার মতো দেখতে অংশটির প্রস্থ প্রায় ৪ কিলোমিটার।
ভূতত্ত্ববিদদের মতে, গর্তের কেন্দ্রে অবস্থিত উঁচু অংশের অবশিষ্টাংশ থেকেই এই মাকড়সার মতো নকশাটি তৈরি হয়েছে। যখন কোনো উল্কাপিণ্ড মাটিতে প্রচণ্ড বেগে আঘাত করে, তখন ভূগর্ভে প্রবল চাপ সৃষ্টি হয়। এই চাপের ফলে গর্তের তলদেশের কিছু অংশ উপরের দিকে উঠে আসে, যা মাঝখানের উঁচু অংশটি তৈরি করে।
গর্তটির চারপাশে মাকড়সার পায়ের মতো ছড়িয়ে থাকা হালকা রঙের অংশগুলো আসলে বেলেপাথরের উঁচু শিরা। দীর্ঘ সময় ধরে প্রাকৃতিক ক্ষয়ের কারণে আশপাশের পাথরের অন্যান্য স্তরগুলো সরে গেছে, তবে শক্ত বেলেপাথরের এই অংশগুলো টিকে রয়েছে।
বিজ্ঞানীরা কয়েক দশক ধরে স্পাইডার ক্রেটারের উৎপত্তি নিয়ে গবেষণা করছেন। একসময় তাদের কেউ কেউ ধারণা করেছিলেন যে, আগ্নেয়গিরির কারণে এই ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়েছে।
তবে পরবর্তীতে সরেজমিনে গবেষণা চালিয়ে ভূতত্ত্ববিদেরা প্রাচীন উল্কাপিণ্ডের আঘাতের চিহ্ন খুঁজে পান। এর মধ্যে রয়েছে পাথরের গায়ে পাখার মতো ছড়িয়ে থাকা বিশেষ ধরনের ফাটল, যেগুলোকে বলা হয় ‘শ্যাটার কোন’। প্রবল শক্তির আঘাতে পাথরের ভেতরে চাপ ছড়িয়ে পড়লে এ ধরনের ফাটল তৈরি হয়। গর্তের মাঝখানের গম্বুজের পুরো অংশজুড়ে এসব ফাটল পাওয়া গেছে।
এছাড়া, বিজ্ঞানীরা বেলেপাথরের মধ্যে থাকা আঘাতের ফলে পরিবর্তিত কোয়ার্টজ ও জিরকন স্ফটিক নিয়েও গবেষণা করেছেন। পরীক্ষাগারে এসব খনিজ বিশ্লেষণ করে উল্কাপিণ্ডটি কী কোণে মাটিতে আঘাত করেছিল, সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তবে উল্কাপিণ্ডটি ঠিক কত বছর আগে আঘাত হেনেছিল, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নীলফামারীতে অসচ্ছল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে নতুন বস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ১১টায় নীলফামারী কালীমন্দির প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ত্রাণ তহবিল ও প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিনের পক্ষ থেকে এই বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, নীলফামারী জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে নতুন বস্ত্র পেয়ে উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীরা আনন্দ প্রকাশ করেন। তাঁরা জানান, দুর্গোৎসবের আনন্দ সবার সাথে ভাগাভাগি করে নেওয়া এবং অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- নীলফামারী জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল পারভেজ, জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক প্রবীর গুহ রিন্টু, যুগ্ম আহ্বায়ক টিকেন্দ্রজিৎ রায় মিরু, নীলফামারী সদর উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক হিরম্ব কুমার হিরু, বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের নীলফামারী শাখার আহ্বায়ক সুমন চক্রবর্তী এবং নীলফামারী পূজা উদযাপন ফ্রন্টের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রিয়া কুণ্ডু প্রমুখ।
বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচির মাধ্যমে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন আয়োজকেরা। তাঁরা বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণে একটি উৎসবমুখর ও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলাই এ ধরনের সামাজিক উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের প্রসঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মন্তব্য করেছেন যে, ইশরাক ভাই নতুনভাবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেছেন। তিনি বলেন, "উনার মতলব ভালো ছিল, মাদকের বিষয়টি যাতে বন্ধ হয়, কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতায় ফাঁদে পড়লেন তিনি।"
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কথা বলেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, "সমস্যাটা তো হলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। গুলি কেন খেলেন ইশরাক ভাই? অর্থাৎ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দোষ করে। আরেকজন এই পাপে ভোগেন। এটা আসলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতা। মাঝখান দিয়ে ইশরাক ভাই ফাঁদে পড়ে গেলেন।"
তিনি উল্লেখ করেন, "হিন্দুধর্মের ধর্মাবলম্বী যারা রয়েছেন, আমরা শুনেছিলাম, বিএনপি সরকার নাকি সবাইকে নিরাপত্তা দেবে। কিন্তু হিন্দু ভাইয়েরা ভালো নেই। বিএনপি সরকার তাদের ভালোভাবে নিরাপত্তা দিতে পারেনি। গত তিন-চার মাসের যে ডেটা তারা বলেছিলেন, সেখানেও অনেক জায়গায় ভাঙচুরের ঘটনা দেখা গেছে।"
এছাড়া, তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাইয়ের ইস্যু তুলে ধরার জন্য বলেছেন। তিনি মুসলিম ভাইদের উদ্দেশ্যে বলেন, "আমরা সবকিছুই করব। তবে হিন্দু ভাইয়েরা যাতে কোথাও ক্ষোভ, দুঃখ বা আঘাত না পান, এই বিষয়টা আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে।"
তিনি সতর্ক করে বলেন, "আবার এই কথা বলতে গিয়ে আজকে আমাকে ‘শাহবাগী হিন্দুদের নতুন ভার্সন’—এ ধরনের ট্যাগ দিয়ে দিয়েন না। তারা বিষয়টা বলেছেন আপনাদের কাছে পৌঁছানোর জন্য। তাদের ভালোবাসা রয়েছে, আর আপনারাও তাদের ভালোবাসেন। আমি আপনাদের কাছে মেসেজটা পৌঁছে দিয়েছি। এমন কোনো কাজ করবেন না, যাতে তারা আহত হন। দরকার হলে আপনারা তাদের সঙ্গে বসেন। তাদেরও আপনাদের সঙ্গে বসতে ইচ্ছুক। ভুল-বোঝাবুঝির অবসান হবে বলেও জানান তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ