০৮:৩৪ পি.এম
বিগত প্রায় দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে বান্দরবানে আন্দোলন-সংগ্রামের সাথে যুক্ত থাকা, পুলিশের লাঠিচার্জ, গ্রেপ্তার ও বারবার কারাবরণের শিকার হওয়া ত্যাগী নেতাকর্মীরা পটপরিবর্তনের পরেও উপেক্ষিত রয়ে গেছেন বলে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষোভ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রথম সারিতে সক্রিয় থাকা ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা পাহাড়ের নেতা জাহাঙ্গীর আলম এবং তার স্ত্রী উম্মে কুলসুম লীনা সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে তাদের হতাশা ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন।
একটি সামাজিক মাধ্যমের স্ট্যাটাসে উম্মে কুলসুম লীনা লিখেছেন, ‘সতেরো বছর যুদ্ধ করেছি আমরা সামনের সারিতে থেকে, আজ ত্যাগীরাই কোণঠাসা, হতাশায় ডুবে আছে। আমরা করেছি লড়াই, রক্ত দিয়েছি, আর পতাকা ওড়াচ্ছে স্বৈরাচারের দোসররা!’
আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর আহ্বান: শক্তিশালী ডানপন্থি সরকার গঠন করতে হবে
সম্প্রতি তথ্য উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের বিরুদ্ধে সাড়ে চার শতাধিক রাজনৈতিক মামলা এবং তার পরিবারের মানসিক টানাপোড়েন ও বাস্তব যন্ত্রণার কথা তুলে ধরেন।
লীনা তার বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, একজন রাজনীতিবিদের সংগ্রামের বোঝা শুধু তার একার নয়; সেই সংগ্রামের ভার নীরবে বহন করতে হয় তার পরিবারকেও। বারবার মামলা, আদালত এবং কারাগারে স্বজনদের অপেক্ষার ইতিহাস যেন যথাযথ মর্যাদায় মূল্যায়িত হয়—সেই দাবিই জানান তিনি।
গত ১৭ বছরের কঠিন সময়ে বিভিন্ন বিভাগীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের আন্দোলনে জাহাঙ্গীর আলম ও তার সহধর্মিণী উম্মে কুলসুম লীনা সরাসরি সম্মুখসারিতে অবস্থান নিয়েছিলেন।
নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি ও কেন্দ্রীয় কর্মসূচির ব্যানার হাতে পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙা কিংবা সরাসরি পুলিশের বাধার মুখে মিছিলের নেতৃত্ব দিতে তাদের দেখা গেছে।
আরও পড়ুন: ডা. জুবাইদা রহমানের উদ্যোগে অপসারিত হলো ইমাম হোসেনের পিঠের দুই কেজির টিউমার
আন্দোলন দমনপীড়নের অংশ হিসেবে জাহাঙ্গীর আলমকে দফায় দফায় গ্রেপ্তার, হাতকড়া পরে আদালতে হাজির হওয়া এবং জেল-জুলুম সহ্য করতে হয়েছে। পুলিশের লাঠিচার্জ ও মারমুখী অবস্থানের মধ্যেও এই দম্পতিকে রাজপথে অটল থাকতে দেখা যায়।
রাজপথে এই দম্পতির একসঙ্গে সক্রিয় থাকা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ কিংবা নানা মহল থেকে বিদ্রুপ ও কটূক্তি করা হলেও তারা কখনো থেমে যাননি। সামাজিক ও মানসিক প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করেই আন্দোলন-সংগ্রামে একে অপরের পাশে থেকেছেন অটলভাবে।
৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দলের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়া এবং সুবিধাবাদীদের ভিড়ে ত্যাগীদের পেছনে পড়ে যাওয়া নিয়ে ক্ষোভ এখন তৃণমূল থেকে শুরু করে সর্বস্তরেই স্পষ্ট।
জাহাঙ্গীর আলম ও উম্মে কুলসুম লীনার মতো যারা সপরিবারে রাজনীতির কঠিন মূল্য দিয়েছেন, তাদের এই আক্ষেপ রাজনীতিতে ত্যাগীদের অবমূল্যায়নের এক বাস্তব চিত্রকেই সামনে তুলে আনছে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
আরও পড়ুন: অর্থনীতির বিপদ টের পেতে শুরু করেছেন ক্ষমতাসীনরা
এমএইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন