০২:১১ পি.এম
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান জানিয়েছেন, "কেউ ব্যক্তিগত আক্রমণ করলে তাকে ‘ছাড়’ দেওয়া হবে না।" তিনি দাবি করেছেন, জামায়াত-এনসিপি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের কথা বলে ভণ্ডবস্তের রাজনীতির সূচনা করেছে।
সম্প্রতি, একটি বেসরকারি টেলিভিশন টকশোতে এনসিপি নেতা সারোয়ার তুষারের সাথে বাগ্বিতণ্ডা হয় রাশেদ খানের, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে আজ মঙ্গলবার, নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করেছেন রাশেদ খান। পোস্টে তিনি এ সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন।
ফেসবুক পোস্টে, রাশেদ খান জানান, ওই টকশোতে তার গঠনমূলক কথা বলার চেষ্টা ছিল। তবে, সারোয়ার তুষার শেষ অংশে এসে তাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেছিলেন। টকশোতে, সারোয়ার তুষার রাশেদ খানকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে বলেছেন, "মিডিয়া দেখলে সবার আগে, আর পুলিশ দেখলে সবার পরে থাকেন। গণ অধিকার পরিষদের নেতারা বলেছেন।"
আরও পড়ুন: ৩১ অক্টোবর ১১ দলের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি
এ ব্যাপারে রাশেদ খান ফেসবুক পোস্টে বলেন, "কোন নেতারা? যারা গণ-অভ্যুত্থানের পরপর এনসিপিতে যুক্ত হয়েছে।"
তিনি বলেন, "আমার ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনাকে কটূক্তির মামলায় জেল খেটেছি, ১৫ দিন রিমান্ডের নির্যাতনের শিকার হয়েছি। ২০২৪ সাল পর্যন্ত যুগপৎ আন্দোলনে রাজপথে থেকে ভূমিকা রেখেছি। আর ২০২৪ এর আন্দোলনে আমি তো ছাত্র না যে নেতৃত্ব দেব। যখন শেখ হাসিনা মানুষ হত্যা শুরু করলে, ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারীদের সঙ্গে রাজনৈতিক সমন্বয় করেছি।"
এতদূর না গিয়ে, গণ-অভ্যুত্থানের সময় নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও আখতার হোসেনদের জাতিসংঘের বাংলাদেশ প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক তার মাধ্যমে হয়েছিল বলেও জানান। "১৮ জুলাই, আমিই প্রথম দুইজন সমন্বয়কে (আসিফ মাহমুদ ও আহনাফ সাঈদ খান) আন্দোলনে রাজনৈতিক দলগুলোকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান করে মাঝখানে থেকে কাজ শুরু করি।" জানান রাশেদ খান।
তিনি দাবি করেন, "২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নুরুল হক নুরকে গ্রেপ্তারের পর তার বাসায় দুইবার অভিযান চালানো হয়েছে। এরপর আমি বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আন্দোলন সফল করতে রাজনৈতিক কর্মপন্থা নির্ধারণে কাজ করেছি। না কি সেসময় আন্দোলন নিয়ে কাজ না করে যদি গ্রেপ্তার হই, তাহলে এরা (নব্য বিপ্লবীরা) খুশি হতো? ভুলে যাবেন না, সমন্বয়করাও আত্মগোপনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে।"
আরও পড়ুন: ঢাকায় ২৪ ঘণ্টার অভিযানে পুলিশের হাতে ৫৩৪ গ্রেপ্তার
রাশেদ খান দাবি করেন, "গণ অভ্যুত্থানের ৩১ জুলাই বিএনপিপন্থী শিক্ষক ও আইনজীবীরা যে হাইকোর্টের সামনে নেমেছিল, সেটি বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে ঠিক করেছিলেন।" তিনি বলেন, "৩ আগস্ট আমি গ্রেপ্তারের ঝুঁকি নিয়ে শহীদ মিনারে গিয়েছি এবং সমন্বয়কদের সঙ্গে কথা বলেছি, গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আন্দোলনে সম্পৃক্ত থেকেছি। তখনও আমাকে গ্রেপ্তার করার জন্য তন্নতন্ন করে খুঁজেছে।"
সারোয়ার তুষারের সাথে টকশো নিয়ে রাশেদ খান বলেন, "গতকালের টকশোতে সারোয়ার তুষার আমাকে জিজ্ঞেস করেছে, প্রধানমন্ত্রী কোথায় ছিল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোথায় ছিল। আমি উত্তর দিয়েছি, তারা নির্বাসিত ছিল, সেখান থেকে কাজ করেছে। আমি এর প্রেক্ষিতে তাকে প্রশ্ন করেছি, আপনি কোথায় ছিলেন? তার উত্তর ছিল, ১৯ জুলাই মাঠে ছিলাম। আমি বলেছি, আগে পরে কোথায় ছিলেন, সে উত্তর না দিয়ে আমাকে আক্রমণ করতেই থাকে এবং বেয়াদব ও মিথ্যুক বলে।"
রাশেদ খান জানিয়েছেন, "আমি প্রথমবার তাকে কিছু বলি নাই, কিন্তু দ্বিতীয় বার আবারও বেয়াদব বলাতে পাল্টা জবাব দিয়েছি।"
নিজের ফেসবুক পোস্টে সারোয়ার তুষারকে নিয়ে ইমতিয়াজ মির্জা এবং আব্দুল কাদেরের বক্তব্য তুলে ধরেন রাশেদ খান। যেখানে আব্দুল কাদের দাবি করেছেন, জুলাই গণ অভ্যুত্থানের সময় সারোয়ার তুষারকে সেইভাবে চিনতেন না।
আরও পড়ুন: মামদানির ঘনিষ্ঠ কংগ্রেস প্রার্থী ব্র্যাড ল্যান্ডারকে আটক করল ইসরাইল
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান বলেন, "আমাকে কেউ ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করবে, আর আমি তাকে চুমু দেব। এমন সুশীল ব্যক্তি আমি না।"
তিনি উল্লেখ করেন, "আপনারা শব্দের রাজনীতিতে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, আবার এত শ্রীকান্ত চান কেন? নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতির কথা বলে ভণ্ডবস্তের রাজনীতির সূচনা করেছেন। এগুলো পরিহার করুন, না হলে ইতরের সঙ্গে ভদ্রতা দেখানোর রাজনীতি বাংলাদেশে কারোর পক্ষেই সম্ভব হবে না। ভদ্রতা আপনার পক্ষ থেকে আসলে, আমার পক্ষ থেকে আরো বেশি আসবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন