ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হাসিনার সহযোগীর পদত্যাগসহ যে সব শিরোনাম করল আন্তর্জাতিক মিডিয়া


হাসিনার সহযোগীর পদত্যাগসহ যে সব শিরোনাম করল আন্তর্জাতিক মিডিয়া

রয়টার্স, বিবিসি, আলজাজিরা, ব্লুমবার্গ, সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, মানিকন্ট্রোল এবং ডব্লিউআইওএন-এর মতো প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিস্তারিত আলোকপাত করেছে।

প্রতিবেদনগুলোতে মূলত স্থান পেয়েছে—মেয়াদ পূর্তির আগেই তার সরে দাঁড়ানোর খবর, শারীরিক অসুস্থতার তথ্য এবং ভারতে পলাতক ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার দেশে ফেরার গুঞ্জনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক পরিস্থিতি।

আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ’ শিরোনামে প্রকাশ করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায়, মো. সাহাবুদ্দিন নিজের অটোনমিক নিউরোপ্যাথিরোগ ধরা পড়েছে বলে জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ওই রোগে আক্রান্ত থাকার কারণে তিনি রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করছেন।

আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সংবিধান অনুযায়ী, আগামী ৯০ দিনের মধ্যে দেশে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে শিরোনাম করা হয়েছে স্বাস্থ্যগত কারণে ৭৬ বছর বয়সী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ। তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের এপ্রিলে দায়িত্ব নেওয়া রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন। সংস্থা স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার বিপ্লবে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশে অন্তর্বর্তী প্রশাসন হয়ে নতুন নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসে। বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতির পদটি মূলত অলঙ্কারিক এবং নির্বাহী ক্ষমতার মূল চালিকাশক্তি হলেন প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভা।

বিবিসি, ‘শেখ হাসিনা সহযোগী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হাসিনার বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের ইচ্ছা প্রকাশ করার পর থেকেই রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে সরানোর চাপ তৈরি হয়। বিবিসি বাংলার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ক্ষমতার মসনদে থাকা বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের পক্ষ থেকে তাঁকে পদ ছাড়তে জোরালো চাপ দেওয়া হচ্ছিল। শারীরিক জটিলতা দেখানো হলেও এর নেপথ্যে মূল ভূমিকা রেখেছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনে প্রায় ১৪০০ প্রাণহানির জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন, যা রাষ্ট্রপতির পদকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট শিরোনাম করেছে, নির্বাসন থেকে ফেরার আগে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ, কোণঠাসা হাসিনা। বঙ্গভবনের প্রেস সচিব সারওয়ার আলমের বক্তব্য তুলে ধরে জানায়, মূলত শারীরিক অসুস্থতা ও বিশ্রামের প্রয়োজনীয়তা থেকেই রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। তবে তিনটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি দাবি করে, শেখ হাসিনার ফিরে আসা নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পরপরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে সরে দাঁড়াতে বলা হয়েছিল। ফলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী তাঁর সর্বশেষ উচ্চপর্যায়ের সাংবিধানিক বিশ্বস্ততাকেও হারালেন।

আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৭৭.৭ শতাংশ, ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ

ভারতীয় গণমাধ্যম মানিকন্ট্রোল তাদের বিশ্লেষণে প্রশ্ন তোলে—শেখ হাসিনার সাথে একটি ফোনালাপ কি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের রাজনীতির ইতি টেনে দিল? তাদের মতে, শেখ হাসিনার সাথে গোপন যোগাযোগ এবং সাম্প্রতিক কথোপকথন প্রকাশ আবিষ্কারের কারণে তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি ত্বরান্বিত হয়। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দেশে কঠোর আইনশৃঙ্খলা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রদর্শনের বার্তা দিতেই এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ব্লুমবার্গ এবং ডব্লিউআইওএন তুলে ধরে যে, ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত মেয়াদ থাকা সত্ত্বেও ৭৬ বছর বয়সী রাষ্ট্রপতির এই অসময়ে বিদায় বাংলাদেশে রাজনীতিতে এক নতুন মোড় নিয়ে এসেছে। ২০২৪ সালের অভ্যুথান-পরবর্তী সময়ে তিনি ছিলেন পূর্ববর্তী শাসনব্যবস্থার সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার সর্বশেষ ধারক।

সংবাদমাধ্যমগুলো বাংলাদেশে সংবিধানের নিয়ম উল্লেখ করে জানায়, স্পিকারের কাছে লিখিত পত্র জমা দেওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ কার্যকর হয়। থাইল্যান্ডে চিকিৎসা শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ দেশে ফিরলে তার কাছে পদত্যাগপত্রটি জমা দেওয়া হয়। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, পদটি খালি হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপ্রধান বেছে নিতে হবে। বর্তমানে সংসদে বিএনপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তাদের মনোনীত ব্যক্তিই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন।

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রূপগঞ্জে মাদ্রাসার জমি উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৩৫ পি.এম


রূপগঞ্জে মাদ্রাসার জমি উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জামিয়া মনির উদ্দিন বেপারী কওমি মাদ্রাসার ১৫ শতাংশ জমি উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেছেন মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

শুক্রবার দুপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রূপসী এলাকায় এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার। এছাড়া সভাপতিত্ব করেন মহসিন ভূঁইয়া, এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা যুব জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন।

এ সময় বক্তব্য রাখেন মো. সিরাজুল ইসলাম প্রধান, মো. ওবায়দুল হক ভূঁইয়া, আব্দুল হালিম ভূঁইয়া, মো. কামরুল ইসলাম, মো. মোখলেছুর রহমান এবং হাজী মো. নুরুজ্জামান ভূঁইয়াসহ অন্যান্য বক্তা।

বক্তারা এ সময় জানান, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে মাদ্রাসার ১৫ শতাংশ জমি সাবেক সংসদ সদস্য গাজী গোলাম দস্তগীর দখল করে রেখেছেন। তারা আরও বলেন, মামলা-হামলার ভয়ে এলাকাবাসী তার বিরুদ্ধে কথা বলতে পারেনি। এ বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। বক্তারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত করতে এবং মাদ্রাসার জমি উদ্ধার করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষার জন্য।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মো. শহিদুল ইসলাম মাস্টার ও আলাল খন্দকার। মানববন্ধনের পর ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রূপসী এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে এলাকাবাসী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাঁদপুরে অনুষ্ঠিত হলো বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৫২ পি.এম


চাঁদপুরে অনুষ্ঠিত হলো বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

 

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং কৃষক দলের পৃথক আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত বৃক্ষরোপণ ও বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়ে গেল।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকালে উপজেলা বিএনপি সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মাহফুজুর রহমান টিপুর সভাপতিত্বে এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মহসীন মোল্লার পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ব্যাংকিং ও রাজস্ব বিষয়ক সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য লায়ন মো: হারুনুর রশিদ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক নাছির পাটওয়ারী, বিএনপি নেতা মোহসীন পাটওয়ারী। আলোচনা শেষে প্রধান অতিথি উপজেলা বিএনপি, পৌর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের হাতে গাছের চারা প্রদান করেন।

এর আগে ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি ও ফরিদগঞ্জ উপজেলার পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ সাবেক সংসদ সদস্য লায়ন মো: হারুনুর রশিদ। এসময় বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান দুলাল, উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক নাছির পাটওয়ারী, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক আব্দুল খালেক পাটওয়ারী, উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান টিপু, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মহসীন মোল্লা, পৌর বিএনপি নেতা মহসীন পাটোয়ারী, এ এম টুটুল পাটওয়ারী, উপজেলা বিএনপির বাছির আহমেদ, ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম স্বপন, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক আল আমিন মোল্লা প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেয়েটিই গাজী নজরুলকে সেবা করতে চেয়েছিল, কাজটি অনৈতিক নয়: জামায়াত এমপি মুহাদ্দিস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৫৫ পি.এম


মেয়েটিই গাজী নজরুলকে সেবা করতে চেয়েছিল, কাজটি অনৈতিক নয়: জামায়াত এমপি মুহাদ্দিস

সাতক্ষীরার-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে সেবা করার ইচ্ছা মেয়েটির নিজস্ব সিদ্ধান্ত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন সাতক্ষীরা-২ আসনের এমপি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক।

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, সন্ধ্যা ৭টায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৫ নম্বর শিবপুর ইউনিয়নের গোটাঘাটা মসজিদে এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

৫ নম্বর শিবপুর ইউনিয়নের সাধারণ জনগণ ও স্থানীয় আলেম-উলামাদের উদ্যোগে এমপির সম্মানে গণসংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।

এ সময় এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক মন্তব্য করেন, এমপি সাহেবের স্বজন ও সকলেই ওই মেয়েটির বাবার সঙ্গে আলোচনা করে বসেন। তিনি জানান, ওই মেয়েটির একটাই আবদার ছিল—"আমি অন্য কোথাও বিয়ে করব না। আমি যতদিন বাঁচবো, এমপি সাহেবের সেবা করবো।" এই মেয়েটির দৃঢ় ইচ্ছার কারণে তার মা-বাবা বাধ্য হয়ে নিজেদের বাড়িতে বিয়ের ব্যবস্থা করেন।

মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেন, কাজটি সমাজের দৃষ্টিকোণে অসামাজিক হলেও এটি অনৈতিক নয়। তবে, সামাজিক বিতর্কের কারণে জামায়াতে ইসলামী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে এবং তার সংসদ সদস্য পদও বাতিলের পথে রয়েছে। অনৈতিক বা অসামাজিক বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী কখনো আপস করে না।

এ সময় এমপি গাজী নজরুল ইসলামের ঘটনাকে সাধারণ ভুল বলার সুযোগ নেই উল্লেখ করে মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক মসজিদের ইমামের উদাহরণ টেনে বলেন, 'তিনি যে অবস্থানে আছেন, সেই পর্যায়ের মানুষের কাছ থেকে এমন ভুল প্রত্যাশিত নয়। অন্য কেউ হলে হয়তো আমরা এটিকে সাধারণ ভুল বলতাম। কিন্তু, মসজিদের একজন ইমাম ও একজন সাধারণ ব্যক্তি যদি একই ভুল করে, তাহলে তাদের ভুলের গুরুত্ব কি সমান? একেবারেই নয়।

তিনি আরও বলেন, ইমামের ক্ষেত্রে ভুলের গুরুত্ব অনেক বেশি। ঠিক তেমনি, আপনার মতো একজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে এ ধরনের ভুল গ্রহণযোগ্য নয়। তাই তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং তার সংসদ সদস্য পদও বাতিল হবে।

শিবপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাওলানা শাহাদাত হোসাইন, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য ও উপজেলা শুরা সদস্য মাওলানা মোশাররফ হোসেন এবং সাতক্ষীরা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শহীদ হাসানসহ স্থানীয় নেতারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ক্যান্সার জয় করে আকাশ ছোঁয়া এক অদম্য নারীর গল্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৫৬ পি.এম


ক্যান্সার জয় করে আকাশ ছোঁয়া এক অদম্য নারীর গল্প

কানিকা টেকরিওয়ালের জীবন ২১ বছর বয়সেই থমকে যেতে পারতো। ঠিক ওই বয়সে তার জীবনে ঘটে দুটি ঘটনা। প্রথমত, তিনি এভিয়েশন সংক্রান্ত একটি স্টার্টআপ ব্যবসা শুরু করেন এবং দ্বিতীয়ত, তার স্টেজ-২ ক্যান্সার ধরা পড়ে। এরপরের বিষয়টা চিন্তা করুন। সাধারণ কোনো মানুষের ক্ষেত্রে কী হতো? নিশ্চয়ই ব্যবসা লাটে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হতো, ডাক্তারদের আশঙ্কা সত্যি হলে অনেক আগেই তার শরীরের অবস্থা খুব খারাপ হতো। কিন্তু কানিকা অন্যরকম। তিনি ক্যান্সারকে জয় করেছেন এবং ভারতের আকাশকেও জয় করেছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘জেটসেটগো‘ এখন ভারতের সবচেয়ে বড় প্রাইভেট এভিয়েশন সংস্থা। শূন্য হাতে শুরু করা স্টার্টআপ এখন বৃহৎ ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখায়। শূন্য হাতে শুরু বলা না হলেও, কানিকা টেকরিয়ালের ব্যবসার পুঁজি ছিল ৫ হাজার ৬০০ রুপি যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭ হাজার টাকা। বর্তমানে তার কোম্পানির নিট সম্পদের পরিমাণ ৪২০ কোটি রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৩৭ কোটি টাকা। এখন তার প্রতিষ্ঠান ১০টি বিমান এবং হেলিকপ্টারের মালিক। যুবরাজ সিং-এর মতো তারকা ক্রিকেটারও তার প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছেন। ভারতের মুম্বাই, দিল্লি, বেঙ্গালুরু ছাড়াও নিউইয়র্ক এবং দুবাইতে তার ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হয়েছে।

কেবল ক্যান্সার সারভাইভার হলে কানিকা অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারতেন। কিন্তু যখন ৫ হাজার ৬০০ রুপি পুঁজি নিয়ে তিনি ৪২০ কোটি টাকার ব্যবসা দাঁড় করান, তখন তিনি কোটি মানুষের অনুপ্রেরণার এক আদর্শ হয়ে ওঠেন। তবে তার এই পথচলাটা সহজ ছিল না। কানিকা টেকরিওয়ালের জীবন কেবল ব্যবসায়িক সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ক্যান্সার থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা এবং পিতৃতান্ত্রিক সমাজকে চ্যালেঞ্জ করেন তিনি, যার ফলে তিনি নিজের একটি অনন্য ব্যক্তিত্ব তৈরি করেছেন।

২১ বছর বয়সে যখন কানিকা ক্যানসারের শিকার হন, তখন তার আত্মীয়রা তার মা'কে সান্ত্বনা দিয়ে বলছিলেন, ‘আহা! মেয়েটা যদি সুস্থও হয়, তবে কিভাবে সে বিয়ে করবে?’ হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে কানিকা রেগে গিয়ে তাদের বলেছিলেন, ‘ঠিক ৫ বছর পর আমি ফোর্বসের কভারে আসব।’ সবার অস্বস্তির মধ্যে ঠিক ৫ বছর পর ২০১৬ সালের মার্চ মাসে তিনি ফোর্বসের ’৩০ আন্ডার ৩০’ তালিকায় জায়গা করে নেন। এটি কোনো লটারি নয়, এটি কানিকার অর্জন।

ক্যান্সারকে অনেকে ভয় পায়, অভিশাপ মনে করে। কিন্তু কানিকা ক্যান্সারকে নিজের জীবনের 'সেরা উপহার' মনে করেন। তার উপলব্ধি হলো, ক্যান্সার তাকে জীবনের আসল মূল্য বুঝতে এবং কোন কিছুকে হালকাভাবে না নিয়ে, নিজের স্বপ্নের পেছনে সম্পূর্ণ শক্তি নিয়ে ছুটতে শিখিয়েছে। ১৯৯২ সালের ৭ জুন ভারতের মধ্যপ্রদেশের ভোপালে এক মারোয়ারি পরিবারের জন্ম হয় কানিকার। অন্য দশটি পরিবারের মতো তাদের চাওয়া ছিল মেয়েকে পড়াশোনা করে ভালো পরিবারের কাউকে বিয়ে করার সুযোগ দেওয়া। কিন্তু কানিকার মনে ছিল ভিন্ন একটি ভাবনা। ছোটবেলা থেকেই তার আগ্রহ ছিল ফিন্যান্স এবং এভিয়েশনে। ভোপালে স্কুল জীবন শেষ করার পর উন্নত উচ্চ শিক্ষা অর্জনের জন্য তিনি ইংল্যান্ডের কভেন্ট্রি ইউনিভার্সিটিতে যান। ২১ বছর বয়স পর্যন্ত তার জীবন বাবা-মার ইচ্ছার সাথে এগিয়ে যাচ্ছে। একসাথে দুটি বড় ঘটনা ঘটে ২১ বছর বয়সে—ক্যান্সার এবং ব্যবসা।

ক্যান্সারের মোকাবিলা করার বিষয়ে তিনি জানিয়েছেন, ‘আমার বয়স যখন ২১, তখন ৪০ জন ডাক্তার আমাকে বলেছিলেন যে, আপনি চার মাস বা চার দিন বাঁচবেন। এরপর আমি মুম্বাইয়ের এক ডাক্তারের কাছে গিয়ে বলি, 'আমরা ৪০ বছর পর একসঙ্গে এক কাপ চা পান করব, এখন চিকিৎসা নিয়ে কথা বলুন।' সেই ডাক্তার নিশ্চয়ই এখন চায়ের জন্য অপেক্ষা করছেন। কানিকা এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, ‘ক্যান্সার থেকে বেঁচে ফেরা আসলে আমাকে বুঝতে শিখিয়েছে যে জীবন কত ছোট এবং আমাকে নিজের জন্য বাঁচতে হবে এবং যা আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তাই করতে হবে।’

অনেকে ভাবতে পারেন, বিনা পুঁজিতে ব্যবসা শুরু করে তিনি কীভাবে ৪২০ কোটি রুপি সম্পদ গড়লেন? তিনি কোনো লটারি জিতেননি। কানিকার ব্যবসা মূলত আইডিয়ার উপর ভিত্তি করে। কানিকার প্রতিষ্ঠিত ’জেটসেটগো’ ভারত নির্মিত প্রথম এবং বৃহত্তম প্রযুক্তি-ভিত্তিক প্রাইভেট এভিয়েশন মার্কেটপ্লেস। এটি চার্টার ফ্লাইট বুকিং সহজতর করার উদ্দেশ্যে একটি অনলাইন এগ্রিগেটর প্ল্যাটফর্ম। গ্রাহকেরা ব্যক্তিগত বিমান এবং হেলিকপ্টার বুক করতে পারেন এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে, কর্পোরেট মিটিং, ব্যক্তিগত ছুটি বা জরুরি চিকিৎসার জন্য। এছাড়া ধনী ব্যক্তি এবং কর্পোরেট গ্রুপ যারা নিজস্ব বিমান কেনেন; তাদের পাইলট স্টাফিং, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সরকারি নিয়মকানুনের সকল দায়িত্ব এই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে। তাদের নিজের প্রশিক্ষিত রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রকৌশল টিম রয়েছে, যা বিমানের নিরাপত্তা ও ইন-হাউস মেরামত নিশ্চিত করে। তাদের শুরুতে নিজস্ব কোনো বিমান ছিল না, তারা কেবল গ্রাহক ও বিমান মালিকের মধ্যে যোগাযোগ করাত। বর্তমানে তাদের অন্তত ১২টি বিমান ও হেলিকপ্টার রয়েছে। ’জেটসেটগো’কে আকাশের উবার বলা হয়। ভারতের শহুরে যাতায়াত ব্যবস্থায় বিপ্লব আনতে তারা বৈদ্যুতিক এয়ার ট্যাক্সি চালু করার পরিকল্পনা করছে।

একজন ক্যান্সার রোগী এবং নারী হিসেবে প্রায় শূন্য থেকে একটি প্রাইভেট এভিয়েশন প্রতিষ্ঠান গঠন করা সহজ ছিল না। কানিকা বলেন, ‘অনেকে আমাকে জিজ্ঞেস করেন, পুঁজি ছাড়াই আমি কীভাবে এটি করলাম। বাস্তবতায়, আমি মাত্র ৫৬০০ রুপি বিনিয়োগ করেছি এবং আমরা ভারতের সবচেয়ে বড় প্রাইভেট জেটের বহর পরিচালনা করছি।’ কানিকার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল এভিয়েশন শিল্পে পুরুষদের আধিপত্য জয় করা। তিনি বলেন, ’শুরুতে আমি যে ব্যবসাটা করছিলাম সেটির জন্য মানুষ আমাকে গুরুত্ব সহকারে নিতে সময় নিয়েছিল এবং আমাকে ‘আপনার কাপ কেক বেক করা উচিত’ এর মত মন্তব্যও শুনতে হয়েছে। মাঝে মাঝে আমি যখন নিজের দাবিতে অটল থাকি, তখন আমাকে অহংকারী মনে করা হয়, কিন্তু একজন পুরুষ যদি আমার চেয়ে বেশি দৃঢ় হয়, তাহলে তাকে উৎসাহী অথবা আবেগপ্রবণ মনে করা হয়। তবে এগুলো খুবই তুচ্ছ ব্যাপার।’

ব্যবসায়ী পি. শরৎ চন্দ্র রেড্ডিকে বিয়ে করে কানিকা টেকরিওয়াল সুখে আছেন। এই দম্পতি এক পুত্রসন্তানের বাবা-মা। কানিকা একজন নিয়মিত ম্যারাথন রানার। সুযোগ পেলে ক্যানভাসে রঙ তুলির সঙ্গে সময় কাটান। ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করেন। ফোর্বসের তালিকায় নাম তুলেছেন ৩০-এর আগেই। ভারত সরকারের 'জাতীয় উদ্যোক্তা পুরস্কার' পেয়েছেন। বিবিসির '১০০ প্রভাবশালী নারী' এবং ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের 'তরুণ গ্লোবাল লিডার' এর তালিকায়ও কানিকা টেকরিওয়ালের নাম রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%