ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ক্যান্সার জয় করে আকাশ ছোঁয়া এক অদম্য নারীর গল্প


ক্যান্সার জয় করে আকাশ ছোঁয়া এক অদম্য নারীর গল্প

কানিকা টেকরিওয়ালের জীবন ২১ বছর বয়সেই থমকে যেতে পারতো। ঠিক ওই বয়সে তার জীবনে ঘটে দুটি ঘটনা। প্রথমত, তিনি এভিয়েশন সংক্রান্ত একটি স্টার্টআপ ব্যবসা শুরু করেন এবং দ্বিতীয়ত, তার স্টেজ-২ ক্যান্সার ধরা পড়ে। এরপরের বিষয়টা চিন্তা করুন। সাধারণ কোনো মানুষের ক্ষেত্রে কী হতো? নিশ্চয়ই ব্যবসা লাটে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হতো, ডাক্তারদের আশঙ্কা সত্যি হলে অনেক আগেই তার শরীরের অবস্থা খুব খারাপ হতো। কিন্তু কানিকা অন্যরকম। তিনি ক্যান্সারকে জয় করেছেন এবং ভারতের আকাশকেও জয় করেছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘জেটসেটগো‘ এখন ভারতের সবচেয়ে বড় প্রাইভেট এভিয়েশন সংস্থা। শূন্য হাতে শুরু করা স্টার্টআপ এখন বৃহৎ ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখায়। শূন্য হাতে শুরু বলা না হলেও, কানিকা টেকরিয়ালের ব্যবসার পুঁজি ছিল ৫ হাজার ৬০০ রুপি যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭ হাজার টাকা। বর্তমানে তার কোম্পানির নিট সম্পদের পরিমাণ ৪২০ কোটি রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৩৭ কোটি টাকা। এখন তার প্রতিষ্ঠান ১০টি বিমান এবং হেলিকপ্টারের মালিক। যুবরাজ সিং-এর মতো তারকা ক্রিকেটারও তার প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছেন। ভারতের মুম্বাই, দিল্লি, বেঙ্গালুরু ছাড়াও নিউইয়র্ক এবং দুবাইতে তার ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হয়েছে।

কেবল ক্যান্সার সারভাইভার হলে কানিকা অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারতেন। কিন্তু যখন ৫ হাজার ৬০০ রুপি পুঁজি নিয়ে তিনি ৪২০ কোটি টাকার ব্যবসা দাঁড় করান, তখন তিনি কোটি মানুষের অনুপ্রেরণার এক আদর্শ হয়ে ওঠেন। তবে তার এই পথচলাটা সহজ ছিল না। কানিকা টেকরিওয়ালের জীবন কেবল ব্যবসায়িক সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ক্যান্সার থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা এবং পিতৃতান্ত্রিক সমাজকে চ্যালেঞ্জ করেন তিনি, যার ফলে তিনি নিজের একটি অনন্য ব্যক্তিত্ব তৈরি করেছেন।

২১ বছর বয়সে যখন কানিকা ক্যানসারের শিকার হন, তখন তার আত্মীয়রা তার মা'কে সান্ত্বনা দিয়ে বলছিলেন, ‘আহা! মেয়েটা যদি সুস্থও হয়, তবে কিভাবে সে বিয়ে করবে?’ হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে কানিকা রেগে গিয়ে তাদের বলেছিলেন, ‘ঠিক ৫ বছর পর আমি ফোর্বসের কভারে আসব।’ সবার অস্বস্তির মধ্যে ঠিক ৫ বছর পর ২০১৬ সালের মার্চ মাসে তিনি ফোর্বসের ’৩০ আন্ডার ৩০’ তালিকায় জায়গা করে নেন। এটি কোনো লটারি নয়, এটি কানিকার অর্জন।

আরও পড়ুন: সার্বিয়ায় ছাত্র আন্দোলন ভুসিসকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে

ক্যান্সারকে অনেকে ভয় পায়, অভিশাপ মনে করে। কিন্তু কানিকা ক্যান্সারকে নিজের জীবনের 'সেরা উপহার' মনে করেন। তার উপলব্ধি হলো, ক্যান্সার তাকে জীবনের আসল মূল্য বুঝতে এবং কোন কিছুকে হালকাভাবে না নিয়ে, নিজের স্বপ্নের পেছনে সম্পূর্ণ শক্তি নিয়ে ছুটতে শিখিয়েছে। ১৯৯২ সালের ৭ জুন ভারতের মধ্যপ্রদেশের ভোপালে এক মারোয়ারি পরিবারের জন্ম হয় কানিকার। অন্য দশটি পরিবারের মতো তাদের চাওয়া ছিল মেয়েকে পড়াশোনা করে ভালো পরিবারের কাউকে বিয়ে করার সুযোগ দেওয়া। কিন্তু কানিকার মনে ছিল ভিন্ন একটি ভাবনা। ছোটবেলা থেকেই তার আগ্রহ ছিল ফিন্যান্স এবং এভিয়েশনে। ভোপালে স্কুল জীবন শেষ করার পর উন্নত উচ্চ শিক্ষা অর্জনের জন্য তিনি ইংল্যান্ডের কভেন্ট্রি ইউনিভার্সিটিতে যান। ২১ বছর বয়স পর্যন্ত তার জীবন বাবা-মার ইচ্ছার সাথে এগিয়ে যাচ্ছে। একসাথে দুটি বড় ঘটনা ঘটে ২১ বছর বয়সে—ক্যান্সার এবং ব্যবসা।

ক্যান্সারের মোকাবিলা করার বিষয়ে তিনি জানিয়েছেন, ‘আমার বয়স যখন ২১, তখন ৪০ জন ডাক্তার আমাকে বলেছিলেন যে, আপনি চার মাস বা চার দিন বাঁচবেন। এরপর আমি মুম্বাইয়ের এক ডাক্তারের কাছে গিয়ে বলি, 'আমরা ৪০ বছর পর একসঙ্গে এক কাপ চা পান করব, এখন চিকিৎসা নিয়ে কথা বলুন।' সেই ডাক্তার নিশ্চয়ই এখন চায়ের জন্য অপেক্ষা করছেন। কানিকা এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, ‘ক্যান্সার থেকে বেঁচে ফেরা আসলে আমাকে বুঝতে শিখিয়েছে যে জীবন কত ছোট এবং আমাকে নিজের জন্য বাঁচতে হবে এবং যা আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তাই করতে হবে।’

অনেকে ভাবতে পারেন, বিনা পুঁজিতে ব্যবসা শুরু করে তিনি কীভাবে ৪২০ কোটি রুপি সম্পদ গড়লেন? তিনি কোনো লটারি জিতেননি। কানিকার ব্যবসা মূলত আইডিয়ার উপর ভিত্তি করে। কানিকার প্রতিষ্ঠিত ’জেটসেটগো’ ভারত নির্মিত প্রথম এবং বৃহত্তম প্রযুক্তি-ভিত্তিক প্রাইভেট এভিয়েশন মার্কেটপ্লেস। এটি চার্টার ফ্লাইট বুকিং সহজতর করার উদ্দেশ্যে একটি অনলাইন এগ্রিগেটর প্ল্যাটফর্ম। গ্রাহকেরা ব্যক্তিগত বিমান এবং হেলিকপ্টার বুক করতে পারেন এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে, কর্পোরেট মিটিং, ব্যক্তিগত ছুটি বা জরুরি চিকিৎসার জন্য। এছাড়া ধনী ব্যক্তি এবং কর্পোরেট গ্রুপ যারা নিজস্ব বিমান কেনেন; তাদের পাইলট স্টাফিং, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সরকারি নিয়মকানুনের সকল দায়িত্ব এই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে। তাদের নিজের প্রশিক্ষিত রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রকৌশল টিম রয়েছে, যা বিমানের নিরাপত্তা ও ইন-হাউস মেরামত নিশ্চিত করে। তাদের শুরুতে নিজস্ব কোনো বিমান ছিল না, তারা কেবল গ্রাহক ও বিমান মালিকের মধ্যে যোগাযোগ করাত। বর্তমানে তাদের অন্তত ১২টি বিমান ও হেলিকপ্টার রয়েছে। ’জেটসেটগো’কে আকাশের উবার বলা হয়। ভারতের শহুরে যাতায়াত ব্যবস্থায় বিপ্লব আনতে তারা বৈদ্যুতিক এয়ার ট্যাক্সি চালু করার পরিকল্পনা করছে।

একজন ক্যান্সার রোগী এবং নারী হিসেবে প্রায় শূন্য থেকে একটি প্রাইভেট এভিয়েশন প্রতিষ্ঠান গঠন করা সহজ ছিল না। কানিকা বলেন, ‘অনেকে আমাকে জিজ্ঞেস করেন, পুঁজি ছাড়াই আমি কীভাবে এটি করলাম। বাস্তবতায়, আমি মাত্র ৫৬০০ রুপি বিনিয়োগ করেছি এবং আমরা ভারতের সবচেয়ে বড় প্রাইভেট জেটের বহর পরিচালনা করছি।’ কানিকার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল এভিয়েশন শিল্পে পুরুষদের আধিপত্য জয় করা। তিনি বলেন, ’শুরুতে আমি যে ব্যবসাটা করছিলাম সেটির জন্য মানুষ আমাকে গুরুত্ব সহকারে নিতে সময় নিয়েছিল এবং আমাকে ‘আপনার কাপ কেক বেক করা উচিত’ এর মত মন্তব্যও শুনতে হয়েছে। মাঝে মাঝে আমি যখন নিজের দাবিতে অটল থাকি, তখন আমাকে অহংকারী মনে করা হয়, কিন্তু একজন পুরুষ যদি আমার চেয়ে বেশি দৃঢ় হয়, তাহলে তাকে উৎসাহী অথবা আবেগপ্রবণ মনে করা হয়। তবে এগুলো খুবই তুচ্ছ ব্যাপার।’

আরও পড়ুন: যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যা: মিজানুর রহমানের মৃত্যুদণ্ড

ব্যবসায়ী পি. শরৎ চন্দ্র রেড্ডিকে বিয়ে করে কানিকা টেকরিওয়াল সুখে আছেন। এই দম্পতি এক পুত্রসন্তানের বাবা-মা। কানিকা একজন নিয়মিত ম্যারাথন রানার। সুযোগ পেলে ক্যানভাসে রঙ তুলির সঙ্গে সময় কাটান। ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করেন। ফোর্বসের তালিকায় নাম তুলেছেন ৩০-এর আগেই। ভারত সরকারের 'জাতীয় উদ্যোক্তা পুরস্কার' পেয়েছেন। বিবিসির '১০০ প্রভাবশালী নারী' এবং ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের 'তরুণ গ্লোবাল লিডার' এর তালিকায়ও কানিকা টেকরিওয়ালের নাম রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খুব শিগগিরই পরিকল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৫৬ পি.এম


খুব শিগগিরই পরিকল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, আগের সরকারের আমলে বেড়িবাঁধ নির্মাণে সংঘটিত অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত করা হবে। একই সঙ্গে খুব শিগগিরই সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে পরিকল্পিতভাবে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে গোপালপুর উপজেলার নলীন বাজার সংলগ্ন শাখারিয়া এলাকায় যমুনা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিগত সময়ে যে সরকার পরিচালনা করেছে, তারা ছিল ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা। তাদের লুটপাট ও দুর্নীতির কারণে জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের সরকারের অবসান ঘটিয়েছে। তাই, তাদের সময় সংঘটিত অনিয়ম ও দুর্নীতির অবশ্যই তদন্ত করা হবে। সরকার পরিকল্পিতভাবে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে আগ্রহী হয়ে কাজ শুরু করতে যাচ্ছে। ইনশাআল্লাহ, আমরা নিজেদের লক্ষ্যে সফল হব।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সড়কের ভাঙন রোধে ইতিমধ্যে প্রায় ২৫ হাজার জিও ব্যাগ এবং বৃহৎ আকারের টিউব জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। এর ফলে আপাতত নদীভাঙন কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু উল্লেখ করেন, ভূঞাপুর থেকে টাঙ্গাইল হয়ে মানিকগঞ্জ পর্যন্ত একটি স্থায়ী প্রতিরক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণের সে দাবি পূরণের উদ্দেশ্যে কাজ চলছে। একই সঙ্গে নদীর স্বাভাবিক নাব্যতা বজায় রাখা এবং খাল খনন, নদী খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের দিকে সরকার দৃষ্টিপাত করছে। নদীর নাব্যতা ও স্বাভাবিক গতিপথ সঠিক থাকলে ভাঙনের ঝুঁকি ব্যাপকভাবে কমে যাবে।

টুকু আরও বলেন, নদীভাঙন রোধে স্বল্পমেয়াদি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। নদীর নাব্যতা বৃদ্ধির সাথে প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে মানুষের জানমাল ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে সুরক্ষার জন্য সরকার সর্বোচ্চ উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রীর বড় ভাই, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু, টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন, ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব হাসান, গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মঞ্জুরুল মোর্শেদ, ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ. কে. এম. রেজাউল করিম, গোপালপুর থানার ওসি রুহুল আমিন এবং বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

উল্লেখ্য, টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার শাখারিয়া এলাকায় যমুনা নদীর তীব্র স্রোতে ভাঙন সৃষ্টি হওয়ায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কের একটি অংশ ধসে পড়েছে। এই ঘটনার ফলে সড়কটিতে যান চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রশংসা বাংলাদেশ সরকারের সংস্কার উদ্যোগের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৫৮ পি.এম


নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রশংসা বাংলাদেশ সরকারের সংস্কার উদ্যোগের

ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় বাংলাদেশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টম বেরেন্ডসেন দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন। ছবি: মন্ত্রণালয়।

নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টম বেরেন্ডসেন বাংলাদেশের নতুন সরকারের গৃহীত সংস্কারমূলক পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। এ সময় তিনি দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদারের উপায় নিয়েও আলোচনা করেন।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ট্রিটি অব অ্যামিটি অ্যান্ড কো-অপারেশন (টিএসি)’র ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় আয়োজিত অনুষ্ঠান চলাকালে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, বৈঠকে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পর্যালোচনা করেন। পাশাপাশি, তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।

আলোচনায় বিশেষ করে সার্কুলার অর্থনীতি, বৈধ অভিবাসন এবং বদ্বীপ উন্নয়নে প্রযুক্তি হস্তান্তর বিষয়ে সহযোগিতা নিয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

ড. খলিলুর রহমান নেদারল্যান্ডসে উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রক্রিয়ায় বিলম্ব এবং ভিসা আবেদন ক্রমবর্ধমান হারে প্রত্যাখ্যান হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি এই সমস্যা সমাধানে ডাচ সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন যাতে নেদারল্যান্ডসের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সুবিধা হয়।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশি অ্যাপোস্টিল নথিপত্র সম্পর্কিত বিষয়ও উত্থাপন করেন এবং এ-সংক্রান্ত ব্যবস্থা প্রত্যাহারের অনুরোধ করেন। জবাবে, নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব বিষয় সন্তোষজনকভাবে সমাধানের লক্ষ্যে সেগুলো পর্যালোচনা করার আশ্বাস দেন। ম্যানিলায় টিএসি-এর ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সময় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর বঙ্গভবনের সামনে উৎসুক মানুষের ভিড়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:০১ পি.এম


রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর বঙ্গভবনের সামনে উৎসুক মানুষের ভিড়

স্বাস্থ্যগত কারণে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর থেকে রাজধানীর বঙ্গভবনের সামনে উৎসুক জনতা ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সেখানে কঠোর নিরাপত্তা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত বঙ্গভবনের সামনে এমন দৃশ্য দেখা যায়। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের খবর প্রকাশ হওয়ার পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা বঙ্গভবনের বাইরের এলাকায় অবস্থান নিতে শুরু করেন। তাদের সঙ্গে যোগ দেন অনেকেই যাঁরা উৎসুক।

সরেজমিনে দেখা যায়, বঙ্গভবনের মূল ফটকের সামনে পুলিশ ব্যারিকেড বসিয়ে নিরাপত্তা বাড়িয়েছে। ব্যারিকেডের ভেতরে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছিল না। এর ফলে সংবাদকর্মীরা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) দ্বিতীয় ফটকের সামনে অবস্থান নেন।

এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকটি যানবাহন পরিকল্পিতভাবে বঙ্গভবনে প্রবেশ ও বের হতে দেখা যায়। পুরো এলাকায় নিরাপত্তা সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন।

বঙ্গভবনের সামনে অবস্থান নেওয়া যাত্রাবাড়ীর জামিয়া ইসহাকিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মো. আবদুল্লাহ বলেন, ‘শুনেছি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন সাহেব পদত্যাগ করেছেন। উনি বের হন কি না, তাই দেখতে এসেছি। মতিঝিলে একটি কাজে এসেছিলাম, সেখান থেকে এখানে চলে এসেছি।’

এর আগে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে জাতীয় সংসদে এক সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। তিনি বলেন, গুরুতর অসুস্থতা এবং বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক জটিলতার কারণে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হয়ে পদত্যাগ করেছেন।

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৮ সালের এপ্রিলে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।

কিন্তু গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে তাঁর অপসারণের দাবি উঠছিল এবং বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হচ্ছিল জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সংগঠনের মাধ্যমে। পরবর্তীতে জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন হলেও তাঁকে রাষ্ট্রপতি পদে বহাল রাখার বিষয়ে রাজনৈতিক আলোচনা চলছিল। অবশেষে স্বাস্থ্যগত কারণে শুক্রবার রাষ্ট্রপতি পদ থেকে তিনি সরে দাঁড়ান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুলাউড়ায় পুলিশের অভিযানে ৬ গরু চো/র গ্রে"ফতার, উ"দ্ধার ২টি চো"রাই গরু ও নগদ টাকা।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আহমেদ আক্তার রানা কুলাউড়া উপজেলা প্রতিনিধি

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:০১ পি.এম


কুলাউড়ায় পুলিশের অভিযানে ৬ গরু চো/র গ্রে"ফতার, উ"দ্ধার ২টি চো"রাই গরু ও নগদ টাকা।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে আন্তঃজেলা গরুচোর চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় চুরি হওয়া ২টি গরু এবং গরু কেনাবেচার নগদ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ২২ জুলাই দিবাগত রাতে কুলাউড়া উপজেলার ৯ নম্বর টিলাগাঁও ইউনিয়নের হাজীপুর গ্রামের সায়দ মিয়া (৪৩) ও আশিক মিয়ার (৩৯) গোয়ালঘর থেকে দুটি গরু চুরি হয়। এ ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার পরপরই কুলাউড়া থানা পুলিশের একাধিক দল অভিযান শুরু করে।
২৪ জুলাই রাত ১টা ১০ মিনিট থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে কমলগঞ্জ উপজেলার বড়চেগ এলাকা থেকে মো. ছাতিম আলী (৪৬), মো. পাবেল মিয়া (৩৫) ও মো. জাবেদ আলী (২৭)-কে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শমশেরনগর রেলস্টেশন এলাকা থেকে মো. কামরুল ইসলাম ওরফে কেন্নাই (৩০)-কে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে গ্রেফতার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুলাউড়ার থলের বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. জসিম আলী (৩৬) ও মো. হানিফ মিয়া (৪৮)-কে গ্রেফতার করে পুলিশ।
আসামিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী কমলগঞ্জ উপজেলার বড়চেগ এলাকায় পাবেল মিয়ার বাড়ি থেকে চুরি হওয়া দুটি গরু উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত গরু দুটির আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। এছাড়া গরু কেনাবেচার নগদ ১০ হাজার টাকাও জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় গরু চুরি, ছিনতাইসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধ দমন, চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধ, মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলার বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%